রজব মাসে রোজা রাখার ফযিলত সমূহ

রজব মাসে রোজা রাখার ফযিলত সমূহ

রজব মাসে রোজা রাখার ফযিলত সমূহ

রজব, রোজা, ফযিলত, রজব মাসপবিত্র রজব, রজব মাসের ফযিলত, রজব মাসের আমল, রজব মাস, রজবের বোজা, রজবের নামাজ,

এস, এ, এ

বিশেষ গুরুত্ববহ পবিত্র মাস ‘রজব’। এ মাসের কথা বহু হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘রজব মাস হচ্ছে মহান আল্লাহর কাছে অত্যন্ত গুরুত্ববহ একটি মাস, ফজিলতের দিক থেকে রমজানের পর অন্য কোনো মাস এর সমপর্যায়ের নয়। আর তাই রজব মাসে রোজা রাখার ফযিলত সম্পর্কে একাধিক রেওয়ায়েত বর্ণিত হয়েছে। রেওয়ায়েত সমূহ হচ্ছে নিন্মরপ:

১- রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে: যদি কোন ব্যাক্তি রজব মাসে দুইটি রোজা রাখে। তাহলে মহান আল্লাহর নিকটে তার মর্যাদা এতই বৃদ্ধি পাবে যে, দুনিয়া এবং আকাশবাসিদের মধ্যে কেউ তার গুণাগুণ বর্ণনা করতে পারবে না। তার মর্যাদা এমন দশ জন মানুষের গুণাগুণের সাথে তুলনা করা হবে যারা ছিলেন সত্যবাদি, দীর্ঘায়ুর অধিকারি। কেয়ামতের দিন শেফায়াতকারিদের ন্যায় সেও শেফায়াত করবে। তাকে তাঁদের সাথে তাকে উত্তোলিত করা হবে এবং সে বেহেস্তে তাদের সাথে বন্ধুরূপে অবস্থান করবে। (ইকবালুল আমাল, পৃষ্ঠা ১৩৮)

২- যদি কেউ রজব মাসে তিনদিন রোজা রাখে তাহলে আল্লাহ তার এবং জাহান্নামের মাঝে পরিখা স্বরূপ প্রতিবন্ধক সৃষ্টি করে দিবেন যে, যার দৈর্ঘ হবে ৮০ বছর এবং ইফতারির সময় আল্লাহ তাকে উদ্দেশ্যে করে বলবেন: তোমার প্রাপ্য অধিকার আমি তোমাকে দান করব এবং তোমাকে ভালবাসা হচ্ছে আমার দ্বায়িত্ব, হে আমার ফেরেস্তোরা! আমি তোমাদেরকে সাক্ষি রাখছি আমি তার সকল গুনাহ সমূহকে ক্ষমা করে দিলাম।(ইকবালুল আমাল, পৃষ্ঠা ১৫০)

৩- রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে: যদি কোন ব্যাক্তি রজব মাসে চার দিন রোজা রাখে তাহলে সে পাগলামি, শ্বেতরোগ এবং দাজ্জালের মতো ফেতনা বা বিপদ থেকে মুক্ত থাকবে। অনুরূপভাবে সে কবরের আজাব থেকেও সে মুক্ত থাকবে। তার আমলনামাকে ইবাদতকারিদের ন্যায় তার ডান হাতে দান করা হবে। (ইকবালুল আমাল, পৃষ্ঠা ১৫০)

৪- রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে: যদি কোন কোন ব্যাক্তি রজব মাসে পাঁচটি দিন রোজা রাখে তাহলে কেয়ামতের দিন আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকবে এবং যখন তাকে উত্তোলন করা হবে তখন তার চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় উজ্জল হবে। তাকে অগুণিত সওয়াব দান করা হবে এবং কোন হিসাব কিতাব ছাড়াই সে জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাকে বলা হবে তুমি যা চাও তোমার আ্ল্লাহর কাছে তা চাইতে পার। (ইকবালুল আমাল, পৃষ্ঠা ১৫০)

৫- রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে: যদি কোন কোন ব্যাক্তি রজব মাসে ছয় দিন রোজা রাখে তাহলে কেয়ামতে যখন তাকে কবর থেকে উত্তোলন করা হবে তখন তার চেহারা থেকে সূর্যের আলোর চেয়ে অনেকগুণ বেশি নূর বিচ্ছুরিত হবে। এছাড়াও তাকে এমন নূর দান করা হবে যা দ্বারা কেয়ামতের দিন অবস্থানকারিরাও তা থেকে উপকৃত হবে। তাকে এমনভাবে উত্তোলন করা হবে যেন সে পুল সিরাতের উপর থেকে সহজেই অতিক্রম করতে পারে এবং পিতা মাতার ক্রোধের আযাবে পতিত না হয়। (ইকাবালুল আমাল, পৃষ্ঠা ১৫০)

৬- রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে: যদি কোন কোন ব্যাক্তি রজব মাসে সাত দিন রোজা রাখে তাহলে তার জন্য জাহান্নারে সাতটি দরজাকে বন্ধ করে দেয়া হবে এবং আল্লাহ তার শরিরের জন্য জাহান্নামের আগুনকে হারাম করে দিবেন। (ইকবালুল আমাল, পৃষ্ঠা ১৫১)

৭- ইমাম মোহাম্মাদ বাকের (আ.)থেকে বর্ণিত হয়েছে: যে ব্যাক্তি উক্ত মাসে আট দিন রোজা রাখে তাহলে তার জন্য জান্নাতের অষ্টম দরজাটি উন্মোচন করা হবে এবং তাকে এই বলে আহবান জানিয়ে বলা হবে যে, তোমার বেহেস্তের যে দ্বার দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পার। (ইকবালুল আমাল, ১৫১)

৮- রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে: যদি কোন ব্যাক্তি রজব মাসে নয় দিন রোজা রাখে তাহলে যখন তাকে কবর থেকে উত্তোলন করে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে তখন তার মুখ থেকে “লা ইলাহা ইল্লাল্লা” শব্দটি উচ্চারিত হবে। এমনকি যখন তাকে কবর থেকে উত্তোলন করা হবে তখন তার থেকে এমনভাবে নূর উদ্ভাসিত হবে যে উক্ত নূর থেকে কেয়ামতের দিন লোকজন উপকৃত হবে এবং তারা একে অপরকে বলাবলি করবে যে এটা হয়তো আল্লাহর নির্বাচিত কোন নবীর ‍নূর। এবং সে বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (ইকাবলুল আমাল, পৃষ্ঠা ১৫১)

৯-  ইমাম বাকের (আ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে: যে ব্যাক্তি উক্ত মাসে দশ দিন রোজা রাখবে তাহলে আল্লাহ তার সকল আশাকে পূর্ণ করবেন। (ইকবালুল আমাল, পৃষ্ঠা ১৫১)

১০- রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে: যদি কোন কোন ব্যাক্তি রজব মাসে এগার দিন রোজা রাখবে তাহলে তার মতো অথবা তার চেয়ে বেশি যে ব্যাক্তি উক্ত মাসে রোজা রাখেছে তারা ব্যাতিত কেয়ামতের দিন কোন বান্দার সৎ আমল তার সমপরিমাণ হবে না। (ইকবালুল আমাল, পৃষ্ঠা ১৫১)

১১- রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে: যদি কোন কোন ব্যাক্তি রজব মাসে বারো দিন রোজা রাখে তাহলে তাকে রেশমি এবং স্বর্ণের খচিত পোষাক দান করা হবে যদি তন্মেধ্যে একটি দুনিয়াতে রেখে দেয়া হয় তাহলে পৃথিবির পূর্বপ্রান্ত থেকে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত আলেকিত এবং মেশকে আম্বরের সুগন্ধে সুবাসিত হয়ে উঠবে। (ইকবালুল আমাল, পৃষ্ঠা ১৫১)

১২- রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে: যদি কোন ব্যাক্তি রজব মাসে তের দিন রোজা রাখে তাহলে তার জন্য আরশের নিচে সবুজ রঙের ন্যায় ইয়াকুতের দস্তরখান বিছানো হবে। যার পায়া হবে মুক্তার তৈরি যা পৃথিবির তুলনায় সাত গুণ বড় হবে উক্ত দস্তরখানে ইয়াকুত এবং মুক্তার বড় বড় থালা বিশিষ্ট পাত্র রাখা হবে। আর প্রত্যেকটি পাত্রে ৭০ হাজার পদের খাদ্য পরিবেশন করা হবে। একটি খাদ্যর সাথে অন্য খাদ্যের রং,স্বাদ এবং ঘ্রাণের কোন ধরণের সাদৃশ্যতা থাকবে না। কেয়ামতের দিন যখন মানুষেরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখিন হবে তখন সে উক্ত খাদ্যগুলো আহার করবে। (ইকবালুল আমাল, পৃষ্ঠা ১৫৪)

১৩- রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে: যদি কোন ব্যাক্তি রজব মাসে চোদ্দো দিন রোজা রাখে তাহেলে সে কেয়ামতের দিন পরিত্রাণপ্রাপ্ত ব্যাক্তিদের স্থানে অবস্থান করবে। আর তার থেকে কোন নবি কাছ অথবা ফেরেস্তারা অতিক্রম করবে তখন তারা বলবে তোমাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি যে, তুমি হচ্ছো পরিত্রাণপ্রাপ্ত ব্যাক্তিদের মধ্যে একজন এবং তোমার অবস্থানকে দেখে জান্নাতবাসিরাও আশ্চর্যিত হচ্ছে। (ইকবালুল আমাল, পৃষ্ঠা ১৬০)

১৪- রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে: যদি কোন ব্যাক্তি রজব মাসে ষোল দিন রোজা রাখে তাহলে সে হবে প্রথম ব্যাক্তি যে নূরের বাহনে আরোহন করবে এবং জান্নাতের দিকে ধাবিত হবে এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করবে। (ইকবালুল আমাল, পৃষ্ঠা ১৬৫)

১৫- রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে: যদি কোন ব্যাক্তি রজব মাসে সতেরো দিন রোজা রাখে তাহলে কেয়ামতের দিন তার জন্য পুল সিরাতে ৭০টি বাতি রাখা হবে যেন সে উক্ত বাতির আলোর মাধ্যমে পুল সিরাত অতিক্রম করে জান্নাতের দিকে ধাবিত হবে। তখন ফেরেস্তারা তাকে অভিনন্দন জানাবে। (ইকবালুল আমাল, পৃষ্ঠা ১৭১)

১৬- রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে: যদি কোন ব্যাক্তি রজব মাসে আঠারো দিন রোজা রাখে তাহলে সে ইব্রাহিম (আ.)এর সাথে একই স্থানে চিরন্তনভাবে অবস্থান করবে আর ‍উক্ত স্থানটি ইয়াকুত এবং মুক্তা দ্বারা তৈরি করা হবে। (ইকবালুল আমাল, ১৭১)

১৭- রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে: যদি কোন ব্যাক্তি রজব মাসে উনিশ দিন রোজা রাখে তাহলে হজরত আদম এবং ইব্রাহিম (আ.) এর প্রাসাদের সামনে একটি  অতুলনিয়, দূর্লভ এবং নতুন প্রাসাদ তৈরি করা হবে যখন সে তাঁদেরকে সালাম জানাবে তখন তাঁরাও তার সালামের উত্তর দিবেন। (ইকবালুল আমাল, পৃষ্ঠা ১৮২)

১৮- রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে: যদি কোন ব্যাক্তি রজব মাসে বিশ দিন রোজা রাখে তাহলে তাকে ২০ হাজার বছরের সমপরিমাণ সওয়াব দান করা হবে। (ইকবালুল আমাল, পৃষ্ঠা ১৭২)

১৯- রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে: যদি কোন ব্যাক্তি রজব মাসে একুশ  দিন রোজা রাখে তাহলে “রাবিয়ামুযের” নামক দুই গুনাহকারি গোত্রের ন্যায় গুনাহ করে থাকে তাহলেও আল্লাহ তাকে শেফায়াত করবেন। (ইকবালুল আমাল, পৃষ্ঠা  ১৭২)

২০- রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে: যদি কোন ব্যাক্তি রজব মাসে বাইশ দিন রোজা রাখে তাহলে তাকে ‍উদ্দেশ্যে করে আসমানি আহবান জানানো হবে। হে আল্লাহর বন্ধু! তোমাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে দানকৃত মহত্ব এবং কেরামত অর্জন উপলক্ষ্যে জানায় শুভেচ্ছা। কেননা তুমি আম্বিয়া, সত্যবাদি, শহিদ, সৎকর্মশীলদের মতো ব্যাক্তিত্বদের সাথে অবস্থান করছো।

২১- রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে: যদি কোন ব্যাক্তি রজব মাসে তেইশ দিন রোজা রাখে তাহলে তাকে উদ্দেশ্যে করে আসমান থেকে শব্দ ভেসে আসবে যে, তোমাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি যে, তুমি অল্প কষ্ট করে অধিক নেয়ামত অর্জন করেছ। (ইকবালুল আমাল, পৃষ্ঠা ১৪০)

২২- রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যদি কোন ব্যাক্তি রজব মাসে চব্বিশ দিন রোজা রাখে তাহলে মৃত্যুর সময় মালেকুল মউত সবুজ রেশমি কাপড় পরিধান করে যুবকের রূপে বেহেস্তি ঘোড়ায় আরোহন করে তার কাছে উপস্থিত হবে। তার হাতে থাকবে রেশমি সবুজ কাপড় তা থেকে মেশকে আম্বরের সুঘ্রাণ আসবে। তার  হাতে বেহেস্তি সোনার বাটিতে পানিয় থাকবে। রূহ কবজ করার সময় তাকে তা পান করাবে যেন সহজেই তার রূহ শরিরকে ত্যাগ করে। অতঃপর তার রূহকে উক্ত রেশমি কাপড়ে রাখা হবে। উক্ত রূহের ঘ্রাণ সপ্তম আসমান পর্যন্ত পৌছে যাবে এবং তার  ‍রূহ হাউযে কাউসারে সে রাসুল (সা.)এর সাথে সাক্ষাত করবে। (ইকবালুল আমাল, পৃষ্ঠা ১৮৪)

২৩- রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যদি কোন ব্যাক্তি রজব মাসে পঁচিশ দিন রোজা রাখে তাহলে যখন তাকে কবর থেকে উত্তোলন করা হবে তখন ৭০ হাজার ফেরেস্তা তাকে অভিনন্দন জানানোর জন্য উপস্থিত হবে এবং তাদের সকলের হাতে ইয়াকুত এবং মুক্তার পতাকা এবং সুন্দর পোষাক থাকবে। অতঃপর তারা বলবে: হে আল্লাহর বন্ধু! তুমি চিরস্থায়ি বেহেস্তের দিকে রওনা হও। সেখানে সে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত ব্যাক্তিত্বদের সাথে অবস্থান করবে। (ইকবালুল আমাল, পৃষ্ঠা ১৮৪)

২৪- রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যদি কোন ব্যাক্তি রজব মাসে ছাব্বিশ দিন রোজা রাখে তাহলে আল্লাহ তার আরশের নিচে ইয়াকুত এবং মুক্তার একশতটি প্রাসাদ তৈরি করবেন যার প্রত্যেকটি দরজায় বেহেস্তের রেশমি পর্দা ঝুলানো থাকবে যা তাকে প্রশান্তি দান করবে। অথচ অন্যান্যরা সে সময় নিজেদের হিসাব কিতাব নিয়ে ব্যাস্ত থাকবে।(ইকবালুল আমাল, পৃষ্ঠা ১৮৪)

২৫- রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যদি কোন ব্যাক্তি রজব মাসে সাতাশ দিন রোজা রাখে তাহলে তার কবরকে আল্লাহ ৪০০ বছরে সমপরিমাণ বিস্তারিত করে দিবেন এবং তা মেশকে অম্বরের সুঘ্রাণ দ্বারা পরিপূর্ণ করে দিবেন। (ইকবালুল আমাল, পৃষ্ঠা ১৪১)

২৬- রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যদি কোন কোন ব্যাক্তি রজব মাসে আটাশ দিন রোজা রাখে তাহলে আল্লাহ তার এবং জাহান্নামের আগুনের মধ্যে সাতটি পরিখাকে প্রতিবন্ধক হিসেবে রাখবে। আর উক্ত পরিখার সমূহের দূরত্বের পরিমাণ হচ্ছে মাটি থেকে আকাশ পর্যন্ত এবং ৫০০ বছরের সমপরিমাণ। (ইকবালুল আমাল, পৃষ্ঠা ১৮৮)

২৭- রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যদি কোন ব্যাক্তি রজব মাসে উনত্রিশ দিন রোজা রাখে তাহলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন যদি কোন পুরুষ দালাল অথবা সেই নারি যে, ৭০ জন নারিকে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত করেছে। উক্ত দিনে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য রোজা রাখে তাহলে তার কৃত গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে তাহলে আল্লাহ তার গুনাহকে ক্ষমা করে দিবেন। (ইকবালুল আমাল, পৃষ্ঠা ১৮৮)

২৮- রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যদি কোন ব্যাক্তি রজব মাসে ত্রিশ দিন রোজা রাখে তাহলে আসমান থেকে আহবানকারি আহবান জানাবে যে, আল্লাহ তোমার পূর্ববর্তি গুনাহ সমূহকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। এখন তুমি তোমার অবশিষ্ট জিবনকে প্রথম থেকে শুরু কর। আল্লাহ তাকে প্রত্যেকটি বেহেস্তে ৪০ হাজার শহর দান করবেন। প্রত্যেকটি শহরে চার কোটি প্রাসাদ রয়েছে। প্রত্যেকটি প্রাসাদে চার কোটি ঘর রয়েছে। প্রত্যেকটি ঘরে চার কোটি দস্তরখান রয়েছে। প্রত্যেকটি দস্তরখানে চার কোটি বড় থালা বিশিষ্ট পাত্র রয়েছে। প্রত্যেকটি বড় থালা বিশিষ্ট পাত্রে চার কোটি প্রকারের খাদ্যে এবং পানিয় রয়েছে। প্রত্যেকটি খাদ্যে থেকে আলাদা আলাদা সুঘ্রাণ ছড়াবে। প্রত্যেকটি চার কোটি খাট বিছানো রয়েছে। প্রত্যেকটি খাটের আয়তন হচ্ছে প্রস্থ এক হাজার এবং দৈর্ঘ দুই হাজার হাত। আর উক্ত খাটগুলোতে সুন্দরি রমনিরা অবস্থান করবে তাদের মাথায় থাকবে এক লক্ষ নুরানি চুল।তাদের চুল থেকে মেশক আম্বরের মনমাতানো সুঘ্রাণ ছড়াবে। আর এসব কিছু সেই অর্জন করতে পারবে যে রজব মাসে ৩০ দিন রোজা রাখবে। (ইকবালুল আমাল, পৃষ্ঠা ১৯০)