মহিয়সি নারি নাজমা খাতুন’এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি-২

মহিয়সি নারি নাজমা খাতুন’এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি-২

মহিয়সি নারি নাজমা খাতুনএর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি-২ 

নাজমা খাতুন, তুকতাম, ইমাম রেযা, ইমাম কাযিম, মাশরাবা, ইমাম রেযার মা,

এস, এ, এ

ইমাম কাযিম (আ.)এর ত্বত্তাবধানে নাজমা খাতুন:

হেশাম ইমাম কাযিম (আ.)’এর নির্দেশ অনুযায়ি উক্ত দাসিটিকে ক্রয় করে ইমাম (আ.)’এর বাড়িতে নিয়ে আসে। তখন সেখানে ইমাম কাযিম (আ.)’এর কিছু সাহাবি উপস্থিত ছিলেন। তারা ইমাম (আ.)কে হেশামের কাছ থেকে উক্ত ঘটনাটি শোনার পরে ইমাম (আ.)কে জিজ্ঞাসা করে: হে ইমাম (আ.)! আপনি কেন উক্ত দূর্বল এবং অসুস্থ দাসিটিকে ক্রয় করেছেন?

ইমাম কাযিম (আ.) তাদের জবাবে বলেন যে আমি উক্ত দাসিটিকে ঐশি ইলহামের কারণে ক্রয় করেছি!

তারা জিজ্ঞাসা করে কেমন ইলহাম?

আমি গতকাল রাতে রাসুল (সা.) এবং আমার পূর্বপুরুষ ইমাম বাকের ও জাফর সাদিক (আ.)কে স্বপ্নে দেখি। তাঁরা আমার কাছে আসেন এবং সিল্ক কাপড়ে বাধা একটি পোটলার বাধনকে খোলেন। উক্ত পোটলাতে একটি জামা রাখা ছিল এবং উক্ত জামাতে দাশিটির ছবি ছিল।

ইমাম (আ.)’এর নির্দেশনায় জিবন পরিচালনা:

হজরত নাজমা খাতুন ইমাম কাযিম (আ.)’এর পরিকল্পনা ও নির্দেশ অনুযায়ি নিজের জিবনকে পরিচলনা করেন। আর এভাবেই তিনি আখলাকের চরম উৎকর্ষে পৌছে যান।

ইমাম কাযিম (আ.)’এর কাছে তিনি শুধুমাত্র সামাজিক ও পারিবারিক শিক্ষাই অর্জন করেননি বরং ইমাম (আ.)’এর কাছ থেকে তিনি মারেফতের জ্ঞানও অর্জন করেন। তিনি প্রত্যেকদিন ইমাম কাযিম (আ.)’এর মা ‘হজরত হামিদা খাতুন’এর কাছে যেতেন এবং তাঁর কাছেও ধর্মিয় আহকাম সহ বিভিন্ন বিষয়ের জ্ঞান অর্জন করতেন। (যানানে মারদ অফারিনে তারিখ, পৃষ্ঠা ১৭৪, উসুলে কাফি, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৭৬, মুনতাহিউল আমাল, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৩৫)

হজরত হামিদা খাতুনও তাঁকে আগ্রহের সহিত ধর্মিয় জ্ঞান দান করতেন। ধিরে ধিরে হজরত নাজমা খাতুন ধর্মিয় জ্ঞানে শিক্ষিত এবং বিভিন্ন জ্ঞান গরিমার চরম উৎকর্ষে পৌছে যান।

একদা ইমাম কাযিম (আ.) নাজমা খাতুন সম্পর্কে তাঁর সন্তান ইমাম রেযা (আ.)কে বলেন যে, আমি তোমার মায়ের মতো খুব কম মহিলাকেই চিনি যারা এত অল্প সময়ের মধ্যেই এত উন্নতি সাধন করেছে। (যানানে মারদ অফারিনে তারিখ, পৃষ্ঠা ১৭৪)

আর হয়তো এ কারণেই ইমাম (আ.) এবং তাঁর পরিবারের লোকজন তার নাম রাখেন নাজমা।

সম্মানিত সন্তানদ্বয় জন্মদানের সৌভাগ্যে অর্জন:

ইমাম কাযিম (আ.)’এর সাথে বিবাহের কিছু দিন পরেই হজরত নাজমা খাতুন গর্ভবতির চিহ্নাবলি অনুভব করেন। তিনি বলেন: আমি আমার গর্ভের সন্তানের ভারত্বের উপলব্ধি করি কিন্তু তার ভারত্বের কষ্টকে অনুভব করি না। (বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪৯, পৃষ্ঠা ৯, মুনতাহিউল আমাল, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৫৯)

কিন্তু হজরত নাজমা খাতুন বলেন যে, আমি আমার গর্ভের সন্তানের বিভিন্ন যিকিরের শব্দকে শুনতে পেতাম। (বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪৯, পৃষ্ঠা ৯, মুনতাহিউল আমাল, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৫৯)

হজরত নাজমা খাতুন তাঁর প্রথম সন্তান ইমাম রেযা (আ.) ১৪৮ হিজরি জিলকদ মাসে রোজ বৃহঃস্পতিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর দ্বিতিয় সন্তান হজরত ফাতেমা মাসুমা (সা.আ.)কে ১৭৩ হিজরি ১লা জিলকদে জন্মদান করেন। ইমাম জাফর সাদিক (আ.) ৪৫ বছর আগেই  হজরত ফাতেমা মাসুমা (সা.আ.)’এর  জন্মের খবর দিয়েছিলেন। (বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪৮, পৃষ্ঠা ৩১৭, মুনতাহিউল আমাল, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৩২)

নাজমা খাতুনের ইবাদত:  

নাজমা খাতুন অত্যাধিক ইবাদত করতেন এবং ইবাদতের মাঝে তাঁর সন্তানদের লালন পালন করতেন।  রেওয়ায়েতে বর্ণিত হয়েছে যে, ইমাম রেযা পর্যাপ্ত পরিমাণে মায়ের দুধ খেতেন আর এ কারণে তিনি অতিদ্রুত বেড়ে উঠেন। (বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪৯, পৃষ্ঠা ৫)

হজরত নাজমা খাতুন বলেন যে, আমার জন্য একজন ধাত্রির ব্যাবস্থা কর যেন আমি আল্লাহর বেশি বেশি ইবাদত ও যিকরে নিজেকে নিমগ্ন রাখতে পারি।  (রিয়াহিনুশ শারিয়াহ, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ২২)

হজরত নাজমা খাতুনএর ওফাত:

হজরত ফাতেমা মাসুমা (সা.আ.)’এর জন্মগ্রহণের কয়েক বছর পরে মদিনাতে হজরত নাজমা খাতুন মারা যান। তাঁর ওফাত, কবরস্থান এবং তাঁর মাজার সম্পর্কে ইতিহাসে তেমন কিছু উল্লেখ করা হয়নি। তবে মনে করা হয় যে, হামিদা খাতুনের পাশে ‘মাশরাবা’ নামক স্থানে যা পূর্ব হাররা নামক স্থানের কাছে অবস্থিত ছিল সেখানে তাঁকে দাফন করা হয়। তবে উক্ত স্থানটিকে ওহাবিরা ভেঙ্গে ফেলেছে এবং বর্তমানে তার আর কোন চিহ্নাবলি অবশিষ্ট নেই। তবে প্রত্যেক বছর উক্ত এলাকাতে হজরত নাজমা খাতুনের যিয়ারতেরে উদ্দেশ্যে হাজিদের সমাগম ঘটে। (আসারে ইসলামি মাক্কে ওয়া মাদিনে, পৃষ্ঠা ২১২)