আয়াতুল্লাহ সুবাহানী’র নাম দিয়ে বিভিন্ন বই ছাপিয়েছে ওয়াহাবী’রা

আয়াতুল্লাহ সুবাহানী’র নাম দিয়ে বিভিন্ন বই ছাপিয়েছে ওয়াহাবী’রা

আয়াতুল্লাহ সুবাহানী’র নাম দিয়ে বিভিন্ন বই ছাপিয়েছে ওয়াহাবী’রা

‘আইম্মাহগণের
দৃষ্টিতে প্রকৃত একত্ববাদ’, ‘তওহিদ বা একত্ববাদ’, ‘নবযুবকদের জন্য তওহিদ’, ‘মানুষের জীবনে তওহিদের
ভূমিকা’,
‘কুরআনের আলোকে একত্ববাদ’, ‘শিশুদের খোদা পরিচিতি’, ‘কুরআন ও সুন্নতের
আলোকে তাওয়াসসুল’, ‘হক্ব ও সৃষ্টির মাঝে
মধ্যস্থতাকারী’, ‘এক কবর পূজারী’র স্বীকারোক্তি’, ‘আইম্মাহগণের দৃষ্টিতে
যেয়ারত’,
‘আহলে কুবুর-এর বিষয়ে ১৩টি প্রশ্ন’, ‘তাতহীরের আয়াত ও ইমামগণের নিষ্পাপত্বের সাথে এর সম্পৃক্ততা’, ‘খেলাফত ও নির্বাচন (যা অনুমোদন নিয়ে প্রকাশিত)’ ‘মাহদিয়ে মাওউদ নাকি মাহদীয়ে মাওহুম’, ‘ইতিহাসের সবচেয়ে
আশ্চার্যজনক মিথ্যা’, ‘এমন গায়েব যিনি
সর্বদার জন্য গায়েব’ –এ সকল বই বাহ্যিকভাবে শিয়াদের গ্রন্থ
বলে মনে হলেও এগুলো ওয়াহাবীদের বই এবং (মিথ্যুক) ওয়াহাবী’রা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে একজন
শিয়া লেখকের নামে এগুলো প্রকাশ করেছে।

আহলে বাইত (আ.)

ইরানের খোরাসানে রাজাভী অঞ্চলের ইসলামী প্রচারণা কার্যালয়ের ইলমি বোর্ড সদস্য হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন
মুরাদী সারাদেশের বিভিন্ন গ্রন্থাগারের আদর্শ লাইব্রেরিয়ানদের এক সভায় বলেন :
বিভ্রান্তকারী বইসমূহের বিষয়ে ফকীহগণের উদ্বিগ্নতার বিষয়টি পর্যালোচনা করা অতীব
জরুরী।
বর্তমানে এ বিষয় কেন্দ্রিক অনেক প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে, তম্মধ্যে অন্যতম একটি প্রশ্ন হচ্ছে যে, বিভ্রান্তকারী
কোন বই গ্রন্থাগারে রাখা হালাল নাকি হারাম?

তিনি বলেন :
সার্বিকভাবে বিভ্রান্তকারী বইসমূহের মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে; মিথ্যা, অপবাদ আরোপ করা, আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ করা, গোপন বিষয়াদী’র প্রকাশ ঘটানো, নফসের চাহিদা পূরণ ও বাধ্য-বাধাহীনতার
প্রতি উদ্বুদ্ধ করণ, কুফর ও দ্বীনের মূল বিষয়াদির
অস্বীকার করা, গালী-গালাজ ও আল্লাহর আওলিয়াদের প্রতি
অবমাননা এবং হারাম ব্যবসার প্রসার ঘটানো ইত্যাদি।

বিভ্রান্তকারী
বইসমূহের সংরক্ষণের হারাম হওয়ার হওয়ার পক্ষে উপস্থাপিত দলিলসমূহের কথা উল্লেখ করতে
গিয়ে তিনি পবিত্র কুরআনের বেশ কয়েকটি আয়াত তেলাওয়াত করেন :

«وَمِنَ النَّاسِ مَن یَشْتَرِی لَهْوَ الْحَدِیثِ لِیُضِلَّ
عَن سَبِیلِ اللَّهِ بِغَیْرِ عِلْمٍ وَیَتَّخِذَهَا هُزُوًا أُولَئِکَ لَهُمْ عَذَابٌ
مُّهِین»

[অনুবাদ
: ‘এক শ্রেণীর লোক আছে যারা মানুষকে
আল্লাহর পথ থেকে গোমরাহ করার উদ্দেশ্যে অবান্তর কথাবার্তা সংগ্রহ করে অন্ধভাবে এবং
তাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। এদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি’। (সূরা লোকমান : ৬)]

«فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنْ الاَْوْثَانِ وَ اجْتَنِبُوا
قَوْلَ الزُّور»

[অনুবাদ : ‘সুতরাং তোমরা মূর্তিদের অপবিত্রতা
থেকে বেঁচে থাক এবং মিথ্যা কথন থেকে দূরে থাক’। (সূরা হাজ্ব : ৩০)]

এ সময় তিনি
বিভ্রান্তকারী বই সংরক্ষণের হারাম হওয়ার বিষয়ে বেশ কয়েকটি রেওয়াতেও উল্লেখ করেন।

হুজ্জাতুল
ইসলাম মুরাদী বলেন : নিষ্পাপ ইমামগণ (আ.) এর রেওয়ায়েতে বর্ণিত হয়েছে যে, ‘যে ব্যক্তি বিভ্রান্তকর কোন কিছু শিক্ষা দেয়, -চাই তা বইয়ের মাধ্যমে হোক বা অন্য কিছুর মাধ্যমে- সে হচ্ছে পাপী এবং সে হারাম
কর্মে লিপ্ত হয়েছে’। মহানবী (স.) হতে একটি রেওয়ায়েত
বর্ণিত হয়েছে : ‘একদিন তিনি উমর ইবনে খাত্তাবের
হাতে তওরাতের কিছু অংশ দেখলেন, মহানবী (স.) এ বিষয়ে
এতটাই রাগান্বিত হলেন যে, তার চেহারা মোবারক লাল হয়ে গেল। তিনি তাকে বললেন :
আমার নবুয়্যতের বিষয়ে কোন সন্দেহ আছে কি? অতঃপর বললেন : ‘যদি মুসা জীবিত থাকতেন তবে তিনি আমাকে সমর্থন করতেন’। মহানবী (স.) এমন আচরণ করা সত্ত্বেও পরবর্তী সময়েও উমর ইবনে খাত্তাবের হাতে তাওরাত দেখা গেছে।

তিনি বলেন : ইদানিং উপহার হিসেবে বিভ্রান্তকারী বই প্রদানের হিড়িক পড়ে
গেছে। এ বইগুলোর অধিকাংশই বিনামূল্য বিতরণ করা হয়। যদি এমন কোন বই আমাদের হাতে পড়ে
যাতে প্রশান্তি, ভালবাসার প্রসার এবং কোন মাধ্যম ছাড়াই মহান আল্লাহর সাথে
যোগাযোগের মত বিষয় পরিলক্ষিত হয়, তবে বুঝতে হবে যে, তারা খ্রিষ্টান ধর্মের প্রচারক
বা এর মাধ্যমে খ্রিষ্টান ধর্মের জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। খ্রিষ্টানদের কিছু কিছু বইতে পরিলক্ষিত হয়েছে যে, মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (স.)
নবী ছিলেন না এবং তিনি ইহুদী ধর্ম হতে আহকাম বা ধর্মীয় বিধি-বিধান এবং খ্রিষ্টান ধর্ম
হতে নৈতিকতাকে গ্রহণ করেছেন (নাউজুবিল্লাহ)।

হুজ্জাতুল ইসলাম মুরাদী
জনগণকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন : আমাদের দেশের মুসলিম জনতার উদ্দেশ্যে বলছি, যে কোন বই,
সিডি বা ফিল্ম –যেগুলোর বিতরণকারী ও প্রস্তুতকারী সম্পর্কে আপনারা বেখবর সেগুলো- ক্রয়
করবেন না। আর যদি কেউ উপহার হিসেবেও দেয় তবে তা গ্রহণ করা হতে বিরত থাকুন। কেননা বর্তমান
যুগে সকল ধর্ম ও মাযহাব পশ্চিমা বিশ্বের সহযোগিতায় শিয়া মাযহাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে।

তিনি বলেন : অবৈধভাবে
ওয়াহাবীরা অসংখ্য বই প্রকাশ ও বিতরণ করছে। তওহিদ তথা একত্ববাদের বিষয় ভিত্তিক ওয়াহাবীদের
বইসমূহ হচ্ছে; ‘আইম্মাহগণের দৃষ্টিতে প্রকৃত তওহিদ’, ‘তওহিদ
বা একত্ববাদ’, ‘নবযুবকদের জন্য তওহিদ’, ‘মানুষের জীবনে তওহিদের ভূমিকা’, ‘কুরআনের আলোকে
একত্ববাদ’, ‘শিশুদের খোদা পরিচিতি’ ইত্যাদি।

তাওয়াসসুলের বিষয়ে যে সকল বই ওয়াহাবীরা প্রকাশ করেছে সেগুলোর মধ্যে ‘কুরআন
ও সুন্নতের আলোকে একত্ববাদ’, ‘হক্ব ও সৃষ্টির মাঝে মধ্যস্থতাকারী’ ইত্যাদি
উল্লেখযোগ্য। যেয়ারাতের বিষয়ে তারা যে সকল বই প্রকাশ করেছে সেগুলো হচ্ছে; ‘আইম্মাহ
(আ.) এর দৃষ্টিতে যেয়ারত’, ‘কবরবাসীদের সম্পর্কে ১৩টি প্রশ্ন’ ইত্যাদি। এছাড়া অন্য
বিষয়ে যে সব বই তারা প্রকাশ করেছে তম্মধ্যে রয়েছে; ‘তাতহীরের আয়াত ও ইমামগণের নিষ্পাপত্বের সাথে এর সম্পৃক্ততা’, ‘খেলাফত ও
নির্বাচন (যা অনুমোদনসহ প্রকাশিত হয়েছে)’, ‘মাহদিয়ে মাওউদ নাকি মাহদিয়ে মাওহুম’, ‘ইতিহাসের
সবচেয়ে আশ্চার্যজনক মিথ্যা’, ‘এমন গায়েব যিনি সর্বদার জন্য গায়েব’ ইত্যাদি।

মজার বিষয় হল উল্লেখিত বইগুলো বাহ্যিকভাবে শিয়াদের
গ্রন্থ বলে মনে হলেও তা শিয়া মাযহাবের আহকাম ও আকিদাগত শিক্ষা প্রদান করে না।
কেননা ওয়াহাবীরা এমন সব শিরোনামে বই ছাপায় যেগুলোর নাম শিয়া গ্রন্থসমূহের সাথে
মেলে, উপরন্তু তারা এ সকল বই আয়াতুল্লাহ জাফর সুবহানী’র ন্যায় বিশিষ্ট লেখক ও
গবেষকের নামে প্রকাশ করে থাকে। সুতরাং আমরা এ বইয়ের বাহ্যিক রূপ, বইয়ের অনুবাদক,
বইয়ের লেখক ইত্যাদি দেখে কখনই বুঝতে সক্ষম নই যে এগুলো ওয়াহাবীদের বই এবং তারা
মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে অবৈধভাবে শিয়াদের নামে ও শিয়া লেখকের নাম দিয়ে ঐ বইগুলো
ছাপিয়েছে। সূত্রঃ ইন্টারনেট
 

নতুন কমেন্ট যুক্ত করুন