ওহাবীদের ষড়যন্ত্র ও হত্যাকান্ড- ৩

ওহাবীরা কোরআনকে অবমানা করে: ১২১৭ সালে আব্দুল আজিজের নির্দেশে তায়েফ শহরটিতে হামলা করে এবং সেখানে তারা লুটতারাজ চালায় এবং অনেক নারী ও পুরুষকে উলঙ্গ করে মুরুভুমিতে ছেড়ে দেয় এবং কয়েকদিন পরে যখন তারা ফকিরের ন্যায় ফিরে আসে তখন তাদেরকে মুষ্টি খাবার দান করে কিন্

ওহাবীদের ষড়যন্ত্র ও হত্যাকান্ড- 

পূর্ব আলোচনার পরে, আজকে আবারও আমরা আমাদের সম্মানিত দর্শকদের অবগতির জন্য নিন্মে ওহাবীদের আরো কিছু অমানুষিক কর্মকান্ডের বিবরণ উপস্থাপন করবো:

১০- ওহাবীরা কোরআনকে অবমানা করে:

১২১৭ সালে আব্দুল আজিজের নির্দেশে তায়েফ শহরটিতে হামলা করে এবং সেখানে তারা লুটতারাজ চালায় এবং অনেক নারী ও পুরুষকে উলঙ্গ করে মুরুভুমিতে ছেড়ে দেয় এবং কয়েকদিন পরে যখন তারা ফকিরের ন্যায় ফিরে আসে তখন তাদেরকে মুষ্টি খাবার দান করে কিন্তু তাদেরকে শর্ত দেয় তারা যেন ওহাবী মতবাদকে অনুসরণ করে বা মেনে নেয়। আর যদি কেউ মেনে নিত তাহলে তাদেরকে ওহাবীরা আর ত্যা করতো না।

ওহাবীরা ‍ুশিশুদেরকে তাদের মায়ের কোলে জবাই করতো এবং যারা কোরআনকে হিফয করতো তাদেরকেও হত্যা করতো। অতঃপর তারা দোকান এবং মসজিদ সমূহে যায় এবং সেখানে রুকু ও সেজাবনত মুসলমানদেরকে হত্যা করে।

ওহাবীরা সকল গ্রন্থাগারে কোরআনের বিভিন্ন তাফসীর, হাদীস গ্রন্থ সমূহকে ছিড়ে ফেলে এবং তা পা দিয়ে নিঃচিহ্ন করার চেষ্টা করতে থাকে কিন্তু আল্লাহর বিশেষ রহমতে হঠাৎ বাতাস আসে এবং সকল কোরআনের ছিড়া পাতাগুলোকে উড়িয়ে নিয়ে যায়।

১১- ওহাবীরা রাসুল (সা.) এবং ইমাম আলী (আ.) এর গুম্বুজকে ভেঙ্গে দেয়:

ওহাবীদের বিভিন্ন ধ্বংস ও অমানবিক কর্মকান্ডের জন্য মক্কার আলেমগণ তাদেরকে কাফের বলে আখ্যায়িত করেন। আর এ কারণে ওহাবীরা ১২১৮ সালে মক্কায় হামলা করে। যারা ওহাবীদের কাছে বাইয়াত করেছিল তাদেরকে নিয়ে তারা জান্নাতুল বাক্বিতে হামলা করে এবং সেখানে অবস্থিত আবু তালিব, আব্দুল মোত্তালেব এবং রাসুল (সা.)’এর সন্তানদের কবরকে ভেঙ্গে দেয়।

উম্মুল মুমিনিন হজরত খাদিজা (রা.)’এর ঘর যেখানে একাধিকবার ওহি নাযিল হয়েছে সে ঘরটিকেও তারা ভেঙ্গে ফেলে এবং তা শৌচালয়ে রূপান্তরিত করে। রাসুল (সা.)’এর জন্মস্থানকে ভেঙ্গে দেয় এবং সেখানে তারা গবাদিপশু বেচাবিক্রয়ের স্থানে রূপান্তরিত করে দেয়। কিন্তু বর্তমানে তা শত চেষ্টার পরে সেখানে একটি গ্রন্থাগার তৈরী করা হয়েছে। যখন তারা বিভিন্ন গুম্বুজগুলোকে ভেঙ্গে ফেলছিল তখন তারা ঢোল বাজাচ্ছিল এবং নাচগান  করছিল।

অনুরুপভাবে তারা শুধূমাত্র কাবা বাদে মক্কার সকল ইসলামী স্থাপত্যগুলোকে ভেঙ্গে ফেলে। তারা উক্ত ১৪ দিনে মক্কার অধিবাসীদেরকে তওবা করতে বাধ্যে করে এবং তাদেরকে কবর যিয়ারত এবং নবী (সা.)’এর কাছে তাওয়াসসুল করতে নিধেষ করে। সউদ নিদের্শ দেয় যেন মোহাম্মাদ বিন আব্দুল ওহাবের রচিত আকায়েদ শিক্ষার বইয়ের পাঠ দেয়ার জন্য নির্দেশ দান করে।

১২- ওহাবীরা রাসুল (সা.)’এর কবরের মূল্যবান জিনীষকে লুন্ঠন করে:

১২২০ সালে ওহাবীরা হজরত মোহাম্মাদ (সা.)’এর কবরের সকল মূল্যবান জিনীষ সমূহকে লুট করে নেয় বর্তমানের ন্যায় সকল মুসলমাদেরকে রাসুল (সা.) এবং জান্নাতুল বাক্বির ইমাম (আ.)দের কবর মোবারক যিয়ারত করতে বাধা প্রদান করে। অতঃপর ওহাবীরা মদীনার জনগণকে জিজ্ঞাসা করে যে রাসুল (সা.)’এর কবরের উপরে অবস্থিত গুম্বুজকে কি করা যায়? সকলে ভয়ে বলে যে, ভেঙ্গে ফেলা হোক!!! আর এভাবে ওহাবীরা মদীনার সকল ইসলামী স্থাপত্যগুলোকে ভেঙ্গে ফেলে।

১৩- বায়তুল্লাহ যিয়ারতকারীদের উপরে হামলা:

১২২১ সালে ওহাবীরা ইরাকের নাজাফ শহরে হামলা করে কিন্তু সেখানে শেইখ জাফর কাশেফ আল গেতা’এর নেতৃত্বে জনগণ, ধর্মীয় ছাত্ররা প্রতিরোধ গড়ে তুলে যার ফলে ওহাবীরা আর নাজাফ শহরকে ঘেরাও করতে পারে না।

১২২৩ সালে ওহাবীরা আবার হামলা করে কিন্তু আবার তারা পরাজিত হয়। আর উক্ত কারণে তারা আবারও মক্কা ও মদীনায় হামলা করে এবং সেখানে অবস্থিত কাবার যিয়ারতকারীদের উপরে হামলা এবং তাদের মালামালকে লুট করে এমনকি তারা রাসুল (সা.) এবং জান্নাতুল বাক্বির পবিত্র ইমামদের কবর মোবারক থেকে মূল্যবান মণিমুক্তা লুট করে নেয়। ওহাবীরা ১২২০ সালে ইরাকি হাজীদেরকে, ১২২১ সালে শামের হাজীদেরকে, ১২২২ সালে মিশরের হাজীদেরকে হজ্ব করতে বাধা প্রদান করে। আর তাদের উক্ত নীলনকশার কারণে ইরাকের হাজীরা ৪ বছর, শামের হাজীরা ৩ বছর এবং মিশরের হাজীরা ২ বছর হজ্ব করা থেকে বঞ্চিত হয়। অতঃপর ১২২৪ সালে আলে সউদের প্রথম সরকার পতন হওয়ার পরে মক্কা ও মদীনা থেকে ওহাবীদের পতন হয় এবং তখন থেকে সকলের জন্য হজ্বকে উন্মুক্ত হয়ে যায়।

১৪- ইমাম হুসাইন (আ.)’এর যিয়ারতকারীদের হত্যা:

১২২৫ সালে আব্দুল্লাহ বিন সউদ’এর নেতৃত্বে সিরিয়ার হুরান নামক স্থানে হামলা করে এবং সেখানের জনগণের মাল সম্পদ লুন্ঠন করে, শস্যর গুদামে আগুন লাগিয়ে যায় এবং নিরীহ মানুষদেরকে হত্যা করে। নারীদেরকে বন্দি এবং শিশুদেরকে হত্যা করে। উক্ত বছরে আবার তারা কারবালা এবং নাজাফকে ঘেরাও করে ফেলে এবং রাহাজানি ও ছিনতাই করতে থাকে।  ইমাম হুসাইন (আ.)’এর যিয়ারতকারীরা যখন ১৫ই শাবান ফিরে যাচ্ছিল তখন ওহাবীরা তাদের উপরে হামলা করে এবং প্রায় ১৫০ জনকে হত্যা করে। 

১৫- মিনাতে মিশরের হাজীদেরকে গণহত্যা:

১৩৪৩ সালে আবারও ওহাবীরা ইবনে আব্বাস এবং অন্যান্য গোত্রের কবর সমূহ, আব্দুল মোত্তালেব, উম্মুল মুমিনিন হজরত খাদিজা (রা.)’এর কবর হজরত ফাতেমা (সা.আ.)’এর জন্মস্থান সহ বিভিন্ন ইসলামী স্থাপত্যগুলোকে ভেঙ্গে ফেলে। উক্ত বছর তারা হজ্বকে বন্ধ করে দেয়। ১৩৪৪ সালে মিশরের হাজীদেরকে মিনাতে এহরামের অবস্থায় গণহত্যা করে।

১৬- মাকতাবাতুল আরাবীয়া নামক গ্রন্থাগারে আগুন লাগায়:

ওহাবীরা শুধুমাত্র ইসলামী স্থাপত্যগুলোকে ধ্বংস এবং মুসলমানদেরকে হত্যা করে ক্ষান্ত থাকেনি বরং তারা মোহাম্মাদ বিন আব্দুল ওহাব ব্রিটিশদের সহায়তায় সাংষ্কৃতিক স্থানাবলিকেও ধ্বংস করে দেয় এবং তার মধ্যে অন্যতম ছিল মাকতাবাতুল আরাবীয়া নামক গ্রন্থাগারে আগুন লাগানোর বিষয়টি। উক্ত গ্রন্থাগারে প্রায় ৬০ হাজার মহামূল্যবান গ্রন্থ ৪০ হাজার পান্ডুলিপি যেমন: হজরত আলী (আ.), হজরত আবু বকর, হজরত ওমর, খালিদ বিন ওয়ালিদ, তারেক বিন যিয়াদ, সহ বিভিন্ন সাহাবীদের হাতের লিখা পান্ডিুলিপি, আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ’এর লিখা কোরআন উক্ত গ্রন্থাগারে উপস্থিত ছিল।

চলবে...