ইমাম মাহদী (আ.) সম্পর্কে কিছু দৃষ্টিভঙ্গি

ইমাম মাহদী (আ.) সম্পর্কে কিছু দৃষ্টিভঙ্গি

ইমাম মাহদী (আ.) সম্পর্কে কিছু দৃষ্টিভঙ্গি

ইমাম মাহদী, নবী করিম, আবু দাউদ, আহমাদ ইবনে হাম্বাল, আবু সাঈদ খিদরি, আবু দাউদ, ইবনে মাজা, মুসলিম, রাসুল, ফাতেমা, আলি, আবি তালেব
ইমাম মাহদী (আ.) সম্পর্কে নবী করিম (সা.) হতে যে সব হাদীস বর্ণনা করা হয়েছে বহু বার ও বিভিন্ন ভাবে ওলামা ও মহান ব্যক্তিদের কেতাবে তা লিপিবদ্ধ আছে। আক্বিদাগত দিক দিয়ে সবাই বিশ্বাসি হলেও মুসলমানদের মধ্যে ইমাম মাহদী (আ.) সম্পর্কে বিভিন্ন রকম দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। আমরা এখানে ইমাম মাহদী (আ.) এর হাল অবস্থা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য বই থেকে কিছু হাদীস উল্লেখ করবো:
১। আবু দাউদ তার বই “সহীহ” তে আবি তুফাইল হতে, তিনি আবার আলী (আ.) হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন:
" لو لم یبق من الدهر الا یوم لبعث الله رجلاً من اهل بیتی، یملاءها کماملئت جورا. "
পৃথিবী নিঃশেষ হতে যদি আর মাত্র এক দিনও বাকি থেকে থাকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমার আহলে বাইত হতে একজনকে পাঠাবেন যে, এই ভূমি জুলুম, অবিচার ও অত্যাচারে ভরে যাওয়ার পর, ইনসাফ ও ন্যায় বিচারে ভরে দেবে। (খন্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২০৮)।
২। আবু দাউদ তিরমিযি তার বই “সহীহ” তে আব্দুল্লাহ হতে আল্লাহর রাসুলের (সা.) উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেন:
" لو لم یبق من الدنیا الا یوم لطول الله ذلک الیوم حتی یبعث رجلاً منی او من اهل بیتی یواطی اسمه اسمی... یملأ الارض قسطاً و عدلاً کما ملئتظلما و جورا. "
যখনই এ দুনিয়া শেষ হতে আর মাত্র একদিন বাকি থাকবে, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এই দিনটিকে এত দীর্ঘ করবেন যে, এই দিনে আমার বংশ হতে একজনকে পাঠাবেন, যার নাম আমার নামের মত হবে আর সে এই ভূমিকে ইনসাফ ও ন্যায় বিচারে ভরে দেবে, যেরূপ ভূমি জুলুম, অবিচার ও অত্যাচারে ভরে যাবে তার পর। (কিতাবে তাজ, খন্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ৩৪৩)।
৩। আহমাদ ইবনে হাম্বাল তার বই “মুসনাদ” এ আবু সাঈদ খিদরি হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন:
" یملأ الارض ظلماً وجورا ثم یخرج رجل من عترتی یملک سبعاً اوتسعاًفی ملاء الارض قسطاً و عدلاً. "
এক সময় আসবে যখন এ জমি জুলুম, অবিচার ও অত্যাচারে ভরে যাবে আর সেই সময় আমার বংশ থেকে একজন কেয়াম (অভ্যুত্থান) করবে আর সাত অথবা নয় বৎসর এ জমির বুকে হুকুমত বা রাজত্ব করবে এবং জমিনকে ইনসাফ ও ন্যায় বিচারে ভরে দেবে। (খন্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ২৮)।
৪। মুসলিম, আবু দাউদ, ইবনে মাজা ও তিবরানির মত মহান ব্যক্তিরা উম্মে সালামা হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন:
" المهدی من عترتی من ولد فاطمه. "
মাহদী আমার বংশ হতে আর সে আমার কন্যা ফাতেমার সন্তানদের একজন (বংশধর)। (সাওয়ায়েক্ব, পৃষ্ঠা: ১৬৩; ইবনে মাজা, খন্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১৩৬৮)।
৫। আবু দাউদ তার গ্রন্থ “সাহীহ” তে আবু সাঈদ খিদরি হতে উল্লেখ করেন যে, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন:
" المهدی منی اجلی الجبهه، اقنی الانف،یملأ الارض قسطاً و عدلاً کماملئت جورا و ظلما یملک سبع سنین. "
মাহদী আমা হতে, তার কপাল চওড়া ও নাক খাড়া হবে, সে এই ভূমি জুলুম, অবিচার ও অত্যাচারে ভরে যাওয়ার পর, ইনসাফ ও ন্যায় বিচারে ভরে দেবে। (খন্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২০৮)।
৬। আহমাদ ইবনে হাম্বাল তার বই “মুসনাদ” এ আল্লাহর রাসুল (সা.) হতে আবারও বর্ণনা করেন:
" ابشکرکم بالمهدی یبعث فی امتی علی اختلاف من الناس و الزلزالفی ملاء الارض قسطاً و عدلا کما ملئت جورا و ظلما یرضی عنه ساکنالسماء و ساکن الارض یقسم المال صحاحاً، فقال الرجل ما صحاحاً ؟ قال بالسویه بین الناس، قال و یملا الله قلوب امة محمد غنی و یسعهم عدله. "
তোমাদেরকে মাহদী সম্পর্কে সুসংবাদ দিচ্ছি যে, আমার উম্মতের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে ও ভূমিকম্প হলে তাকে প্রেরণ করা হবে। অতঃপর সে এই ভূমি জুলুম, অবিচার ও অত্যাচারে ভরে যাওয়ার পর, ইনসাফ ও ন্যায় বিচারে ভরে দেবে। আসমান ও জমিনে অবস্থানকারী সবাই তার থেকে সন্তুষ্ট থাকবে, সে মাল সম্পদকে সঠিকভাবে বন্টন করবে। এক ব্যক্তি রাসুল (সা.) এর কাছে জিজ্ঞেস করলো: সঠিকভাবে বন্টন করার অর্থ কি ? উত্তরে তিনি বললেন: জনগণের মাঝে সমান ভাগ বাঁটোয়ারা করবে। আবার বললেন: আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মোহাম্মদের উম্মতের হৃদয়কে অমুখাপেক্ষী ও স্বনির্ভর করবে। আর তার (মাহদীর) ন্যায় পরায়নতা সবাইকে শামিল করবে। (খন্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৩৭)।
৭। হামুয়িনি তার বই “ফারায়িদুস সিমতাইন” এ ইবনে আব্বাস হতে বর্ণনা করেন যে, হযরত রাসুলে করিম (সা.) বলেন:
আলি ইবনে আবি তালেব আমার উম্মতের ইমাম এবং আমার পর তাদের জন্য আমার উত্তরাধিকারী ও জানশীন এবং তার বংশধর হচ্ছে ক্বায়েমে মুনতাযার (মাহদী), খোদা তার মাধ্যমে এই ভূমিকে জুলুম, অবিচার ও অত্যাচারে ভরে যাওয়ার পর, ইনসাফ ও ন্যায় বিচারে ভরে দেবে। যিনি আমাকে হক্বের প্রতি নবুয়্যাত দিয়ে প্রেরণ করেছেন তার কসম, যারা তার ইমামতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকবে তার অদৃশ্য কালে তারা লাল গন্ধকের ন্যায় বিরল হবে। (খন্ড: ২, শেষাংশ)।
৮। আব্দুর রাহমান সুয়ুতির মত একজন বড় আলেম তার গ্রন্থ “ওরফুল ওয়ারদি ফি আখবারিল মাহদী” তে আল্লাহর রাসুল (সা.) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন:
" من انکر خروج المهدی فقد کفر. "
 যে ব্যক্তি মাহদী (আ.) এর প্রস্থান ও আবির্ভাবকে অস্বীকার করবে সে কাফের হয়ে যাবে।
৯। ইবনে হাজার হাইথামি শাফেঈ “সাওয়ায়েকুল মুহরাক্বা” বইতে উল্লেখ করেন: আবুল কাসেম মোহাম্মদ আল হুজ্জাহ তার পিতার মৃত্যুর সময় পাঁচ বৎসর ছিলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ বয়সেই তাঁকে হিকমতে রাব্বানি (ধর্মতত্ত্ব) প্রদান করেন আর তাঁকে কায়েমুল মুনতাযার বলা হয়। মুতাওয়াতির রিওয়ায়েত (সমকালীন বহু সূত্রে বর্ণিত হাদীস যাতে সন্দেহের অবকাশ থাকে না) মতে মাহদী হচ্ছেন এ উম্মতেরই একজন, হযরত ঈসা নবী (আ.) আসমান থেকে নিচে নেমে আসবেন এবং মাহদী (আ.) এর পেছনে (ইমামতিতে) নামায পড়বেন। (পৃষ্ঠা: ১৬৪, প্রকাশ: কাহেরা)।
এই বিষয়ে মুসলমানদের অনেক কথাই রয়েছে, অনেক জ্ঞানী মুসলমানরা তাদের গ্রন্থে এই বিশেষ বিষয়ে অনেক কথাই লিপিবদ্ধ করেছেন। ওলামারা বিশেষ করে হযরত মাহদী (আ.) সম্পর্কে যে সকল বই লিখেছেন আমরা প্রমাণ বা উদ্ধৃতি স্বরূপ তার কয়েকটি এখানে উল্লেখ করবো। অবশ্য শুধু এই বিষয়ে ৩০ টিরও বেশী বই রয়েছে কিন্তু আমরা নিম্নে বর্ণিত কয়েকটিকে যথেষ্ট মনে করবো।
 
সূত্রসমূহ:
 ১। আল বোরহান ফি আখবারি সাহিবিয যামান (আল্লামা গানজি শাফেঈ, মৃত্যু: ৬৫৮ হি:)।
২। আল বোরহান ফি আলামাতি মাহদী আখিরুয যামান (মশহুর আলেম মোল্লা মোত্তাকি, মৃত্যু: ৯৭৫ হি:)।
৩। আল কাউলুল মুখতাছার ফিল আলামাতিল মাহদী আল মুনতাযার (ইবনে হাজার, মৃত্যু: ৯৭৪ হি:)।
৪। মাহদী আলুর রাসুল (সা.) (আলী ইবনে সুলতান মোহাম্মদ আল হারউয়ি আল হানাফি)।
৫। ইকদুদ দুরার ফিল আখবারিল ইমামিল মুনতাযার (শেখ জামালুদ্দিন ইউসুফি আদ দামেশকি, মৃত্যু: ৭ শতাব্দী)।
৬। মানাকিবুল মাহদী (আ.) (হাফেয আবি নায়িম ইসফাহানি, মৃত্যু: ৫ শতাব্দী)।
৭। আল ওরফুল ওয়ারদি ফি আখবারিল মাহদী (আ.) (সুয়ুতি, মৃত্যু: ৯১১)।
৮। কিতাবুল মাহদী (আ.) (আবি দাউদ)।
সূত্রঃ ইন্টারনেট