ঈদে গ্বাদিরে দিন ও রাতের আমলসমূহ

১৮ই জিলহজ্বে রাত: ঈদে গ্বাদিরের রাত একটি মহিমান্বিত এবং মর্যাদাপূর্ণ রাত। সৈয়দ ইবনে তাউস (রহ.) তাঁর ইকবালুল আমাল নামক গ্রন্থে ১২ রাকাত নামাজ উল্লেখ করেছেন নামাজটি পড়ার নিয়ম: প্রত্যেক রাকাতে সুরা ফাতিহার পরে ১০ বার সুরা ইখলাস ও ১বার আয়াতুল কুরসী পাঠ করতে হ

ঈদে গ্বাদিরে দিন ও রাতের আমলসমূহ

এস, এ, এ

 

১৮ই জিলহজ্বে রাত: ঈদে গ্বাদিরের রাত একটি মহিমান্বিত এবং মর্যাদাপূর্ণ রাত। সৈয়দ ইবনে তাউস (রহ.) তাঁর ইকবালুল আমাল নামক গ্রন্থে ১২ রাকাত নামাজ উল্লেখ করেছেন নামাজটি পড়ার নিয়ম: প্রত্যেক রাকাতে সুরা ফাতিহার পরে ১০ বার সুরা ইখলাস ও ১বার আয়াতুল কুরসী পাঠ করতে হবে। দ্বিতীয় রাকাতটিও অনুরূপ পদ্ধতিতে পড়তে হবে। ১২তম রাকাতে সুরা ফাতিহা ৭বার, সুরা ইখলাস ৭ বার পাঠ করতে হবে। অতঃপর দোয়া-এ কুনুতে বলতে হবে:

لا إِلهَ إِلَّا اللَّهُ‏، وحده‏ لا شَرِيكَ لَهُ،  لَهُ الْمُلْكُ وَ لَهُ الْحَمْدُ،  يُحْيِي وَ يُمِيتُ،  وَ يُمِيتُ وَ يُحْيِي وَ هُوَ حَيُّ لَا يَمُوتُ عَشْرَ مَرَّاتٍ بِيَدِهِ الْخَيْرُ وَ هُوَ عَلَى كُلِّ شَيْ‏ءٍ قَدِيرُ.

তারপর রুকু সম্পাদন করে সেজদার যিকিরে ১০বার বলতে হবে:

سُبْحَانَ مَنْ أَحْصَى كُلَّ شَيْ‏ءٍ عِلْمُهُ سُبْحَانَ مَنْ لَا يَنْبَغِي التَّسْبِيحُ إِلَّا لَهُ سُبْحَانَ ذِي الْمَنِّ وَ النِّعَمِ سُبْحَانَ ذِي الْفَضْلِ وَ الطَّوْلِ سُبْحَانَ ذِي الْعِزَّةِ وَ الْكَرَمِ أَسْأَلُكَ بِمَعَاقِدِ الْعِزِّ مِنْ عَرْشِكَ وَ مُنْتَهَى الرَّحْمَةِ مِنْ كِتَابِكَ وَ بِالِاسْمِ الْأَعْظَمُ وَ كَلِمَاتِهِ التَّامَّةُ أَنْ تُصَلِّيَ عَلَى مُحَمَّدٍ رَسُولِكَ وَ أَهْلِ بَيْتِهِ الطَّيِّبِينَ الطَّاهِرِينَ وَ أَنْ تَفْعَلَ بِي كَذَا وَ كَذَا إِنَّكَ سَمِيعُ مُجِيبُ .

নামাজান্তে  নিন্মোক্ত দোয়াটি পাঠ করতে হবে:

اللَّهُمَّ إِنَّكَ دَعَوْتَنَا إِلَى سَبِيلِ طَاعَتِكَ وَ طَاعَةِ نَبِيِّكَ وَ وَصِيِّهِ وَ عِتْرَتِهِ دُعَاءً لَهُ نُورٌ وَ ضِيَاءٌ وَ بَهْجَةٌ وَ اسْتِنَارٌ فَدَعَانَا نَبِيُّكَ لِوَصِيِّهِ يَوْمَ غَدِيرِ خُمٍّ فَوَفَّقْتَنَا لِلْإِصَابَةِ وَ سَدَّدْتَنَا لِلْإِجَابَةِ لِدُعَائِهِ فَأَنَبْنَا إِلَيْكَ بِالْإِنَابَةِ وَ أَسْلَمْنَا لِنَبِيِّكَ قُلُوبَنَا وَ لِوَصِيِّهِ نُفُوسَنَا وَ لِمَا دَعَوْتَنَا إِلَيْهِ عُقُولَنَا فَتَمَّ لَنَا نُورُكَ يَا هَادِيَ الْمُضِلِّينَ أَخْرِجِ الْبُغْضَ وَ الْمُنْكَرَ وَ الْغُلُوَّ لِأَمِينِكَ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ وَ الْأَئِمَّةِ مِنْ وُلْدِهِ مِنْ قُلُوبِنَا وَ نُفُوسِنَا وَ أَلْسِنَتِنَا وَ هُمُومِنَا وَ زِدْنَا مِنْ مُوَالاتِهِ وَ مَحَبَّتِهِ وَ مَوَدَّتِهِ لَهُ وَ الْأَئِمَّةِ مِنْ بَعْدِهِ زِيَادَاتٍ لَا انْقِطَاعَ لَهَا وَ مُدَّةً لَا تَنَاهِيَ لَهَا وَ اجْعَلْنَا نُعَادِي لِوَلِيِّكَ مَنْ نَاصَبَهُ وَ نُوَالِي مَنْ أَحَبَّهُ وَ نَأْمُلُ بِذَلِكَ طَاعَتَكَ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ اللَّهُمَّ اجْعَلْ عَذَابَكَ وَ سَخَطَكَ عَلَى مَنْ نَاصَبَ وَلِيَّكَ وَ جَاحَدَ [وَ جَحَدَ] إِمَامَتَهُ وَ أَنْكَرَ وَلَايَتَهُ وَ قَدَّمْتَهُ أَيَّامَ فِتْنَتِكَ فِي كُلِّ عَصْرٍ وَ زَمَانٍ وَ أَوَانٍ‏ إِنَّكَ عَلى‏ كُلِّ شَيْ‏ءٍ قَدِيرٌ اللَّهُمَّ بِحَقِّ مُحَمَّدٍ رَسُولِكَ وَ عَلِيٍّ وَلِيِّكَ وَ الْأَئِمَّةِ مِنْ بَعْدِهِ حُجَجِكَ فَأَثْبِتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ وَ مُوَالاةِ أَوْلِيَائِكَ وَ مُعَادَاةِ أَعْدَائِكَ مَعَ خَيْرِ الدُّنْيَا وَ الْآخِرَةِ تَجْمَعُهُمَا لِي وَ لِأَهْلِي وَ وُلْدِي وَ إِخْوَانِيَ الْمُؤْمِنِينَ إِنَّكَ عَلى‏ كُلِّ شَيْ‏ءٍ قَدِيرٌ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ.

 

১৮ই জিলহজ্বের দিন:

১৮ই জিলহজ্ব বিভিন্ন নামে পরিচিতি অর্জন করেছে যেমন: ঈদুল আকবার, ঈদে গ্বাদির এবং ঈদে আলে মোহাম্মাদ (আ.)। ১৮ই জিলহজ্ব একটি মহিমান্বিত এবং মর্যাদাপূর্ণ ঈদের দিন। প্রত্যেকটি নবী এ দিনে ঈদ উৎযাপন করেছেন এবং উক্ত দিনটিকে মহিমান্বিত এবং মর্যাদাপূর্ণ বলে মনে করতেন। আসমানবাসীদের কাছে এ ঈদটি আহদে মাহুদ এবং দুনিয়ায় তার নাম হচ্ছে মিসাকে মাখুয ওয়া জাম-এ মাশহুদ নামে পরিচিত। ইমাম জাফর সাদিক্ব (আ.)কে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, মুসলমানদের জন্য জুম, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা ছাড়া কি আর কোন ঈদ রয়েছে যা ফযিলতপূর্ণ? ইমাম (আ.) বলেন:হ্যাঁ একটি ঈদ রয়েছে যার গুরুত্ব  অন্যান্য ঈদের তুলনায় বেশী। ইমাম (আ.)কে জিজ্ঞাসা করা হয় সেটা কোন ঈদ? তিনি বলেন: যেদিন রাসুল (সা.) ইমাম আলী  (আ.)কে তাঁর পরে মুসলমানদের জন্য ইমাম নিযুক্ত করে যান এবং তিনি বলেন আমি যাদের মাওলা আলীও তাদের মাওলা। সে দিনটি ছিল ১৮ই জিলহজ্ব তথা ঈদে গ্বাদির। হে ইমাম (আ.)! ঐ ঈদের দিনে আমাদের করণিয় কি? ইমাম (আ.) বলেন: রোজা রাখ, ইবাদত কর এবং রাসুল (সা.) ও তাঁর আহলে বাইত (আ.) এর প্রতি দুরুদ প্রেরণ কর। রাসুল (সা.) আলী (আ.)এবং তাঁর পরিবার পরিজনকে ওসিয়ত করেন যেন তারা পূর্ববর্তি নবীগণেরর ন্যায় এ দিনে ঈদ উৎযাপন করে। প্রত্যেকটি নবী তাঁর স্থলাভিসিক্তদেরকে ওসিয়ত করেন তাঁরা যেন এ দিনটিতে ঈদ উৎযাপন করে।

ইবনে আবি নাসর বাযান্তি (রহ.) ইমাম রেযা (আ.) হতে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেছেন: হে ইবনে আবি নাসর বাযান্তি! তুমি যেখানেই থাক না কেন গ্বাদীর দিবসে ইমাম আলী  (আ.) এর কবরের কাছে উপস্থিত থাকার চেষ্টা করো। কেননা আল্লাহ তায়ালা উক্ত দিনে মাজারে উপস্থিতকারী সকল মুমিন নর নারী ও মুসলমান নর নারীর ৬০ বছরের গুনাহকে ক্ষমা করে দেন। এমনকি রমজান মাস, লাইলাতুল ক্বদর এবং ঈদুল ফিতরে যে পরিমাণ বান্দাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে পরিত্রাণ দান করা হয় গ্বাদিরের দিনে তার দুইগুণ মানুষকে জানান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দেয়া হয়। উক্ত দিনে এক দিরহাম সাদক্বা দিলে অন্যান্য মাসের তুলনায় হাজার দিরহাম সাদক্বা দানের সমপরিমাণ সওয়াব দান করা হয়। সুতরাং ঈদে গ্বাদিরের দিন মুমিন ভাইদের সাথে সদাচারণ ও দয়াসুলভ আচরণ এবং তাদেরকে খুশি কর। আল্লাহর শপথ মানুষেরা যদি এ দিনের ফযিলত সম্পর্কে অবগত হতো তাহলে তা যথাযথভাবে পালন করতো তাহলে ফেরশতারা তাদের সাথে দিনে দশবার করমর্দন করতো। সংক্ষিপ্তভাবে বলা যেতে পারে যে, এ দশ দিনকে যথাযথভাবে পালন করা উচিত। জিলহজ্ব মাসে প্রথম দশ দিনের আমলসমূহ নিন্মরূপ:

. গাদ্বিরের দিনে রোজা রাখা হচ্ছে ৬০ বছরের গুনাহের কাফফারা স্বরূপ। কেউ যদি এ দিনে রোজা রাখে তাহলে আল্লাহ তাকে সারা জীবন রোজা রাখার সমপরিমাণ এছাড়া একশত হজ এবং ওমরা হজের সমপরিমাণ সওয়াব দান করেন।

. ১৮ই জিলহজ্বের দিনে গোসল করা উত্তম।

. ইমাম আলী (আ.)এর যিয়ারত পাঠ করা। মুমিনদের উচিত আমীরুল মুমিনিন (আ.)এর কবরের কাছে পৌছানোর চেষ্টা করা এবং তাঁর প্রসিদ্ধ তিনটি যিযারতের মধ্যে প্রসিদ্ধ ও বিশেষত যিয়ারত-এ আমীনুল্লাহ পাঠ করা যা কবরের কাছে অথবা দূর থেকে পাঠ করা যেতে পারে এবং তা যিয়ারতের অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।

. ইক্ববালুল আমাল নামক গ্রন্থে উল্লেখিত রাসুল (সা.) হতে বর্ণিত তাবিজ পাঠ করা।

. ১৮ই জিলহজ্ব তারিখের দিনে দুই রাকাত নামাজ পড়া। প্রথম রাকাতে সুরা ফাতিহার পরে সুরা ক্বদর এবং দ্বিতীয় রাকাতে সুরা ফাতিহার পরে সুরা ইখলাস পাঠ করতে হবে। অতঃপর সিজদাতে যেয়ে নিন্মোক্ত দোয়াটি পাঠ করতে হবে:

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنَّ لَكَ الْحَمْدَ وَحْدَكَ لا شَرِيكَ لَكَ وَ أَنَّكَ وَاحِدٌ أَحَدٌ صَمَدٌ لَمْ تَلِدْ وَ لَمْ تُولَدْ وَ لَمْ يَكُنْ لَكَ كُفُوا أَحَدٌ وَ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُكَ وَ رَسُولُكَ صَلَوَاتُكَ عَلَيْهِ وَ آلِهِ يَا مَنْ هُوَ كُلَّ يَوْمٍ فِي شَأْنٍ كَمَا كَانَ مِنْ شَأْنِكَ أَنْ تَفَضَّلْتَ عَلَيَّ بِأَنْ جَعَلْتَنِي مِنْ أَهْلِ إِجَابَتِكَ وَ أَهْلِ دِينِكَ وَ أَهْلِ دَعْوَتِكَ وَ وَفَّقْتَنِي لِذَلِكَ فِي مُبْتَدَإِ خَلْقِي تَفَضُّلاً مِنْكَ وَ كَرَماً وَ جُوداً ثُمَّ أَرْدَفْتَ الْفَضْلَ فَضْلا وَ الْجُودَ جُوداً وَ الْكَرَمَ كَرَماً رَأْفَةً مِنْكَ وَ رَحْمَةً إِلَى أَنْ جَدَّدْتَ ذَلِكَ الْعَهْدَ لِي تَجْدِيداً بَعْدَ تَجْدِيدِكَ خَلْقِي وَ كُنْتُ نَسْياً مَنْسِيّاً نَاسِياً سَاهِياً غَافِلا فَأَتْمَمْتَ نِعْمَتَكَ بِأَنْ ذَكَّرْتَنِي ذَلِكَ وَ مَنَنْتَ بِهِ عَلَيَّ وَ هَدَيْتَنِي لَهُ فَلْيَكُنْ مِنْ شَأْنِكَ يَا إِلَهِي وَ سَيِّدِي وَ مَوْلايَ أَنْ تُتِمَّ لِي ذَلِكَ وَ لا تَسْلُبَنِيهِ حَتَّى تَتَوَفَّانِي عَلَى ذَلِكَ وَ أَنْتَ عَنِّي رَاضٍ فَإِنَّكَ أَحَقُّ الْمُنْعِمِينَ أَنْ تُتِمَّ نِعْمَتَكَ عَلَيَّ ، اللَّهُمَّ سَمِعْنَا وَ أَطَعْنَا وَ أَجَبْنَا دَاعِيَكَ بِمَنِّكَ فَلَكَ الْحَمْدُ غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَ إِلَيْكَ الْمَصِيرُ آمَنَّا بِاللَّهِ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ وَ بِرَسُولِهِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَ آلِهِ وَ صَدَّقْنَا وَ أَجَبْنَا دَاعِيَ اللَّهِ وَ اتَّبَعْنَا الرَّسُولَ فِي مُوَالاةِ مَوْلانَا وَ مَوْلَى الْمُؤْمِنِينَ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ عَبْدِ اللَّهِ وَ أَخِي رَسُولِهِ وَ الصِّدِّيقِ الْأَكْبَرِ وَ الْحُجَّةِ عَلَى بَرِيَّتِهِ الْمُؤَيِّدِ بِهِ نَبِيَّهُ وَ دِينَهُ الْحَقَّ الْمُبِينَ عَلَماً لِدِينِ اللَّهِ وَ خَازِناً لِعِلْمِهِ وَ عَيْبَةَ غَيْبِ اللَّهِ وَ مَوْضِعَ سِرِّ اللَّهِ وَ أَمِينَ اللَّهِ عَلَى خَلْقِهِ وَ شَاهِدَهُ فِي بَرِيَّتِهِ اللَّهُمَّ رَبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِياً يُنَادِي لِلْإِيمَانِ أَنْ آمِنُوا بِرَبِّكُمْ فَآمَنَّا رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَ كَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا، وَ تَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ رَبَّنَا وَ آتِنَا مَا وَعَدْتَنَا عَلَى رُسُلِكَ وَ لا تُخْزِنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّكَ لا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ فَإِنَّا يَا رَبَّنَا بِمَنِّكَ وَ لُطْفِكَ أَجَبْنَا دَاعِيَكَ وَ اتَّبَعْنَا الرَّسُولَ وَ صَدَّقْنَاهُ وَ صَدَّقْنَا مَوْلَى الْمُؤْمِنِينَ وَ كَفَرْنَا بِالْجِبْتِ وَ الطَّاغُوتِ فَوَلِّنَا مَا تَوَلَّيْنَا وَ احْشُرْنَا مَعَ أَئِمَّتِنَا فَإِنَّا بِهِمْ مُؤْمِنُونَ مُوقِنُونَ وَ لَهُمْ مُسَلِّمُونَ آمَنَّا بِسِرِّهِمْ وَ عَلانِيَتِهِمْ وَ شَاهِدِهِمْ وَ غَائِبِهِمْ وَ حَيِّهِمْ وَ مَيِّتِهِمْ وَ رَضِينَا بِهِمْ أَئِمَّةً وَ قَادَةً وَ سَادَةً وَ حَسْبُنَا بِهِمْ بَيْنَنَا وَ بَيْنَ اللَّهِ دُونَ خَلْقِهِ لا نَبْتَغِي بِهِمْ بَدَلاً وَ لا نَتَّخِذُ مِنْ دُونِهِمْ وَلِيجَةً وَ بَرِئْنَا إِلَى اللَّهِ مِنْ كُلِّ مَنْ نَصَبَ لَهُمْ حَرْباً مِنَ الْجِنِّ وَ الْإِنْسِ مِنَ الْأَوَّلِينَ وَ الْآخِرِينَ وَ كَفَرْنَا بِالْجِبْتِ وَ الطَّاغُوتِ وَ الْأَوْثَانِ الْأَرْبَعَةِ وَ أَشْيَاعِهِمْ ، وَ أَتْبَاعِهِمْ وَ كُلِّ مَنْ وَالاهُمْ مِنَ الْجِنِّ وَ الْإِنْسِ مِنْ أَوَّلِ الدَّهْرِ إِلَى آخِرِهِ اللَّهُمَّ إِنَّا نُشْهِدُكَ أَنَّا نَدِينُ بِمَا دَانَ بِهِ مُحَمَّدٌ وَ آلُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَ عَلَيْهِمْ وَ قَوْلُنَا مَا قَالُوا وَ دِينُنَا مَا دَانُوا بِهِ مَا قَالُوا بِهِ قُلْنَا وَ مَا دَانُوا بِهِ دِنَّا وَ مَا أَنْكَرُوا أَنْكَرْنَا وَ مَنْ وَالَوْا وَالَيْنَا وَ مَنْ عَادَوْا عَادَيْنَا وَ مَنْ لَعَنُوا لَعَنَّا وَ مَنْ تَبَرَّءُوا مِنْهُ تَبَرَّأْنَا مِنْهُ وَ مَنْ تَرَحَّمُوا عَلَيْهِ تَرَحَّمْنَا عَلَيْهِ آمَنَّا وَ سَلَّمْنَا وَ رَضِينَا وَ اتَّبَعْنَا مَوَالِيَنَا صَلَوَاتُ اللَّهِ عَلَيْهِمْ اللَّهُمَّ فَتَمِّمْ لَنَا ذَلِكَ وَ لا تَسْلُبْنَاهُ وَ اجْعَلْهُ مُسْتَقِرّاً ثَابِتا عِنْدَنَا وَ لا تَجْعَلْهُ مُسْتَعَاراً وَ أَحْيِنَا مَا أَحْيَيْتَنَا عَلَيْهِ وَ أَمِتْنَا إِذَا أَمَتَّنَا عَلَيْهِ آلُ مُحَمَّدٍ أَئِمَّتُنَا فَبِهِمْ نَأْتَمُّ وَ إِيَّاهُمْ نُوَالِي وَ عَدُوَّهُمْ عَدُوَّ اللَّهِ نُعَادِي فَاجْعَلْنَا مَعَهُمْ فِي الدُّنْيَا وَ الْآخِرَةِ وَ مِنَ الْمُقَرَّبِينَ فَإِنَّا بِذَلِكَ رَاضُونَ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ.

এরপর পুণরায় সেজদাতে যেয়ে ১০০ বার বলতে হবে: اَلْحَمْدُ لِلَّهِ.

১০০ বার বলতে হবে: شُكراً لِلَّهِ.

হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, কোন ব্যাক্তি যদি উক্ত আমলটি সম্পাদন করে তাহলে তার অবস্থা এমন হবে যেন সে গ্বাদীর দিবসে রাসুল (সা.)এর সাথে অবস্থান করছিল এবং তাঁর কাছে বাইয়াত করছিল।

যাওয়ালের সময়ের নিকবর্তি সময়ে রাসুল (সা.) তাঁর উম্মতের মাঝে হজরত আলী (আ.)কে নিজের খলিফারূপে পরিচয় করান। সুতরাং ঐ সময়ে দুই রাকাত নামাজ পড়তে হবে। প্রথম রাকাতে সুরা ফাতিহার পরে সুরা ক্বদর এবং দ্বিতীয় রাকাতে সুরা ফাতিহার পরে সুরা ইখলাস পাঠ করতে হবে।

. গোসল করে দুই রাকাত নামাজ পড়া। নামাজটি যাওয়ালের আধাঘন্টা পূর্বে পড়তে হবে। প্রথম রাকাতে সুরা ফাতিহার পরে সুরা ইখলাস, আয়াতুল কুরসী এবং সুরা ক্বদর প্রত্যেকটি ১০ বার করে পাঠ করতে হবে। যদি কোন ব্যাক্তি উক্ত নামাজটি পাঠ করে তাহলে আল্লাহ তায়ালা তাকে এক লক্ষ হজ্ব, এক লক্ষ ওমরা হজ্বের সমপরিমাণ সওয়াব এবং ইহকাল এবং পরকাল সম্পর্কিত সকল মনোবাসনাকে সহজেই পূর্ণ করবেন। তবে ইক্ববালুল আমাল নামক গ্রন্থে সুরা ক্বদর আয়াতুল কুরসীর আগে পাঠ করতে বলেছেন। আল্লামা মাজলিসি (রহ.) তাঁর যাদুল মাআদ নামক গ্রন্থে ইক্ববালুল আমাল গ্রন্থের মতকে বেশী প্রাধান্য দিয়েছেন। কিন্তু পরে গবেষণা করে দেখা গেছে যে, অধিকাংশ রেওয়ায়েতে আয়াতুল কুরসী সুরা ক্বদরের পূর্বে পাঠ করতে বলা হয়েছে। যাইহোক উক্ত নামাজান্তে নিন্মোক্ত দোয়াটি পাঠ করতে হবে: ………………رَبَّنا اِنَّنا سَمِعْنا مُنادِيَا এটা একটা বড় দোয়া।

. দোয়া-এ নুদবা পাঠ করা উত্তম।

. সৈয়দ ইবনে তাউস  শাইখ মুফিদ (রহ.) হতে নিন্মে বর্ণিত এ দোয়াটি পাঠ করা উত্তম:

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِحَقِّ مُحَمَّدٍ نَبِيِّكَ وَ عَلِيٍّ وَلِيِّكَ وَ الشَّأْنِ وَ الْقَدْرِ الَّذِي خَصَصْتَهُمَا بِهِ دُونَ خَلْقِكَ أَنْ تُصَلِّيَ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ عَلِيٍّ وَ أَنْ تَبْدَأَ بِهِمَا فِي كُلِّ خَيْرٍ عَاجِلٍ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ الْأَئِمَّةِ الْقَادَةِ وَ الدُّعَاةِ السَّادَةِ وَ النُّجُومِ الزَّاهِرَةِ وَ الْأَعْلامِ الْبَاهِرَةِ وَ سَاسَةِ الْعِبَادِ وَ أَرْكَانِ الْبِلادِ وَ النَّاقَةِ الْمُرْسَلَةِ وَ السَّفِينَةِ النَّاجِيَةِ الْجَارِيَةِ فِي اللُّجَجِ الْغَامِرَةِ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ خُزَّانِ عِلْمِكَ وَ أَرْكَانِ تَوْحِيدِكَ وَ دَعَائِمِ دِينِكَ وَ مَعَادِنِ كَرَامَتِكَ وَ صِفْوَتِكَ مِنْ بَرِيَّتِكَ وَ خِيَرَتِكَ مِنْ خَلْقِكَ الْأَتْقِيَاءِ الْأَنْقِيَاءِ النُّجَبَاءِ الْأَبْرَارِ وَ الْبَابِ الْمُبْتَلَى بِهِ النَّاسُ مَنْ أَتَاهُ نَجَا وَ مَنْ أَبَاهُ هَوَى، اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ أَهْلِ الذِّكْرِ الَّذِينَ أَمَرْتَ بِمَسْأَلَتِهِمْ وَ ذَوِي الْقُرْبَى الَّذِينَ أَمَرْتَ بِمَوَدَّتِهِمْ وَ فَرَضْتَ حَقَّهُمْ وَ جَعَلْتَ الْجَنَّةَ مَعَادَ مَنِ اقْتَصَّ آثَارَهُمْ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا أَمَرُوا بِطَاعَتِكَ وَ نَهَوْا عَنْ مَعْصِيَتِكَ وَ دَلُّوا عِبَادَكَ عَلَى وَحْدَانِيَّتِكَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِحَقِّ مُحَمَّدٍ نَبِيِّكَ وَ نَجِيبِكَ وَ صِفْوَتِكَ وَ أَمِينِكَ وَ رَسُولِكَ إِلَى خَلْقِكَ وَ بِحَقِّ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ وَ يَعْسُوبِ الدِّينِ وَ قَائِدِ الْغُرِّ الْمُحَجَّلِينَ الْوَصِيِّ الْوَفِيِّ وَ الصِّدِّيقِ الْأَكْبَرِ وَ الْفَارُوقِ بَيْنَ الْحَقِّ وَ الْبَاطِلِ وَ الشَّاهِدِ لَكَ وَ الدَّالِّ عَلَيْكَ وَ الصَّادِعِ بِأَمْرِكَ وَ الْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِكَ لَمْ تَأْخُذْهُ فِيكَ لَوْمَةُ لائِمٍ أَنْ تُصَلِّيَ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ ، وَ أَنْ تَجْعَلَنِي فِي هَذَا الْيَوْمِ الَّذِي عَقَدْتَ فِيهِ لِوَلِيِّكَ الْعَهْدَ فِي أَعْنَاقِ خَلْقِكَ وَ أَكْمَلْتَ لَهُمُ الدِّينَ مِنَ الْعَارِفِينَ بِحُرْمَتِهِ وَ الْمُقِرِّينَ بِفَضْلِهِ مِنْ عُتَقَائِكَ وَ طُلَقَائِكَ مِنَ النَّارِ وَ لا تُشْمِتْ بِي حَاسِدِي النِّعَمِ اللَّهُمَّ فَكَمَا جَعَلْتَهُ عِيدَكَ الْأَكْبَرَ وَ سَمَّيْتَهُ فِي السَّمَاءِ يَوْمَ الْعَهْدِ الْمَعْهُودِ وَ فِي الْأَرْضِ يَوْمَ الْمِيثَاقِ الْمَأْخُوذِ وَ الْجَمْعِ الْمَسْئُولِ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ وَ أَقْرِرْ بِهِ عُيُونَنَا وَ اجْمَعْ بِهِ شَمْلَنَا وَ لا تُضِلَّنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَ اجْعَلْنَا لِأَنْعُمِكَ مِنَ الشَّاكِرِينَ يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي عَرَّفَنَا فَضْلَ هَذَا الْيَوْمِ وَ بَصَّرَنَا حُرْمَتَهُ وَ كَرَّمَنَا ، بِهِ وَ شَرَّفَنَا بِمَعْرِفَتِهِ وَ هَدَانَا بِنُورِهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ عَلَيْكُمَا وَ عَلَى عِتْرَتِكُمَا وَ عَلَى مُحِبِّيكُمَا مِنِّي أَفْضَلُ أَلسَّلاَمُ  مَا بَقِيَ اللَّيْلُ وَ النَّهَارُ وَ بِكُمَا أَتَوَجَّهُ إِلَى اللَّهِ رَبِّي وَ رَبِّكُمَا فِي نَجَاحِ طَلِبَتِي وَ قَضَاءِ حَوَائِجِي وَ تَيْسِيرِ أُمُورِي اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِحَقِّ مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ أَنْ تُصَلِّيَ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ وَ أَنْ تَلْعَنَ مَنْ جَحَدَ حَقَّ هَذَا الْيَوْمِ وَ أَنْكَرَ حُرْمَتَهُ فَصَدَّ عَنْ سَبِيلِكَ لِإِطْفَاءِ نُورِكَ فَأَبَى اللَّهُ إِلا أَنْ يُتِمَّ نُورَهُ اللَّهُمَّ فَرِّجْ عَنْ أَهْلِ بَيْتِ مُحَمَّدٍ نَبِيِّكَ وَ اكْشِفْ عَنْهُمْ وَ بِهِمْ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ الْكُرُبَاتِ اللَّهُمَّ امْلَأِ الْأَرْضَ بِهِمْ عَدْلا كَمَا مُلِئَتْ ظُلْما وَ جَوْرا وَ أَنْجِزْ لَهُمْ مَا وَعَدْتَهُمْ إِنَّكَ لا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ.

আর যদি সম্ভব হয় তাহলে ইক্ববালুল আমাল গ্রন্থে বর্ণিত বড় বড় দোয়াগুলো পাঠ করা।

. সৈয়দ ইবনে তাউস (রহ.) থেকে বর্ণিত ইকবালুল আমাল নামক গ্রন্থে দোয়া-এ মাবসুত নামক দোয়াটি উল্লেখিত হয়েছে তা পাঠ করা।

১০. উক্ত দিনে মুমিনদের সাথে সাক্ষাত হলে এক অপরকে বলা উত্তম:

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَعَلَنَا مِنَ الْمُتَمَسِّكِينَ بِوِلايَةِ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ وَ الْأَئِمَّةِ عَلَيْهِمُ أَلسَّلاَمُ

অতঃপর বলতে হবে:

 اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذي‏ اَكرَمَنا بِهذَا الْيوْمِ وَجَعَلَنا مِنَ الْمُوفينَ بِعَهْدِهِ إلَىنا وَميثاقِهِ الَّذي‏ واثَقَنا بِهِ مِنْ وِلاَيةِ وُلاَةِ اَمْرِهِ وَالْقُوّامِ بِقِسْطِهِ وَلَمْ يجْعَلْنا مِنَ الْجاحِدينَ وَالْمُكذِّبينَ بِيوْمِ الدّينِ.

তারপর ১০০ বার বলতে হবে:

 اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الّذي‏ جَعَلَ كمَالَ دينِهِ وَتَمَامَ نِعْمَتِهِ بِوِلاَيةِ اَميرِ الْمُؤ مِنينَ عَلَى‏ بْنِ اَبي‏ طآلِبٍ عَلَيْهِ أَلسَّلاَمُ  

১৮ই জিলহজ্ব একটি মহিমান্বিত দিন। এ দিনে নতুন পোষাক পরিধান করা, সুগন্ধি ব্যাবহার করা, আনন্দ করা, মুমিনদেরকে পরিতৃপ্ত করা, ত্রুটি সমূহকে ভুলে মুমিনদেরকে ক্ষমা করা, মুমিনদের সমস্যার সমাধান করা, আত্মীয় স্বজনদের সাথে সাক্ষাত করা, মুমিনদেরকে খাদ্য দান করা, করমর্দন করা, উপহার দেয়া, আল্লাহ তায়ালার  শুকরিয়া আদায় করা। এদিনে কেউ যদি কোন মুমিন ভাইকে এক দিরহাম সমপরিমাণ অর্থও দান করে তাহলে আল্লাহ তায়ালা তাকে উক্ত দানের বিনিময়ে এক লক্ষ দিরহাম দানের সমপরিমাণ সওয়াব দান করবেন। উক্ত দিনে মুমিনদেরকে আহার করালে আম্বিয়া এবং সিদ্দিকিনদের খাদ্য খাওয়ানোর সমপরিমাণ সওয়াব অর্জন করা সম্ভব। কেউ যদি  উক্ত তারিখে কোন রোজাদার ব্যাক্তিকে ইফতারি খাওয়ায় তাহলে তাকে এক লক্ষ নবী, সিদ্দিক এবং শহীদদের ইফতারি খাওয়ানোর সমপরিমাণ সওয়াব দান করা হবে।

এছাড়াও ১৮ই জিলহজ্ব তারিখে হজরত মূসা (আ.) ফেরাউনের জাদুকরদের পরাস্ত করেন,  নমরুদের নির্দেশে প্রজ্জলিত অগ্নিকুন্ডকে আল্লাহ তায়ালা হজরত ইব্রাহিমের জন্য ঠান্ডা করে দেন। উক্ত তারিখেই হজরত মূসা (আ.) হজরত ইউসা বিন নুন (আ.)কে, হজরত ঈসা (আ.) শামউন সাফফাকে, হজরত সুলাইমান আসিফ ইবনে বারখিয়াকে নিজের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে নির্বাচন করেন। উক্ত দিনে আমল সমুহের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের সেগা পাঠ করা।  শেখ (রহ.) তাঁর মুসতাদরাকুল ওসায়েল নামক গ্রন্থে যাদুল ফেরদৌস থেকে ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের সেগা পাঠের পদ্ধতি এভাবে বর্ণনা করেছেন যে, এক মুমিন নিজের ডান হাতকে অপর এক মুমিনের ডান হাতে রেখে  বলবে:

وَاخَيْتُكَ فِي اللَّهِ وَ صَافَيْتُكَ فِي اللَّهِ وَ صَافَحْتُكَ فِي اللَّهِ وَ عَاهَدْتُ اللَّهَ وَ مَلائِكَتَهُ وَ كُتُبَهُ وَ رُسُلَهُ وَ أَنْبِيَاءَهُ وَ الْأَئِمَّةَ الْمَعْصُومِينَ عَلَيْهِمُ أَلسَّلاَمُ  عَلَى أَنِّي إِنْ كُنْتُ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَ الشَّفَاعَةِ وَ أُذِنَ لِي بِأَنْ أَدْخُلَ الْجَنَّةَ لا أَدْخُلُهَا إِلّا وَ أَنْتَ مَعِي

তখন অপর মুমিন ভাই বলবে:( قَبِلْتُ)। অতঃপর প্রথম মুমিন বলবে:

      اَسْقَطْتُ عَنْك جَميعَ حُقُوقِ اِلاَّخُوَّةِ مَا خَلاَ الشَّفاعَةَ وَالدُّعاءَ وَالزِّيَارَةَ

মোহাদ্দেস ফেইয তাঁর খোলাসাতুল আযকার নামক গ্রন্থে ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের সেগা পাঠের পদ্ধতি ঠিক এমনটিই বর্ণনা করেছেন। অপর মুমিন ভাই অথবা তার উকিল এমন কিছু বলবে যা দ্বারা সেগা কবুলের বিষয়টিকে স্পষ্ট করে। তারপর শুধুমাত্র দোয়া ও সাক্ষাত ব্যাতিত ভ্রাতৃত্বের সম্পত্তিগত সকল অধিকার বাতিল হয়ে যাবে।