ইমাম রেযা (আ.)’এর খাদেম আবা সালত

খতিবে বাগদাদি আবা সালত (রহ.)’এর বংশ পরিচয় দিতে গিয়ে  বলেছেন যে, আব্দুস সালাম বিন সালেহ বিন সুলাইমান বিন আইয়ুব বিন মাইসারা আবু সালত হারাওয়ি ছিলেন আব্দুর রহমান বিন সামারা’এর(سمره) দাশ। আব্দুর রহমান বিন সামারা ছিলেন কুরাইশ বংশভূত।

ইমাম রেযা (আ.)এর খাদেম আবা সালত

এস, এ, এ

 

আবা সালতএর বংশ পরিচয়:

খতিবে বাগদাদি আবা সালত (রহ.)’এর বংশ পরিচয় দিতে গিয়ে  বলেছেন যে, আব্দুস সালাম বিন সালেহ বিন সুলাইমান বিন আইয়ুব বিন মাইসারা আবু সালত হারাওয়ি ছিলেন আব্দুর রহমান বিন সামারা’এর(سمره) দাশ। আব্দুর রহমান বিন সামারা ছিলেন কুরাইশ বংশভূত।  

ঐতিহাসিকদের বর্ণনামতে আব্দুর রহমান বিন সামারা ৮ হিজরিতে মক্কা বিজয়ের পরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং মদিনাতে হিজরত করেন এবং তিনি জিবনের শেষ সময় পর্যন্ত মদিনাতেই ছিলেন। সুতরাং আবা সালত (রহ.)’এর পূর্ব পুরুষরাও মদিনাতে জিবন যাপন করতেন।

ঐতিহাসিকগণ আবা সালত (রহ.)’এর পূর্বপুরুষদেরকে আব্দুর রহমান’এর দাশ ছিলেন বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন যে, তারা মদিনাবাসি ছিলেন না বরং তারা অন্য এলাকা থেকে সেখানে হিজরত করেছিলেন। তারা ছিলেন বর্তমানে আফগানিস্তানের হারাত এলাকার অধিবাসি। তবে কিভাবে তারা হারাত থেকে মদিনাতে গেলেন এ সম্পর্কে ইতিহাসে তেমন কিছুই উল্লেখ করা হয়নি। ঐতিহাসিকগণও এ সম্পর্কে তেমন কিছুই উল্লেখ করেননি।

জন্মস্থান ও জন্ম তারিখ:

মরহুম কাশশি উল্লেখ করেছেন যে, আমি তাহের বিন আলি বিন আহমাদ থেকে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন: আবা সালত (রহ.) মদিনাতে জন্মগ্রহণ করেন। কেননা তার পূর্বপুরুষরা মদিনাতে জিবন যাবন যাপন করতেন। সুতরাং তিনি তাঁর জিবনের সূচনা লগ্ন মদিনা থেকেই শুরু করেন। যেহেতু সে যুগে হাদিস সংঙ্কলনের বহুল প্রচলন ছিল। সেহেতু তিনিও হাদিস সংগ্রহের লক্ষ্যে বাগদাদ, হেজাজ, নিশাপুর, খোরাসান-এ নিজের জিবনের অতি মূল্যবান সময়কে অতিবাহিত করেন। আর কারণে তিনি হাদিস সংঙ্কলনকারির মতো সম্মানিত পদে সম্মানিত হন।

ঐতিহাসিকগণ তার জন্মের সঠিক কোন তারিখ ইতিহাসে উল্লেখ করেননি। তবে কিছু ঐতিহাসিক লিখেছেন আমি শৈশব থেকে নিয়ে ৩০ বছর পর্যন্ত  হাদিস শুনার জন্য সুফিয়ান বিন আয়িনা’এর(মৃত ১৯৬) কাছে যাতায়াত করতাম এবং আবা সালত (রহ.) তার মৃত্যুর ৪০ বছর পরে মারা যায়। সুতরাং তার জন্ম তারিখ সম্পর্কে আমরা বলতে পারি যে তিনি ১৬০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন।

আবা সালত (রহ.)এর মাযহাব:

আবা সালত হারাওয়ি (রহ.) ছিলেন একজন জ্ঞানি, হাফেযে কোরআন, মোহাদ্দেস, ইবাদতকারি, সংযমকারি, যুক্তিবিদ এবং তাঁকে সহিহ হাদিস বর্ণনাকারিদের মধ্যে পরিগণিত করা হতো। তিনি তাঁর জিবনের অধিকাংশ সময় আহলে সুন্নাতের সমাজে অতিবাহিত করেছেন। কিন্তু তিনি কখনও তার নিজের আকিদা বা মাযহাবকে গোপন করেননি। বরং তিনি বিভিন্ন ইসলামি অনুষ্ঠান সমূহে অংশগ্রহণের সময় আহলে বাইত (আ.) এর ফযিলত ও গুণাবলি বর্ণনা করতেন এবং ‍তাদের শত্রুদের কথাও সেখানে উল্লেখ  করতেন।  

আবা সালতএর মৃ্ত্যু:

আবা সালত হারাওয়ি (রহ.) ২৩৬ হিজরিতে তাহের বনি আব্দুল বিন তাহের’এর যুগে মারা যান। তবে তিনি জিবনের শেষ ভাগে কোথায় মারা যান সে সম্পর্কেও ঐতিহাসিকগণ তেমন কিছুই বর্ণনা করেননি। তবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি তার জিবনের শেষ সময়গুলো নিশাপুরে কাটিয়েছিলেন। বর্তমানে সেখানে তার কবরের কোন চিহ্ন অবশিষ্ট নেই এমনকি ঐতিহাসিকগণ এ সম্পর্কে নিরবতা অবলম্বন করেছেন।

তবে মাশহাদের “হুমা” নামক শহরের পাশে একটি মাজার রয়েছে এবং উক্ত মাজারটি হচ্ছে আবা সালত (রহ.)’এর মাজার হিসেবে পরিচিত। প্রত্যেকদিন উক্ত মাজারের যিয়ারত করার জন্য অনেক লোকের সমাগম হয়। কিন্তু উক্ত মাজারে এমন কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি যার কারণে বলা যেতে পারে যে উক্ত মাজারটি হচ্ছে আবা সালত’এর মাজার।

ডক্টর আলি শারিয়াতি তার “রাহনোমায়ে খোরাসান” নামক গ্রন্থে আবা সালত (রহ.)’এর কবর সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, মাশহাদ শহর থেকে প্রায় ১২ কি:মি: দূরে একটি মাজার পরিলক্ষিত হয়। বিগত কয়েক শতাব্দি ধরে উক্ত স্থানটি শিয়া মুসলমানদের জন্য একটি সম্মানিত স্থান হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে। অনেকে আবার আবা সালত (রহ.)’এর বৈশিষ্টর কারণে ওসিয়ত করে গেছেন যে তার মৃত্যুর পরে যেন তাকে উক্ত মাজারের আশেপাশে দাফন করা হয়। আর এ কারণে উক্ত মাজারের পাশে একটি কবরস্থান পরিলক্ষিত হয় যেখানে অনেক ইরফানি আলেমদের কবরও রয়েছে। কিন্তু তাই বলে এটা প্রমাণিত হয় না যে সেখানে আবা সালত (রহ.)’এর কবর রয়েছে।

অনেকে আবা সালত (রহ.)কে ইমাম রেযা (আ.)’এর দাশ বলে মনে করে থাকেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তিনি ইমাম রেযা (আ.)এর দাশ ছিলেন না।যদিও তিনি ছিলেন একজন জ্ঞানি, হাফেযে কোরআন, মোহাদ্দেস, ইবাদতকারি, সংযমকারি, যুক্তিবিদ এবং সহিহ হাদিস বর্ণনাকারি কিন্তু ইমাম রেযা (আ.)’এর ভালবাসা এবং সম্মানের কারণে তিনি তাঁর সমিপে এমনভাবে উপস্থিত হতেন এবং তাঁর খেদমত করতেন যে অনেকই তাঁকে ইমাম রেযা (আ.)’এর দাশ বলে মনে করতেন। বরং তিনি ছিলেন ইমাম রেযা (আ.)’এর একজন বিশ্বস্ত সাহাবি যাকে তিনি অনেক গোপনিয় কথা বলতেন। আর এভাবেই আবা সালত (রহ.) ইমাম রেযা (আ.)’এর কাছ থেকে বিভিন্ন জ্ঞান অর্জনের কারণে শিয়াদের কাছে একজন বিশ্বস্ত ও সম্মানিত ব্যাক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন।