আবা সালত হারভি (রহ.)এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

আবা সালত, আবা সালত হারভি, ইমাম রেযা, মাশহাদ, মামুন, খলিফা, মোহাম্মাদ তাক্বি, তাক্বি, জাওয়াদ, মোহাম্মাদ জাওয়াদ, ইমাম, ইমাম রেযা, কাযেমাইন, মোতাসিম, বণী আব্বাসীয়া,
আবা সালত হারভি (রহ.)এর নাম ছিল আব্দুস সালাম বিন সালেহ বিন সুলাইমান আইয়ুব বিন মুইয়াসসার। তবে তিনি আবা সালত হারভি নামে প্রসিদ্ধ ছিলেন।। তাঁর পিতা অথবা দাদা হয়তো হারাত নামক স্থানে জিবন যাপন করতেন আর এ কারণেই হয়তো তাঁকে হারভি বলা হতো। এক যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার প

আবা সালত হারভি (রহ.)এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

এস, এ, এ

বংশ, জন্ম এবং মৃত্যু

আবা সালত হারভি (রহ.)এর নাম ছিল আব্দুস সালাম বিন সালেহ বিন সুলাইমান আইয়ুব বিন মুইয়াসসার। তবে তিনি আবা সালত হারভি নামে প্রসিদ্ধ ছিলেন।। তাঁর পিতা অথবা দাদা হয়তো হারাত নামক স্থানে জিবন যাপন করতেন আর এ কারণেই হয়তো তাঁকে হারভি বলা হতো। এক যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পরে তাদেরকে বন্দি করে হেজাজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি আব্দুর রহমান বিন সামুরা কুরাইশি নামক ব্যাক্তির দাশ রূপে জিবন যাপন শুরু করেন। আর এ কারণেই ঐতিহাসিকরা তাঁর মনিব হিসেবে আব্দুর রহমান বিন সামুরা কুরাইশির নামকে উল্লেখ করে থাকে। তাঁর প্রসিদ্ধ উপাধি হচ্ছে হারভি। আর এ কারণে শিয়া সুন্নি উভয় মাযহাবের লোকজনের মাঝে তিনি উক্ত পরিচিত। তাঁর পূর্ব পুরুষদের বিভিন্ন স্থানে জিবন যাপন করার কারণে তিনি কুরাইশি, আবশামি, নিশাবুরি, বাসারি এবং খোরাসানি নামেও পরিচিত।

তাঁর জন্ম তারিখ সম্পর্কে ইতিহাসে সঠিক কোন তথ্য উল্লেখিত হয়নি তবে তাঁর বর্ণনামতে তিনি সুফিয়ান বিন উইয়াইনা (যিনি সন ১৯৬ হিজিরিতে মৃত্যুবরণ করেছিল) এর কাছেও ছিল সেহেতু ধারণা করা হয় যে তিনি হয়তো সন ১৬০ হিজরি ১৭ই শাওয়াল তারিখে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি মদিনাতেও জিবন যাপন করেছিলেন অবশেষে তিনি সন ২৩৬ হিজরি রোজ বুধবার ইহলোক ত্যাগ করেন।

ইমাম রেযা (আ.)এর খাদেমতে আবা সালত হারভি (রহ.)

শিয়া ওলামারা তাঁকে ইমাম রেযা (আ.)এর সাহাবি বলে মনে করেন। যদি আহলে সুন্নাতের বিভিন্ন সূত্রে আবা সালত হারভি (রহ.)কে ইমাম রেযা (আ.)এর খাদেম বলে পরিচয় করানো হয়েছে। কিন্তু শিয়া আলেমগণ তাঁর নামের সাথে খাদেম শব্দটি ব্যাবহার করেননি।

আব্দুস সালাম বিন সালেহ ওরফে খাজা আবা সালত হারভি (রহ.) ইমাম রেযা (আ.) এর খেদমত করেছেন। তিনি ছিলেন সে যুগের একজন পরিচিত মোহাদ্দেস এবং ধর্মতত্ত্ববিদ। ইমাম রেযা (আ.) খোরাসানে আগমণের পরে তিনিও উক্ত এলাকায় আসেন এবং তাঁর খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। তিনি ছিলেন ইমাম রেয়া (আ.)এর “সিলসিলাতুল যাহাব” নামক হাদিসের একজন বিশ্বস্ত রেওয়ায়েত বর্ণনাকারি। এছাড়াও তিনি আব্বাসিয় খলিফা মানুম কর্তৃক ইমাম রেযা (আ.)কে বিষ দান এবং তাঁর শাহাদতের ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন।

ইমাম তাক্বি (আ.)এর খেদমতে আবা সালত হারভি (রহ.)

যদিও ইমাম তাক্বি (আ.) মদিনাতে ছিলেন কিন্তু তারপেরও যে তাঁর সাথে আবা সালত (রহ.) এর দুইবার সাক্ষাত হয়েছিল এতে কোন সন্দেহ নেই। প্রথমবার সাক্ষাত হয় যখন ইমাম রেযা (আ.)এর শাহাদতের সময় তিনি মদিনা থেকে তুস নগরিতে আসেন জানাযার নামাজ পড়ান এবং দ্বিতিয়বার যখন ইমাম তাক্বি (আ.) কারামতের মাধ্যেমে তাঁকে মামুনের কারাগার থেকে মুক্ত করেন।

পন্ডিত এবং মোহাদ্দেস রূপে আবা সালত (রহ.)

তিনি জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে ইরাক, হেজাজ এবং ইয়েমেনের উদ্দেশ্যে সফর করেছিলেন। তিনি হাম্মাদ বিন যায়দ, আতা বিন মুসলিম, মোয়তাযা বিন সুলাইমান, আব্দুর রাজ্জাক সানআনি, মালিক বিন আনাস, ফুযায়িল বিন আয়ায, আব্দুল্লাহ বিন মোবারকের কাছ থেকে হাদিস মুখস্ত এবং সংগ্রহ করেন। আবা সালত বাগদাদে থাকা কালিন একাধিক হাদিস বর্ণনা করেছেন। যখন তিনি খলিফা মামুনের জিবদ্দশায় মার্ভে যুদ্ধ করতে যায়। তখন থেকেই দরবারে তিনি যাতায়াত শুরু করেন আর এভাবেই তিনি মামুনের প্রিয়পাত্র হয়। তিনি মুরজেয়া, জাহমিয়া, যেন্দিক এবং কাদরিয়া নামক বিভিন্ন ভ্রান্ত মতবাদকে দমনের প্রচেষ্টা চালান এবং খলিফার দরবারে তাদের সাথে তর্কবিতর্কের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

রেজালশাস্ত্রবিদদের দৃষ্টিতে আবা সালত হারভি (রহ.)

শিয়া রেজালশাস্ত্রবিদ এবং আহলে সুন্নাতের আলেমদের দৃষ্টিতে আবা সালত হারভি (রহ.) ছিলেন একজন বিশ্বস্ত রেওয়ায়েত বর্ণনাকারি। ইয়াহিয়া বিন মুয়িন, আজালি বিন শাহিন এবং নাজ্জাশির ন্যায় শিয়া রেজালশাস্ত্রবিদগণ তাঁকে বিশ্বস্ত বলে মনে করেন। আবা সালত হারভি (রহ.) অসংখ্য হাদিস ইমাম রেযা (আ.) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং শেইখ সাদুক্ব (রহ.) তাঁর ইয়ুনে আখবারে ইমাম রেযা, আমালি এবং খেসাল নামক গ্রন্থে উক্ত হাদিসগুলো বর্ণনা করেছেন। আবা সালত হারভি (রহ.) থেকে যারা রেওয়ায়েত বর্ণনা করেছেন তারা হচ্ছেন যথাক্রমে: মোহাম্মাদ বিন আবা সালত, আহমাদ বিন ইয়াহিয়া বালাযুরি, আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আবি খাসিমা, আবু বকর বিন আবদ দুনিয়া, ইয়াকুব বিন সুফিয়ান বাসভি, সাহল বিন যান্জালা, আহদাম বিন মানসুর রামাদি, আব্বাস বিন মোহাম্মাদ দৌরি।

আবা সালত হারভি (রহ.)এর মাযহাব

যদিও ইতিহাসে আবা সালত (রহ.) কে ইমাম রেযা (আ.)এর সঙ্গি হিসেবে পরিচয় করানো হয়েছে কিন্তু তাঁর মাযহাব সম্পর্কে মত পার্থক্য রয়েছে। শেইখ তুসি তাঁকে বিশ্বস্ত বলে মনে করেন কিন্তু আহলে সুন্নাত মতাদর্শের অনুসারিরা তাঁকে বিশ্বস্ত বলে মনে করেন না। আবা সালত হারভি (রহ.)এর স্মৃতিচিহ্ন: আবা সালত হারভি (রহ.) ইমাম রেযা (আ.)এর শাহাদতকে কেন্দ্রে একটি গ্রন্থ রচনা করেন। উক্ত গ্রন্থটির বিভন্ন অংশকে নাজ্জাশি এবং ইবনে বাবে ওয়েই তার গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। ইমাম রেযা (আ.)এর শাহাদতের ঘটনাটি অধিকাংশ লেখকগণ আবা সালত হারভি (রহ.)এর বরাত দিয়ে বর্ণনা করেছেন। আবা সালত (রহ.)এর উক্ত গ্রন্থটি ৫ অথবা ৬ শতাব্দি পর্যন্ত অবশিষ্ট ছিল। আবা সালত হারভি (রহ.)এর কবর খাজা আবা সালত হারভি (রহ.)এর কবরটি বর্তমানে মাশহাদ শহরের পূর্বদিকে থেকে ১০ কি:মি: দূরে ফারিমান নামক স্থানে অবস্থিত। হিমম্মাতে কারবালায়ি মোহাম্মাদ বিন আলি দরবেশ তাঁর কবরটি পূণঃনির্মাণ করেন।

তথ্যসূত্র:

১- তারিখে বাগদাদ, খন্ড ১১, পৃষ্ঠা ২৬, ৪৬, ৪৭, ৫১।

২- আল ইনসাব, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ৬৩৭- ৬৩৮।

৩- তাহযিবুল কামাল ফি আসমাইর রেজাল, খন্ড ১১, পৃষ্ঠা ৪৬০।

৪- রেজালে নাজ্জাশি, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৬০- ৬১।

৫- আলামুন নোবালা, খন্ড ১১, পৃষ্ঠা ৪৪৮।

৬- তাহযিবুত তাহযিব, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৫৭, খন্ড ৬ পৃষ্ঠা ৩১৯।

৭- রেজালে তুসি, পৃষ্ঠা ৩৮০।

৮- মানাকেবে আলে আবি তালিব, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩৯৬।

৯- রেজালে ইবনে দাউদ হিন্দ, পৃষ্ঠা ২২৪।

১০- খোলাসাতুল আক্বওয়াল ফি মারেফাতির রেজাল, পৃষ্ঠা ২০৯।

১১- হাদিক্বাতুশ শিয়া, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৮৪০।

১২- উয়ুনু আখবারির রেযা, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১৮৩, ২৪২, ২৪৫।

১৩- আল জারহা ওয়া তায়দিল, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৮।

১৪- আল কামেলু যোআফির রেজাল, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ১৯৬৮।

১৫- তারিখুস সেক্বাত, পৃষ্ঠা ৩০৩।

১৬- তারিখে আসমাউস সেক্বাত, পৃষ্ঠা ২২৭।

১৭- আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া, খন্ড ৭, পৃষ্ঠা ৩৫৯।

১৮- তারিখে দামেস্ক, খন্ড ৪২, পৃষ্ঠা ৩৮২।

اشتراک گذاری: 

নতুন কমেন্ট যুক্ত করুন

Fill in the blank.