ইমাম মাহদী (আ.)’এর তৃতীয় নায়েব হুসাইন বিন রূহ

ইমাম মাহদী (আ.)’এর তৃতীয় নায়েব হুসাইন বিন রূহ

ইমাম মাহদী (আ.)’এর তৃতীয় নায়েব হুসাইন বিন রূহ

ইমাম মাহদি, মাহদি, গায়বাত, অন্তর্ধান, গায়বাতে সুগরা, গায়বাতে কুবরা, সামেরা, ইমাম হাসান আসকারী,

এস, এ, এ

ইমাম মাহদী (আ.)’এর তৃতীয় নায়েবের

নাম : হুসাইন বিন রূহ।

উপাধি: নৌবাখতি।

উপনাম: আবুল কাশেম।

ইমাম মাহদি (আ.)’এর বিশেষ নায়েব হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন: ২১ বছর।

ইমাম মাহদি (আ.)’এর বিশেষ নায়েব হিসেবে দ্বায়িত্ব পালনের স্থান : বাগদাদ।

মৃত্যু: ১৮ই শাবান, ৩২৬ হিজরী।

দাফনের স্থান: বাগদাদ।

জন্ম:

ইতিহাসে হুসাইন বিন রূহ’এর জন্ম তারিখ উল্লেখ করা হয়নি

বংশ:

হুসাইন বিন রূহকে তার মায়ের বংশের কারণে নৌবাখতি বলা হয়।

ইমাম হাসান আসকারী এবং তাঁর বিশেষ সাহাবী এবং শিয়া ব্যাক্তিত্বদের মাঝে দুইজন নায়েবের পরে তাকে তাকে তৃতীয় নায়েব হিসেবে মনোনিত করা হয়।

হুসাইন বিন রূহ একজন ইরানী বংশভূত এবং নৌবাখত বংশের সদস্য ছিলেন।

আবুল কাশেম বিন রূহ বিন আবি বাহর নৌবাখতি ছিলেন নৌবাখত বংশের একজন। উক্ত বংশ থেকে অনেক আলেম, কালাম শাস্ত্রবিদ এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জন্মগ্রহণ করেছেন। তারা সকলেই ছিলেন আহলে বাইত (আ.) এর অনুসারী। পূর্বে নৌবাখতির এর বংশের লোকেরা জারতুশতি মতাদর্শের অনুসারী ছিল কিন্তু পরে তারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে এবং বাগদাদে জীবন যাপন করতে থাকে।

হুসাইন বিন রূহ কিভাবে ইমাম মাহদী (আ.)’এর নায়েব এ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তিনি মোহাম্মাদ বিন উসমান বিন সাঈদ আমরী’এর খুব কাছে লোক ছিলেন। আর এ কারণেই ধিরে ধিরে তার ইমাম মাহদী (আ.) নায়েব হওয়ার ক্ষেত্রটি তৈরী হতে থাকে এবং এক পর্যায়ে তাকে ইমাম মাহদী (আ.)’এর নির্দেশে ইমামের নায়েব হিসেবে তাকে নির্বাচন করা হয়। তারপর থেকে শিয়ারা বিভিন্ন কাজের জন্য তার কাছে আসতো। তারপর থেকে তিনি শিয়াদের মাঝে একজন ব্যাক্তিত্ব রূপে পরিচিতি অর্জন করেন।

হুসাইন বিন রূহ ২১ বছর ইমাম মাহদী (আ.)’এর নায়েব ছিলেন আর উক্ত সময়ের মধ্যে আব্বাসীয় খেলাফতে যথেষ্ট পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। আব্বাসীয় খেলাফতে পরিবর্তনের সাথে সাথে হুসাইন বিন রূহ অনেক সমস্যার সম্মুখিন হন। এ কারণে তাকে বেশ কিছু দিন কারাগারে অতিবাহিত করতে হয় এবং কিছুদিন গোপনভাবে জীবন যাপন করতে হয়। তাঁর নায়েব থাকাকালিন সময়ে বিভিন্ন দেশে তার নিযুক্ত ব্যাক্তিরা ছিল। তিনি তাদের মাধ্যেমে বিভিন্ন কাজ সমূহকে সম্পাদন করতেন এবং শুধুমাত্র বাগদাদে তার ১০জন ব্যাক্তি ছিল। যারা তার তত্বাবধানে কাজ করতো এবং তারা সকলেই ছিলেন সে যুগের রেজাল শাস্ত্রবিদ। এক্ষেত্রে তিনি যথেষ্ট সফলতা অর্জন করেন। কেননা তিনিও পূর্বে মোহাম্মাদ বিন উসমানের যুগে একই কাজে নিয়োজিত ছিলেন। আর এ পদ্ধতির মাধ্যেমে তিনি আব্বাসীয় খেলাফতকালে যথেষ্ট ভুমিকা রেখেছিলেন। নিন্মে হুসাইন বিন রূহ’এর কিছু কর্মতৎপরতা উল্লেখ করা হলো:

১- তাকিয়াহ:

আব্দুল্লাহ বিন গালেব বলেন: আমি হুসাইন বিন রূহের ন্যায় বিচক্ষণ ব্যাক্তিকে আর দেখিনি। কেননা তিনি খলিফা এবং খেলাফতের বিভিন্ন ব্যাক্তিদের কাছে যাতায়াত করতেন এবং আহলে সুন্নাতের লোকেরা তাকে যথেষ্ট সম্মান প্রদর্শন করতো। তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাকিয়া অবলম্বন করে চলতেন।

২- মিথ্যবাদিদের প্রতিবাদ:

হুসাইন বিন রূহ গোলাত (অতিরঞ্জনকারি), বাবিয়াত (বাতিল ফেরকা) এবং ইমাম (আ.)’দের বাতিল উকিল দাবীকারিদের বিরূদ্ধে তিনি প্রতিবাদ করেন। কেননা উক্ত বাতিল চিন্তাচেতনার কারণে ইমামের অন্তর্ধানকালিন সময়ে শিয়ারা যথেষ্ট কষ্ট ভোগ করে।

৩- ইমাম (আ.)’এর নায়েবের কারামত:

আবু আলি বাগদাদি বলেন যে, একদা আমি এক নারীকে বাগদাদে দেখতে পাই যে, সে লোকজনকে জিজ্ঞাসা করছিল যে, ইমাম মাহদি (আ.)’এর নায়েব কে? একজন কুম’এর অধিবাসীবাসী উক্ত নারীকে আমার দিকে ইশারা করে দেখিয়ে বলে সে তাকে চিনে। আমি উক্ত নারীকে সাথে নিয়ে হুসাইন বিন রূহ’এর কাছে পৌছালাম। তখন উক্ত নারীটি তাকে জিজ্ঞাসা করে হে শেইখ! বলুন আমার কাছে কি আছে? হুসাইন বিন রূহ তাকে বলে তোমার কাছে যা আছে তা তুমি দজলা নদীতে ফেলে আস তখন আমি বলবো যে তোমার কাছে কি আছে। তখন উক্ত নারীটি তার কাছে যা ছিল তা দজলা নদীতে ফেলে চলে আসে। যখন সে আবার হুসাইন বিন রূহ’এর কাছে আসে তখন তিনি তার এক দাসীকে বলে যে, ছোট বাক্সটি নিয়ে এসো। যখন তা নিয়ে আসা হয় তখন তিনি উক্ত নারীকে বলেন যে এটা কি তোমার সেই বাক্স যা তুমি দজলা নদীতে ফেলে এসেছো? তুমি আরো জানতে চাও যে তার মধ্যে কি ছিল? নারীটি বলে হ্যাঁ। তখন হুসাইন বিন রূহ বলেন: এক জোড়া স্বর্ণের নুপূর, দুটি ছোট রিং এবং তাতে একটি রত্ন রয়েছে, দুটি ফিরোজা’এর আংটি এবং একটি আকিক পাথরের আংটি রয়েছে। যখন উক্ত বাক্সটি খোলা হয় তখন আমি দেখি যে, হুসাইন বিন রূহ যা বলেছিল উক্ত বাক্সে তাই রয়েছে এবং উক্ত নারীটিও স্বীকার করে যে তার বাক্সে উক্ত জিনিষগুলো ছিল।

হুসাইন বিন রূহ’এর মৃত্যু:

অবশেষে হুসাইন বিন রূহ  নৌবাখতি ২১ বছর নায়বের দ্বায়িত্ব পালনের পরে ৩২৬ হিজরী শাবান মাসে ইহলোক ত্যাগ করেন। বর্তমানে ইরাকের বাগদাদ শহরের আত্তারান বাজারের মাঝামাঝি একটি গলি চলে গেছে যার শেষ সীমান্তে একটি ছোট  বারান্দা রয়েছে সেখানেই ইমাম মাহদি (আ.)’এর তৃতীয় নায়েবকে দাফন করা হয়।

সূত্র:

১- গায়বাতে শেইখ তুসি, পৃষ্ঠা ১৯৬, ২২৭, ২৩৩- ২৩৬, ২৩৮, ২৪৪, ২৪৮- ২৫৪।

২- বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৫১, পৃষ্ঠা ২৯৩, ৩৪২।

৩- মুনতাখাবুল আাসার, পৃষ্ঠা ৩৯৭।

৪- তারিখে সিয়াসি ইমামে যামান, পৃষ্ঠা ২০০- ২০৫।

৫- সেইরে দার আতাবাত ওয়া আমাকেনে মোকাদ্দেমে দার ইরাক, পৃষ্ঠা ৩৫০।

৬- খানদানে নৌবাখতি, পৃষ্ঠা ২৩৬- ২৩৭।

৭- মানাকেবে ইবনে শাহর আশুব, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৪৩৩।

৮-  ফারহাঙ্গে মওউদ, পৃষ্ঠা ৮৩।