লাইলাতুল বরাত-এর আমল সমূহ

হিজরী চন্দ্র বর্ষের অষ্টম মাস হলো ‘শাবান’। এই মাসটি বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলতপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই মাসে সবচেয়ে বেশী মুস্তাহাব নামাজ, ইবাদত এবং রোজা রাখতেন। এই শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত অর্থাৎ ১৫ তারিখের রাতকে ‘শবে বরাত’ বলা হয়। শবে বরাত কথাটি ফার্

লাইলাতুল বরাত-এর আমল সমূহ

এস, ,

হিজরী চন্দ্র বর্ষের অষ্টম মাস হলো ‘শাবান’। এই মাসটি বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলতপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই মাসে সবচেয়ে বেশী মুস্তাহাব নামাজ, ইবাদত এবং রোজা রাখতেন। এই শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত অর্থাৎ ১৫ তারিখের রাতকে ‘শবে বরাত’ বলা হয়। শবে বরাত কথাটি ফার্সী ভাষা থেকে এসেছে। শব মানে রাত বা রজনী আর বরাত অর্থ ভাগ্য। সুতরাং শবে বরাত অর্থ হলো ভাগ্য নির্ধারণের রাত। ‘শবে বরাত’-এর আরবী হলো ‘লাইলাতুল বারাত’, তথা ভাগ্য নির্ধারণের রজনী। হাদীস শরীফে যাকে ‘নিসফ শাবান’ বা শাবান মাসের মধ্য দিবসের রজনী বলা হয়েছে। ভারতীয় উপমহাদেশ, ইরানসহ পৃথিবীর অনেক দেশের ফার্সী, উর্দু, বাংলা, হিন্দি সহ নানা ভাষাভাষী মানুষের কাছে এটি ‘শবে বরাত’ নামেই সমধিক পরিচিত। উক্ত তারিখে বেশ কিছু আমল বর্ণিত হয়েছে যেমন: এই তারিখে রাত্রি জাগরণের জন্য তাকিদ করা হয়েছে। 
ইমাম জাফর সাদিক্ব (আ.) হতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: ইমাম বাকের (আ.) কে উক্ত রাত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তরে বলেন: ১৫ই শাবানের রাত হচ্ছে শবে ক্বদরের পরে সবচেয়ে ফযিলতপূর্ণ রাত। মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর অপার দয়ায় তাঁর বান্দাদেরকে দান করেন এবং তাদেরকে ক্ষমা করেন সুতরাং তোমরা উক্ত রাতে এমনভাবে আল্লাহর কাছে দোয়া চাও যেন তিনি তোমাদের দোয়া কবুল করেন। 
কেউ যদি এ রাতে অবৈধ কিছু না চায় তাহলে আল্লাহ তার দোয়াসমূহকে কবুল করেন। 

এ রাত হচ্ছে এমন এক রাত যা আল্লাহ তার বান্দাদেরকে দান করেছেন। উক্ত রাতটি শবে ক্বদরের ন্যায় ফযিলতপূর্ণ একটি রাত সুতরাং তোমরা এ রাতে আল্লাহর ইবাদত কর এবং নিজেদের জন্য দোয়া চাও। উক্ত রাতে বিশেষ কিছু আমল বর্ণিত হয়েছে ।
১- গোসল করা:

উক্ত রাতে গোসল করলে আল্লাহ বান্দাদের গুনাহকে ক্ষমা করে দেন। 

২- রাত্রি জাগরণ করা:

উক্ত রাতে নামাজ, দোয়া এবং এসতেগফারের মাধ্যমে অতিবাহিত করা উত্তম। কেননা ইমাম জয়নুল আবেদীন (আ.) বলেছেন: যে ব্যাক্তি এ রাতকে ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করবে তাহলে কেয়ামতে যেদিন সকলের অন্তর মারা যাবে সেদিনও অন্তর চীরন্জিবী থাকবে। 
৩- ইমাম হুসাইন (আ.) এর যিয়ারত পাঠ করা:

যে ব্যাক্তি এ রাতে যিয়ারত- এ ইমাম হুসাইন (আ.)পাঠ করবে আল্লাহ তায়ালা তার গুনাহকে মাফ করে দিবেন। 
৪- দোয়া পাঠ করা:

নিন্মোক্ত দোয়াটি পাঠ করলে ইমাম মাহদী (আ.) এর যিয়ারতের সমপরিমাণ সওয়াব পাওয়া যাবে: 

اَللّهُمَّ بِحَقِّ لَیلَتِنا [هذِهِ] وَمَوْلُودِها وَحُجَّتِک وَمَوْعُودِهَا الَّتى قَرَنْتَ اِلى فَضْلِها فَضْلاً فَتَمَّتْ کلِمَتُک صِدْقاً وَعَدْلاً لا مُبَدِّلَ لِکلِماتِک وَلا مُعَقِّبَ لاِیاتِک نُورُک الْمُتَاَلِّقُ وَضِیاَّؤُک الْمُشْرِقُ وَالْعَلَمُ النُّورُ فى طَخْیاَّءِ الدَّیجُورِ الْغائِبُ الْمَسْتُورُ جَلَّ مَوْلِدُهُ وَکرُمَ مَحْتِدُهُ وَالْمَلاَّئِکةُ شُهَّدُهُ وَاللّهُ ن اصِرُهُ وَمُؤَیدُهُ اِذا آنَ میعادُهُ وَالْمَلاَّئِکةُ اَمْد ادُهُ سَیفُ اللّهِ الَّذى لا ینْبوُ وَنُورُهُ الَّذى لا یخْبوُ وَ ذوُالْحِلْمِ الَّذى لا یصْبوُا مَدارُ الَّدهْرِ وَنَوامیسُ الْعَصْرِ وَوُلاةُ الاْمْرِ وَالْمُنَزَّلُ عَلَیهِمْ ما یتَنَزَّلُ فى لَیلَةِ الْقَدْرِ وَاَصْحابُ الْحَشْرِ وَالنَّشْرِ تَراجِمَةُ وَحْیهِ وَوُلاةُ اَمْرِهِ وَنَهْیهِ اَللّهُمَّ فَصَلِّ عَلى خاتِمِهْم وَقآئِمِهِمُ الْمَسْتُورِ عَنْ عَوالِمِهِمْ اَللّهُمَّ وَاَدْرِک بِنا اءَیامَهُ وَظُهُورَهُ وَقِیامَهُ وَاجْعَلْنا مِنْ اَنْصارِهِ وَاقْرِنْ ثارَنا بِثارِهِ وَاکتُبْنا فى اَعْوانِهِ وَخُلَصاَّئِهِ وَاَحْینا فى دَوْلَتِهِ ناعِمینَ وَبِصُحْبَتِهِ غانِمینَ وَبِحَقِّهِ قآئِمینَ وَمِنَ السُّوَّءِ سالِمینَ یا اَرْحَمَ الرّاحِمینَ وَالْحَمْدُلِلّهِ رَبِّ الْعالَمینَ وَصَلَواتُهُ عَلى سَیدِنا مُحَمَّدٍ خاتَمِ النَّبِیینَ وَالْمُرْسَلینَ وَعَلى اَهْلِ بَیتِهِ الصّادِقینَ وَعِتْرَتِهَ النّاطِقینَ وَالْعَنْ جَمیعَ الظّالِمینَ واحْکمْ بَینَنا وَبَینَهُمْ یا اَحْکمَ الْحاکمینَ 

ইসমাইল বিন ফাযল হাশেমী বলেন: ইমাম সাদিক্ব (আ.) আমাকে উক্ত দোয়াটির শিক্ষা দেন এবং আমিও ১৫ই শাবানে উক্ত দোয়াটি পাঠ করি। 

اَللّهُمَّ اَنْتَ الْحَىُّ الْقَیومُ الْعَلِىُّ الْعَظیمُ الْخالِقُ الرّازِقُ الْمُحْیى الْمُمیتُ الْبَدىَّءُ الْبَدیعُ لَک الْجَلالُ وَلَک الْفَضْلُ وَلَک الْحَمْدُ وَلَک الْمَنُّ وَلَک الْجُودُ وَلَک الْکرَمُ وَلَک الاْمْرُ وَلَک الْمَجْدُ وَلَک الْشُّکرُ وَحْدَک لا شَریک لَک یا واحِدُ یا اَحَدُ یا صَمَدُ یا مَنْ لَمْ یلِدْ وَلَمْ یولَدْ وَلَمْ یکنْ لَهُ کفُواً اَحَدٌ صَلِّ عَلى مُحَمَّدٍ وَآلِ مُحَمَّدٍ وَاْغفِرْلى وَارْحَمْنى وَاکفِنى ما اَهَمَّنى وَاقْضِ دَینى وَوَسِّعْ عَلَىَّ فى رِزْقى فَاِنَّک فى هذِهِ اللَّیلَةِ کلَّ اَمْرٍ حَکیمٍ تَفْرُقُ وَمَنْ تَشاَّءُ مِنْ خَلْقِک تَرْزُقُ فَارْزُقْنى وَاَنْتَ خَیرُ الرّازِقینَ فَاِنَّک قُلْتَ وَاَنْتَ خَیرُ الْقاَّئِلینَ النّاطِقینَ وَاسْئَلوُا اللّهَ مِنْ فَضْلِهِ فَمِنْ فَضْلِک اَسْئَلُ وَاِیاک قَصَدْتُ وَابْنِ نَبِیک اعْتَمَدْتُ وَلَک رَجَوْتُ فَارْحَمْنى یا اَرْحَمَ الرّاحِمینَ 

হজরত মোহাম্মাদ (সা.) উক্ত রাতে নিন্মোক্ত দোয়াটি পাঠ করতেন:

اَللّهُمَّ اقْسِمْ لَنا مِنْ خَشْیتِک ما یحُولُ بَینَنا وَبَینَ مَعْصِیتِک وَمِنْ طاعَتِک ما تُبَلِّغُنا بِهِ رِضْوانَک وَمِنَ الْیقینِ ما یهُونُ عَلَینا بِهِ مُصیباتُ الدُّنْیا اَللّهُمَّ اَمْتِعْنا بِاَسْماعِنا وَاَبْصارِنا وَقُوَّتِنا ما اَحْییتَنا وَاجْعَلْهُ الْوارِثَ مِنّا وَاجْعَلْ ثارَنا عَلى مَنْ ظَلَمَنا وَانْصُرنا عَلى مَنْ عادانا وَلا تَجْعَلْ مُصیبَتَنا فى دینِنا وَلا تَجْعَلِ الدُّنْیا اَکبَرَ هَمِّنا وَلا مَبْلَغَ عِلْمِنا وَلا تُسَلِّطْ عَلَینا مَنْ لا یرْحَمُنا بِرَحْمَتِک یا اَرْحَمَ الرّاحِمینَ 

৫- ইমাম জয়নুল আবেদীন (আ.)  সস্পকির্ত বিশেষ সালাওয়াত পাঠ করা:
শাবান মাসে প্রত্যেকদিন যাওয়ালের সময় এবং বিশেষ করে ১৫ই শাবানের রাতে উক্ত সালাওয়াতটি পাঠ করার অনেক ফযিলত রয়েছে। 

للَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ شَجَرَةِ النُّبُوَّةِ وَ مَوْضِعِ الرِّسَالَةِ وَ مُخْتَلَفِ الْمَلائِكَةِ وَ مَعْدِنِ الْعِلْمِ وَ أَهْلِ بَيْتِ الْوَحْيِ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ الْفُلْكِ الْجَارِيَةِ فِي اللُّجَجِ الْغَامِرَةِ يَأْمَنُ مَنْ رَكِبَهَا وَ يَغْرَقُ مَنْ تَرَكَهَا الْمُتَقَدِّمُ لَهُمْ مَارِقٌ وَ الْمُتَأَخِّرُ عَنْهُمْ زَاهِقٌ وَ اللازِمُ لَهُمْ لاحِقٌ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ الْكَهْفِ الْحَصِينِ وَ غِيَاثِ الْمُضْطَرِّ الْمُسْتَكِينِ وَ مَلْجَإِ الْهَارِبِينَ وَ عِصْمَةِ الْمُعْتَصِمِينَ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ صَلاةً كَثِيرَةً تَكُونُ لَهُمْ رِضًى وَ لِحَقِّ مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ أَدَاءً وَ قَضَاءً بِحَوْلٍ مِنْكَ وَ قُوَّةٍ يَا رَبَّ الْعَالَمِينَ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ الطَّيِّبِينَ الْأَبْرَارِ الْأَخْيَارِ الَّذِينَ أَوْجَبْتَ حُقُوقَهُمْ وَ فَرَضْتَ طَاعَتَهُمْ وَ وِلايَتَهُمْ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ وَ اعْمُرْ قَلْبِي بِطَاعَتِكَ وَ لا تُخْزِنِي بِمَعْصِيَتِكَ وَ ارْزُقْنِي مُوَاسَاةَ مَنْ قَتَّرْتَ عَلَيْهِ مِنْ رِزْقِكَ، ،بِمَا وَسَّعْتَ عَلَيَّ مِنْ فَضْلِكَ وَ نَشَرْتَ عَلَيَّ مِنْ عَدْلِكَ وَ أَحْيَيْتَنِي تَحْتَ ظِلِّكَ وَ هَذَا شَهْرُ نَبِيِّكَ سَيِّدِ رُسُلِكَ شَعْبَانُ الَّذِي حَفَفْتَهُ مِنْكَ بِالرَّحْمَةِ وَ الرِّضْوَانِ الَّذِي كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَ آلِهِ وَ [سَلَّمَ‏] يَدْأَبُ فِي صِيَامِهِ وَ قِيَامِهِ فِي لَيَالِيهِ وَ أَيَّامِهِ بُخُوعا لَكَ فِي إِكْرَامِهِ وَ إِعْظَامِهِ إِلَى مَحَلِّ حِمَامِهِ اللَّهُمَّ فَأَعِنَّا عَلَى الاسْتِنَانِ بِسُنَّتِهِ فِيهِ وَ نَيْلِ الشَّفَاعَةِ لَدَيْهِ اللَّهُمَّ وَ اجْعَلْهُ لِي شَفِيعا مُشَفَّعا وَ طَرِيقا إِلَيْكَ مَهْيَعا وَ اجْعَلْنِي لَهُ مُتَّبِعا حَتَّى أَلْقَاكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَنِّي رَاضِيا وَ عَنْ ذُنُوبِي غَاضِيا قَدْ أَوْجَبْتَ لِي مِنْكَ الرَّحْمَةَ وَ الرِّضْوَانَ وَ أَنْزَلْتَنِي دَارَ الْقَرَارِ وَ مَحَلَّ الْأَخْيَارِ

৬- তসবিহ পাঠ করা:
সুবহান আল্লাহ - ১০০ বার।
আল হামদু লিল্লাহ- ১০০ বার। 
আল্লাহু আকবার – ১০০ বার। 
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ – ১০০ বার। 
উক্ত তসবীহ পাঠ করলে আল্লাহ তার পূর্বে কৃত গুনাহসমূহকে মাফ করে দিবেন এবং তার দোয়াকে কবুল করবেন। 
৭- নামাজ: 

আবু ইয়াহিয়া ইমাম জাফর সাদিক্ব (আ.) কে জিজ্ঞাসা করে এ রাতের সবচেয়ে উত্তম আমল কি? তিনি বলেন এশার নামাজের পরে দুই রাকাত নামাজ পড়বে। প্রথম রাকাতে সূরা ফাাতহার পরে সূরা কাফেরুন এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ফাতিহার পরে সূরা ইখলাস পাঠ করার মাধ্যমে নামাজকে শেষ করবে। অতঃপর ৩৩ বার সুবহান আল্লাহ, ৩৩ বার আল হামদুল্লিাহ, ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পাঠ করতে হবে। অতঃপর নিন্মোক্ত দোয়াটি পাঠ করতে হবে:

یا مَنْ اِلَیهِ مَلْجَاءُ الْعِبادِ فِى الْمُهِمّاتِ وَاِلَیهِ یفْزَعُ الْخَلْقُ فىِ الْمُلِمّاتِ یا عالِمَ الْجَهْرِ وَالْخَفِیاتِ وَ یا مَنْ لا تَخْفى عَلَیهِ خَواطِرُ الاْوْهامِ وَتَصَرُّفُ الْخَطَراتِ یا رَبَّ الْخَلایقِ وَالْبَرِیاتِ یا مَنْ بِیدِهِ مَلَکوتُ الاْرَضینَ وَالسَّمواتِ اَنْتَ اللّهُ لا اِلهَ اِلاّ اَنْتَ اَمُتُّ اِلَیک بِلا اِلهَ اِلاّ اَنْتَ فَیا لا اِلهَ اِلاّ اَنْتَ اجْعَلْنى فى هِذِهِ اللَّیلَةِ مِمَّنْ نَظَرْتَ اِلَیهِ فَرَحِمْتَهُ وَسَمِعْتَ دُعاَّئَهُ فَاَجَبْتَهُ وَعَلِمْتَ اسْتِقالَتَهُ فَاَقَلْتَهُ وَتَجاوَزْتَ عَنْ سالِفِ خَطیئَتِهِ وَعَظیمِ جَریرَتِهِ فَقَدِ اسْتَجَرْتُ بِک مِنْ ذُنُوبى وَلَجَاْتُ اِلَیک فى سَتْرِ عُیوبى اَللّهُمَّ فَجُدْ عَلَىَّ بِکرَمِک وَفَضْلِک وَاحْطُطْ خَطایاىَ بِحِلْمِک وَعَفْوِک وَتَغَمَّدْنى فى هذِهِ اللَّیلَةِ بِسابِغِ کرامَتِک وَاجْعَلْنى فیها مِنْ اَوْلِیاَّئِک الَّذینَ اجْتَبَیتَهُمْ لِطاعَتِک وَاخْتَرْتَهُمْ لِعِبادَتِک وَجَعَلْتَهُمْ خالِصَتَک وَصِفْوَتَک اَللّهُمَّ اجْعَلْنى مِمَّنْ سَعَدَ جَدُّهُ وَتَوَفَّرَ مِنَ الْخَیراتِ حَظُّهُ وَاجْعَلْنى مِمَّنْ سَلِمَ فَنَعِمَ وَفازَ فَغَنِمَ وَاکفِنى شَرَّ ما اَسْلَفْتُ وَاعْصِمْنى مِنَ الاِْزدِیادِ فى مَعْصِیتک وَحَبِّبْ اِلَىَّ طاعَتَک وَما یقَرِّبُنى مِنْک وَیزْلِفُنى عِنْدَک سَیدى اِلَیک یلْجَاءُ الْهارِبُ وَمِنْک یلْتَمِسُ الطّالِبُ وَعَلى کرَمِک یعَوِّلُ الْمُسْتَقیلُ التّائِبُ اَدَّبْتَ عِبادَک بالتَّکرُّمِ وَاَنْتَ اَکرَمُ الاْکرَمینَ وَاَمَرْتَ بِالْعَفْوِ عِبادَک وَاَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحیمُ اَللّهُمَّ فَلا تَحْرِمْنى ما رَجَوْتُ مِنْ کرَمِک وَلا تُؤْیسْنى مِنْ سابِغِ نِعَمِک وَلا تُخَیبْنى مِنْ جَزیلِ قِسَمِک فى هذِهِ اللَّیلَةِ لاِهْلِ طاعَتِک وَاجْعَلْنى فى جُنَّةٍ مِنْ شِرارِ بَرِیتِک رَبِّ اِنْ لَمْ اَکنْ مِنْ اَهْلِ ذلِک فَاَنْتَ اَهْلُ الْکرَمِ وَالْعَفْوِ وَالْمَغْفِرَةِ وَجُدْ عَلَىَّ بِما اَنْتَ اَهْلُهُ لا بِما اَسْتَحِقُّهُ فَقَدْ حَسُنَ ظَنّى بِک وَتَحَقَّقَ رَجاَّئى لَک وَعَلِقَتْ نَفْسى بِکرَمِک فَاَنْتَ اَرْحَمُ الرّاحِمینَ وَاَکرَمُ الاْکرَمینَ اَللّهُمَّ وَاخْصُصْنى مِنْ کرَمِک بِجَزیلِ قِسَمِک وَاَعُوذُ بِعَفْوِک مِنْ عُقُوبَتِک وَاغْفِر لِىَ الَّذنْبَ الَّذى یحْبِسُ عَلَىَّ الْخُلُقَ وَیضَیقُ عَلىَّ الرِّزْقَ حَتّى اَقُومَ بِصالِحِ رِضاک وَاَنْعَمَ بِجَزیلِ عَطاَّئِک وَاَسْعَدَ بِسابِغِ نَعْماَّئِک فَقَدْ لُذْتُ بِحَرَمِک وَتَعَرَّضْتُ لِکرَمِک وَاسْتَعَذْتُ بِعَفْوِک مِنْ عُقُوبَتِک وَبِحِلْمِک مِنْ غَضَبِک فَجُدْ بِما سَئَلْتُک وَاَنِلْ مَا الْتَمَسْتُ مِنْک اَسْئَلُک بِک لا بِشَىءٍ هُوَ اَعْظَمُ مِنْک 

অতঃপর সিজদাতে যেয়ে:

২০ বার বলতে হবে  (یا رَبِّ)

৭ বার বলতে হবে  (یا اَللّهُ)

৭ বার বলতে হবে (لا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ اِلاّ بِاللّهِ)

৭ বার বলতে হবে ( ما شآءَ اللّهُ ده مرتبه لا قُوّةَ اِلاّ بِاللّهِ)

১০ বার দুরুদ শরীফ পাঠ করতে হবে।

অতঃপর দোয়া চাইতে হবে।  যদি বান্দাদের চাওয়া বৃষ্টির ফোটার ন্যায় ‘ হয় তাহলে আল্লাহ তা কবুল করবেন। 

এছাড়াও উক্ত রাতে আরেকটি নামাজ বর্ণিত হয়েছে। নামাজটি হচ্ছে ৪ রাকাত। প্রথম রাকাতে সুরা ফাতেহার পরে ১০০ বার সুরা ইখলাস। দ্বিতিয় রাকাতটিও অনুরূপ পদ্ধতিতে পড়তে হবে। নামাজান্তে নিন্মোক্ত দোয়াটি পাঠ করা উত্তম:

اللَّهُمَّ إِنِّی إِلَیْكَ فَقِیرٌ وَ مِنْ عَذَابِكَ خَائِفٌ مُسْتَجِیرٌ اللَّهُمَّ لا تُبَدِّلْ اسْمِی وَ لا تُغَیِّرْ جِسْمِی وَ لا تَجْهَدْ بَلائِی وَ لا تُشْمِتْ بِی أَعْدَائِی أَعُوذُ بِعَفْوِكَ مِنْ عِقَابِكَ وَ أَعُوذُ بِرَحْمَتِكَ مِنْ عَذَابِكَ وَ أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ وَ أَعُوذُ بِكَ مِنْكَ جَلَّ ثَنَاؤُكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَیْتَ عَلَى نَفْسِكَ وَ فَوْقَ مَا یَقُولُ الْقَائِلُونَ.
উক্ত রাতে নিন্মে উল্লেখিত যিকর সমূহপাঠ করলে আল্লাহ তার গুনাহসমূহকে ক্ষমা করে দিবেন এবং দোয়াসমূহকে কবুল করবেন।

- সুবহান আল্লাহ - ১০০ বার।
- আল হামদু লিল্লাহ- ১০০ বার। 
- আল্লাহু আকবার – ১০০ বার। 
- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ – ১০০ বার। 

উক্ত রাতে আরো একটি নামাজ বর্ণিত হয়েছে। নামাজটি ১০ রাকাত। প্রথম রাকাতে সুরা ফাতিহার পরে ১০ বার সুরা ইখলাস পাঠ করতে হবে। দ্বিতীয় রাকাতটিও অনুরূপ পদ্ধতিতে পড়তে হবে। নামাজান্তে সিজদাতে যেয়ে নিন্মোক্ত দোয়াটি পাঠ করতে হবে:

اَللّهُمَّ لَکَ سَجَدَ سَوادِی و خَیالی و بَیاضی یا عظیمَ کُلِّ عَظیمِ. اغْفِرْلِیَ الذَّنْبَ الْعَظیمُ فَإِنَّهُ لا یَغْفِرُهُ غَیْرُکَ یا عظیمَ.

বি:দ্র:উক্ত নামাজগুলোর জন্য নিয়ত করতে হবে: আমি ১৫ই শাবানের নামাজ পড়ছি কুরবাতান ইলাল্লাহ। 

৮- উক্ত রাতে নিন্মোক্ত দোয়াটি পাঠ করা উত্তম: 

اِلهى تَعَرَّضَ لَک فى هذَا اللَّیلِ الْمُتَعَرِّضُونَ وَقَصَدَک الْقاصِدُونَ وَاَمَّلَ فَضْلَک وَمَعْرُوفَک الطّالِبُونَ وَلَک فى هذَا اللّیلِ نَفَحاتٌ وَجَواَّئِزُ وَعَطایا وَمَواهِبُ تَمُنُّ بِها عَلى مَنْ تَشاَّءُ مِنْ عِبادِک وَتَمْنَعُها مَنْ لَمْ تَسْبِقْ لَهُ الْعِنایةُ مِنْک وَها اَنَا ذا عُبَیدُک الْفَقیرُ اِلَیک الْمُؤَمِّلُ فَضْلَک وَمَعْرُوفَک فَاِنْ کنْتَ یا مَولاىَ تَفَضَّلْتَ فى هذِهِ اللَّیلَةِ عَلى اَحَدٍ مِنْ خَلْقِک وَعُدْتَ عَلَیهِ بِعائِدَةٍ مِنْ عَطْفِک فَصَلِّ عَلى مُحَمَّدٍ وَآلِ مُحَمَّدٍ الطَّیبینَ الطّاهِرینَ الْخَیرینَ الْفاضِلینَ وَجُدْ عَلَىَّ بِطَولِک وَمَعْرُوفِک یا رَبَّ الْعالَمینَ وَصَلَّى اللّهُ عَلى مُحَمَّدٍخاتَمِ النَّبیینَ وَ الِهِ الطّاهِرینَ وَسَلَّمَ تَسْلیماً اِنَّ اللّهَ حَمیدٌ مَجیدٌ اَللّهُمَّ اِنّى اَدْعُوک کما اَمَرْتَ فَاسْتَجِبْ لى کما وَعَدْتَ اِنَّک لا تُخْلِفُ الْمیعادَ 

উক্ত দোয়াটি নামাজে শাফ এর পরে এবং সুবহে সাদিকের পূর্বে পাঠ করা উত্তম।
৯- সিজদা এবং দোয়া:
ইমাম সাদিক্ব (আ.) বলেছেন: ১৫ই শাবান রাতে রাসুল (সা.) সিজদাতে নিন্মোক্ত দোয়াটি পাঠ করতেন: 

سَجَدَ لَک سَوادى وَخَیالى وَآمَنَ بِک فؤ ادى هذِهِ یداىَ وَماجَنَیتُهُ عَلى نَفْسى یا عَظیمُ [عَظیماً] تُرْجى لِکلِّ عَظیمٍ اِغْفِرْ لِىَ الْعَظیمَ فَاِنَّهُ لایغْفِرُ الذَّنْبَ الْعَظیمَ اِلا الرَّبُّ الْعَظیمُ 

তারপর তিনি নিজের দুই গালকে মাটির সাথে লাগিয়ে বলতেন:

‏ عَفَّرْتُ وَجْهِي فِي التُّرَابِ وَ حُقَّ لِي أَنْ أَسْجُدَ لَكَ

১০- নামাজে জাফরে তৈয়ার (রা.) পাঠ করা।

হজরত জাফর তৈয়ার (রা.) সম্পর্কিত বিশেষ মুস্তাহাব নামাজটি ৪ রাকাত। প্রথম রাকাতে সুরা ফাতিহার পরে সুরা ‍যিলযাল পাঠ করতে হবে অতঃপর ১৫ বার তসবিহে আরবাআ পাঠ করতে হবে। দ্বিতীয় রাকাতে সুরা ফাতিহার পরে সুরা আদিয়াত পাঠ করতে হবে অতঃপর ১৫ বার তসবিহে আরবাআ পাঠ করতে হবে। অতঃপর নিন্মে উল্লেখিত পদ্ধতিতে নামাজটি পড়তে হবে:

রুকু অবস্থায় ১০ বার তসবিহে আরবাআ পাঠ করতে হবে।

রুকু থেকে দাড়িয়ে ১০ বার তসবিহে আরবাআ পাঠ করতে হবে।

প্রথম সিজদাতে ১০ বার তসবিহে আরবাআ পাঠ করতে হবে।

প্রথম সিজদা থেকে উঠে বসার পরে ১০ বার তসবিহে আরবাআ পাঠ করতে হবে।

দ্বিতীয় সিজদাতে ১০ বার তসবিহে আরবাআ পাঠ করতে হবে।

দ্বিতীয় সিজদা থেকে উঠে বসার পরে ১০ বার তসবিহে আরবাআ পাঠ করতে হবে।

তসবিহে আরবাআ: (سُبْحَانَ اللَّهِ وَ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَ اللَّهُ أَکبَر)

পরবর্তি দ্বিতীয় রাকাতে সুরা ফাতিহার পরে সুরা ফাতহ অতঃপর ১৫ বার তসবিহে আরবাআ পাঠ করতে হবে। দ্বিতীয় রাকাতে সুরা ফাতিহার পরে সুরা ইখলাস পাঠ করতে হবে। অতঃপর উল্লেখিত পদ্ধতিতে রুকু, সিজদা পাঠের মাধ্যমে নামাজকে শেষ করতে হবে।
১১- দোয়ায়ে কুমাইল পাঠ করা:

ইমাম আলী (আ.) হতে বর্ণিত দোয়া কুমাইল পাঠ করার অনেক ফযিলত রয়েছে। ইমাম আলী (আ.) উক্ত দোয়াটি সিজদাতে পাঠ করেতেন। 
ইমাম আলী (আ.) বলেন: এই রাতে সকল বান্দার ভাগ্য নির্ধারণ করা হয়। এ রাতে হজরত খিযির (আ.) এর দোয়া পাঠ করলে তার দোয়া কবুল হয়। (ইকবালুল আমাল, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৮৮৫- ৯০২,আল মোরাকেবাত, পৃষ্ঠা ১৯২)

১২- ইমাম মাহদ (আ.) এর সমিপে “আরিজা”:

بسْمِ اللَّهِ الرَّحْمنِ الرَّحيمِ

كَتَبْتُ يا مَوْلايَ صَلَواتُ اللَّهِ عَلَيْكَ مُسْتَغيثاً، وَشَكَوْتُ ما نَزَلَ بي مُسْتَجيراً بِاللَّهِ‏عَزَّوَجَلَّ، ثُمَّ بِكَ مِنْ أَمْرٍ قَدْ دَهَمَني، وَأَشْغَلَ قَلْبي، وَأَطالَ فِكْري، وَسَلَبَني بَعْضَ‏لُبّي، وَغَيَّرَ خَطيرَ نِعْمَةِ اللَّهِ عِنْدي، أَسْلَمَني عِنْدَ تَخَيُّلِ وُرُودِهِ الْخَليلُ، وَتَبَرَّأَ مِنّي‏عِنْدَ تَرائي إِقْبالِهِ إِلَيَّ الْحَميمُ، وَعَجَزَتْ عَنْ دِفاعِهِ حيلَتي، وَخانَني في تَحَمُّلِهِ‏صَبْري وَقُوَّتي. فَلَجَأْتُ فيهِ إِلَيْكَ، وَتَوَكَّلْتُ فِي الْمَسْأَلَةِ للَّهِ جَلَّ ثَناؤُهُ عَلَيْهِ وَعَلَيْكَ في دِفاعِهِ‏عَنّي، عِلْماً بِمَكانِكَ مِنَ اللَّهِ رَبِّ الْعالَمينَ، وَلِيِّ التَّدْبيرِ وَمالِكِ الْاُمُورِ، وَاثِقاً بِكَ فِي‏الْمُسارَعَةِ فِي الشَّفاعَةِ إِلَيْهِ جَلَّ ثَناؤُهُ في أَمْري، مُتَيَقِّناً لِإِجابَتِهِ تَبارَكَ وَتَعالى إِيَّاكَ‏ بِإِعْطائي سُؤْلي .وَأَنْتَ يا مَوْلايَ جَديرٌ بِتَحْقيقِ ظَنّي وَتَصْديقِ أَمَلي فيكَ في أَمْرِ كَذا وَكَذا

নিন্মে নিচের চাহিদাগুলোকে লিখতে হবে:

…………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………………................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................

فيما لا طاقَةَ لي بِحَمْلِهِ، وَلا صَبْرَ لي عَلَيْهِ، وَإِنْ كُنْتُ‏مُسْتَحِقّاً لَهُ وَلِأَضْعافِهِ بِقَبيحِ أَفْعالي وَتَفْريطي فِي الْواجِباتِ الَّتي للَّهِ عَزَّوَجَلَّ،فَأَغِثْني يا مَوْلايَ صَلَواتُ اللَّهِ عَلَيْكَ عِنْدَ اللَّهْفِ، وَقَدِّمِ الْمَسْأَلَةَ للَّهِ عَزَّوَجَلَّ في‏أَمْري، قَبْلَ حُلُولِ التَّلَفِ، وَشَماتَةِ الْأَعْداءِ، فَبِكَ بُسِطَتِ النِّعْمَةُ عَلَيَّ. وَاسْأَلِ اللَّهَ جَلَّ جَلالُهُ لي نَصْراً عَزيزاً، وَفَتْحاً قَريباً، فيهِ بُلُوغُ الْآمالِ، وَخَيْرُالْمَبادي، وَخَواتيمُ الْأَعْمالِ، وَالْأَمْنُ مِنَ الْمَخاوِفِ كُلِّها في كُلِّ حالٍ، إِنَّهُ جَلَّ ثَناؤُهُ‏لِما يَشاءُ فَعَّالٌ، وَهُوَ حَسْبي وَنِعْمَ الْوَكيلُ فِي الْمَبْدَءِ وَالْمَآلِ.

উক্ত আরিজাটিকে কোন প্রবাহিত পানি, কুয়া অথবা কোন স্থায়ি পানিতে ডুবিয়ে দিতে হবে। আরিজাটি ডুবানোর পূর্বে বলতে হবে:

يا حسين بن روح، سَلامٌ عَلَيْكَ، أَشْهَدُ أَنَّ وَفاتَكَ في سَبيلِ اللَّهِ، وَأَنَّكَ حَيٌّ عِنْدَ اللَّهِ‏مَرْزُوقٌ، وَقَدْ خاطَبْتُكَ في حَياتِكَ الَّتي لَكَ عِنْدَاللَّهِ جَلَّ وَعَزَّ وَهذِهِ رُقْعَتي وَحاجَتي‏إِلى مَوْلانا عَلَيْهِ السَّلامُ، فَسَلِّمْها إِلَيْهِ، فَأَنْتَ الثِّقَةُ الْأَمينُ.