ইমাম মাহদী (আ.)’এর বৈশিষ্ট এবং গুণাবলি

ইমাম মাহদী (আ.)’এর বৈশিষ্ট এবং গুণাবলি

ইমাম মাহদী (আ.)’এর বৈশিষ্ট এবং গুণাবলি

ইমাম মাহদী (আ.)’এর বৈশিষ্ট এবং গুণাবলি সম্পর্কে ইমাম রেযা (আ.) বলেছেন: ইমামত হচ্ছে পয়গম্বরদের পদমর্যাদা এবং আম্বিয়াদের মীরাস, রাসুল (সা.)’এর খেলাফত, হজরত আমীরুল মুমিনিন (আ.)’এর পদমর্যাদা, ইমাম হাসান ও হুসাইন (আ.)’এর মীরাস, মুলমানদের ব্যাস্থাপক, ধর্মগুরু, দুনিয়ার জন্য ঢাল, মুমিনিনদের জন্য  সম্মান, উন্নয়নের কর্ণধারা, বৃক্ষের বৃহৎ শাখা স্বরূপ।

নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত, জিহাদ, গণিমতের ও সাদক্বার সম্পদ বৃদ্ধির, ইসলামী আহকাম বাস্তবায়িত, ইসলামের বিধি-বিধান রক্ষার জন্য এবং পরিপূর্ণ হওয়ার জন্য ইমামতের প্রয়োজনিয়তা রয়েছে।

ইমাম আল্লাহর হালালকৃত বিষয়াবলিকে হালাল এবং হারামকৃত বিষয়াবলিকে হারাম এবং আল্লাহর নির্ধারিত নির্দেশাবলি ও সীমাকে রক্ষা করেন এবং হিকমত, উপদেশ, স্পষ্ট দলিল সহকারে মানুষদেরকে আল্লাহর পথে আহবান জানান। ইমাম হচ্ছেন উদিত সূর্যের ন্যায় যার ঐশি জ্ঞান দ্বারা সারা বিশ্ব উপকৃত হয়।

রাত্রির জন্য ইমাম হচ্ছেন পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় আলোকিত, পথনির্দেশক আলো স্বরূপ এবং তিনি অন্ধকার রাতের উজ্জল তারার ন্যায় যিনি পথভ্রষ্ট, পথভোলা মানুষকে পথ দেখান।

ইমাম হচ্ছেন পিপাসিত অবস্থায় সুপেয় পানির ন্যায়, পথভ্রষ্টের শেষ সীমায় হেদায়াতের ন্যায়, পাহাড়ের চূড়ায় জ্বলন্ত আগুনের ন্যায় যা দেখে মানুষ নিজের হারানো পথের নির্দেশনা পায় এবং ঠান্ডায় আক্রান্ত ব্যাক্তি তার পরশ পেয়ে গরম অনুভব করে। আর যেকেউ তার কাছ থেকে দূরে সরে যাবে সে পথভ্রষ্ট হবে।

ইমাম হচ্ছেন এমন একজন ভাল বন্ধু যে মানুষের বাবা মা’এর চেয়েও বেশী দয়ালু ও মেহেরবান। তিনি হচ্ছেন বিভিন্ন সমস্যায় জরজারিত মানুষের জন্য আশ্রয়স্থল স্বরূপ।

ইমাম হচ্ছেন আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের জন্য একজন আমীন স্বরূপ। যিনি আল্লাহ এবং বান্দদের মাঝে সম্পর্ক স্থাপনের এক সর্বোত্তম মাধ্যেম, আল্লাহর সৃষ্ট দুনিয়ার খলিফা স্বরূপ, সত্যর দিকে আহবানকারী স্বরূপ এবং মানবাধিকার রক্ষাকারী।

ইমামগণ সকল গুনাহ এবং দোষত্রুটি থেকে মুক্ত এবং তিনি হচ্ছেন ঐশী জ্ঞানের প্রতিমূর্তি। তিনি দ্বীনের আইন রক্ষাকারী, মুসলমানদের জন্য সম্মান, মুনাফিকদের জন্য ক্রোধ এবং কাফেরদের জন্য ধ্বংসের কারণ স্বরূপ।

তিনি হবেন তার যুগের সর্বোত্তম ব্যাক্তি। তাঁর ন্যার জ্ঞানী, সকল গুণে গুণান্বিত এবং ফযিলতপূর্ণ আর কেউ থাকবে না কেননা এ সকল গুণাবলি তাঁকে মহান আল্লাহ তায়ালা দান করবেন।

ইমাম হচ্ছেন এমন এক জ্ঞানী ব্যাক্তি যার কোন কিছুই অজানা নেই, তিনি এমন এক পৃষ্ঠপোষক যিনি কখনও পিছু পা হন না।

তাঁর বংশধারা হচ্ছে পবিত্র কেননা তিনি হচ্ছে হজরত ফাতেমা (সা.আ.)’এর সন্তান এবং তার পিতামহ হচ্ছেন রাসুল (সা.) এবং কোন বংশধরেরা তাঁর সমকক্ষ হবে না। তিনি সম্মানিত ব্যাক্তিদের কাছে হবেনে একটি গৌরবের বিষয়। তার ইমামত হবে শক্তিশালী এবং সকলের জন্য তার অনুসরণ করা হবে ওয়াজিব। কেননা তিনি হবেন মহান আল্লাহর নির্বাচিত বান্দা।

তিনি হবেন বান্দাদের মঙ্গলকামী, আল্লাহর দ্বীনের প্রহরী এবং সকল মানুষের মদ্যে সবচেয়ে বেশী জ্ঞানী কেননা তাকে স্বয়ং মহান আল্লাহ তায়ালা উক্ত জ্ঞান দান করেছেন। আর এ কারণেই তাঁর জ্ঞান হবে সকলের চেয়ে বেশী।

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:

أَفَمَن يَهْدِي إِلَى الْحَقِّ أَحَقُّ أَن يُتَّبَعَ أَمَّن لاَّ يَهِدِّيَ إِلاَّ أَن يُهْدَى فَمَا لَكُمْ كَيْفَ تَحْكُمُونَ

অর্থ:সুতরাং এমন যে লোক সঠিক পথ দেখাবে তার কথা মান্য করা কিংবা যে লোক নিজে নিজে পথ খুঁজে পায় না, তাকে পথ দেখানো কর্তব্য। অতএব, তোমাদের কি হল, কেমন তোমাদের বিচার?

আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদেরকে হেদায়তের জন্য এক বান্দাকে নির্বাচন করেছেন এবং তাঁর অন্তরকে হিকমত এবং জ্ঞান দ্বারা পূর্ণ করে দিয়েছেন এবং সকল গুনাহ এবং ত্রুটি থেকে মুক্ত রেখেছেন আর এধরণের বান্দাকে মাসুম বলা হয়।

ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَاء وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ

অর্থ: এটা আল্লাহর কৃপা, তিনি যাকে ইচ্ছা, এটা দান করেন। আল্লাহ মহান কৃপার অধিকারী। (সূরা হাদীদ, আয়াত নং ২১)

কি মানুষের মধ্যে এমন শক্তি আছে যে তারা কাউকে এভাবে নির্বাচন করতে পারবে? এবং যাকে তারা নির্বাচন করবে সে সকল গুনাহ এবং ত্রুটি থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে পারবে?

ইমাম রেযা (আ.) ইমামদের সনাক্তকরণের জন্য কয়েকটি গুণাবলি উল্লেখ করেছেন যেমন: ইমাম যেন সকলের চেয়ে বেশী জ্ঞানী, দৃঢ়, পরহেজগারী, সর্বোত্তম, সাহসী, দানশীল, জন্মগতভাবে যেন তার খাৎনা করা থাকে, পাক পবিত্র জন্মলাভ করে, তিনি যেন তাঁর পিছনের মানুষকেও দেখতে পান, তাঁর যেন কোন ছায়া না থাকে, যখন সে জন্ম নিবে তখন যেন সেজদারত অবস্থায় থঅকে এবং জন্মলাভের সাথে সাথে যেন কলেমা শাহাদত উচ্চারণ করে, যখন বাহ্যিকভঅবে তার চোখ বন্ধ থাকবে তখন যেন তার অন্তর জাগ্রত থাকে, তাঁর শরীর থেকে মেশক অম্বরের সুঘ্রাণ ছড়াবে, তিনি মানুষের জন্য তাদের বাবা মা’এর চেয়ে বেশী দয়ালু হবেন, খোদার দরবারে তিনি সকলের চেয়ে বেশী বিনয়ি হবেন, তিনি আল্লাহর সকল নিয়ম কানুনের উপরে আমল করবেন, তাঁর কৃত দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হবে, রাসুল (সা.)’এর যুদ্ধের অস্ত্র তাঁর কাছে থাকবে, যে পুস্তকে আহলে বাইতের সকল বন্ধু এবং শত্রুদের নাম লিখা রয়েছে তা তাদের কাছে থাকবে, অনুরূপভাবে জাফরে আকবর এবং জাফরে আসগর তাদের কাছে থাকবে এবং হজরত ফাতেমা (সা.আ.)’এর সহীফাও তাঁর কাছে থাকবে।

সূত্র: আল মাওয়ায়েযুস সুদুক্ব, পৃষ্ঠা ১২৯- ১৩১।