মহরম মাসের আমল সমূহ

মহরম, আশুরা, শামে গারিবা, ইমাম হুসাইন, কারবালা,
মহরম মাসটি হচ্ছে আরবি বর্ষের প্রথম মাস। উক্ত মাসটিতে আহলে বাইত (আ.) দেরকে কারবালার মরুপ্রান্তরে মর্মান্তিকভাবে শহিদ করা হয়। ১লা মহরমের রাত্রির আমল

মহরম মাসের আমল সমূহ

এস, এ, এ

মহরম মাসটি হচ্ছে আরবি বর্ষের প্রথম মাস। উক্ত মাসটিতে আহলে বাইত (আ.) দেরকে কারবালার মরুপ্রান্তরে মর্মান্তিকভাবে শহিদ করা হয়।

১লা মহরমের রাত্রির আমল

বিভিন্ন রেওয়ায়েতের বর্ণনা অনুযায়ি উক্ত রাতে বেশ কিছু নামাজ বর্ণিত হয়েছে যেমন:

১- ১০০ রাকাত নামাজ পাঠ করা। প্রথম রাকাতে সুরা ফাতেহার পরে ১ বার সুরা ইখলাস পাঠ করতে হবে। দ্বিতিয় রাকাতটিও অনুরূপভাবে পাঠ করতে হবে।

২- দুই রাকাত নামাজ পাঠ করতে হবে। প্রথম রাকাতে সুরা ফাতেহার পরে সুরা আনআম। দ্বিতিয় রাকাতে সুরা ফাতেহার পরে সুরা ইয়াসিন পাঠ করতে হবে।

৩- দুই রাকাত নামাজ পাঠ করতে হবে। প্রথম রাকাতে সুরা ফাতেহার পরে ১১ বার সুরা ইখলাস পাঠ করতে হবে। দ্বিতিয় রাকাতটিও অনুরূপভাবে পাঠ করতে হবে।

উক্ত রাতের আমল সম্পর্কে রাসুল (সা.) থেকে রেওয়ায়েত বর্ণিত হয়েছে যে, যদি কেউ ১লা মহরম সারা রাত্রি ইবাদত করে এবং দিনে রোজা রাখে তাহলে সে সারা বছর মঙ্গল এবং রক্ষিত অবস্থার মধ্যে থাকবে আর যদি সে মারা যায় তাহলে সে বেহেস্তবাসি হবে। 

ইমাম রেযা (আ.) থেকে রেওয়ায়েত বর্ণিত হয়েছে যে রাসুল (সা.) উক্ত তারিখে দুই রাকাত নামাজ পাঠ করতেন এবং নামাজান্তে হাতদ্বয়কে তুলে নিন্মোক্ত দোয়াটি পাঠ করতেন:

 

اَللّهُمَّ اَنْتَ الاِْلهُ الْقَدیمُ وَهذِهِ سَنَةٌ جَدیدَةُ فَاَسْئَلُک فیهَاالْعِصْمَةَ مِنَالشَّیطانِ وَالْقُوَّةَ عَلى هذِهِ النَّفْسِ الاْمّارَةِ بِالسّوَّءِ وَالاِْشْتِغالَ بِما یقَرِّبُنى اِلَیک [یاکریمُ] یا ذَاالْجَلالِ وَالاِْکرامِ یا عِمادَ مَنْ لا عِمادَ لَهُ یا ذَخیرَةَ مَنْ لا ذَخیرَةَ لَهُ یا حِرْزَ مَنْ لا حِرْزَ لَهُ یا غِیاثَ مَنْ لا غِیاثَ لَهُ یا سَنَدَ مَنْ لا سَنَدَ لَهُ یا کنْزَ مَنْ لا کنْزَ لَهُ یا حَسَنَ الْبَلاَّءِ ی ا عَظیمَ الرَّج اَّءِ ی ا عِزَّ الضُّعَف آءِ ی ا مُنْقِذَ الْغَرْقى یا مُنْجِىَ الْهَلْکى یا مُنْعِمُ یا مُجْمِلُ یا مُفْضِلُ یا مُحْسِنُ اَنْتَ الَّذى سَجَدَ لَک سَوادُ اللَّیلِ وَنُورُ النَّهارِ وَضَوْءُ الْقَمَرِ وَشُعاعُ الشَّمْسِ وَدَوِىُّ الْمآءِ وَحَفیفُ الشَّجَرِ یا اَللّهُ لا شَریک لَک اَللّهُمَّ اجْعَلْنا خَیراً مِمّا یظُنُّونَ وَاغْفِرْ لَنا ما لا یعْلَمُونَ وَلا تُؤ اخِذْنا بِما یقُولُونَ حَسْبِىَ اللّهُ لا اِلهَ اِلاّ هُوَ عَلَیهِ تَوَکلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظیمِ امَنّا بِهِ کلُّ مِنْ عِنْدِ رَبِّنا وَما یذَّکرُ اِلاّ اُولُوا الاْلْبابِ رَبَّنا لاتُزِغْ قُلُوبَنا بَعْدَ اِذْ هَدَیتَنا وَهَبْ لَنا مِنْ لَدُنْک رَحْمَةً اِنَّک اَنْتَ الْوَهّابُ 

 

 মহরম মাসের প্রথম ৯ দিন রোজা রাখা উত্তম। কিন্তু ১০ই মহরম আসর পর্যন্ত রোজা অবস্থায় থাকা উত্তম। উক্ত দিনে রোজা না রাখার পিছনে অন্যান্য কারণ সমূহের মধ্যে একটি কারণ হচ্ছে উক্ত দিনে বণি উমাইয়াগণ মানত করেছিল যে, যদি তারা ইমাম হুসাইন (আ.)কে হত্যা করতে পারে এবং এজিদ জয়ি হয় তাহলে তারা রোজা রাখবে।

 

৩র মহরমের আমল

উক্ত তারিখে হজরত ইউসুফ (আ.) কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন। সুতরাং উক্ত দিনে রোজা রাখা হচ্ছে মুস্তাহাব।

 

১০ই মহরমের রাত্রি (শবে আশুরা)

উক্ত রাতে ১০০ রাকাত নামাজ পাঠ করা উত্তম। প্রথম রাকাতে সুরা ফাতেহার পরে ৩ বার সুরা ইখলাস। দ্বিতিয় রাকাতটিও অনুরূপভাবে পাঠ করতে হবে। সকল নামাজের শেষে ৭০ বার বলতে হবে:

 

 سُبْحانَ اللّهِ وَالْحَمْدُلِلّهِ وَلااِلهَ اِلا اللّهُ وَاللّهُ اَکبَرُ وَلا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ اِلاّ بِاللّهِ الْعَلِىِّ العَظیمِ

 

অতঃপর ইস্তেগফার পাঠ করা উত্তম।

উক্ত রাতের  শেষভাগে ৪ রাকাত নামাজ পাঠ করা উত্তম। প্রথশ রাকাতে সুরা ফাতেহার পরে আয়াতুল কুরসি, সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস প্রত্যেকটি ১০ বার করে পাঠ করতে হবে। দ্বিতিয় রাকাতটিও অনুরূপভাবে পাঠ করতে হবে। নামাজান্তে ১০০ বার সুরা ইখলাস পাঠ করা উত্তম।

অন্য এক রেওয়ায়েতের বর্ণনা অনুযায়ি ৪ রাকাত নামাজ পাঠ করতে হবে। প্রথম রাকাতে সুরা ফাতেহার পরে সুরা ইখলাস ৫০ বার পাঠ করতে হবে।  দ্বিতিয় রাকাটিও অনুরূপভাবে পাঠ এবং নামাজান্তে বেশি দুরুদ শরিফ পাঠ করা এবং আহলে বাইত (আ.) এর শত্রুদের প্রতি অভিসম্পাত করা উত্তম।

 

১০ই মহরমের আমল

উক্ত দিনে উত্তম হচ্ছে সকল পার্থিব কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা। ইমাম হুসাইন (আ.) এবং তাঁর আহলে বাইত (আ.) এর কষ্টকে স্মরণ করে শোকানুষ্ঠানের আয়োজন, ক্রন্দ এবং মাতম করা। একে অপরের সাথে সাক্ষাতকালে বলা উত্তম হচ্ছে:

 

اَعْظَمَ اللّهُ اُجُورَنا وَاُجورَکمْ بِمُصابِنا بِالْحُسَینِ عَلَیهِ السَّلامُ وَجَعَلَنا وَاِیاکمْ مِنَ الطّالِبینَ بِثارِهِ مَعَ وَلِیهِ الاِْمامِ الْمَهْدِىِّ مِنْ الِ مُحَمَّدٍ عَلَیهِمُ السَّلامُ 

 

যদি কেউ আশুরার দিন কারবালায় ইমাম হুসাইন (আ.) এর মাজারে উপস্থিত থাকে তাহলে কারবালার শহিদদের পিপাসাকে স্মরণ করে মুসলমানদেরকে পানি পান করানো হচ্ছে উত্তম।

উক্ত দিনে ১০০০ বার সুরা ইখলাস পাঠ করা হচ্ছে উত্তম।

উক্ত দিনে ১০০০ বার আহলে বাইত (আ.)দের শত্রুদের প্রতি অভিসম্পাত করা উত্তম:

 

اَلّلهُمَّ الْعَنْ قَتَلَةَ الْحُسَینِ علیه السلام

 

উক্ত দিনে যিয়ারতে আশুরা পাঠ করা উত্তম।

উক্ত দিনে নিন্মোক্ত যিয়ারতটি পাঠ করা উত্তম:

 

اَلسَّلامُ عَلَیک یا وارِثَ ادَمَ صَفْوَةِ اللّهِ اَلسَّلامُ عَلَیک یا وارِثَ نُوحٍ نَبِىِّ اللّهِ اَلسَّلامُ عَلَیک یا وارِثَ اِبْراهیمَ خَلیلِ اللّهِ اَلسَّلامُ عَلَیک یا وارِثَ مُوسى کلیمِ اللّهِ اَلسَّلامُ عَلَیک یا وارِثَ عیسى رُوحِ اللّهِ اَلسَّلامُ عَلَیک یا وارِثَ مُحَمَّدٍ حَبیبِ اللّهِ اَلسَّلامُ عَلَیک یا وارِثَ عَلِی اَمیرِ الْمُؤْمِنینَ وَلِىِّ اللّهِ اَلسَّلامُ عَلَیک یا وارِثَ الْحَسَنِ الشَّهیدِ سِبْطِ رَسُولِ اللّهِ اَلسَّلامُ عَلَیک یا بْنَ رَسُولِ اللّهِ اَلسَّلامُ عَلَیک یا بْنَ الْبَشیرِ النَّذیرِ وَابْنَ سَیدِ الْوَصِیینَ اَلسَّلامُ عَلَیک یابْنَ فاطِمَةَ سَیدَةِ نِسآءِ الْعالَمینَ اَلسَّلامُ عَلَیک یا اَبا عَبْدِ اللّهِ اَلسَّلامُ عَلَیک یا خِیرَةَ اللّهِ وَابْنَ خِیرَتِهِ اَلسَّلامُ عَلَیک یا ثارَ اللّهِ وَابْنَ ثارِهِ اَلسَّلامُ عَلَیک اَیهَا الْوِتْرُ الْمَوْتُورُ اَلسَّلامُ عَلَیک اَیهَا الاِْمامُ الْهادِى الزَّکىُّ وَعَلى اَرْواحٍ حَلَّتْ بِفِناَّئِک وَاَقامَتْ فى جِوارِک وَوَفَدَتْ مَعَ زُوّارِک اَلسَّلامُ عَلَیک مِنِّى ما بَقیتُ وَبَقِىَ اللَّیلُ وَالنَّهارُ فَلَقَدْ عَظُمَتْ بِک الرَّزِیةُ وَجَلَّ الْمُصابُ فِى الْمُؤْمِنینَ وَالْمُسْلِمینَ وَفى اَهْلِ السَّمواتِ اَجْمَعینَ وَفى سُکانِ الاْرَضینَ فَاِنّا لِلّهِ وَاِنّا اِلَیهِ راجِعُونَ وَصَلَواتُ اللّهِ وَبَرَکاتُهُ وَتَحِیاتُهُ عَلَیک وَعَلى ابآئِک الطّاهِرینَ الطَّیبینَ الْمُنْتَجَبینَ وَعَلى ذَراریهِمُ الْهُداةِ الْمَهْدِیینَ اَلسَّلامُ عَلَیک یا مَوْلاىَ وَعَلَیهِمْ وَعَلى  [رُوحِک وَعَلى ] اَرْواحِهِمْ وَعَلى تُرْبَتِک وَعَلى تُرْبَتِهِمْ اَللّهُمَّ لَقِّهِمْ رَحْمَةً وَرِضْواناً وَرَوْحاً وَرَیحاناً اَلسَّلامُ عَلَیک یا مَوْلاىَ یا اَبا عَبْدِاللّهِ یا بْنَ خاتَمِ النَّبِیینَ وَیا بْنَ سَیدِ الْوَصِیینَ وَیا بْنَ سَیدَةِ نِسآءِ الْعالَمینَ اَلسَّلامُ عَلَیک یا شَهیدُ یا بْنَ الشَّهیدِ یا اَخَ الشَّهیدِ یا اَبَا الشُّهَدآءِ اَللّهُمَّ بَلِّغْهُ عَنّى فى هذِهِ السّاعَةِ وَفى هذَا الْیوْمِ وَفى هذَا الْوَقْتِ وَفى کلِّ وَقْتٍ تَحِیةً کثیرَةً وَسَلاماً سَلامُ اللّهِ عَلَیک وَرَحْمَةُاللّهِ وَبَرَکاتُهُ یابْنَ سَیدِالْعالَمینَ وَعَلَى الْمُسْتَشْهَدینَ مَعَک سَلاماً مُتَّصِلاً مَا اتَّصَلَ اللَّیلُ وَالنَّهارُ السَّلامُ عَلَى الْحُسَینِ بْنِ عَلِىٍّ الشَّهیدِ السَّلامُ عَلى عَلِىِّ بْنِ الْحُسَینِ الشَّهیدِ اَلسَّلامُ عَلَى الْعَبّاسِ بْنِ اَمیرِ الْمُؤْمِنینَ الشَّهیدِ السَّلامُ عَلَى الشُّهَدآءِ مِنْ وُلْدِ اَمِیرِ الْمُؤْمِنینَ اَلسَّلامُ عَلَى الشُّهَدآءِ مِنْ وُلْدِ الْحَسَنِ اَلسَّلامُ عَلَى الشُّهَدآءِ مِنْ وُلْدِ الْحُسَینِ السَّلامُ عَلَى الشُّهَدآءِ مِنْ وُلْدِ جَعْفَرٍ وَعَقیلٍ اَلسَّلامُ عَلى کلِّ مُسْتَشْهَدٍ مَعَهُمْ مِنَ الْمُؤْمِنینَ اَللّهُمَّ صَلِّ عَلى مُحَمَّدٍ وَ الِ مُحَمَّدٍ وَبَلِّغْهُمْ عَنّى تَحِیةً کثیرَةً وَسَلاماً اَلسَّلامُ عَلَیک یا رَسُولَ اللّهِ اَحْسَنَ اللّهُ لَک الْعَزآءَ فى وَلَدِک الْحُسَینِ اَلسَّلامُ عَلَیک یا فاطِمَةُ اَحْسَنَ اللّهُ لَک الْعَزآءَ فى وَلَدِک الْحُسَینِ اَلسَّلامُ عَلَیک یا اَمیرَ الْمُؤْمِنینَ اَحْسَنَ اللّهُ لَک الْعَزآءَ فِى وَلَدِک الْحُسَینِ اَلسَّلامُ عَلَیک یا اَبا مُحَمَّدٍ الْحَسَنَ اَحْسَنَ اللّهُ لَک الْعَزآءَ فى اَخیک الْحُسَینِ یا مَوْلاىَ یا اَبا عَبْدِاللّهِ اَنَا ضَیفُ اللّهِ وَضَیفُک وَجارُ اللّهِ وَجارُک وَلِکلِّ ضَیفٍ وَجارٍ قِرىً وَقِراىَ فى هذَا الْوَقْتِ اَنْ تَسْئَلَ اللّهَ سُبْحانَهُ وَتَعالى اَنْ یرْزُقَنى فَکاک رَقَبَتى مِنَ النّارِ اِنَّهُ سَمیعُ الدُّعآءِ قَریبٌ مُجیبٌ 

 

উক্ত আমলটি ইমাম জাফর সাদিক (আ.) আব্দুল্লাহ বিন সানানকে শিক্ষা দেন। আমলটি হচ্ছে নিন্মরূপ: আশুরার দিন খোলা আকাশের নিচে ৪ রাকাত নামাজ পাঠ করতে হবে। প্রথম রাকাতে সুরা ফাতেহার পরে সুরা কাফেরুন এবং দ্বিতিয় রাকাতে সুরা ফাতেহার পরে সুরা ইখলাস পাঠ করতে হবে। পরের দুই রাকাতের প্রথম রাকাতে সুরা ফাতেহার পরে সুরা আহযাব এবং দ্বিতিয় রাকাতে সুরা ফাতেহার পরে সুরা মুনাফেকুন পাঠ করা উত্তম।

অতঃপর ১০০০ বার পাঠ করতে হবে:

 

اَلّلهُمَّ الْعَنْ قَتَلَةَ الْحُسَینِ و اصحابه

 

অতঃপর উক্ত স্থানে থেকে উঠে দাড়িয়ে কয়েক ধাপ সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় বলতে হবে:

 

إنّالِلَّهِ وَ إنَّا إلَيْهِ راجِعُونَ، رِضًى بِقَضَائِهِ، وَ تَسْلِيماً لِاَمْرِهِ

 

উক্ত আমলটি ৭ বার সম্পাদন করতে হবে। অতঃপর নিজের স্থানে বসে নিন্মোক্ত দোয়াটি পাঠ করতে হবে:

 

اللَّهُمَّ عَذِّبِ الْفَجَرَةَ، الَّذِينَ شَاقُّوا رَسُولَكَ، وَ حَارَبُوا اَوْلِيَاءَكَ، وَ عَبَدُوا غَيْرَكَ، وَاسْتَحَلُّوا مَحَارِمَكَ، وَالْعَنِ الْقَادَةَ وَالاَتْبَاعَ، وَ مَنْ كَانَ مِنْهُمْ، فَخَبَّ وَ اَوْضَعَ مَعَهُمْ، اَوْ رَضِيَ بِفِعْلِهِمْ لَعْناً كَثِيراً. اللَّهُمَّ وَ عَجِّلْ فَرَجَ آلِ مُحَمَّدٍ، وَاجْعَلْ صَلَوَاتِكَ عَلَيْهِمْ، وَاسْتَنْقِذْهُمْ مِنْ اَيْدِي الْمُنَافِقِينَ وَ الْمُضِلِّينَ وَ الْكَفَرَةِ الْجَاحِدِينَ، وَافْتَحْ لَهُمْ فَتْحاً يَسِيراً، وَ اَتِحْ لَهُمْ رُوحاً وَ فَرَجاً قَرِيباً، وَاجْعَلْ لَهُمْ مِنْ لَدُنْكَ عَلَى عَدُوِّ‌ كَ وَ عَدُوِّهِمْ سُلْطَاناً نَصِيراً.

 

অতঃপর হাতদ্বয়কে উচু করে বলতে হবে:

 

اللَّهُمَّ اِنَّ كَثِيراً مِنَ الاُمَّةِ نَاصَبَتِ الْمُسْتَحْـفَظِينَ مِنَ الاَئِمَّةِ، وَ كَفَرَتْ بِالْكَلِمَةِ، وَ عَكَفَتْ عَلَى الْقَادَةِ الظَّلَمَةِ، وَ هَجَرَتِ الْكِتَابَ وَ السُّنَّةَ، وَ عَدَلَتْ عَنِ الْحَبْلَيْنِ اللَّذَيْنِ اَمَرْتَ بِطَاعَتِهِمَا وَالتَّمَسُّكِ بِهِمَا، فَاَمَاتَتِ الْحَقَّ، وَ حَادَتْ عَنِ الْقَصْدِ، وَ مَالَاَتِ الاَحْزَابَ، وَ حَرَّفَتِ الْكِتَابَ، وَ كَفَرَتْ بِالْحَقِّ لَمَّا جَاءَهَا، وَ تَمَسَّكَتْ بِالْبَاطِلِ لَمَّا اعْتَرَضَهَا، فَضَيَّعَتْ حَقَّكَ، وَ اَضَلَّتْ خَلْقَكَ، وَ قَتَلَتْ اَوْلادَ نَبِيِّكَ وَ خِيَرَةَ عِبَادِكَ وَ حَمَلَةَ عِلْمِكَ وَ وَرَثَةَ حِكْمَتِكَ وَ وَحْيِكَ. اللَّهُمَّ فَزَلْزِلْ اََقْدَامَ اَعْدَائِكَ وَ اَعْدَاءِ رَسُولِكَ وَ اَهْلِ بَيْتِ رَسُولِكَ. اللَّهُمَّ وَ اَخْرِبْ دِيَارَهُمْ، وَافْلُلْ سِلاحَهُمْ، وَ خَالِفْ بَيْنَ كَلِمَتِهِمْ، وَ فُتَّ فِي اَعْضَادِهِمْ، وَ اَوْهِنْ كَيْدَهُمْ، وَاضْرِبْهُمْ بِسَيْفِكَ الْقَاطِعِ، وَارْمِهِمْ بِحَجَرِكَ الدَّامِغِ، وَ طُمَّهُمْ بِالْبَلاءِ طَمّاً، وَ قُمَّهُمْ بِالْعَذَابِ قَمّاً، وَ عَذِّبْهُمْ عَذَاباً نُكْراً، وَ خُذْهُمْ بِالسِّنِينَ وَ الْمَثُلاتِ الَّتِي اَهْلَكْتَ بِهَا اَعْدَاءَكَ، اِنَّكَ ذُو نَقِمَةٍ مِنَ الْمُجْرِمِينَ. اللَّهُمَّ اِنَّ سُنَّتَكَ ضَائِعَةٌ، وَ اَحْكَامَكَ مُعَطَّلَةٌ، وَ عِتْرَةَ نَبِيِّكَ فِي الاَرْضِ هَائِمَةٌ. اللَّهُمَّ فَاَعِنِ الْحَقَّ وَ اَهْلَهُ، وَاقْمَعِ الْبَاطِلَ وَ اَهْلَهُ، وَ مُنَّ عَلَيْنَا بِالنَّجَاةِ، وَاهْدِنَا إِلَى الايمَانِ، وَ عَجِّلْ فَرَجَنَا، وَانْظِمْهُ بِفَرَجِ اَوْلِيَائِكَ، وَاجْعَلْهُمْ لَنَا وُدّاً، وَاجْعَلْنَا لَهُمْ وَفْداً. اللَّهُمَّ وَ اَهْلِكْ مَنْ جَعَلَ يَوْمَ قَتْلِ ابْنِ نَبِيِّكَ وَ خِيَرَتِكَ عِيداً، وَاسْتَهَلَّ بِهِ فَرَحاً وَ مَرَحاً، وَ خُذْ آخِرَهُمْ كَمَا اَخَذْتَ اَوَّلَهُمْ، وَ اَضْعِفِ اللَّهُمَّ الْعَذَابَ وَ التَّنْكِيلَ عَلَى‏ ظَالِمِي اَهْلِ بَيْتِ نَبِيِّكَ ، وَ اَهْلِكْ اَشْيَاعَهُمْ وَ قَادَتَهُمْ، وَ اََبِرْ حُمَاتَهُمْ وَ جَمَاعَتَهُمْ. اللَّهُمَّ وَ ضَاعِفْ صَلَوَاتِكَ وَ رَحْمَتَكَ وَ بَرَكَاتِكَ عَلَى عِتْرَةِ نَبِيِّكَ، الْعِتْرَةِ الضَّائِعَةِ الْخَائِفَةِ الْمُسْتَذَلَّةِ، بَقِيَّةٍ مِنَ الشَّجَرَةِ الطَّيِّبَةِ الزَّاكِيَةِ الْمُبَارَكَةِ، وَ اَعْلِ اللَّهُمَّ كَلِمَتَهُمْ، وَ اَفْلِجْ حُجَّتَهُمْ، وَاكْشِفِ الْبَلاءَ وَ اللَّأوَاءَ، وَ حَنَادِسَ الاَباطِيلِ وَ الْعَمَى عَنْهُمْ، وَ ثَبِّتْ قُلُوبَ شِيعَتِهِمْ وَ حِزْبِكَ عَلَى طَاعَتِكَ وَ وَلايَتِهِمْ وَ نُصْرَتِهِمْ وَ مُوَالاتِهِمْ، وَ اَعِنْهُمْ وَامْنَحْهُمُ الصَّبْرَ عَلَى الاَذَى فِيكَ، وَاجْعَلْ لَهُمْ اَيَّاماً مَشْهُودَةً، وَ اَوْقَاتاً مَحْمُودَةً مَسْعُودَةً، يُوشِكُ فِيهَا فَرَجُهُمْ، وَ تُوجِبُ فِيهَا تَمْكِينَهُمْ وَ نَصْرَهُمْ كَمَا ضَمِنْتَ لِاَوْلِيَائِكَ فِي كِتَابِكَ الْمُنْزَلِ، فَاِنَّكَ قُلْتَ وَ قَوْلُكَ الْحَقُّ: «وَعَدَ اللهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَ عَمِلُوا الصَّالِحاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الاَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ، وَ لَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضى‏ لَهُمْ، وَ لَيُبَدِّلَنَّهُمْ مِنْ بَعْدِ خَوْفِهِمْ اَمْناً، يَعْبُدُونَنِي لا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئاً» ، اللَّهُمَّ اكْشِفْ غُمَّتَهُمْ، يَا مَنْ لايَمْلِكُ كَشْفَ الضُّرِّ اِلاّ هُوَ، يَا وَاحِدُ يَا اَحَدُ، يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ، وَ اَنَا يَا إِلَهِي عَبْدُكَ الْخَائِفُ مِنْكَ، وَ الرَّاجِعُ اِلَيْكَ، السَّائِلُ لَكَ، الْمُقْبِلُ عَلَيْكَ، اَللاّجِي إِلَى فِنَائِكَ، اَلْعَالِمُ بِاَنَّهُ لامَلْجَاَ مِنْكَ اِلاّ اِلَيْكَ، فَتَقَبَّلِ اللَّهُمَّ دُعَائِي، وَاسْتَمِعْ يَا اِلَهِي عَلانِيَتِي وَ نَجْوَايَ، وَاجْعَلْنِي مِمَّنْ رَضِيتَ عَمَلَهُ، وَ قَبِلْتَ نُسُكَهُ، وَ نَجَّيْتَهُ بِرَحْمَتِكَ، اِنَّكَ اَنْتَ الْعَزِيزُ الْكَرِيمُ. اللَّهُمَّ وَ صَلِّ اَوَّلاً وَ آخِراً عَلَى مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ، وَ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ، وَارْحَمْ مُحَمَّداً وَ آلَ مُحَمَّدٍ، بِاَكْمَلِ وَ اَفْضَلِ مَا صَلَّيْتَ وَ بَارَكْتَ وَ تَرَحَّمْتَ عَلَى اَنْبِيَائِكَ وَ رُسُلِكَ وَ مَلائِكَتِكَ وَ حَمَلَةِ عَرْشِكَ بِلا اِلَهَ اِلاّ اَنْتَ. اللَّهُمَّ وَ لا تُفَرِّقْ بَيْنِي وَ بَيْنَ مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ صَلَوَاتُكَ عَلَيْهِ وَ عَلَيْهِمْ، وَاجْعَلْنِي يَا مَوْلايَ مِنْ شِيعَةِ مُحَمَّدٍ وَ عَلِيٍّ وَ فَاطِمَةَ وَ الْحَسَنِ وَ الْحُسَيْنِ وَ ذُرِّيَّتِهِمُ الطَّاهِرَةِ الْمُنْتَجَبَةِ، وَ هَبْ لِيَ التَّمَسُّكَ بِحَبْلِهِمْ، وَ الرِّضَا بِسَبِيلِهِمْ، وَ الاَخْذَ بِطَرِيقَتِهِمْ، إِنَّكَ جَوَادٌ كَرِيمٌ.

 

অতঃপর সিজদাতে যেয়ে বলতে হবে:

 

يَا مَنْ يَحْكُمُ مَا يَشَاءُ، وَ يَفْعَلُ ما يُرِيدُ، اَنْتَ حَكَمْتَ، فَلَكَ الْحَمْدُ مَحْمُوداً مَشْكُوراً، فَعَجِّلْ يَا مَوْلايَ فَرَجَهُمْ وَ فَرَجَنَا بِهِمْ، فَاِنَّكَ ضَمِنْتَ اِعْزَازَهُمْ بَعْدَ الذِّلَّةِ، وَ تَكْثِيرَهُمْ بَعْدَ الْقِلَّةِ، وَ اِظْهَارَهُمْ بَعْدَ الْخُمُولِ، يَا أصْدَقَ الصَّادِقِينَ، وَ يَا اَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ، فَاَسْاَلُكَ يَا اِلَهِي وَ سَيِّدِي مُتَضَرِّعاً اِلَيْكَ بِجُودِكَ وَ كَرَمِكَ، بَسْطَ أمَلِي، وَ التَّجَاوُزَ عَنِّي، وَ قَبُولَ قَلِيلِ عَمَلِي وَ كَثِيرِهِ، وَ الزِّيَادَةَ فِي اَيَّامِي، وَ تَبْلِيغِي ذَلِكَ الْمَشْهَدَ، وَ اَنْ تَجْعَلَنِي مِمَّنْ يُدْعَى فَيُجِيبُ اِلَى طَاعَتِهِمْ وَ مُوَالاتِهِمْ وَ نَصْرِهِمْ، وَ تُرِيَنِي ذَلِكَ قَرِيباً سَرِيعاً فِي عَافِيَةٍ، إنَّكَ عَلى‏ كُلِّ شَيْ‏ءٍ قَدِيرٌ.

 

অতঃপর আকাশের দিকে তাকিয়ে বলতে হবে:

 

اَعُوذُ بِكَ مِنْ اَنْ اَكُونَ مِنَ الَّذِينَ لايَرْجُونَ اَيَّامَكَ، فَاَعِذْنِي يَا اِلَهِي بِرَحْمَتِكَ مِنْ ذَلِكَ.

 

অতঃপর আল্লাহর কাছে দোয়া চাইতে হবে।

 

২৫শে মহরমের আমল

উক্ত তারিখে ইমাম জয়নুল আবেদিন (আ.) শাহাদত বরণ করেন।  

 

اشتراک گذاری: 

নতুন কমেন্ট যুক্ত করুন

Fill in the blank.