ইমাম মাহদী (আ.)এর গুরুত্বপূর্ণ ও ঘটনাবহুল বিষয়

ইমাম মাহদী (আ.)এর গুরুত্বপূর্ণ ও ঘটনাবহুল বিষয়

ইমাম মাহদী (আ.)এর  গুরুত্বপূর্ণ ও ঘটনাবহুল বিষয়

ইমাম মাহদী, মাসুম, রাসূল, বিহারুল আনওয়ার, ইমাম আলী, ফাতিমাতুয্ যাহরা, ইমাম হাসান আসকারী, ইমাম, মুসা, ঈসা, আল্লাহ, ইমাম হুসাইন, ইমাম সাজ্জাদ, ইমাম বাকের, ইমাম জাফর সাদিক, ইমাম কাযিম, ইমাম মুসা রেযা, ইমাম তাকি আল জাওয়াদ, ইমাম হাদী, হাসান আসকারী
ইমামের জন্ম গোপনে হওয়ারকারণে এধারণার অবকাশ ছিল যে শিয়ারা শেষ ইমামকে চিনতে ভুল করবে এবং পথভ্রষ্ট হয়ে পড়বে৷ ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-এর দায়িত্ব ছিল যে নিজের সন্তানকে বিশিষ্ট শিয়া ওনির্ভরযোগ্য ব্যক্তিবর্গের মাঝে পরিচয় করাবেন৷ তারা আবার এ সংবাদ আহলে বাইতের অপরঅনুসারীদের কাছে পৌঁছে দিবেন আর এভাবেই ইমামের পরিচয় ঘটবে এবং ইমাম (আ.) সকল বিপদথেকে মুক্ত থাকবেন৷
১- শিয়া মাযহাবে ইমামমাহদী (আ.)
ইমামের জন্ম গোপনে হওয়ারকারণে এধারণার অবকাশ ছিল যে শিয়ারা শেষ ইমামকে চিনতে ভুল করবে এবং পথভ্রষ্ট হয়েপড়বে৷ ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-এর দায়িত্ব ছিল যে নিজের সন্তানকে বিশিষ্ট শিয়া ওনির্ভরযোগ্য ব্যক্তিবর্গের মাঝে পরিচয় করাবেন৷ তারা আবার এ সংবাদ আহলে বাইতের অপরঅনুসারীদের কাছে পৌঁছে দিবেন আর এভাবেই ইমামের পরিচয় ঘটবে এবং ইমাম (আ.) সকল বিপদথেকে মুক্ত থাকবেন৷
ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-এরবিশেষ অনুসারী এবং বিশিষ্ট শিয়া জনাব আহমাদ বিন ইসহাক বলেন:
ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-এরকাছে গিয়ে মনে মনে তাঁর পরবর্তী উত্তরাধিকারী সম্পর্কে জানার ইচছা পোষণ করলাম, কিন্তু কিছু জানতে চাওয়ার পূর্বেই তিনি বললেন: হে আহমাদ! আল্লাহপাক হযরত আদম(আ.)-কে সৃষ্টির পর থেকে কখনোই পৃথিবীকে হুজ্জাত বিহীন রাখেন নি এবং কিয়ামত পর্যন্তকখনোই খালি রাখবেন না৷ আর আল্লাহর হুজ্জাতের মাধ্যমেই পৃথিবীর মানুষের উপর থেকেবালা-মুছিবত দূর হয়৷ তাঁর অস্তিত্বের বরকতেই বৃষ্টি বর্ষণ হয় এবং ফসল ফলে৷
আমি বললাম: হে আল্লাহররাসূলের সন্তান! আপনার পরবর্তী ইমাম এবং উত্তরাধিকারী কে? ইমাম সাথে সাথে ঘরের ভিতরপ্রবেশ করলেন এবং তিন বছরের একটি অতি সুন্দর ও চাঁদের ন্যায় পবিত্র শিশুকে নিয়েবেরিয়ে এসে বললেন: হে আহমাদ বিন ইসহাক! যদি আল্লাহ ও তাঁর হুজ্জাতের নিকট প্রিয়ভাজননা হতে তাহলে আমার এ পূত্র তোমাকে দেখাতাম না৷ তাঁর নাম ও কুনিয়া রাসূল (সা.)-এরনাম ও কুনিয়ার অনুরূপ৷ পৃথিবী যেভাবে অন্যায়-অত্যাচারে পরিপূর্ণ হয়েছিল সেতেমনিভাবে পৃথিবীকে ন্যায়-নীতিতে পরিপ‚র্ণ করবে৷
আমি বললাম: এমন কোন চিহ্নকি আছে যা দেখে আমি নিশ্চিত হতে পারি? এমন সময় পবিত্র শিশুটি বললেন:
انا بقية الله فی ارضه والمنتقم من اعدائه...
আমিই হলাম পৃথিবীতেআল্লাহর শেষ গচিছত সম্পদ এবং আমি আল্লাহর দুশমনদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করব৷ হেআহমাদ বিন ইসহাক নিজ চোখে দেখার পর আর কোন চিহ্নের অপেক্ষায় থেক না৷
আহমাদ বিন ইসহাক বলেন: একথা শোনার পর অতি আনন্দের সাথে ইমাম (আ.)-এর বাড়ী থেকে চলে আসলাম (কামালুদ্দিনখণ্ড- ২, বাব ৩৮, হাদীস ১, পৃ.-৮০)৷
অনুরূপভাবে মুহাম্মদ বিনউসমান ও আরও কয়েক জন বিশিষ্ট শিয়া ব্যক্তিত্ব বর্ণনা করেছেন:
আমরা শিয়া মাযহাবেরচল্লিশজন ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-এর কাছে একত্রিত হই৷ তিনি আমাদেরকে তাঁর পবিত্রসন্তানকে দেখিয়ে বললেন, "আমার পর এই তোমাদের ইমাম ও আমার উত্তরাধিকারী৷ তাঁরনির্দেশ মেনে চলবে এবং দ্বীন থেকে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড় না তাহলে ধবংস হয়ে যাবে৷ আজকেরপর থেকে তাঁকে আর দেখতে পাবে না (তিনি ইমাম মাহদীর দ্বিতীয় নায়েব )৷
একটি সুন্নত হচেছ শিশুদেরজন্য আকিকা করা এবং ওলিমা দেয়া৷ দুম্বা অথবা গরু জবাই করে মানুষকে খাওয়ানো৷ এরমাধ্যমে শিশুর বালা-মুছিবত দূর হয় এবং আয়ূ দীর্ঘ হয়৷ ইমাম হাসান আসকারী (আ.)কয়েকবার তাঁর পবিত্র সন্তানের জন্য আকিকা করেছিলেন৷ এভাবে তিনি রাসূল (সা.)-এরসুন্নতকে পালন করেন এবং শিয়া মাযহাবকে দ্বাদশ ইমাম সম্পর্কে জ্ঞাতকরেন৷
২- মোজেযা এবং কেরামত
ইমাম মাহদী (আ.)-এরজীবনীর অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল তাঁর জন্মের পর থেকে অদৃশ্যের পূর্ব পর্যন্ত৷এসময়ে তার মাধ্যমে অনেক মোজেযা ও কেরামত সম্পাদিত হয়েছে৷ তবে ইমাম (আ.)-এর জীবনের এদিকটির প্রতি বিশেষভাবে আলোকপাত করা হয় নি৷
আমরা এখানে একটি উদাহরণবর্ণনার মাধ্যমে তা তুলে ধরতে চেষ্টা করব:
আহমাদ ইবনে ইব্রাহীমনিশাপুরী বলেন:
যখন আমর বিন আউফ(অত্যাচারি শাসক যে শিয়া মাযহাব অনুসারীদের হত্যা করতে খুব পছন্দ করত) আমাকে হত্যাকরার সিদ্ধান্ত নিল৷ আমার সমস্ত অস্তিত্ব আতঙ্কে শিউরে উঠল৷ অতঃপর সবার সাথে বিদায়নিয়ে ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-এর বাড়িতে বিদায় নিতে গেলাম এবং ভেবে রেখেছিলাম যে তারপর পালাব৷ ইমাম (আ.)-এর বাড়িতে গিযে তাঁর পাশে একটি বাচচা ছেলে বসা দেখলাম যারচেহারা পূর্ণিমার চাঁদের মত জ্বল জ্বল করছিল৷ তাঁর ঐ নুরানী চেহারা দেখে আমি এতবেশী হতবাক হলাম যে, আমার সব কিছু প্রায় এলোমেলো হয়ে গেল৷
এমন সময় তিনি আমাকে বললেন:"হে ইব্রাহীম, পালাবার কোন প্রয়োজন নেই৷ খুব শীঘ্রই আল্লাহ তোমাকে তার অনিষ্ট হতেপরিত্রাণ দিবেন৷"
আমি আরও বেশী হতবাক হয়েইমাম আসকারী (আ.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, "আমার জীবন আপনার জন্য উৎসর্গ হোক এই ছেলে কেযিনি আমার মনের খবর বলছেন?" ইমাম (আ.) বললেন: "সে আমার সন্তান এবং আমারউত্তরাধিকারী৷"
ইব্রাহীম বলেন, "আল্লাহরকরুনার প্রতি আশা ও দ্বাদশ ইমাম (আ.)-এর কথার প্রতি বিশ্বাস আমার ছিল৷ কিছু দিন পরআমার চাচা সংবাদ দিলেন যে আমর বিন আউফকে হত্যা করা হয়েছে৷"
৩- বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরদান
ইমামত নামক আকাশের শেষউজ্বল নক্ষত্র শিশু বয়সেই শিয়া মাযহাব অনুসারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উপযুক্ত ওগ্রহণযোগ্য উত্তর দিতেন এবং তাদেরকে সন্তুষ্ট করতেন৷ উদাহরণস্বরূপ সংক্ষেপে একটিরেওয়ায়াত বর্ণনা করছি:
শিয়া মাযহাবের বিশিষ্টআলেম সাদ ইবনে আব্দুল্লাহ কুম্মী, ইমামের উকিল আহমাদ ইবনে ইসহাক কুম্মীকে সাথে নিয়েবিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর জানতে ইমাম আসকারী (আ.)-এর কাছে গিয়েছিলেন৷ তিনি ঘটনাটিএভাবে বর্ণনা করেছেন:
ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-এরকাছে প্রশ্নের উত্তর জানতে গেলে তিনি তাঁর সন্তানের দিকে ইশারা করে বললেন: আমারচোখের জ্যোতির কাছে প্রশ্ন কর৷ তখন ছেলেটি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন: যা ইচছা প্রশ্নকরতে পার৷ বললাম, "کهيعص" এর উদ্দেশ্য কি? তিনি বললেন: এইঅক্ষরগুলো গায়েবি সংবাদের অন্তর্ভুক্ত৷ আল্লাহ্ তাআলা তাঁর বান্দা (নবী) যাকারিয়াকেসে সম্পর্কে অবহিত করেছেন অতঃপর মুহাম্মদ (সা.)-কেও সে সংবাদ দিয়েছেন৷ ঘটনা হল যেহযরত যাকারিয়া (আ.) আল্লাহর কাছে পাক পঞ্জাতনের নাম জানতে চাইলেন৷ আল্লাহ তাআলাহযরত জীবরাঈল (আ.)- কে সে নামগুলো শিক্ষা দিলেন৷ হযরত যাকারিয়া যখন মুহাম্মদ(সা.), আলী (আ.), ফাতিমা (আ.) ও হাসান (আ.)-এর নাম উচচারণ করলেন তাঁর সকল কষ্ট ওসমস্যার অবসান হয়ে গেল৷ কিন্তু যখন ইমাম হুসাইন (আ.)-এর নাম উচচারণ করলেন তখন কষ্টেতাঁর গলা আটকে আসতে লাগল৷ তিনি আল্লাহর কাছে বললেন: হে আল্লাহ আমি যখন প্রথম চারজনের নাম উচচারণ করি তখন আমার সকল কষ্ট দূর হয়ে যায় এবং মন আনন্দে ভরে যায়৷ কিন্তুযখন হুসাইন (আ.)-এর নাম উচচারণ করি তখন আমার দুচোখদিয়ে পানি ঝরতে থাকে৷ আল্লাহতাঁকে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর ঘটনা সম্পর্কে অবগত করলেন এবং বললেন: "کهيعص" হচেছ এই ঘটনার সংকেত৷ "کاف" হচেছকারবালার সংকেত৷ "هاء" হচেছ হালাকাত বা ধবংসের সংকেত৷ "ياء" হচেছ পাপিষ্ট ইয়াযিদের নামের সংকেত৷ "عين" হচেছ আতাশ তথা পিপাসার সংকেত৷ "صاد"হচেছইমাম হুসাইন (আ.)-এর সবর ও ধৈর্যের সংকেত৷
বললাম: কেন মানুষ নিজেরাইতাদের ইমামকে নির্বাচন করতে পারবে না?
ইমাম বললেন: তুমি মুসলেহ(মুক্তিদাতা) ইমামের কথা বলছ নাকি মোফসেদ (পথভ্রষ্ট) ইমামের কথা বলছ? বললাম: মুসলেহইমামের কথা বলছি যিনি সমাজকে সংষ্কার করবেন৷ ইমাম বললেন: যেহেতু কেউই কারো মনের খবররাখে না যে, সে গঠনমূলক চিন্তা করে নাকি ধবংসাত্মক, সুতরাং মানুষের পক্ষ থেকেনির্বাচিত ব্যক্তি মোফসেদও তো হতে পারে? বললাম: হ্যাঁ, হতে পারে৷ বললেন: কারণ, এটাই(কামালুদ্দিন, খণ্ড- ২, বাব ৪৩, হাদীস ২১, পৃ.-১৯০)৷
ইমাম এই হাদীসে আরও অনেকশর্ত বা কারণ বর্ণনা করেছেন তবে সংক্ষিপ্ততার জন্য তা র্বণনা করা থেকে বিরত হলাম৷
৪- উপহার গ্রহণকরা
শিয়া মাযহাবের আরও একটিরিতি হচেছ যে, তারা ইমামের জন্য বিভিন্ন উপঢৌকন এবং খুমস প্রেরণ করে থাকে৷ ইমাম(আ.) সেগুলোকে গ্রহণ করে সমাজের নিম্নবিত্তদের প্রয়োজন মেটাতেন৷
ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-এরউকিল ইবনে ইসহাক বলেন: শিয়া মাযহাবের উপঢৌকন ইমাম আসকারী (আ.)-এর কাছে পৌঁছেদেওয়ার জন্য নিয়ে গেলাম৷ সেখানে তাঁর চাঁদের ন্যায় পুত্র তাঁর পাশে বসে ছিলেন৷ ইমামআসকারী (আ.) তাঁর সন্তানকে বললেন: হে আমার পুত্র তোমার বন্ধু ও অনুসারীদের আনিতউপঢৌকনগুলো খোল৷ শিশু পুত্র বললেন: হে আমার মাওলা এই পবিত্র হাত দিয়ে হালাল ওহারাম মিশ্রিত নাপাক বস্তু ছোয়া কি ঠিক হবে?
ইমাম হাসান আসকারী(আ.) বললেন: "হে ইসহাক! থলের মধ্যে যা আছে তা বের কর৷ আমার পুত্র তার মধ্য থেকেহারাম এবং হালালগুলোকে পৃথক করবে৷ আমি একটি থলে বের করলাম৷ শিশু পুত্র বললেন: এইথলেটা কোম শহরের অমুক লোকের এবং তার মধ্যে ৬২ আশরাফী আছে৷ তার মধ্যে ৪৫ আশরাফী তারপিতার দেয়া জমি বিক্রয়ের, ১৪ আশরাফী তার নয়টি জামা বিক্রয়ের এবং বাকি তিনটি আশরাফীতার দোকান ভাড়ার৷
ইমাম হাসান আসকারী (আ.)বললেন: হে আমার পুত্র! ঠিক বলেছ৷ এখন এই ব্যক্তিকে বলে দাও যে, এর মধ্যে কোনটিহারাম? শিশু ইমাম মনযোগ সহকারে হারাম জিনিসগুলোকে পৃথক করলেন এবং তার কারণও উল্লেখকরলেন৷
অতঃপর আর একটি থলে বেরকরলাম৷ ওই থলেটি যে ব্যক্তির তিনি তার নাম ও ঠিকানা বলার পর বললেন: "তার মধ্যে ৫০আশরাফী আছে যা আমাদের ছোঁয়া ঠিক নয়৷ তারপর ওই অর্থ অপবিত্র হওয়ার কারণ সম্পর্কেবিস্তারিত ব্যাখ্যা দিলেন৷
অতঃপর ইমাম হাসানআসকারী (আ.) বললেন: হে আমার পুত্র তুমি সঠিক বলেছ৷ তারপর আহমাদ বিন ইসহাককে বললেন:"সবগুলোকে তাদের প্রত্যেককে ফিরিয়ে দাও কেননা আমাদের তার কোন প্রয়োজন নেই"(কামালুদ্দিন, খণ্ড- ২, বাব ৪৩, হাদীস ২১, পৃ.-১৯০)৷
৫- পিতার জানাযারনামাযে
ইমাম মাহদী (আ.)-এর গুপ্তঅবস্থার সময়ে এবং স্বল্পমেয়াদী অদৃশ্য শুরু হওয়ার পূর্বে সর্বশেষ যে কার্য সম্পাদনকরেছিলেন তা হল পিতার জানাযার নামায৷
একাদশ ইমামের খাদেম আবুলআদইয়ান এ সম্পর্কে বলেন:
ইমাম হাসান আসকারী (আ.)জীবনের শেষ সময়ের দিকে আমাকে কিছু চিঠি দিয়ে বললেন: "এগুলোকে মাদায়েনে নিয়ে যাও৷পনের দিন পর ফিরে এসে আমার বাড়িতে রোনা-জারি শুনতে পাবে এবং আমার মৃতদেহ গোসলেরস্থানে দেখবে৷" আমি বললাম: হে আমার মাওলা এমনটি হলে আপনার উত্তরাধিকারী তথা পরবর্তীইমাম কে হবেন? ইমাম বললেন: "যে তোমার কাছে আমার চিঠির উত্তর সম্পর্কে জানতে চাইবেতিনিই পরবর্তী ইমাম হবেন৷" বললাম: আরও কিছু বৈশিষ্ট্য বলুন৷ ইমাম বললেন: "যে আমারজানাযার নামাজ পড়াবেন তিনিই পরবর্তী ইমাম হবেন৷" বললাম: অরও কিছু বৈশিষ্ট্য বলুন৷ইমাম বললেন: "যে এই থলেতে যা আছে সে সম্পর্কে খবর দিবে সেই পরবর্তী ইমাম হবেন৷"কিন্তু ইমাম (আ.)-এর গাম্ভির্য দেখে প্রশ্ন করতে সাহস পেলাম না৷
চিঠিসমূহকে মাদায়েনে নিয়েগেলাম উত্তর নিয়ে ইমামের কথামত পনের দিনের মাথায় সার্মেরাতে ফিরে ইমাম (আ.)-এরবাড়িতে কান্নার শব্দ শুনতে পেলাম এবং ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-এর মৃতদেহকে গোসলেরস্থানে দেখতে পেলাম৷ তখন ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-এর ভাই জাফরকে দেখলাম যে ইমাম(আ.)-এর বাড়িতে দাড়িয়ে আছে এবং কেউ কেউ তাকে শোক বার্তা জানাচেছ এবং ইমাম হিসাবেতাকে মোবারকবাদ জানাচেছ৷ আমি মনে মনে বললাম: এই লোক যদি ইমাম হয় তাহলে ইমামত ধবংসহয়ে যাবে৷ কেননা তাকে আমি চিনতাম সে মদ্য পান করত এবং গানবাজনা করত৷ যেহেতু ইমাম(আ.)-এর বলে যাওয়া আলামতের খোজে ছিলাম তাই আমিও তার কাছে গেলাম এবং অন্যদের মত তাকেশোকবার্তা জানালাম ও মোবারকবাদ জানালাম৷ কিন্তু সে আমাকে চিঠির জবাব সম্পর্কে কিছুইজিজ্ঞাসা করল না৷ তখন আকিদ [ইমাম হাসান আসকারী (আ.)]-এর আর এক খাদেম জাফরকে বলল: হেআমার নেতা আপনার ভ্রাতাকে কাফন করা হয়েছে এসে জানাযার নামায পড়ান৷ আমিও জাফর এবংশিয়া মাযহাবের অন্যান্যদের সাথে ভিতরে গিয়ে দেখলাম যে, ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-কেকাফন পরিয়ে তাবুতে রাখা হয়েছে৷ জাফর নামায পড়ানোর জন্য সামনে গিয়ে তকবির দিতে গেলতখন গৌরবর্ণের একটি শিশু বেরিয়ে এসে জাফরের জামা টেনে ধরে বললেন: হে চাচা সরেদাড়ান আমার পিতার জানাযার নামায পড়ানোর দায়িত্ব আমার উপর ন্যাস্ত হয়েছে৷ জাফরেরচেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল এবং সে পিছনে সরে আসল৷ ছোট্ট শিশু সামনে গিয়ে ইমাম হাসানআসকারী (আ.)-এর জানাযার নামায পড়ালেন৷ অতঃপর তিনি আমাকে বললেন: চিঠির উত্তরগুলোআমাকে দাও৷ আমি চিঠিগুলো তাঁকে দিলাম৷ আমি মনে মনে বললাম এ দুটি নিদর্শনই তো এইছোট্ট বালকের ইমাম হওয়ার নিদর্শন৷ থলের ঘটনাটি বাকি রইল৷ জাফরের কাছে গিয়ে দেখি সেআর্তনাদ করছে৷ একজন শিয়া মাযহাবের অনুসারী তাকে প্রশ্ন করল এই বালকটিকে?
জাফর বলল: আল্লাহর শপথ আমিএ ছেলেটিকে কখনোই দেখিনি এবং তাকে চিনিও না৷
আবুল আদইয়ান আরও বলল: আমরাবসে ছিলাম এমতাবস্থায় কোম থেকে কিছু লোক এসে ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-এর সম্পর্কেজানতে চাইল৷ তারা ইমাম (আ.) শহীদ হওয়ার খবর জানতে পেরে বলল: কাকে শোকবার্তা জানাব? জনগণ জাফরের দিকে ইশারা করল৷ তারা জাফরকে সালাম দিয়ে তাকে শোকবার্তা ও মোবারকবাদজানাল৷ অতঃপর তারা জাফরকে বলল: আমাদের কাছে কিছু চিঠি ও উপঢৌকন আছে৷ বলুন চিঠিগুলোকার? এবং কি পরিমাণ উপঢৌকন আছে?
জাফর রেগে গিয়ে দাড়িয়েবলল: আমার কাছে গায়েবী সংবাদ জানতে চাও? তখন ভিতর থেকে একজন খাদেম বেরিযে এসে বলল:ওমুক, ওমুকের চিঠি তোমাদের কাছে আছে এবং তাদের নাম ঠিকানা বলল৷ থলের মধ্যে এক হাজারদিনার আছে এবং দশটির চিহ্ন মুছে গেছে৷ তারা চিঠি এবং দিনারগুলোকে তার কাছে দিয়েবলল: যিনি তোমাকে এগুলো নিতে পাঠিয়েছেন তিনিই হলেন প্রকৃত ইমাম (কামালুদ্দিন, খণ্ড-২, বাব-৪১,হাদীস নং-২৫, পৃ.-২২৩)৷
সূত্রঃ ইন্টারনেট