“জোওশান কাবীর” দোয়ার ফযিলত

“জোওশান কাবীর” দোয়ার ফযিলত

“জোওশান কাবীর” দোয়ার ফযিলত

এস, এ, এ

মাসুম ইমাম (আ.)’দের থেকে যে সকল রেওয়ায়েত বর্ণিত হয়েছে তাতে খোদার ৯৯টি নাম বর্ণিত হয়েছে। যে কেউ উক্ত নাম সমূহের তেলাওয়াত করবে এবং দোয়া করবে তার দোয়া কবুল হবে। যদি কেউ উক্ত নাম সমূহের গুণাবলি অনুযায়ি নিজেকে গড়ে তুলে তাহলে সে হবে বেহেস্তবাসী।
ইসলামী ইতিহাসে সংঘটিত কোন এক যুদ্ধে হজরত জিব্রাইল (আ.) হজরত রাসুল (সা.) কাছে আসেন এবং উক্ত দোয়াটি বর্ণনা করেন। উক্ত দোয়াতে ১০০টি অনুচ্ছেদ রয়েছে এবং প্রত্যেকটি অনুচ্ছেদে খোদার ১০টি করে নাম বর্ণিত হয়েছে এবং শুধূমাত্র ৫৫ নং অনুচ্ছেদে খোদার ১১টি নাম বর্ণিত হয়েছে। সব মিলিয়ে উক্ত দোয়াতে খোদার নামের এক হাজারটি গুণাবলি বর্ণিত হয়েছে। উক্ত দোয়াটি পাঠের অনকে ফযিলত বর্ণিত হয়েছে।
১- যদি কেউ উক্ত দোয়াটি ঘর থেকে বাহির হওয়ার সময় পাঠ করে তাহলে খোদা তার আমল সমূহকে ভালরূপ দান করবেন।
২- হজরত রাসুল (সা.) বলেছেনঃ যদি আমার উম্মতের মধ্যে কেউ উক্ত দোয়াটি রমজান মাসে তিনবার অথবা একবার তেলাওয়াত করবে তাহলে খোদা তার শরীরকে জাহান্নামের আগুন থেকে পরিত্রাণ দান করবেন এবং বেহেস্তকে তার জন্য ওয়াজিব করে দিবেন।
৩- মহান আল্লাহ তায়ালা চতূর্থ আকাশে একটি ঘর তৈরী করেছেন যার নাম রেখেছেন বাইতুল মাআমুর। উক্ত ঘরে প্রত্যেক দিন সত্তর হাজার ফেরেস্তা প্রবেশ করে এবং বাহির হয়ে যায় এবং কেয়ামত পর্যন্ত সে ঘরে প্রবেশের পালা তাদের আসে না। উক্ত দোয়া পাঠকারীকে খোদা ঐ সকল ফেরেস্তাদের সমপরিমাণ সওয়াব দান করবেন।
৪- যদি কেউ উক্ত দোয়াটি কোন পবিত্র পাত্রে বৃষ্টির পানি এবং জাফেরান দ্বারা লিখে পানি দ্বারা ধুয়ে তা পান করে তাহলে খোদার রহমতে সে বিভিন্ন ব্যাথ্য থেকে আরোগ্য লাভ করবে।
৫- যদি কেউ উক্ত দোয়াটির তেলাওয়াত করে এবং মারা যায় তাহলে তাকে শহীদের সমপরিমাণ সওয়াব দান করা হবে। মহান আল্লাহ তায়ালা তাকে ৭০ হাজার শহীদ, যারা মরুভুমিতে মারা গেছে তাদের শাহাদতের সমপরিমাণ সওয়াব দান করবেন।
৬- যদি কেউ রাতে উক্ত দোয়াটির তেলাওয়াত করে, তাহলে খোদা তার প্রতি অনুগ্রহ এবং দয়ার দৃষ্টিতে দেখবেন এবং তার পার্থিব এবং আখেরাতের সকল প্রয়োজনীয়তাকে পূর্ণ করবেন বা দান করবেন।
৭- যদি কেউ রাতে উক্ত দোয়াটির তেলাওয়াত করে তাহলে খোদা তাকে শয়তানের কুমন্ত্রনা থেকে রক্ষা করবেন এবং তার আমল সমূহকে কবুল করবেন এবং তার ধন সম্পদকে পবিত্র করে দিবেন।
৮- যদি কেউ উক্ত দোয়টি কোন পাত্রে কাফুর এবং মেশক (হরিণের নাভি) দ্বারা লিখে এবং তার পান করে অথবা তা কোন মৃতের কাফনে ছিটিয়ে দেয় তাহলে খোদা তার কবরে এক লক্ষ নূর নাযিল করে দিবেন এবং মুনকির ও নাকিরের ভয় তার অন্তর থেকে দূর করে দিবেন এবং কবরের অযাব থেকে পরিত্রাণ দান করবেন। খোদা তার কবরে ৭০ হাজার ফেরেস্তাকে প্রেরণ করবেন যাদের সাথে থাকবে বিভিন্ন স্তরের নূর যে নূরের মাধ্যমে তারা তাকে বেহেস্তের দিকে নিয়ে যাবে। ফেরেস্তারা তাকে বলবেঃ মহান আল্লাহ তায়ালা অমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন আমরা যেন কেয়ামত পর্যন্ত তোমার সাথে থাকি। খোদা তার জন্য কবরকে বিস্তৃত করে দিবেন এবং তার কবরের দিকে বেহেস্তের দরজাকে খুলে দিবেন।
৯- মহান আল্লাহ তায়ালা উক্ত দোয়ার প্রত্যেকটি অক্ষর পাঠকারীর জন্য দুইটি করে হুর দান করবেন। সুতরাং যখন কেউ উক্ত দোয়াটির তেলাওয়াত শেষ করবে তখন খোদা তার জন্য বেহেস্তে একটি ঘর তৈরী করে দিবেন এবং তাকে চার আসমানী কিতাব (তাওরাত, যাবুর, ইন্জল এবং কোরআন) পাঠের সমপরিমাণ সওয়াব দান করবেন এবং তাকে হজরত ইব্রাহিম, মূসা, ঈসা এবং হজরত মোহাম্মাদ (সা.) এর সমপরিমাণ সওয়াব দান করবেন।
১০- যদি কেউ রাতে উক্ত দোয়াটির তেলাওয়াত করে এবং যতদিন সে জিবীত থাকবে ততদিন পর্যন্ত খোদা তাকে দুইটি ফেরেস্তা মোয়াক্কেল স্বরূপ দান করবেন যারা তাকে গুনাহ করা থেকে বিরত রাখবে এবং তাকে সকল বালা মুসবিত থেকে রক্ষা করবে এবং তার জন্য বেহেস্তের দরজাকে খুলে দিবে এবং জাহান্নামের দরজাকে তার জন্য বন্ধ করে দিবে এবং এভাবে সে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত খোদার দয়ার ছত্রছায়ায় থাকবে।
সূত্রঃ মিনহাজুদ দাওয়াত, পৃষ্ঠা ৩৬৩- ৩৬৫।