হজরত ফাতেমা যাহরা (সা.আ.) ওসিয়তের বিভিন্ন দিক সমূহ

রাসুল (সা.) হজরত ফাতেমা যাহরা (সা.আ.) কে কিছু সম্পদ উপহার স্বরূপ দান করেছিলেন। কিন্তু রাসুল (সা.)এর ওফাতের পরে হজরত ফাতেমা যাহরা (সা.) হজরত আলি (আ.) কে ওসিয়ত করেন তিনি যেন তার মৃত্যুর পরে তা বিভিন্ন মুমিন ও মুমিনাদেরকে উক্ত সম্পদগুলো দান করেন।

হজরত ফাতেমা যাহরা (সা.আ.) ওসিয়তের বিভিন্ন দিক সমূহ

এস, এ, এ

 

অর্থনৈতিক ওসিয়ত:

রাসুল (সা.) হজরত ফাতেমা যাহরা (সা.আ.) কে কিছু সম্পদ উপহার স্বরূপ দান করেছিলেন। কিন্তু রাসুল (সা.)এর ওফাতের পরে হজরত ফাতেমা যাহরা (সা.) হজরত আলি (আ.) কে ওসিয়ত করেন তিনি যেন তার মৃত্যুর পরে তা বিভিন্ন মুমিন ও মুমিনাদেরকে উক্ত সম্পদগুলো দান করেন। নিন্মে তা উল্লেখ করা হলো যেমন:

১- হাতিয়ানে সাবআ:

চারিদিকে দেয়াল ঘেরা ৭ টি বাগান ছিল। হজরত ফাতেমা (সা.আ.) ওসিয়াত করেন যেন উক্ত বাগানের সম্পদ দ্বারা জনকল্যাণমূলক কাজ সম্পাদিত হয়। ইমাম বাকের (আ.) উক্ত বাগান সম্পর্কে বলেন: হজরত ফাতেমা (সা.আ.)হজরত আলি (আ.) কে ওসিয়ত করেন তিনি যেন উক্ত বাগানের আয় দ্বারা জনকল্যাণমূলক কাজ সম্পাদন করেন।  (ফুরুয়ে কাফি, খন্ড ৭, পৃষ্ঠা ৪৮, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪৩, পৃষ্ঠা ২৩৫)

২- উম্মুল আয়াল:

উম্মুল আয়াল হচ্ছে হজরত ফাতেমা (সা.আ.)এর আরেকটি দান যেখানে ২০ হাজার খেজুরের গাছ ছিল এছাড়াও তাতে ছিল লেবু, কমলালেবু সহ অন্যান্য ফলের গাছ। যা হজরত ফাতেমা যাহরা  (সা.আ.) ফকির এবং তার সন্তানদের জন্য দান করে গেছিলেন। ইতিহাসের সাধারণ এবং বিশেষ গ্রন্থ সমূহে এ সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে। এলাকাটিতে সে সময়েও পানির উৎস ছিল। যা হজরত ফাতেমা যাহরা (সা.আ.) জনকল্যানের জন্য দান করে গেছিলেন। (মোজামে মাআলেমুল হেজায, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ১৯৪)

৩- হে আলি! আমি আপনাকে ওসিয়ত করছি যে যারা আমার উপরে অত্যাচার করেছে এবং আমার প্রাপ্য অধিকারকে জোরপূর্বক জবরদখল করেছে তারা যেন আমার জানাযাতে অংশগ্রহণ না করে। কেননা তারা শুধুমাত্র আমার শত্রু না বরং তারা হচ্ছে রাসুল (সা.) এর ও শত্রু। সুতরাং তারা এবং তাদের অনুসারিরা যেন আমার জানাযাতে অংশগ্রহণ করতে না পারে।

রাজনৈতিক ওসিয়ত:

হজরত ফাতেমা যাহরা (সা.) এর লিখিত এবং মৌখিক ওসিয়তও ছিল। যা তিনি তাঁর জিবনের অন্তিম সময়ে হজরত আলি (আ.) কে বলে যান।

১- হজরত ফাতেমা যাহরা (সা.আ.) তাঁর জিবনের অন্তিম সময়ে হজরত আলি (আ.) কে বলেন:

হে আবাল হাসান! আমি অচিরেই আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ইহলোকে পাড়ি দিব। তখন আপনি আর আমার কথা ‍শুনতে পারবেন না। আমার মৃত্যুর পরে আপনি আমার কবর যিয়ারতের জন্য অবশ্যই যাবেন। (কোওকাবে দুররি ফি আহওয়ালিন নাবি ওয়াল বাতুল ওয়াল ওয়াসি, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২৫৩)

২- কোরআন তেলাওয়াত:

যখন আমি মারা যাব তখন আপনি আমাকে গোসল দিবেন, কাফন এবং নামাজ পড়াবেন, আমাকে কবরে নামাবেন এবং আমাকে দাফন করার পরে আমার কবরের মাথার অংশে বসে কোরআন তেলাওয়াত এবং দোয়া পাঠ করবেন। আপনি আমার সন্তাদেরকে দেখে রাখবেন। (বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৭৯, পৃষ্ঠা ২৭)

৩- আমামা’কে বিবাহ করবেন

তিনি হজরত আলি (আ.) কে ওসিয়ত করেন তিনি যেন তার বোনের মেয়ে আমামা’কে বিবাহ করবেন। কেননা সে আমার মতো আমার বাচ্চাদেরকে ভালবাসে। (বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪৩, পৃষ্ঠা ২১৭, খন্ড ৭৮, পৃষ্ঠা ২৫৩, এলালুশ শারায়ে, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১৮৮)

৪- আমার মৃত্যু সম্পর্কে কাউকে অবগত করবেন না:

হজরত ফাতেমা যাহরা (সা.আ.) হজরত আলি (আ.) কে বলেন: আমার গোসল , কাফন এবং দাফন আপনি করবেন এবং যারা বণি সাকিফার ষড়যন্ত্রের পরিচালক ছিল তারা যেন আমার জানাযাতে অংশগ্রহণ না করে। (রওযাতুল ওয়ায়েযিন, পৃষ্ঠা ১৩০, কাশফুল গুম্মা, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৬৮)

ইমাম জাফর সাদিক (আ.) হজরত ফাতেমা যাহরা (সা.আ.) এর ওসিয়ত সম্পর্কে বলেন: হজরত ফাতেমা যাহরা (সা.আ.) হজরত আলি (আ.)কে ওসিয়ত করেন আমার মৃত্যু সম্পর্কে আপনি শুধুমাত্র উম্মে সালমা (রা.), উম্মে আয়মন (রা.), আমার দাসি ফিজ্জা, আমার দুই সন্তান হাসান  ও হুসাইন (আ.), আব্বাস, সালমান, আম্মার, মেকদাদ, আবু যার, হুযাইফা (রা.) ব্যাতিত আর কাউকে অবগত করবেন না। (দালায়েলুল ইমামা, পৃষ্ঠা ৪৪, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৭৮, পৃষ্ঠা ৩১০)

হজরত ফাতেমা যাহরা (সা.আ.) আসমা বিনতে উমাইসকে বলেন: আপনি এবং হজরত আলি (আ.) এ দুজনেই আমকে গোসল দিবেন এবং উক্ত কাজে অন্য কাউকে অংশগ্রহণের অনুমতি দিবেন না। (যাখায়েরুল উকবা, পৃষ্ঠা ৫৩, )

৫- রাসুল (সা.) এবং আমার শত্রুরা যেন অবগত না হয়:

হজরত ফাতেমা যাহরা (সা.আ.) হজরত আলি (আ.)কে বলেন: যারা আমার উপরে অত্যাচার করেছে আমার প্রাপ্য অধিকারকে জববরদখল করেছে তারা এবং তাদের অনুসারিরা যেন আমার জানাযাতে অংশগ্রহণ না করে। (বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪৩, পৃষ্ঠা ২০৯)

হজরত ফাতেমা (সা.আ.) এর ব্যাক্তিগত ওসিয়ত:

হজরত আলি (আ.) হজরত ফাতেমা (সা.আ.) এর শাহাদতের পরে ঘরে কাপড়ে প্যাচানো একটি জিনিষ দেখতে পান যা ছিল হজরত ফাতেমা (সা.আ.) এর স্মৃতি বিজড়িত একটি জিনিষ। যখন হজরত আলি (আ.) তা খুলেন তখন তিনি দেখতে পান যে, তার মধ্যে হজরত ফাতেমা যাহরা (সা.আ.) এর ওসিয়ত রয়েছে।

সেই ওসিয়তে হজরত ফাতেমা (সা.আ.) লিখেছিলেন:

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি হচ্ছে পরম দয়ালু এবং ক্ষমাশীল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ হচ্ছেন এক ও অদ্বিতিয় এবং হজরম মোহাম্মাদ (সা.) হচ্ছেন তাঁর রাসুল। বেহেস্ত এবং জাহান্নাম হচ্ছে হক্ব, কেয়ামত সংঘটিত হবে এবং মহান আল্লাহ তায়ালা মৃতদেরকে জিবিত করবেন এবং তাদেরকে হাশরের ময়দানে উপস্থিত করবেন।

হে আলি! আমি মোহাম্মাদ(সা.) এর কন্যা ফাতেমা আল্লাহ আপনার সাথে আমার বিবাহ দিয়েছেন যেন আমি দুনিয়া এবং আখেরাতে আপনার সাথে থাকি।  আমার দৃষ্টিতে অন্যান্যদের তুলনায় আপনি হচ্ছে উত্তম। আমার মৃত্যুর পরে আপনিই আমাকে গোসল, হুনুত, কাফন এবং দাফন করবেন। আমার দেহকে আপনি রাতের অন্ধকারে দাফন করবেন। আমার জানাযার নামাজ আপনি পড়াবেন। আমার মৃত্যু সম্পর্কে সকলকে অবগত করবেন না। কেয়ামত পর্যন্ত আমার সন্তানদের কে আমার সালাম জানাবেন। (বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪৩, পৃষ্ঠা ২১৪)