রজব মাসের গুরুত্বপূর্ণ দিন সমূহ

হজরত ইমাম মোহাম্মাদ বাকের (আ.) সন ৫৭ হিজরি রোজ শুক্রবার মদিনায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন ইমাম জয়নুল আবেদিন (আ.) এবং তাঁর মাতা ছিলেন ফাতেমা বিনতে ইমাম হাসান। ইমাম বাকের (আ.) ছিলেন প্রথম ইমাম, যিনি বাবা মা উভয়ের দিক থেকেই ছিলেন আলাভি।

রজব মাসের গুরুত্বপূর্ণ দিন সমূহ

 

রজব, রজব মাসের আমল, ইমাম বাকের, ইমাম তাকি, ইমাম নাকি, মালিকে আশাতার

এস, এ, এ

১লা রজব

ইমাম বাকের (আ.)এর জন্ম দিবস:

হজরত ইমাম মোহাম্মাদ বাকের (আ.) সন ৫৭ হিজরি রোজ শুক্রবার মদিনায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন ইমাম জয়নুল আবেদিন (আ.) এবং তাঁর মাতা ছিলেন ফাতেমা বিনতে ইমাম হাসান। ইমাম বাকের (আ.) ছিলেন প্রথম ইমাম, যিনি বাবা মা উভয়ের দিক থেকেই ছিলেন আলাভি। (মানাকেবে ইবনে শাহর আশুব, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ২২৭)

 

২য় রজব

ইমাম আলি নাকি (আ.)এর জন্মদিবস:

এক রেওয়ায়েত অনুযায়ি উক্ত তারিখে ইমাম আলি নাকি (আ.)এর জন্মদিবস। এছাড়াও বিভিন্ন রেওয়ায়েতে অন্যান্য তারিখও বর্ণিত হয়েছে যেমন: ১৫ই জিলহজ, ৫ই রজব, ২৭ জামাদিউস সানি এবং ৩রা রজব। (কালায়েদুন নুহুর, খন্ড রজব, পৃষ্ঠা ১৮)

 

৩রা রজব

ইমাম আলি নাকি (আ.)এর শাহাদত:

সন ২৫৪ হিজরির উক্ত তারিখে ৪১ বছর বয়সে ইমাম আলি নাকি (আ.) শাহাদত বরণ করেন। তিনি ৪ বছর বয়সে ইমামতের গুরুত্বপূর্ণ পদ অর্জন করেন এবং তাঁর  ইমামতকাল ছিল ৩৩ বছর। ইমাম হাসান আসকারি (আ.) তাঁকে কাফন দাফন এবং জানাযার নামাজ পড়ান এবং তাঁকে নিজ ঘরেই দাফন করেন। বর্তমানে পবিত্র মাজার শরিফটি তাঁর ঘরের উপরেই অবস্থিত। (তৌযিহুল মাকাসেদ, পৃষ্ঠা ১৬)

 

৪ঠা রজব

ইবনে সিককিত-এর শাহাদত:

ইয়াকুব বিন ইসহাক ওরফে “ইবনে সিককিত” ছিলেন শিয়া মাযহাবের একজন ব্যাক্তিত্ব। মোতাওয়াক্কেল আব্বাসির নির্দেশে সোমবার ৫ই রজব সন ২২৪ হিজরিতে তাঁকে শহিদ করা হয় এবং সামেরায় তাঁকে দাফন করা হয়।মৃত্যুকালিন সময়ে তাঁর বয়স ছিল ৫৮ বছর। তিনি ছিলেন ইমাম মোহাম্মাদ তাকি ও আলি নাকি (আ.) এর আস্থাভাজন একজন অনুসারি। সে ছিল মোতাওয়াক্কেল আব্বাসির দুই সন্তানের (মোতায ও মোয়েদ) শিক্ষক। একদা খলিফা তাকে জিজ্ঞাসা করে তোমার দৃষ্টিতে ইমাম হাসান ও হুসাইন উত্তম না আমার দুই সন্তান? তখন তিনি বলেন:হজরত আলি (আ.) এর দাশ কাম্বার আপনি এবং আপনার দুই সন্তানের চেয়ে অনেক উত্তম। মোতাওয়াক্কেল তার উক্ত কথাটি শোনার পরে রাগান্বিত হয় এবং নির্দেশ দেয় তার জিহবাকে ঘাড়ের অংশ থেকে বাহির করা হোক। আর এ কারণেই তিনি শাহাদত বরণ করেন। (রেজালে নাজ্জাশি, পৃষ্ঠা ৪৪৯)

 

১০ই রজব

ইমাম মোহাম্মাদ তাকি (আ.)এর জন্মদিবস:

সন ১৯৫ হিজরির উক্ত তারিখে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। এছাড়াও তার জন্মতারিখ সম্পর্কে বিভিন্ন রেওয়াতে বর্ণিত হয়েছে যেমন: ১৫ই রমজান, ১৭ রমজান, জিলকদ মাসের শেষ তারিখ। তাঁর পিতা ছিলেন ইমাম রেযা (আ.) এবং মাতা ছিলেন খাযিরান। (তারিখে সামেরা, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩০২)

 

হজরত আলি আসগার (আ.)এর জন্মদিবস:

উক্ত দিনে হজরত আলি আসগার (আ.) জন্মগ্রহণ করেন। কারবালার ঘটনার সময় তাঁর বয়স ছিল ৬ মাস। তাঁর নাম ছিল “আব্দুল্লাহ” আর প্রসিদ্ধ হচ্ছেন “আলি আসগার” নামে। তাঁর পিতার নাম ছিল ইমাম হুসাইন (আ.)এবং মাতার নাম ছিল রোবাব বিনতে আমর কাইস কালাবি। (এলামুল ওয়ারা, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৯১)

 

১২ই রজব

মাবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ানের মৃত্যুদিবস:

সন ৬০ হিজরির উক্ত তারিখে ৭৮ বছর বয়সে আবু সুফিয়ান ও কলিজাখোর হিন্দার পুত্র মাবিয়া মৃত্যুবরণ  করে। এছাড়াও তার মৃত্যু সম্পর্কে অন্যান্য মতও বর্ণিত হয়েছে। (মাশারুশ শিয়া, পৃষ্ঠা ৩৪)

ইতিহাসে তার মৃত্যুর ঘটনা এভাবে বর্ণিত হয়েছে একদা মাবিয়া মক্কা থেকে শামে আসার পথে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তার মুখ বন্ধ হয়ে যায়ে এবং শামে আসার পরেই সে মৃত্যুবরণ করে। তার মৃত্যু সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মধ্যে বিভিন্ন মতামত রছেয়ে যেমন: ৪, ১২, ১৪, ১৫, ২২শে রজব বলেও উল্লেখ করেছেন। (রওযাতুল ওয়ায়েযিন, পৃষ্ঠা ১৭১)

 

ইমাম আলি (আ.) কুফাতে আগমণ করেন:

উক্ত তারিখে সন ৩৬ হিজরি জামালের যুদ্ধের পরে কুফাতে আগমণ করেন এবং কুফাকে রাজধানি রূপে নির্বাচন করেন এবং উক্ত তারিখে তিনি প্রথম খুৎবা দান করেন। (তাযকেরাতুল খাওয়াস, পৃষ্ঠা ৮০)

 

 

১৩ই রজব

হজরত আলি (আ.)এর জন্মদিন:

ইবনে আব্বাস বলেন: আমি ফাতেমা বিনতে আসাদকে দেখি যে, তিনি কাবা ঘরের দরজার বিপরিত অংশে দাড়িয়ে দোয়া করতে থাকে হঠাৎ কাবা ঘরের দেয়াল ফেটে যায় এবং ফাতেমা বিনতে আসাদ কাবা গৃহে প্রবেশ করে। পরে আমরা কাবা ঘরের তালা খোলার শত চেষ্টা করেও ব্যার্থ হই। ফাতেমা বিনতে আসাদ বলেন: আমি কাবাগৃহে প্রবেশের পরে দেখতে পাই যে সেখানে হজরত হাওয়া, সারা, আসিয়া, মুসা (আ.) এর মা এবং হজরত মারিয়ম সেখানে উপস্থিত ছিলেন। অতঃপর ইমাম আলি (আ.) জন্মগ্রহণ করেন। তিনদিন খোদার ঘরের মেহমান থাকার পরে তিনি চতূর্থ দিন তিনি কাবা ঘরের বাইরে আসেন। (বাশারাতুল মোস্তফা, পৃষ্ঠা ৩৭)

ঐতিহাসিকদের মতে ইমাম আলি (আ.) রোজ শুক্রবার আমুল ফিল বছরের ৩০ বছর পরে পবিত্র কাবা গৃহে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই তিনি এবং তাঁর মা ফাতেমা বিনতে আসাদ তিন দিন অবস্থান করেন। (এলামুল ওয়ারা, খন্ড, ১, পৃষ্ঠা ৩০৬)

 

১৪ই রজব

মোতামেদ আব্বাসির মৃত্যুদিবস:

সন ২৭৯ হিজরির উক্ত তারিখে আব্বাসিয় খলিফা মোতামেদ আব্বাসি মৃত্যুবরণ করে। ইতিহাসের বর্ণনা অনুযায়ি একদা সে নদির কিনারায় বসে মদ পান করছিল। সে এত পরিমাণ মদ পান করে যে উক্ত কারণে সে মারা যায়। তার খেলাফতের সময়কাল ছিল ২৩ বছর। (কালায়েদুন নুহুর, খন্ড রজব, পৃষ্ঠা ১৪২)

 

১৫ই রজব

হজরত জয়নাব (সা.আ.)এর মৃত্যুদিবস:

সন ৬২ হিজরি ১৫ই রজব রবিবার রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার এক বছর কয়েক মাস পরেই মারা যান।  বর্ণিত রেওয়ায়েত অনুযায়ি তাঁকে নিজের ঘরেই দাফন করা হয়। (ওকায়েউল হাওয়াদেস, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১১৩)

 

কিবলা পরিবর্তন:

সন ২য় হিজরির উক্ত দিনে যোহরের নামাজের সময় বাইতুল মোকাদ্দাস থেকে কাবার দিকে কিবলা পরিবর্তন করা হয়। উক্ত ঘটনাটি যে মসজিদে সংঘটিত হয় সে মসজিদের নামকরণ করা হয় “যু কিবলাতাইন”। (মাশারুশ শিয়া, পৃষ্ঠা ৩৫)

 

সেআবে আবু তালিব থেকে রাসুল (সা.) বাহিরে আসেন:

উক্ত দিনে রাসুল (সা.) “সেআবে আবু তালিব” থেকে বাহিরে আসেন। (মেসবাহুল মোতাহাজজেদ, পৃষ্ঠা ৭৪১)

 

১৬ই রজব

হজরত ফাতেমা বিনতে আসাদ কাবার বাহিরে আসেন:

উক্ত দিনের প্রথমভাগে হজরত ফাতেমা বিনতে আসাদ তার পুত্র হজরত আলি আলি (আ.) কে নিয়ে কাবা গৃহের বাহিরে আসেন। (বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৩৫, পৃষ্ঠা ৮)

 

১৭ই রজব

মামুনের মৃত্যুদিবস:

সন ২১৮ হিজরি উক্ত দিনে রোজ বৃহঃস্পতিবার ৪৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করে। এছাড়াও ইতিহাসে তার মৃত্যুর তারিখে সম্পর্কে বিভিন্ন মত বর্ণিত হয়েছে যেমন: ২, ৩, ৮, ৯, ১৮ই রজব। (মুসতাদরাকে সাফিনাতুল বিহার, খন্ড৫, পৃষ্ঠা ২২৪)

 

১৮ই রজব

রাসুল (সা.)এর পুত্র হজরত ইব্রাহিমের মৃত্যুদিবস:

সন ১০ হিজরি রাসুল (সা.)এর পুত্র হজরত ইব্রাহিম মৃত্যুবরণ করেন। তার মায়ের নাম ছিল মারিয়া কিবতি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ১৮ মাস ও কয়েক দিন এবং অন্য মতে এক বছর ১০ মাস ও ৮ দিন। (বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ২২, পৃষ্ঠা ১৫২)

 

এজিদের খেলাফতের প্রথম দিন:

এজিদ এ দিনে এজিদ খেলাফত অর্জন করে। মাবিয়ার মৃত্যুর পরে এজিদ দামেস্কে আসে এবং মাবিয়ার কবরের কাছে যায় এবং ক্রন্দন করে অতঃপর প্রাসাদে ফিরে যায় এবং তিনদিন পর্যন্ত সে প্রাসাদের বাইরে আসেনি। ২১শে রজব সে মসজিদে আসে এবং মেম্বারে আরোহন করে এবং খুৎবা দেয়। (ওকায়েউল আইয়াম, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২০৮)

 

১৯শে রজব

মোতামেদ আব্বাসি-এর মৃত্যু:

সন ২৭৯ হিজরির উক্ত তারিখে আব্বাসিয় খলিফা মোতামেদ আব্বাসি মৃত্যু বরণ করে। ইতিহাসে তার মৃত্যুর দুইটি কারণ এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, একদা সে নদির কুলে মদ পান করছিল এবং অতিরিক্ত পদ পানের কারণে সে মারা যায়। অন্যমতে তার ভাতিজা তার মদে বিষ মিশিয়ে দেয় যার কারণে তার পেঠ ফেটে যায় এবং মারা যায়। (মুরুজুয যাহাব, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৩১)

 

২২শে রজব

হজরত আবু বকর খায়বারের যুদ্ধ থেকে পলায়ণ করেন:

উক্ত তারিখে খায়বার যুদ্ধের পতাকা হজরত আবু বকরকে দান করা হয়। কিন্তু শত্রু পক্ষকে দেখে তিনি নিজেও পলায়ণ করেন এবং তার সৈন্যরাও সেখানে থেকে পলায়ণ করেন। (মুসনাদে আহমাদ,খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ৩৫৩)

 

২৩শে রজব

ইমাম হাসান (আ.)এর উপরে হামলা করা হয়:

উক্ত তারিখে খারেজিদের সদস্য হারাজ বিন সেনান আসাদি রাতের অন্ধকারে বিষাক্ত চাকু দ্বারা ইমাম হাসান (আ.)এর উরুতে আঘাত করে। চাকুর উক্ত আঘাতটি এতই জোরালো ছিল যে, তা গোশত ভেদ করে হাড় পর্যন্ত পৌছে যায়। ইমাম ব্যাথার কারণে হারাজের ঘাড় ধরে এবং উভয়েই মাটিতে পড়ে যায়। পরে ইমাম হাসান (আ.)এর সৈন্যরা তাকে আটক করে এবং হত্যা করে ফেলে। (মেসবাহুল মোতাহাজজেদ, পৃষ্ঠা ৭৪৯)

 

ইমাম মুসা কাযিম (আ.)কে বিষ প্রয়োগ করা হয়:

সন ১৮৩ হিজরির উক্ত তারিখে ইমাম মুসা ইবনে জাফর (আ.) কে আব্বাসিয় খলিফা হারুনের নির্দেশে বাগদাদের কারাগারে বিষ প্রয়োগ করা হয় এবং ইমাম মুসা কাযিম (আ.) উক্ত বিষের প্রভাবের কারণে শাহাদত বরণ করেন। (উয়ুনে আখবারে রেযা, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৯৬)

 

হজরত উমর খায়বারের যুদ্ধ থেকে পলায়ণ করেন:

উক্ত তারিখে খায়বার যুদ্ধের পতাকা হজরত উমরকে দান করা হয়। কিন্তু শত্রু পক্ষকে দেখে তিনি নিজেও পলায়ণ করেন এবং তার সৈন্যরাও সেখানে থেকে পলায়ণ করেন।(তারিখে তাবারি, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৩০০)

 

২৪শে রজব

হজরত আলি (আ.) খায়বার জয় করেন:

সন ৭ হিজরির ২৩শে রজবের রাতে হজরত মোহাম্মাদ (সা.) বলেন আগামিকাল আমি ইসলামের পতাকার এমন এক ব্যাক্তির হাতে দিব যে শত্রুদের উপরে হামলা করবে এবং কখনও যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ণ করবে না।

পরের দিন অর্থাৎ ২৪শে রজব সকল সাহাবিরা অপেক্ষায় ছিল যে হয়তো পতাকা তাদের কারো কাছে অর্পণ করা হবে। কিন্তু রাসুল (সা.) বলেন: আলি ইবনে আবি তালিব কোথায়? সাহাবিরা বলেন: তাঁর চোখে ব্যাথ্যা। রাসুল (সা.) বলেন: যাও আলি আমার কাছে নিয়ে আস। তখন সালামা বিন আকওয়া ইমাম আলি (আ.) কে রাসুল (সা.) এর সমিপে উপস্থিত করেন। রাসুল (সা.) তাঁর মুখের লালা মোবারক আলি (আ.) এর চোখে লাগিয়ে দিলে অনতিবিলম্বে তাঁর চোখ ভাল হয়ে যায়। ইমাম আলি (আ.) বলেন: এর পরে আমার আর কখও চোখে সমস্যা হয়নি। উক্ত দিনে হজরত আলি (আ.) কর্তৃক মারহাব মারা যায় এবং খায়বারের “কামুস” নামক দূর্গটি মুসলমানদের দখলে আসে। উক্ত খায়বার বিজয়ের সকল কৃতিত্বই ছিল ইমাম আলি (আ.)এর। (ফেইযুল আলাম, পৃষ্ঠা ৩১৭)

 

হজরত জাফর তৈয়ার হাবাসা থেকে ফিরে প্রত্যাবর্তন করেন:

হজরত আলি (আ.) এর ভাই হজরত জাফর তৈয়ার খায়বার বিজয়ের তারিখে হাবাসা থেকে প্রত্যাবর্তন করেন। তখন রাসুল (সা.) বলেন: আজকে আমার দুইটি খুশির ঘটনা ঘটেছে এক হজরত আলি (আ.) এর বিজয় এবং অপরটি হচ্ছে জাফর তাইয়ারের আগমণ। অতঃপর তিনি হজরত জাফর তাইয়ার (রা.)এর কপালে চুম্বন করেন। (মুনতাখাবে তাওয়ারিখ, পৃষ্ঠা ৫৬)

 

২৫ শে রজব

ইমাম মুসা কাযিম (আ.)এর শাহাদত:

সন ১৮৩ হিজরির উক্ত দিনে ইমাম কাযিম (আ.) শাহাদত বরণ করেন। সিন্দি বিন বিন শাহাক ইমাম কাযিম (আ.)কে শহিদ করেন। ইমাম রেযা (আ.) তাঁর বাবাকে গোসল দেন, কাফন পরান এবং জানাযার নামাজ আদায় করেন। ইমাম (আ.) এর অনুসারিরা ইমামের জানাযায় অংশগ্রহণ করে। বর্তমানে কাযেমাইনে তাঁকে দাফন করা হয়।  (এলামুল ওয়ারা, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৬)

অন্য রেওয়ায়েত এবং মরহুম কুলাইনি (রহ.)এর বর্ণনা অনুযায়ি ৬ই রজব ইমাম কাযিম (আ.) শাহাদত বরণ করেন। (কাফি, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৫০৭)

 

২৬শে রজব

হজরত আবু তালিবের মৃত্যুদিবস:

হজরত আবু তালিব হিজরতের তিন বছর পূর্বে এবং বেসাতের ১০ বছরে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল ৮০ বছর। তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে আরো কয়েকটি মত বর্ণিত হয়েছে যেমন: ২৭শে জামাদিউল আওয়াল, ২৬ অথবা ২৭শে রজব, ৭ অথবা ১৮ই রমজান, ১৫ অথবা ১৭ই শাওয়াল, ১ অথবা ১০ই জিলকদ এবং ১লা জিলহজ। (মুনতাখাবুত তাওয়ারিখ, পৃষ্ঠা ৪৩)

 

২৭শে রজব

রাসুল (সা.)এর নবুওয়াত প্রাপ্তি:

৪০ বছর বয়সে বেসাতে রাসুল (সা.) শুরু হয় এবং কোরআনের আয়াত নাযিল শুরু হয়। উক্ত দিনটি হচ্ছে মুসলমানদের জন্য ঈদের একটি দিন। যখন রাসুল (সা.) হেরা গুহা থেকে নিচে নেমে আসছিলেন তখন সকল প্রকৃতি তাঁর প্রতি সালাম নিবেদন করছিলেন। রাসুল (সা.) হজরত খাদিজা (সা.আ.) এর ঘরে আসলে তিনি রাসুল (সা.) কে জিজ্ঞাসা করেন হে মোহাম্মাদ (সা.)! এটা কিসের নূর। রাসুল (সা.) বলেন: এটা হচ্ছে নবুওয়াতের নূর। তিনি খাদিজা (সা.আ.) কে বলেন: হে খাদিজা! বল লা ইলাহা ইল্লাল্লা। তখন হজরত খাদিজা (সা.আ.) বলেন আমি আগে থেকেই অনুধাবন করতে পরেছিলাম যে, আপনি নবুওয়াত লাভ করবেন। অতঃপর তিনি বলেন:  ইলাহা ইল্লাল্লা মোহাম্মাদুর রাসুল আল্লাহ। (এলামুল ওয়ারা, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৬)

 

২৮শে রজব

ইমাম হুসাইন (আ.) মদিনা থেকে মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হন:

সন ৬০ হিজরিতে ইমাম হুসাইন (আ.) মদিনা থেকে মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হন। মদিনা থেকে রওনা হওয়ার সময় তিনি ২৫০টি ঘোড়া, ২৫০টি উট ও মাদি উট ছিল। উক্ত উট সমূহের মধ্যে ৭০টি উট ছিল  তাবু বহন করার জন্য, ৪০টি উট অন্যান্য আসবাবপত্র এবং মালামাল বহন করার জন্য, ৩০টি উট পানির মশক বহর করার জন্য, ১২টি উট পোষাক এবং দিরহাম ও দিনার বহন করার জন্য, ৫০টি উট আলাভি নারি, শিশু, খাদেম এবং দাশ দাশিদের বসার স্থান স্বরূপ ব্যাবহার করা হয় এবং অবশিষ্ট উটগুলো অন্যান্য জিনিষপত্র বহন করার জন্য ব্যাবহার করা হয়। (মাদিনা তা মাদিনা, পৃষ্ঠা ৭৭- ৯০)

 

ইসলামের প্রথম নামাজ

২৮শে রজব রাসুল (সা.) এর নবুওয়াত প্রাপ্তির পরে উক্ত নামাজটি পড়া হয়। উক্ত নামাজে অংশগ্রহণ করেন হজরত আলি (আ.)। (তারিখে তাবারি, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৫)

 

রজব মাসের শেষ দিন

আবু হানিফার মৃত্যু দিবস:

সন ১৫০ হিজরিতে বাগদাদে নোমান বিন সাবিত ওরফে আবু হানিফা মৃত্যুবরণ করেন এবং উক্ত শহরেই তাকে দাফন করা হয়। (মারাকেদুল মাআরেফ, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৯৫- ৯৬)

 

ইমাম শাফেয়ির মৃত্যুদিবস:

ইতিহাসের বর্ণনা অনুযায়ি সন ২০৪ হিজরি রোজ শুক্রবার মোহাম্মাদ বিন ইদ্রিস শাফেয়ি মিশরে মৃত্যুবরণ করেন। (রওযাতুল জান্নাত, খন্ড ৭, পৃষ্ঠা ২৫৮)

 

হাবাশার উদ্দেশ্যে মুসলমানদের যাত্রা:

উক্ত মাসে রাসুল (সা.) এর বেসাতের পরে তাঁর নির্দেশে জাফর বিন আবু তালিব হাবাশার উদ্দেশ্যে রওনা হন। (বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ১৮, পৃষ্ঠা ৪১২- ৪২২)

 

হাবাশার বাদশা নাজ্জাসি মৃত্যু দিবস

উক্ত তরিখে ৯ হিজরি  হাবাশার বাদশা নাজ্জাশি মৃত্যুবরণ করে। রাসুল (সা.) তার সম্পর্কে বলেন: আজ  একজন সৎ ব্যাক্তি আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিয়েছে। (আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ৯৮)

 

মালিকে আশতার (রা.)এর শাহাদত দিবস:

মালিকে আশতার (রা.)ছিলেন রাসুল (সা.) এর জলিলুল কদর সাহাবি হজরত আলি (আ.) এর সেনাপতি ছিলেন। মিশরের কুলযামে মাবিয়ার নিদের্শে বিষ প্রয়োগের কারণে তিনি উক্ত তারিখে ৩৭ অথবা ৩৮ হিজরিতে শাহাদত বরণ করেন। বর্তমানে কুলযামে তাঁর কবর রয়েছে এবং তাঁর কবরের উপরে ছোট একটি গম্বুজ তৈরি করা হয়েছে।

ইতিহাসে মালিকে আশতারের মৃত্যুর ঘটনাটি এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যে, ইমাম আলি (আ.) তাঁকে দ্বায়িত্ব দিয়ে মিশরে প্রেরণ করেন। মাবিয়া তার আগমণ সম্পর্কে অবগত হয়। সে দেহকান আরিশ নামক এক ব্যাক্তিকে দ্বায়িত্ব দেয় সে যেন মালিকে আশতারকে বিষ দান করে। মাবিয়া তাকে বলে যদি তুমি এমনটি করতে পার তাহলে তোমাকে আমি এত অর্থ দিব যে তুমি তা দিয়ে সারা জিবন অতিবাহিত করতে পারবে।  যেহেতু মালিকে আশতার মধু অত্যান্ত পছন্দ করতেন সেহেতেু সে মধুর শরবতে বিষ মিশিয়ে মালিকে আশতারের সমিপে নিয়ে আসে এবং উক্ত শরবতের একাধিক গুণাগুণ বর্ণনা করে। যখন মালিকে আশতার উক্ত শরবতটি পান করেন তাপরেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এবং কুলযুমেই তাকে দাফন করা হয়।(তারিখে তাবারি, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৭২)