কিভাবে ইমাম জাফর সাদিক (আ.) শাহাদত বরণ করেন?

ইতিহাসের বর্ণনা অনুযায়ি শিয়া মাযহাবের ষষ্ঠ ইমাম ইমাম জাফর সাদিক্ব (আ.) ১৪৮ হিজরি শাওয়াল মাসে খলিফা মনসুর’এর দেয়া বিষাক্ত আঙ্গুর খাওয়ার কারণে শাহাদত বরণ করেন। শাহাদত কালে তার বয়স ছিল ৬৫ বছর এবং তাঁর ইমামতকাল ছিল ৩৪ বছর।  তবে বিভিন্ন বিশ্বস্ত পুস্তক সমূহে ত

কিভাবে ইমাম জাফর সাদিক (আ.) শাহাদত বরণ করেন?

ইমাম সাদিক, হানাফি, আবু হানিফা, মালেকি, মালেক বিন আনাস, আলী, ফাতিমা, হাসান, হুসাইন, সাজ্জাদ, ইমাম, খেলাফত, ইমামত, মদীনা, জান্নাতুল বাক্বি, মোহাম্মাদ বাকের, বাকেরুল উলুম, Shia, Sunni, Islam, Quran, Karbala, najaf, kufa, mashad, samera, madina, makka, jannatul baqi, kazmain, ali, Fatima, hasan, hussain, mohammad, imam mahdi, ইমাম সাদিক, বাকের, শিয়া, সুন্নী, ইস,Imam, imam sadik, imam sadiq, jannnatul baqi,  ইমাম সাদিক, জাফর সাদিক, ইমাম, মদিনা, মনসুর, মনসুরে দাওয়ানেকি, বণি আব্বাস, বণি উমাইয়া, শাহাদত, sahadat, imam, jafar sadiq, madina, bani abbsia, bani umaia

এস, এ, এ

ইতিহাসের বর্ণনা অনুযায়ি শিয়া মাযহাবের ষষ্ঠ ইমাম ইমাম জাফর সাদিক্ব (আ.) ১৪৮ হিজরি শাওয়াল মাসে খলিফা মনসুর’এর দেয়া বিষাক্ত আঙ্গুর খাওয়ার কারণে শাহাদত বরণ করেন। শাহাদত কালে তার বয়স ছিল ৬৫ বছর এবং তাঁর ইমামতকাল ছিল ৩৪ বছর।  তবে বিভিন্ন বিশ্বস্ত পুস্তক সমূহে তাঁর শাহাদতের সঠিক তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। তবে তাঁর শাহাদত সম্পর্কে তিনটি মত ইতিহাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

১- শাওয়াল মাসের শেষের দিকে। (প্রসিদ্ধ)

২- রজব মাসে।

৩- রজব মাসের ২৫ তারিখে।

ইমাম জাফর সাদিক (আ.) তাঁর জীবদ্দশায় বণি উমাইয়া এবং বণি আব্বাসিয় ৭ জন খলিফার অত্যাচারকে সহ্য করেন এবং খলিফাগণ ছিলেন:

১- হেশাম বিন আব্দুল মালেক (বণি উমাইয়া)।

২- ওয়ালিদ বিন এজিদ বিন আব্দুল মালেক (বণি উমাইয়া)।

৩- এজিদ বিন ওয়ালিদ (বণি উমাইয়া)।

৪- ইব্রাহিম বিন ওয়ালিদ (বণি উমাইয়া)।

৫- মারওয়ান বিন মোহাম্মাদ (বণি উমাইয়া)।

৬- আবু আব্বাস সাফফাহ (বণি আব্বাস)।

৭- আবু জাফর মানসুর (বণি আব্বাস)।

শেইখ তুসি ইমাম জাফর সাদিক (আ.)’এর দাশি সালামার বর্ণনা অনুযায়ি উল্লেখ করেন যে, সে বলে আমি ইমাম (আ.)’এর অন্তিম সময়ে তাঁর কাছেই ছিলাম হঠাৎ তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন এবং যখন তিনি জ্ঞান ফিরে পান তখন তিনি বলেন: হাসান বিন আলি বিন আলি বিন হুসাইন বিন আলি বিন আবি তালিব যিনি আফতাস নামেও প্রসিদ্ধ ছিলেন তাকে ৭০টি সোনার পয়সা এবং বিভিন্ন জনকে বিভিন্ন পরিমাণের অর্থ দিতে বলেন। আমি ইমাম (আ.) কে জিজ্ঞাসা করলাম যে ব্যাক্তি আপনার উপরে চাকু দ্বারা হামলা করেছিল এবং আপনাকে হত্যা করতে চেয়েছিল তাকে কেন অর্থ দিতে চান? তখন তিনি বলেন তুমি কি চাও যে আল্লাহ যার প্রতি নরম আচরণ করেছেন আমি তার সাথে কঠোর আচরণ করি?

শেইখ কুলাইনি ইমাম মূসা কাযিম (আ.) থেকে রেওয়ায়েত বর্ণনা করেছেন যে, ইমাম (আ.) বলেন আমি আমার বাবাকে মিশরের সাদা জামা যা তিনি এহরাম অবস্থায় পরিধান করতেন, ঐ পাগড়ির কাপড় যা তিনি ইমাম জয়নুল আবেদিন (আ.)’এর কাছে থেকে পেয়েছিলেন এবং ইয়েমেনের সুতি কাপড় যা তিনি ৪০ সোনার দিনার দিয়ে কিনেছিলেন তা দিয়েই আমি তাকে দাফন করেছি।  এবং ৪০ দিন পর্যন্ত যে কক্ষে তিনি মারা গেছিলেন সে কক্ষে আমি আলো জ্বালিয়ে রাখতাম।

শেইখ সাদুক আবু বাসির থেকে রেওয়ায়েত বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি ইমাম জাফর সাদিক (আ.)’এর স্ত্রী উম্মে হুমাইদা’এর সমীপে তাঁকে সান্তনা প্রদানের জন্য উপস্থিত হই। তখন তিনি আমাকে বলেন: হে আবু মোহাম্মাদ যদি তুমি ইমাম (আ.)কে মৃত্যুবরণ কালিন সময়ে দেখতে তাহলে তুমি বুঝতে যে তার কিরূপ অবস্থা হয়েছিল। একবার তিনি চোখ মেলে বলেন আমার সকল আত্মিয় স্বজনকে আমার কাছে আসতে বল। সুতরাং আমি তাঁর সকল আত্মিয় স্বজনকে তার কাছে একত্রিত করি। অতঃপর তিনি সকলের দিকে একবার দৃষ্টি ফিরিয়ে বলেন যারা নামাজকে গুরুত্ব সহকারে আদায় করবে না আমি তাদেরকে শাফাআত করবো না।

আব্বাসিয় খলিফা মনসুর দাওয়ানেকি ইমাম জাফর সাদিক (আ.)কে হত্যা করার জন্য মদিনা থেকে ইরাকে পাঁচ বার জোরপূর্বক তলব করে কিন্তু বিভিন্ন কারণে আর তাঁকে হত্যা করতে পারেনি।

ইমাম জাফর সাদিক (আ.)’এর শাহাদতের পিছনে যে খলিফা মনসুরের ষড়যন্ত্র ছিল এতে কোন সন্দেহ নেই। কেননা সে বিভিন্ন সময়ে বলতো যে, জাফর সাদিক (আ.) হচ্ছেন তার গলায় বিধে থাকা হাড়ের ন্যায়। অবশেষে খলিফা মনসুর মদিনার গভর্ণরকে নির্দেশ দান করে যে, সে যেন ইমাম (আ.)কে বিষ দ্বারা হত্যা করে। আর তাই সে ইমাম (আ.)কে বিষাক্ত আঙ্গুর খাওয়ায় যার কারণে তিনি শাহাদত বরণ করেন।

মাসউদি বলেন যে, তার শাহাদতের পরে তাঁকে তাঁর পূর্বপুরুষদের কবরের পাশে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়।