বিশ্বব্যাপী ইহুদিবাদ বিরোধী বিক্ষোভের নতুন মাত্রা

 ১৯৭৪ সালের ১৭ এপ্রিলে মাহমুদ বাকর হাজ্জাজি নামের এক ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তি পায়। দখলদার ইসরাইল এবং ফিলিস্তিনের মাঝে বন্দি বিনিময় চুক্তি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছিল হাজ্জাজির মুক্তির মধ্য দিয়ে। সেইদিন থেকে ১৭ এপ্রিলকে ফিলিস্তিনিরা কারাবন্দি দিবস হিসে

বিশ্বব্যাপী ইহুদিবাদ বিরোধী বিক্ষোভের নতুন মাত্রা
 ১৯৭৪ সালের ১৭ এপ্রিলে মাহমুদ বাকর হাজ্জাজি নামের এক ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তি পায়। দখলদার ইসরাইল এবং ফিলিস্তিনের মাঝে বন্দি বিনিময় চুক্তি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছিল হাজ্জাজির মুক্তির মধ্য দিয়ে। সেইদিন থেকে ১৭ এপ্রিলকে ফিলিস্তিনিরা কারাবন্দি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

কিন্তু এবার কারাবন্দি দিবসটি একটু ব্যতিক্রমি ছিল। কেবল ফিলিস্তিনেই নয় এবার এই দিবসটি সারা বিশ্বজুড়েই পালিত হয়েছে। ফিলিস্তিনি কারাবন্দি দিবস উপলক্ষ্যে বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষেরা যেভাবে দখলদার ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে, তা থেকে বোঝা যাচ্ছে ইসরাইলের বিরুদ্ধে মানুষ ভীষণ ক্ষুব্ধ। পক্ষান্তরে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি বিশ্ববাসী তাদের সহায়তা ও সমর্থন জানাতে এগিয়ে এসেছে।

তিউনিশিয়ায় ফিলিস্তিনি কারাবন্দি দিবস পালন করতে তেলাবিবের প্রতি ক্ষুব্ধ জনগণ কুদস দখলদার ইসরাইলের পতাকা পুড়িয়েছে। রাজধানী তিউনিসের রাস্তাঘাট ছিল ইসরাইল বিরোধী জনতার বিক্ষোভে মুখরিত। প্রতিবাদী জনতা ফিলিস্তিনিদের প্রতি তাদের সংহতি প্রকাশ করে অবিলম্বে এবং বিনাশর্তে ইসরাইলের কারাগারে আটক সকল ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান। বর্তমানে পাঁচ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি দখলদার ইসরাইলের কারাগারে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

বর্ণবাদী ইসরাইল মানবাধিকার লঙ্ঘন করে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালায়। তাদের নির্যাতনে বহু অসহায় বন্দি শহিদ হয়েছে এবং শত শত বন্দি পঙ্গু হয়ে গেছে। এরকম পরিস্থিতিতে ফরাশি বিক্ষোভকারীরা ইহুদিবাদী ইসরাইলকে রুখে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন। গতকাল প্যারিস শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনিদের প্রতি তাদের সমর্থন ঘোষণা করেন এবং ইহুদিবাদী ইসরাইলকে বর্জন করার আহ্বান জানান।

সমাবেশে অলিভিয়া যিমুর নামের এক বিক্ষাভকারী বলেন: ‘১৯৬৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত নারী পুরুষ এবং যুবক নির্বিশেষ আট লক্ষ ফিলিস্তিনি ইসরাইলি কারাগারে কাটিয়েছে। এটাকে যিমুর সম্পূর্ণ অবৈধ ও বেআইনি বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের কারাবন্দি করার উদ্দেশ্য হলো তাদের শঙ্কিত ও ভীত করে তোলা এবং ফিলিস্তিনিরা যেন নিজেদের ভূখণ্ডের অধিকার ছেড়ে দেয় সে ব্যাপারে তাদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা’।

সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারী কায়দায় ফিলিস্তিনিদের কারাগারে আটকে রাখার ঘটনাটা একটা স্বাভাবিক রেওয়াজে পরিণত হয়েছে এখন। ইসরাইল যখন তখন যাকে খুশি তাকেই গ্রেফতার করে নিয়ে যাচ্ছে। অথচ এটা আন্তর্জাতিক সকল রীতিনীতি এবং মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

অলিভিয়া যিমুর আরো বলেন, ১৯৯৯ সালে ইসরাইলের হাইকোর্ট পরিষ্কারভাবে ঘোষণা করেছে, ইসরাইল তার নিরাপত্তার স্বার্থে ফিলিস্তিনি কারাবন্দিদের বিরুদ্ধে যেকোনোরকম সহিংস পদক্ষেপ জোরদার করতে পারবে।

গতকাল বৃটেনের রাস্তাঘাটেও ইসরাইল বিরোধী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ইসরাইলি কারাগারে আটক ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানানো হয়েছে। বিক্ষাভকারীরা বৃটিশ কোম্পানি জি-ফোর এস’র কেন্দ্রিয় দফতরের সামনে সমবেত হয়। ফিলিস্তিনিদের দমন করতে এই কোম্পানি ইসরাইলকে অস্ত্রশস্ত্রসহ প্রয়োজনীয় রসদ সরবরাহ করে থাকে। বৃটেনে ফিলিস্তিনি সংহতি সংস্থার নেতা সারা ক্যালবোর্ন বলেছেন, ইসরাইলি চেকপয়েন্টসহ তাদের উপশহরগুলোতে নিরাপত্তা সরঞ্জাম দেয় এই জিফোরএস। ২০১৫ সালের পর জিফোরএস আর ইসরাইলের সাথে চুক্তি করবে না বলে এই কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। কিন্তু ব্রিটিশ শান্তিকামী নেতারা জরুরি ভিত্তিতে ইসরাইলের সাথে সকল প্রকার চুক্তি বন্ধ করতে বৃটেনের সকল প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ক্যালবোর্ন বলেন ‘জিফোরএস’ কোম্পানি ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর নির্যাতন চালাতে বিভিন্ন সরঞ্জাম দিচ্ছে। এসব সরঞ্জাম ইসরাইলকে দেওয়া বন্ধ করে বরং বন্দিদের সেবায় ‘জিফোরএস’র এগিয়ে আসা উচিত।
সূত্রঃ রেডিও তেহরান