মহিয়সি নারি নাজমা খাতুন’এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি-১

মহিয়সি নারি নাজমা খাতুন’এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি-১

মহিয়সি নারি নাজমা খাতুনএর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি-১ 

এস, এ, এ

ইমাম রেযা (আ.)’এর মায়ের নাম ছিল তুকতাম এবং তিনি ছিলেন নাওবা নামক এলাকার অধিবাসি। যখন তিনি ইমাম কাযিম (আ.)’এর গৃহে প্রবেশ করেন তখন তার নাম রাখা হয় নাজমা খাতুন।

ইমাম রেযা (আ.)ও হজরত ফাতেমা মাসুমা (সা.আ.)’এর মায়ের নাম ছিল নাজমা খাতুন। (ইসবাতুল হুদা, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৩৩)

ইতিহাস ও বিভিন্ন রেওয়ায়েতে ইমাম রেযা (আ.)’এর মায়ের বিভিন্ন নাম বর্ণিত হয়েছে। শেইখ মুফিদ (রহ.) ইমাম রেযা (আ.)’এর মায়ের নাম মোকাররামা বলে উল্লেখ করেছেন। (আল ইরশাদ, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২৪৭)

আবার অনেক স্থানে তাঁর মায়ের নাম সুকান, খায়যারান, সাকরা অথবা সুকরা, আরওয়া, উম্মুল বানিন আর ইমাম রেয়া (আ.)’এর জন্মের পরে  ইমাম কাযিম (আ.) তাঁর নাম রাখেন তাহেরা। (আলামুল ওয়ারা বিআলামুল হুদা, পৃষ্ঠা ৩১৩)

ইতিহাসে তার জন্মস্থান নাওবা’তে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে নাওবা বলতে কোন এলাকাকে বুঝানো হয়েছে? ইতিহাসে নাওবা বলতে বিভিন্ন এলাকাকে বুঝানো হয়েছে যেমন:

১- তিউনিসিয়ার একটি ছোট শহরকে নাওবা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

২- মদিনা থেকে তিন দিনের দূরত্বে অবস্থিত একটি এলাকাকে বুঝানো হয়েছে।

৩- লোহিত সাগর কাছাকাছি সাগর একটি অঞ্চলকে বুঝানো হয়েছে।

৪- মিশরের দক্ষিনাঞ্চলের একটি এলাকাকে নাওবা বলা হয়েছে।

তবে ঐতিহাসিকদের মতে নাজমা খাতুন ছিলেন মিশরের দক্ষিনাঞ্চল নাওবা’র অধিবাসি। কেননা দ্বিতিয় শতাব্দির মধ্যেবর্তি সময়ে বন্দি হয়ে মদিনাতে আসেন। আর ইসলামি ইতিহাসের গ্রন্থ সমূহে মুসলমানদের মাধ্যেমে আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকার বিজয়ের কথা উল্লেখিত হয়েছে। আর নাজমা খাতুন হচ্ছেন মিশরের দক্ষিণাঞ্চলের অধিবাসি। বর্তমানে উক্ত স্থানটি মিশর এবং সুদানের দক্ষিণে অবস্থিত।

যখন উক্ত মহিয়সি নারি মদিনাতে প্রবেশ করেন তখন ইমাম কাযিম (আ.) নাজমা খাতুনকে তাঁর মায়ের কাছে প্রেরণ করেন। তখন ইমাম কাযিম (আ.)’এর মা হামিদা বানু তাকে ধর্মিয় শিক্ষা দান করেন। পরে যখন ইমাম কাযম (আ.) তাঁকে বিবাহ করেন তখন তিনি পর্যায়ক্রমে ইমাম রেযা ও ফাতেমা মাসুমা (সা.আ.)কে গর্ভে ধারণ করেন। সুতরাং ইমাম রেযা (আ.) ও হজরত ফাতেমা মাসুমা (সা.আ.) হচ্ছে সহোদর। (বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪৯, পৃষ্ঠা ৭)

শেইখ সাদুক এবং মরহুম কুলাইনি (রহ.) ইমাম কাযিম (আ.) ও নাজমা খাতুনের বিবাহের সম্পর্কে এভাবে বর্ণনা করেছেন যে, হজরত হামিদা খাতুনের স্বপ্নে হজরত মোহাম্মাদ (সা.) আসেন এবং তাঁকে তিনি নির্দেশ দেন যে, তুমি তোমার সন্তানের সাথে নাজমা খাতুনের বিবাহ দিয়ে দাও।  আর তিনিও উক্ত স্বপ্ন মোতাবেক ইমাম কাযিম (আ.)’এর সাথে নাজমা খাতুনের বিবাহ দিয়ে দেন।

মরহুম কুলাইনি (রহ.)’এর বর্ণনমতে ইমাম নিজে হেশাম বিন আহমার’কে বলেন তুমি কি জান যে পশ্চিম আফ্রিকা থেকে কেউ মদিনাতে এসেছে? তখন হেশাম বিন আহমার ইমাম (আ.)’এর সাথে এক দাশ বিক্রেতার কাছে আসে। তখন সে ব্যাক্তি তাঁদের সমিপে ৭ জন দাসিকে উপস্থাপন করে। তখন ইমাম (আ.) তাকে বলেন আমরা যে ধরণের দাসি চাচ্ছি তাকে নিয়ে আস। কিন্তু দাস বিক্রেতা রাজি হয় না। সে বলে যে উক্ত দাসিটি হচ্ছে দূর্বল এবং অসুস্থ। পরের দিন ইমাম (আ.)আবার হেশামকে প্রেরণ করেন এবং বলেন উক্ত দাশ বিক্রেতার কাছে যাও এবং সে যে শর্তই রাখুক না কেন তুমি তা মেনে দাশিটিকে ক্রয় করে নিবে। অবশেষে উক্ত দাশ বিক্রেতা হেশঅমের কাছে দাশিটিকে বিক্রয় করে দেয়। তখন হেশাম উক্ত দাশ বিক্রেতার কাছে তার অসম্মতির কারণ জানতে চায়। তখন উক্ত দাশ বিক্রেতা তাকে বলে যে, আমকে একজন আহলে কিতাবের সম্মানিত নারি আমাকে বলেছিলেন যে, তোমার মতো লোকের কাছে উক্ত সম্মানিত দাশিটির অবস্থান শোভনিয় না। কেননা তার মালিকের মাধ্যেমে যে সন্তানটি জন্মলাভ করবে তিনি হবেন পূর্ব থেকে পশ্চিম এলাকার মধ্যে এমন এক ব্যাক্তি, যার কোন সমকক্ষ থাকবে না। যখন উক্ত দাসি অর্থাৎ নাজমা খাতুনকে ইমাম কাযিম (আ.)’এর কাছে আনা হয় তারপরে ইমাম রেযা (আ.) জন্মগ্রহণ করেন। (উসুলে কাফি, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৮৬, আল ইরশাদ, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২৫৪)

চলবে.....