কেন ফেদাকের জন্য ফাতেমা (সা.আ.) এর সাক্ষিদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়নি?

কেন ফেদাকের জন্য ফাতেমা (সা.আ.) এর সাক্ষিদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়নি?

কেন ফেদাকের জন্য ফাতেমা (সা.আ.) এর সাক্ষিদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়নি?

ফাতিমা, হযরত আলী , খলিফা, ফাতিমা, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ , জাবির, ফেদাক , শিয়া. সুন্নী, ইসলাম, আহলে সুন্নাত, কাফের, মুশরিক, মুনাফিক, ইরান, তালেবান, মুজাহিদ, তাকফিরি, সৌদি আরব, আমেরিকা, ইসরাইল, ওবামা, নারী, ধর্ষণ, shia, sunni, ahle bait, islam, পরমাণু, ক্ষেপণাস্ত্র, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, তুর্কি, পরমাণু, থাইল্যান্ড, মোহাম্মাদ, হোসেইন,
এ পর্যায়ে একটা বিষয় বিবেচনার দাবী রাখে-তা হলো এটা ষ্পষ্ট হয়েছে যে,ফেদাক ফাতিমার দখলে ছিল এবং আমিরুল মু’মিনিন হযরত আলী তাঁর এক পত্রে উল্লেখ করেছেন, “ফেদাক আমাদের দখলে ছিল”। এ ক্ষেত্রে সাক্ষী উপস্থাপন করতে বলাটা কোন অর্থবহ নয়;এটা জুলুম করে অন্যের জমি দখল করার তাল বাহানা মাত্র। কারন যার দখলে আছে তার সাক্ষী উপস্থাপন করার প্রয়োজন নেই-বরং যে দখলকারীকে উচ্ছেদ করতে চায় তার দাবীর জন্যই সাক্ষীর প্রয়োজন।কাজেই ফাতিমার সম্পত্তি দখল করার জন্য প্রথম খলিফার সাক্ষী উপস্থাপন করা আইনসিদ্ব ছিল। যেহেতু প্রথম খলিফা এমন কোন প্রমান উপস্থিত করতে পারেন নাই সেহেতু ফদকে ফাতিমার মালিকানাই আইনের চোখে সঠিক। কাজেই আরো সাক্ষী বা প্রমান হাজির করার জন্য তাকে বলাটা অন্যায় ছাড়া কিছু নয়। এটা একটা অবাক করা বিষয় যে,প্রথম খলিফার কাছে অনেকেই এরকম দাবী পেশ করেছিলেন। তিনি কোন সাক্ষী প্রমানের প্রশ্ন না তুলেই দাবিদারকে তাদের দাবীকৃত সম্পত্তি দিয়েছিলেন। অথচ ফাতিমার বেলায় তিনি এসব তালবাহানা করে তাঁদেরকে দুঃখ-কষ্ট ফেলেছিলেন। এ বিষয়ে হাদিসবেত্তাগন লিখেছেনঃ জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী থেকে বর্নিত হয়েছে যে,আল্লাহর রাসুল বলেছেন যে,যখন বাহরাইন থেকে যুদ্বলব্ধ্ব মাল পৌঁছবে তখন জাবির অমুক অমুক জিনিসগুলো পাবে। কিন্তু রাসুলের ওফাতের আগে সেই মালগুলি এসে পৌঁছায়নি বরং তা প্রথম খলিফার খেলাফতকালে তা মদীনায় পৌঁছালে জাবির প্রথম খলিফার কাছে গিয়েছিলেন। তখন প্রথম খলিফা ঘোষনা করলেন যে, রাসুলের বিরুদ্বে যাদের কোন দাবি-দাওয়া আছে অথবা রাসুল যদি কাউকে কোন প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন সে যেন তার দাবী নিয়ে আসে। এতে জাবির বললো,রাসুল(সাঃ) আমাকে অমুক অমুক মালগুলো দেয়ার কথা বলেছিলেন। প্রথম খলিফা বাহরাইনের যুদ্বলব্ধ্ব মাল হতে জাবিরকে তা দিয়েছিলেন(বুখারী,৩য় খন্ড,পৃঃ১১৯,২০৯,২৩৬;৪র্থ খন্ড,পৃঃ১১০;৫ম খন্ড,পৃঃ২১৮;নায়সাবুরী,৩য় খন্ড,পৃঃ৭৫-৭৬;তিরমিজী,৫ম খন্ড,পৃঃ১২৯;হাম্বল,৩য় খন্ড,পৃঃ ৩০৭-৩০৮;সাদ,২য় খন্ড,পৃঃ৮৮-৮৯)। এই হাদিসের ব্যাখ্যায় আসকালানী(হিঃ৭৭৩/১৩৭২-৮৫২/১৪৪৯) এবং হানাফী(৭৬২/১৩৬১-৮৮৫/১৪৫১)লিখেছেনঃ এ হাদিস থেকে ষ্পষ্ট বুঝা যায় যে,শুধুমাত্র একজন সাহাবীর পুর্ন সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহন করা জায়েজ-এমনকি যদি সে সাক্ষ্য তার নিজের স্বার্থ রক্ষা করার জন্যও হয়। কারন প্রথম খলিফা জাবিরকে তার দাবীর স্বপক্ষে কোন সাক্ষী হাজির করতে বলেননি(আসকালানী,৫ম খন্ড,পৃঃ৩৮০;হানাফী,১২শ খন্ড,পৃঃ১২১)। এখন প্রশ্ন হলো কোন সাক্ষ্য প্রমান ছাড়াই যখন জাবিরের দাবিকৃত সম্পত্তি একইভাবে ফেরত দিতে কিসে প্রথম খলিফাকে বাধা দিয়েছিল? জাবিরের প্রতি তার যদি এমন ধারনা হয়ে থাকে যে, সে মিথ্যা বলে স্বীয় স্বার্থ উদ্বার করবে না;তবে ফাতিমার প্রতি তার এ ধারনা গ্রহনে কিসে তাকে বাধাগ্রস্ত করেছে যে, ফাতিমা এক টুকরা জমির জন্য রাসুল(সাঃ) সম্বন্ধ্বে মিথ্যা বলতে পারে না। ফাতিমার সর্বজন স্বীকৃত সত্যবাদীতা ও সততাই তো তাঁর দাবীর সত্যতা সম্পর্কে যথেষ্ট ছিল।তবুও প্রথম খলিফার সন্তুষ্টির জন্য তিনি আলী ও উম্মে আয়মনের মতো সম্মানিত সাক্ষী উপস্থিত করেছিলেন।একথা বলা হয়ে থাকে যে, কোরানের নিন্মোক্ত আয়াতের নীতি অনুসারে ফাতিমার দাবী প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলঃ “২জন পুরুষ সাক্ষী রাখবে;২ জন পুরুষ সাক্ষী পাওয়া না গেলে ১জন পুরুষ ও ২জন নারী সাক্ষী রাখবে “(কোরআনঃ ২ঃ২৮২)। কোরানের উক্ত নীতি যদি সর্বক্ষেত্রে সার্বজনীন হয়ে থাকে তবে প্রত্যেক ক্ষেত্রেই এর প্রয়োগ থাকবে।কিন্তু একদিন একজন আরববাসী রাসুলের(সাঃ) সাথে একটি উট নিয়ে বিরোধ করে।এতে খুজায়মা ইবনে সাবিত আনসারী রাসুলের পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করলেন।এই একজনের সাক্ষীকে ২ জনের সাক্ষীর সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহন করা হয়েছিল।কারন তার সততা ও সত্যবাদীতা সম্পর্কে কারো কোন সঙ্গশয় ছিল না। এ কারনেই রাসুল(সাঃ) তাকে “জুশ শাহাদাতাইন”(২জন সাক্ষীর সমান) উপাধীতে ভুষিত করেছিলেন(বুখারী,৪র্থ খন্ড,পৃঃ২৪;৬ষ্ট খন্ড,পৃঃ১৪৬;তায়ালিসী,৩য় খন্ড,পৃঃ৩০২; হাম্বল ,৫ম খন্ড,পৃঃ১৮৮,১৮৯,২১৬;বার,২য় খন্ড,পৃঃ৪৪৮;আছীর,২য় খন্ড,পৃঃ১১৪;সানানী,৮ম খন্ড,পৃঃ৩৬৬-৩৬৮)। ফলত এব্যাবস্থার কারনে আয়াতটির সাধারনত্ব প্রভাবিত হয় নি বা এটা সাক্ষ্য সংক্রান্ত বিধানের বিপরীত কিছু নয়।সুতরাং রাসুলের মতানুসারে সত্যবাদিতা গুনের জন্য একজন সাক্ষীকে ২জন সাক্ষীর সমান ধরে নায়া হয়ে থাকে।তাহলে ফাতিমার পক্ষে আলী ও উম্মে আয়মনের সাক্ষ্য কি তাদের নৈ্তিক মহত্ব ও সত্যবাদীতার জন্য যথেষ্ট ছিল না? এছাড়া উক্ত আয়াতে এ দুপথ ছাড়া দাবী প্রতিষ্টা করার আর কোন পথ উল্লেখ করা হয় নি।এ বিষয়ে কাজী নুরুল্লা মারআশী(৯৫৬/১৫৪৯-১০১৯/১৬১০) লিখেছেনঃ উম্মে আয়মনের সাক্ষ্য অসম্পুর্ন বলে যারা প্রত্যাখ্যান করেছে তারা প্রকৃতপক্ষে ভুল করেছে।কারন কোন কোন হাদিসে দেখা যায় ১জন সাক্ষীর ভিত্তিতে সিদ্বান্ত প্রদান করা বৈ্ধ এবং তাতে কোরানের নির্দেশ ভংগ হয়েছে বলে মনে করা হয় নি।কারন এ আয়াতের গুঢ়ার্থ হলো ২জন পুরুষ অথবা ১জন পুরুষ ও ২জন নারী সাক্ষীর ভিত্তিতে সিদ্বান্ত নেয়া যেতে পারে এবং তাদের সাক্ষ্যই যথেষ্ট।একথা দ্বারা এটা বুঝায় না যে, যদি সাক্ষীর সাক্ষ্য ছাড়া অন্য কোন ক্ষেত্র থেকে থাকে তা গ্রহনীয় হবে না এবং সে ভিত্তিতে রায় দেয়া যাবে না- এটাই হচ্ছে আয়াতটির মুল ভাব।কোন কিছুর ভাবার্থ চুড়ান্ত যুক্তি নয়।তাই এ ভাবার্থও গ্রাহ্য করা যায় না।বিশেষ করে হাদিসের বিপরীত ভাব ব্যাক্ত করেছে।এ ভাবার্থকে এড়িয়ে গেলে তা আয়াত অমান্য করা বুঝায় না।দ্বিতীয়ত আয়াতটি দুটি বিষয়ের যে কোন একটিকে বেছে অনুমতি দেয়া হয়েছে।তা হলো ২ জন পুরুষ বা একজন পুরুষ ও ২ জন নারী।যদি হাদিস দ্বারা ৩য় একটি বিষয় বেছে নেয়ার জন্য যোগ করা হয় তাতে কি কোরানের আয়াত লংঘিত হয়েছে বলা যাবে? যাহোক এতে বুঝা যাচ্ছে যে,দাবীদার ২জন পুরুষ বা ১জন নারী ও ২জন নারী সাক্ষী হিসাবে উপস্থিত করতে বাধ্য নয় কারন যদি কোন দাবীতে কোন সাক্ষী না থাকে তাহলে আল্লাহর নামে শপথ করে বললেই তার দাবী আইন্সিদ্ব হবে এবং তার অনুকুলে সিদ্বান্ত দেয়া যাবে।এতদ সংক্রান্ত বিষয়ে ১২ জনের অধিক সাহাবী বর্ননা করেছেন যে, আল্লাহর রাসুল শপথ গ্রহন পুর্বক ১জন সাক্ষীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সিদ্বান্ত গ্রহন করতেন। রাসুলের(সাঃ) কতিপয় সাহাবা ও জুরিস্প্রুডেন্সের কতিপয় পন্ডিত ব্যক্তি বর্ননা করেছেন যে, এ সিদ্বান্ত বিশেষভাবে অধিকার, সম্পদ ও লেনদেনের সাথে সম্পৃক্ত এবং এ সিদ্বান্ত আবুবকর ,উমর ও উসমান খলিফাত্রয়ও মেনে চলতেন(নায়সাবুরী,৫ম খন্ড,পৃঃ১২৮; তায়ালিসী, ৩য় খন্ড,পৃঃ৩০৮-৩০৯;তিরমিজী,৩য় খন্ড,পৃঃ৬২৭-৬২৯;মাযাহ,২য় খন্ড, পৃঃ৭৯৩;হাম্বল,১ম খন্ড,পৃঃ২৪৮,৩১৫,৩২৩;৩য় খন্ড,পৃঃ৩০৫;৫ম খন্ড,পৃঃ২৮৫;আনাস,২য় খন্ড,পৃঃ৭২১-৭২৫;শাফী,১০ম খন্ড,পৃঃ১৬৭-১৭৬;কুন্তি,৪র্থ খন্ড,পৃঃ২১২-২১৫;শাফী,৪র্থ খন্ড,পৃঃ২০২;হিন্দি,৭ম খন্ড,পৃঃ১৩)। যেখানে শপথ করে সাক্ষ্য দিলে একজন সাক্ষীর ভিত্তিতে সিদ্বান্ত দেয়ার বিধান রয়েছে সেক্ষেত্রে যেহেতু আবু বকরের দৃষ্টিতে ফাতিমার সাক্ষী অসম্পুর্ন ছিল,সেহেতু তিনি ফাতিমার শপথ নিয়ে তাঁর অনুকুলে রায় দিতে পারতেন।কিন্তু এখানে মুল উদ্দেশ্য ছিল ফাতিমাকে বঞ্চিত করে আলী পরিবারকে অভাব-অনটনে নিপতিত করা এবং ফাতিমার সত্যবাদীতাকে কলঙ্কিত করা যাতে যাতে করে ভবিষতে তাঁর প্রশংসা চাপা পড়ে যায়।