হজরত যোহাইর বিন কাইন’এর সংক্ষিপ্ত জীবন বিবরণি

হজরত যোহাইর বিন কাইন ছিলেন বাজালি গোত্রের একজন ব্যাক্তিত্ব যিনি কুফাতে জীবন যাপন করতেন। (তানকিহুল মাকাল, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৫২- ৪৫৩) তিনি ছিলেন কুফার একজন সাহসী, ভদ্র, বিনয়ি ব্যাক্তি। বিভিন্ন যুদ্ধে তার কৃতিত্ব রয়েছে। (আবসারুল আয়ন ফি আনসারিল হুসাইন, পৃষ্ঠা

হজরত যোহাইর বিন কাইন’এর সংক্ষিপ্ত জীবন বিবরণি

যুহাইর বিন কাইন, জুহাইর বিন কাইন, zuhair bin Kain , যোহাইর , যোহাইর বিন কাইন , লাইলা, উম্মে লাইলা, Laila, umme laila, Hazrat ali akbar, ali akbar, হজরত আলী আকবর, আলী আকবর, কারবালা, কুবানি, kubani, সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী, আমেরিকা, ভারত, মিয়ানমার, চীন, নরেন্দ্র মোদি, আসাম, ওবামা, বারাক ওবামা, মুখতার সাকাফি, মোখতার সাকাফি, mokhter sakafi, জাবের ইবনে হাইয়ান, ইমাম সাদিক, সুইডেন, Hazrat fizza, hazrat fijja, হজরত ফিজ্জা, হজরত ফিযযা, সিরিয়া, শাম, এজিদের দরবার, জয়নাব, সকিনা, রাফাহ ক্রসিং, অবমাননা, মহানবী, hussain, mohammad, imam mahdi, সিফফিন, জামালের যুদ্ধ, নারওয়ানের যুদ্ধ, খলিফা, খেলাফত, ইমামত, আলী, সিদ্দীক, ফারুক, মোর্তযা, বদর, ওহদ, খন্দক, খায়বার, বণী Shia, Sunni, Islam, Quran, Karbala, najaf, kufa, mashad, samera, madina, makka, jannatul baqi, kazmain, ali, Fatima, hasan, সাকিফা, বণী সায়াদা, সাহাবী, হিজবুল্লাহ, ইসরাইল, ড্রোন, বিমান, হাসান নাসরুল্লাহ , লেবানন, ইরান,  চীন, মালয়েশিয়া,  স্যাটেলাইট, কুয়ালালামপুর, বেইজিং, ভিয়েতনাম, মার্কিন, গোয়েন্দা, ইরাক, সিরিয়া, মিশর, আল কায়েদা, তাকফিরী, ইখওয়ানুল মুসলেমিন, বাংলাদেশ, ভারত, জিহাদ, ফিলিস্তিন, ইহুদি, গাজা, শহীদ, জিহাদ, ক্ষেপণাস্ত্র, দূতাবাস, সৌদি আরব , কুয়েত, রাশিয়া, ফ্রান্স, ব্রিটেন, আমেরিকা, ভিয়েনা, পরমাণু, বাহারাইন, আফগানিস্থান, থাইল্যান্ড, হজরত ফাতিমা, মার্জিয়া, সিদ্দিকা, মোহাদ্দেসা, বাতুল, উম্মে আবিহা, যাহরা, মুবারেকা, যাকিয়া, তাহেরা, রাযিয়া, জিহাদুন নিকাহ, পোপ, পাদ্রি, বাইতুল মোকাদ্দাস, ওহাবী, সালাফি, মুফতি, ড্রোন, পাকিস্থান, এজিদ, মাবিয়া, আবু সুফিয়ান, আলী আকবর, হুসাইন, শাবান, আমল, শবে বরাত, রমজান, দায়েশ, তাকফিরী, তালেবান, মোতা, মোতা বিবাহ, সেগা করা,দায়েশ, তাকফিরি, তালেবান, ওহাবী, আইএসআইএল,গাজা, ফিলিস্তিন, ইসরাইল, শিশু হত্যা, কুদস দিবস, জুমআতুল বিদা, কুদস,সাদক্বা, দান খয়রাত, ফেতরা, জাকাত, সাদকা, ভিক্ষা,  শবে বরাত, লাইলাতুল বরাত, দায়েশ, জঙ্গি,  দামেস্ক, ইসরাইল, সাইবার হামলা, ‍ৃ

এস, এ, এ

হজরত যোহাইর বিন কাইন ছিলেন বাজালি গোত্রের একজন ব্যাক্তিত্ব যিনি কুফাতে জীবন যাপন করতেন। (তানকিহুল মাকাল, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৫২- ৪৫৩)

তিনি ছিলেন কুফার একজন সাহসী, ভদ্র, বিনয়ি ব্যাক্তি। বিভিন্ন যুদ্ধে তার কৃতিত্ব রয়েছে। (আবসারুল আয়ন ফি আনসারিল হুসাইন, পৃষ্ঠা ১৬১)

যোহাইর’এর বাবা ছিলেন একজন রাসুল (সা.) এর সাহাবী। (আবসারুল আয়ন ফি আনসারিল হুসাইন, পৃষ্ঠা ১৬১)

যোহাইর ছিলেন ইমাম হুসাইন (আ.) এর এমন এক সাহাবী যিনি কারবালাতে উপস্থিত ছিলেন তিনি ইমাম হুসাইন (আ.) এর ভালবাসায় এবং খোদার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য শাহাদত বরণ করেন।(তারিখে তাবারী, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩২০, ইনসাবুল আশরাফ, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৮৭, আল ইরশাদ, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৯৫, আল আল কামেল ফিত তারিখ, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৫৯)

হজরত যোহাইর বিন কাইন ছিলেন একজন উসমানী পন্থি। ৬০ হিজরীতে যখন তিনি হজ্ব করে ফিরে আসছিলেন তখন কুফার পথে “যারুদ” নামক স্থানে তার সাথে ইমাম হুসাইন (আ.)’এর সাক্ষাত হয়। (আল আখবারুত তাওয়াল, পৃষ্ঠা ২৪৬)

ইমাম হুসাইন (আ.) হজরত যোহাইর বিন কাইন ‘এর সাথে সাক্ষাত করার জন্য এক ব্যাক্তিকে তার কাছে প্রেরণ করেন। প্রথমে সে ইমাম হুসাইন (আ.) এর সাথে সাক্ষাত করতে রাজি হয়নি কিন্তু তার স্ত্রী দেইলাম বা দাহলাম’এর অনুরোধে অবশেষে সে সাক্ষাত করতে রাজি হয়। আর উক্ত সাক্ষাত তার জীবকে অর্থবহ করে তুলে। সে উক্ত বৈঠকের পরে তার গোত্রের কাছে ফিরে আসে এবং নির্দেশ দেয় তার তাবু যেন ইমাম হুসাইন (আ.)’এর তাবুর পাশে লাগানো হয়। (ইনসাবুল আশরাফ, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৬৭- ১৬৮, তারিখে তাবারী, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৯৮, তানকিহুল মাকাল, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৫২- ৪৫৩)

সে তার স্ত্রীর কাছে বিদায় নেয়ার জন্য আসে এবং তাকে তালাক্ব দেয় এবং তাকে বলে যে, আমি চাই না যে আমার কারণে তুমি কোন ক্ষতির সম্মুখিন হও। আর তুমি তোমার পরিবারের কাছে ফিরে যাও। (তারিখে তাবারী, পৃষ্ঠা ৩৯৬, রওযাতুল ওয়ায়েযিন, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১৭৮, মাসিরুল আহযান, পৃষ্ঠা ৪৬- ৪৭)

তিনি তার সফর সঙ্গিদেরকে বলেন তোমাদের মধ্যে যে শাহাদতের সুধা পান করতে চাও সে আমার সাথে আসুক, আর না চাইলে ফিরে যাও আর এটাই ছিল তার গোত্রের লোকদের সাথে তার শেষ দেখা।(আল আখবারুত তাওয়াল, পৃষ্ঠা ২৪৬- ২৪৭)

যখন ইমাম হুসাইন (আ.) কুফায় আসার পথে যু হাসাম নামক স্থানে পৌছায় তখন হুরের সৈন্য বাহিনীর সাথে তার সাক্ষাত হয় এবং সে ইমাম (আ.)’এর পথে বাধা হয়ে দাড়ায় তখন হজরত যোহাইর বিন কাইন বলেঃ তুমি কি দেখতে পাচ্ছ না যে হক্বের উপরে আমল করা হচ্ছে না এবং  বাতিল থেকে কিউ বিরত থাকছে না। একজন মুমিনের উচিত সে যেন হক্ব পথে চলে এবং আল্লাহর প্রেমে মগ্ন থাকে। এখন আমার দৃষ্টিতে উত্তম মৃত্যু হচ্ছে শাহাদত এবং নিকৃষ্টতম জীবন হচ্ছে অপমানের সহিত বেচে থাকা। (তারিখে তাবারী, পৃষ্ঠা ৩৯৬)

অতঃপর তিনি ইমাম হুসাইন (আ.) কে উদ্দেশ্যে করে বলেন হে রাসুল (সা.)’এর সন্তান যদি আমাকে সারা জীবন পৃথিবীতে থাকার এবং সকল সুবিধা দানের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয় তাহলেও আমি আপনার পাশে থেকে যুদ্ধ করতে চাই। তখন ইমাম (আ.) তার জন্য দোয়া করেন।(ইনসাবুল আশরাফ, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৭৬, আল কামেল ফিত তারিখ, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৫১- ৫২, আল মালহুফ, পৃষ্ঠা ১৩৮)

যখন হুসাইনী কাফেলা ৬১ জিরীতে ২য় মহরম বৃহঃস্পতিবারে কারবালায় পৌছায় তখন সেখানের অবস্থা দেখে তিনি ইমাম হুসাইন (আ.) কে বলেন যে হে ইমাম! আরো সৈন্য বাহিনী আসার পূর্বে আসুন আমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করি। আর এখন যদি আমরা তাদের সাথে যুদ্ধ না করি তাহলে আরো সৈন্য বাহিনী চলে আসলে তাদের সাথে আমাদের যুদ্ধ করা কষ্টকর হয়ে পড়বে। ইমাম (আ.) বলেন: আমি প্রথমে যুদ্ধ শুরু করতে চাই না।

 যোহাইর বিন কাইন ইমাম (আ.)কে বলেন: হে ইমাম! ফুরাত এলাকর আশেপাশে কিছূ জন বসতি আছে আপনি অনুমতি দিলে আমি সেখানে যেয়ে কিছূ লোকদের কে একত্রিত করতে পারি। ইমাম জিজ্ঞাসা করেন ঐ গোত্রের নাম কি? যোহাইর বিন কাইন বলেন: আকারা। ইমাম বলেন আল্লাহ আমাদেরকে আকারা থেকে বাচিয়ে রাখুন! (ইনসাবুল আশরাফ, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৭৬, আল কামেল ফিত তারিখ, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৫১- ৫২, আল ইরশাদ, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৮৩- ৮৪)

এজিদি বাহিনীরা যখন ৯ই মহরম ইমাম হুসাইন (আ.) এর উপরে হামলা করতে আসে এবং ইমাম (আ.) তার সাহাবীদের মাধ্যেমে শত্রুদের কাছ থেকে সময় চেয়ে নেয়। রাত্রে যখন ইমাম (আ.) তার সাহাবীদের কাছ থেকে নিজের বাইয়াতকে তুলে নেন তখন যোহাইর বিন কাইন বলেনঃ মহান আল্লাহর শপথ আমাকে যদি হাজার বার হত্যা করা হয় এবং হাজার বার জিবীত করা হয় তাহলেও আমি আহলে বাইত (আ.),এর জন্য নিজের জীবনকে উৎসগ করতে দ্বিধাবোধ করবো না। (আল মালহুফ, পৃষ্ঠা ১৫৩, আল ইরশাদ, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৯২, তারিখে তাবারী, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩১৮)

আশুরার দিন ইমাম হুসাইন (আ.) এর খুৎবা দেয়ার পরে যখন যোহাইর বিন কাইন বক্তব্য দেয় তখন শিমর বিন যিল জোশান তাকে উদ্দেশ্যে করে তীর নিক্ষেপ করে বলে চুপ কর তোমার কথা শুনতে শুনতে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। জবাবে যোহাইর বিন কাইন বলেন কেয়ামতের দিন তোমরা কঠোর শাস্তির সম্মুখিন হবে।যখন ইমাম (আ.) তাকে ডেকে পাঠান তখন তিনি ফিরে যান। (তারিখে তাবারী, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩২৩- ৩২৪, আল কামেল ফিত তারিখ, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৬৩- ৬৪, তারিখে ইয়াকুবি, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২৪৪- ২৪৫)

যেহেতু যোহাইর বিন কাইন ছিল কুফার একজন পরিচিত ব্যাক্তি আর তাই তাকে উবাইদুল্লাহ বিন যিয়াদ এবং যিয়াদ বিন উবাই’এর দাশরা তাকে যুদ্ধের জন্য আহবান জানায়। যোহাইর বিন কাইন যেতে চাইলে ইমাম হুসাইন (আ.) তাকে যেতে বাধা দেয় এবং তার স্থানে আব্দুল্লাহ বিন উমাইর’কে জিহাদের অনুমতি দেন।

যখন শিমর বিন যিল জউশান ইমাম হুসাইন (আ.)’এর তাবুর পিছন দিক থেকে হামলা করতে চায় এবং তারবারি দিয়ে ইমাম হুসাইন (আ.)’এর তাবুতে হামলে করে এবং বলে যে, আমাকে আগুন এনে দাও। উক্ত অবস্থা দেখে যোহাইর বিন কাইন ১০ জন সঙ্গিদেরকে নিয়ে তাদের উপরে হামলা করে এবং তারা ভয়ে পালিয়ে যায় উক্ত হামলায় শিমরের একজন আত্মীয় আবা ইযযা যাবাবি মারা যায়।(ইনসাবুল আশরাফ, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৯৪, আল ইরশাদ, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১০৫, তারিখে তাবারী, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩৩৪ )

যখন হাবীব ইবনে মাযাহির মারা যায় তখন যোহাইর বিন কাইন এবং হুর বিন রিয়াহি একত্রে যুদ্ধের ময়দানে আসে এবং যুদ্ধ করতে থাকে। যখনই তাদের মধ্যে কাউকে ঘিরে ফেলা হতো তখন অপরজন এসে তাকে উদ্ধার করতো। কিন্তু এক পর্যায়ে হুর শাহাদত বরণ করেন। তখন যোহাইর বিন কাইন ইমাম (আ.)’এর শিবিরের দিকে ফিরে আসে। (তারিখে তাবারী, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩৩৬, ইনসাবুল আশরাফ, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৯৫)

যখন যোহরের নামাজের সময় হয় তখন যোহাইর বিন কাইন এবং সাঈদ বিন আব্দুল্লাহ ইমাম (আ.) এর সামনে দাড়ান যেন তিনি নামাজ আদায় করতে পারেন। যতক্ষণ না ইমমা (আ.) নামাজ আদায় করেন। ততক্ষণ তারা নিজেদের শরীরে তীরের আঘাতকে সহ্য করতে থাকেন। (মাকতালুল হুসাইন খাওয়ারাযমি, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২০, আল মালহুফ, পৃষ্ঠা ১৬৫)

অবশেষে যখন ইমাম (আ.)’এর নামাজ যখন শেষ হয় তখন যোহাইর বিন কাইন ইমাম (আ.) এর ফযিলতে কবিতা আবৃতি করে বলে আমি হচ্ছি কাইন’এর পুত্র যোহাইর, আমি আমার তরবারি দ্বারা ইমাম হুসাইন (আ.)’এর রক্ষা করবো হুসাইন হচ্ছেন রাসুল (সা.) এর প্রিয় দৌহিত্র এবং বংশ হচ্ছে পবিত্র যে বংশ হচ্ছে তাকওয়ার জন্য সৌন্দয স্বরূপ। আর এজন্য আমি তোমাদেরক হত্যা করাকে বৈধ বলে মনে করি। বর্ণিত হয়েছে যে তিনি প্রায় ১২০ জন কে হত্যা করেন। কিন্তু অবশেষে কাসীর বিন আব্দুল্লাহ শাআবি এবং মোহাজের বিন অউস তামিমি তাকে গুরুতরভাবে আহত করে এবং এভাবে তিনি শাহাদতের অমীয় সুধা পান করেন। ইমাম হুসাইন (আ.) তার জন্য দোয়া করেন এবং তার হত্যাকারীর উপরে লানত প্রেরণ করেন।(মাকতালিল হুসাইন খাওয়ারাযমি, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২৩)