সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় সিরিয়ার সেনাবাহিনীর উল্লেখযোগ্য সাফল্য

 সিরিয়ার কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দারা ও তার আশেপাশে সেদেশের সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এ খবর জানানোর পাশাপাশি আরও বলা হয়েছে, সন্ত্রাসীদের সাথে সংঘর্ষের পর সেনাবাহিনী ‘তালেকারিন’ এলাকার নিয়ন্ত্রণও হাতে নিতে সক্ষম হয়েছে।

সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় সিরিয়ার সেনাবাহিনীর উল্লেখযোগ্য সাফল্য
 সিরিয়ার কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দারা ও তার আশেপাশে সেদেশের সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এ খবর জানানোর পাশাপাশি আরও বলা হয়েছে, সন্ত্রাসীদের সাথে সংঘর্ষের পর সেনাবাহিনী ‘তালেকারিন’ এলাকার নিয়ন্ত্রণও হাতে নিতে সক্ষম হয়েছে।
সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় কুনিত্রাতেও ব্যাপক অভিযান চালানোর মধ্য দিয়ে সিরিয় সেনারা সাফল্যের সঙ্গে সামনে এগিয়ে গিয়ে সেখানকার আরও বিস্তৃত এলাকা নিয়ন্ত্রণে এনেছে। সিরিয়ার সেনাবাহিনীর আরও সাফল্যের খবর এসেছে সেদেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে। বিশেষ করে আলহাস্‌কা প্রদেশের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কামেশলিতে আইএসআইএল সন্ত্রাসীদের সাথে ব্যাপক সংঘর্ষের পর ওই এলাকা শত্রুমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
একইভাবে সেনাবাহিনীর বিজয়ের খবরের পাশাপাশি সেদেশের গণবাহিনী উজ্জীবিত হয়ে আলেপ্পো শহরসহ সেদেশের আরও বহু এলাকায় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে বলে খবর ‌এসেছে। আইএসআইএল সন্ত্রাসীরা তাদের পরাজয় ধামাচাপা দেওয়ার লক্ষ্যে নিরীহ জনগণকে হত্যার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সিরিয়া আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় গৃহীত প্রস্তাবগুলো যেন কার্যকর করা হয়। বিশেষ করে সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেদেশের উত্তরাঞ্চলীয় ‘রিফাল হাস্কা ’য় নিরীহ জনতার ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় জাতিসংঘ ও নিরাপত্তা পরিষদের কাছে পৃথক পৃথকভাবে চিঠি দিয়েছে। ওই চিঠিতে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় গৃহীত প্রস্তাবগুলো বিশেষ করে ২১৭০, ২১৭৮ এবং ২১৯৯ নম্বর প্রস্তাব বাস্তবায়ন করার আবেদন জানিয়ে বলা হয়েছে এসব প্রস্তাব যেন কাজির গরুর মতো কেতাবেই আবদ্ধ না থাকে। জাতিসংঘ মহাসচিব এবং নিরাপত্তা পরিষদের প্রধানের কাছে লেখা পৃথক পৃথক চিঠিতে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বিস্তারে সিরিয়ার বিরোধিতার কথা উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠিগুলোকে দমন করার ক্ষেত্রে তারা যেন সিরিয়াকে সহযোগিতা করে।
সিরিয়ার সংসদ স্পিকারও এ ব্যাপারে পশ্চিমাদের নীতি পুনর্বিবেচেনার আহ্বান জানিয়েছে। স্পিকার জিহাদ-উল-লাহাম লেবাননের দৈনিক ‘আস-সাফির’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফরাশি সংসদীয় প্রতিনিধি দলের সিরিয়া সফরের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন. তাদের ওই সফর সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য এই বার্তাই বহন করছে যে পশ্চিমাদের উচিত তাদের নীতি পুনর্মূল্যায়ন করা।
জিহাদ-উল-লাহাম বলেন আন-নুসরা ও আইএসআইএলের মতো সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সিরিয়া সরকারের সাথে পশ্চিমাদের আলোচনা করা এবং সহযোগিতা করার সময় এসেছে।
ফ্রান্সের সংসদ সদস্যরা সিরিয়ার প্রেসিডেন্টকে সেদেশের সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। সংসদ সদস্য জ্যাক মেয়ার লেবানন সফরের পর সিরিয়া সফরে গিয়ে আবারও বলেছেন বিশ্ব সমাজের উচিত সিরিয়া সংকট নিরসনে প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদের সাথে সহযোগিতা করা। জ্যাক মেয়ার আরও বলেন সিরিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যেহেতু পরিবর্তন এসেছে তাই সেদেশের সংকট নিরসনের ক্ষেত্রে বাশার আসাদের উপস্থিতির প্রয়োজন রয়েছে। কিছুদিন আগে মার্কিন একটি প্রতিনিধি দলও দামেশকে সিরিয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ আলাপ আলোচনা করেছেন। মার্কিন সাবেক আইনমন্ত্রী রামযি ক্লার্ক বাশার আসাদের রাজনীতি ও গণমাধ্যম বিষয়ক উপদেষ্টা বাসিনে শাবানের সঙ্গে সাক্ষাতে সিরিয় সরকার ও জনগণের সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াইয়ের প্রশংসা করেন। মজার ব্যাপার হলো ফ্রান্স এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশই বাশার আসাদের পতনের পক্ষে ছিল। সেই দেশ দুটির প্রতিনিধিরা একসঙ্গে সিরিয়া সফর করার কারণে রাজনীতি বিশ্লেষকদের দৃষ্টি সহজেই আকৃষ্ট হয়েছে।
সম্প্রতি সিরিয়া বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত স্টিফেন ডি মাস্তুরা বলেছিলেন সিরিয়া সংকট নিরসনে বাশার আসাদের অংশগ্রহণ জরুরি। তার ওই বক্তব্যের পর ফ্রান্স এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল সিরিয়া সফর করলেন।