মোতা (অস্থায়ি) বিবাহ

মোতা (অস্থায়ি) বিবাহ

মোতা (অস্থায়ি) বিবাহ
এ আমলটি আল্লাহ তায়ালার নির্দেশমত না করায় সমাজের এমন অবক্ষয় যার ফলে আমরা আল্লাহ তায়ালার গজবের দ্বারপ্রান্তে এসে গেছি৷ তা হল নারী-পুরুষের অবৈধ মেলা-মেশা৷ এ সম্বন্ধে আল্লাহ তায়ালার নির্ধারিত আদেশ থাকা স্বত্ত্বেও পূর্ব হইতেই আমাদের সমাজে পতিতাবৃত্তি সামাজিকভাবে বৈধ ছিল৷ যা আল্লাহর আদেশের পরিপন্থী৷ বর্তমানে ধর্মীয়ভাবে অবৈধ পতিতাবৃত্তি উচ্ছেদের ফলে কেন্দ্রীভুত পতিতাবৃত্তি বিকেন্দ্রীকরণ করার ফলে বর্তমানে ওলিতে-গলিতে, রাস্তা-ঘাটে, সমাজের সর্বস্তরে, এমনকি অভিজাত এলাকা বলে পরিচিত সম্মানিতদের এলাকা ইত্যাদি কোথাও আর দুর্গন্ধ ছড়ানের বাকী নেই৷ বর্তমানে ইহা সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে৷

আমরা নারী-পুরুষের অবাধ অবৈধ মেলা-মেশাকে ধর্মীয়মতে, সামাজিকভাবে দুর্গন্ধময় কুর্কীতি বলে আখ্যায়িত করছি৷ আজকের সমাজের যাহারা সম্মানিত তাহাদের সমাজও কলুষিত বলছি৷ এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে যে, নারী-পুরুষের অবাধ অবৈধ মেলা-মেশা যদি এতই ঘৃণ্য বিষয় হয় তাহলে সভ্য, উন্নত, প্রগতিশীল পশ্চিমাবিশ্বে এর ব্যাপক প্রচলন তাহাদের সমাজে কিভাবে বৈধতা লাভ করল? তাহাদের সমাজে সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মিলনের কোন নিয়মের বাধ্যবাধকতা নেই৷ এইজন্যই যে ব্যাপারটি একটি সাধারণ প্রাকৃতিক ব্যাপার৷ প্রকৃতিতেও দেখা যায় সকল জীব-জন্তুর মধ্যে একই নিয়ম প্রচলিত৷ তফাত শুধু জীব-জন্তুর মধ্যে নারী-পুরুষের মেলা-মেশা ও বংশবৃদ্ধির বেলায় শুধু নিয়ম-কানুন বা আইন-শৃংখলার ব্যবস্থা নাই তা নয়, জীব-জন্তুর জন্য অন্য কোন সামাজিক বিষয়েরও কোন নিয়ম-কানুন নাই৷ আর পশ্চিমাবিশ্বে মানুষের সমাজে নারী-পুরুষের মেলা-মেশা ও বংশবৃদ্ধির ক্ষেত্রে নিয়ম-কানুনের কোন বাধ্যবাধকতা না থাকলেও অন্যান্য সামাজিক যাবতীয় কার্যকলাপের আইন-শৃংখলা পদ্ধতি বিধিবদ্ধ আছে৷ আমাদের বা মানুষের সমাজে আইন-শৃংখলার বিধিবদ্ধ নিয়ম-কানুন দুইভাবে বিভক্ত৷ এক সমাজের সুশৃংখল ব্যবস্থাপনার জন্য রচিত সমাজের লোকজন কর্তিক নির্ধারিত৷ দ্বিতীয় ব্যবস্থা হল সৃষ্টিকর্তা কর্তিকপ্রবর্তিত বিধি-বিধান৷ সমাজ কতৃক নির্ধারিত বিধি-বিধান অমান্যকারীর শাস্তি-জেল, জরিমানা এমনকি মৃতু্যদন্ড৷ আর সৃষ্টিকর্তা কর্তিকনির্ধারিত বিধি-বিধান অমান্যকারীর শাস্তি - জেল, জরিমানা, মুতু্দন্ড ছাড়াও অপরাধের কারণে কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যাক্তিগত জিল্লতি, কোন কোন ক্ষেত্রে জাতিগত দুর্ভোগ, নানারকম দুর্যোগ তা ঝড়-তুফান হোক, ভূমিকম্প, বন্যা, ক্ষরা-পীড়িত, মহামারী, অন্যান্য জাতি কর্তিক অপমান-অপদস্ত ইত্যাদি দুনিয়াদারী আযাব যা মূলত আল্লাহ কর্তিকপ্রদত্ত আমল অমান্যকারীদিগকে আমল সংশোধনের তাগিদ হিসাবে নাযিল করেন৷ কারণ আল্লাহ তায়ালার আদেশ অমান্যকারীর মূল সাজা জাহান্নাম যা অতিশয় প্রখর ও অনন্তকাল৷ তবে আল্লাহ তায়ালা কুফরীতে লিপ্ত গোমরাহ জাতিকে তাদের কার্যসমুহ তাদের চোখে আরও সুশোভিত করেন যাতে অধিক অপরাধের ফলে তাহাদের জন্য জাহান্নাম নিশ্চিত হয়৷

অতএব শিল্পন্নোত পশ্চিমাদেশসমুহের এই অবাধ-অবৈধ মেলা-মেশাকে আমরা আদর্শ হিসাবে দেখতে পারিনা৷ কারণ আল্লাহ তায়ালার নির্দেশিত নিয়মের অমান্য করলে কুফরী করা হবে৷ যার ফলশ্রুতি জাহান্নাম৷

আল্লাহ তায়ালা বলেন, "এবং যেসব স্ত্রীলোক অশ্লিল কাজ (ব্যাভিচার) করে তোমাদের পত্নীদের মধ্য হইতে তবে তোমরা ঐ স্ত্রীলোকদের উপর নিজেদের মধ্য হইতে চারি ব্যাক্তিকে সাক্ষী করিয়া লও, অতঃপর যদি তাহারা সাক্ষ্য প্রদান করে তবে তোমরা তাহাদিগকে গৃহে আবদ্ধ করিয়া রাখ ঐ পর্যন্ত যে (হয়) মৃত্যু তাদের অবসান ঘটাইয়া দেয় অথবা আল্লাহ তায়ালা তাহাদের জন্য অন্য কোন পথ নির্ধারণ করেন।(সুরা নিসা-১৫)
আর যে দুই ব্যাক্তি তোমাদের মধ্য হইতে এই নিলজ্জতার কাজ করিবে তবে তাহাদিগকে কষ্ট প্রদান কর অনন্তর যদি তাহারা তওবা করেন এবং সংশোধন করিয়া লয় তাহলে তাহাদের পিছনে লাগিয়া থাকিও না নিঃসন্দেহে আল্লাহ তওবা কবুলকারী, করুণাময়। (সূরা নিসা, ১৬)
আল্লাহ বলেন, "ব্যাভিচারী নারী এবং ব্যাভিচারী পুরুষ, তাহাদের প্রত্যেককে একশত দোররা লাগাও এবং আল্লাহ তায়ালার বিধান পালনে তাহাদের উভয়ের প্রতি তোমাদের মনে কণামাত্র দয়া আসা উচিত নহে, যদি তোমরা আল্লাহ তায়ালার প্রতি এবং কিয়ামত দিবসের প্রতি ঈমান রাখ এবং উভয়ের শাস্তি প্রদানকালে মুসলমানদের একদল লোক উপস্থিত থাকা প্রয়োজন। (সূরা নূর, আয়াত নং ২) ব্যাভিচারী পুরুষ, ব্যাভিচারী নারী অথবা মুসরেক নারী ভিন্ন কাহাকেও বিবাহ করে না, এবং ব্যাভিচারিনী নারীকে ব্যাভিচারী পুরুষ অথবা মুসরেক পুরুষ ভিন্ন অন্য কেহ বিবাহ করে না, মুসলমানদের প্রতি এরূপ বিবাহকে হারাম করিয়া দেওয়া হইয়াছে।(সূরা নূর, আয়াত নং ৩)
আর যাহারা কোন সতী রমণীকে (জিনার) অপবাদ দেয় তত্পার প্রত্যক্ষদর্শি চারিজন সাক্ষী উপস্থিত করিতে না পারে তবে এরূপ লোকদিগকে ৮০ দোররা লাগাও এবং তাহাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করিও না, আর ইহারাই হইতেছে ফাসেক।(সূরা নূর, আয়াত নং ৪)
উপরোক্ত আয়াতগুলিতে আল্লাহ তায়ালা ব্যাভিচারকে শাস্তিমূলক অপরাধ হিসাবে বর্ণনা করেন৷ সমাজে ব্যাভিচার বিস্তার লাভ করার মুল কারণ ঘটনাটি একটি প্রাকৃতিক চাহিদা এবং এর বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা, প্রতিরোধ, প্রতিকার ও নিরুত্সা্হিত করার কোন ব্যবস্থা না থাকা, অন্য পক্ষে নেহায়েত প্রয়োজনে কোন বিধিবদ্ধ সামাজিক ও ধর্মীয় বৈধ ব্যবস্থা চালু না থাকা৷

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সুরা নিসার ৩, ২৪, ও ২৫ নং আয়াতে বর্ণনা করেন, "আর যদি তোমাদের এ বিষয়ে আশংকা থাকে যে, তোমরা এতিম বালিকাদের ব্যাপারে সুবিচার করিতে পারিবে না, তাহলে অন্যান্য নারী হইতে যাহারা তোমাদের মনপুত হয় বিবাহ করিয়া লও দুই দুইটি, তিন তিনটি এবং চারি চারিটি নারীকে, অতঃপর যদি তোমাদের এই আশংকা থাকে যে ইনসাফ করিতে পারিবে না তাহলে একই বিবিতে ক্ষান্ত থাকিবে অথবা যে দাসী তোমাদের স্বত্বাধিকারে আছে তাহাই যথেষ্ট৷ এই উল্লেখিত বিধানে অন্যায় না হওয়ার সম্ভাবনাই সমধিক (৩), সুরা নিসা-৪৷ আল্লাহ তায়ালা আরও বর্ণনা করেন, "এবং ঐ স্ত্রীগণ (হারাম করা হইয়াছে) যাহারা সধবা কিন্তু হ্যাঁ যাহারা (ধর্মীয় ব্যবস্থায়) তোমাদের মালিকানাধীন হয়, আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উপর এই ব্যবস্থাসমুহ ফরজ করিয়া দিয়াছেন, আর ঐ নারীগণ ব্যাতীত অন্যান্য নারীদিগকে তোমাদের জন্য হালাল করিয়া দেওয়া হইয়াছে অর্থাৎ তোমরা স্বীয় অর্থের বিনিময়ে তাহাদিগকে (বিবাহ করিতে) চাও, এইভাবে যে, তোমরা পত্নী করিয়া লও-শুধু কাম-প্রবৃত্তি নিবৃত্তির জন্যই নহে, অতঃপর যে পন্থায় তোমরা তাহাদিগকে উপভোগ করিলে তজ্জন্যে উক্ত নারীদিগকে তাহাদের নির্ধারিত মহর প্রদান কর, আর নির্ধারিত হওয়ার পর যে পরিমানে তোমরা পরস্পর সম্মত হইয়া যাও তাহাতে কোন পাপ নাই, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময় (২৪) আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যাক্তি পুর্ণ সামর্থ না রাখে স্বাধীন মুসলমান নারীকে বিবাহ করার, তবে সে নিজেদের মধ্য হইতে মুসলমান কৃতদাসীদেরকে- যাহারা তোমাদের অধিকারে রহিয়াছে বিবাহ করিয়া লইবে, এবং তোমাদের ইমানের সম্যক অবস্থা আল্লাহই জানেন, তোমরা পরস্পর একে অন্যের সমতুল্য সুতরাং তাহাদিগকে তাহাদের মালিকের অনমুতিক্রমে বিবাহ কর এবং তাহাদিগকে তাহাদের মহর নিমানুযায়ী দিয়া দাও এই হিসাবে যে তাহারা বিবাহিতারুপে গৃহীত হইয়াছে এই হিসাবে নহে যে তাহারা প্রকাশ্যে ব্যাভিচারী বা গুপ্ত প্রেমিকা, অনন্তর যখন ঐ কৃতদাসীগণ বিবাহিতা পত্নী হইয়া যায়, অতঃপর যদি তাহারা জঘন্য অশ্লিল কাজ করে তাহলে তাহাদের জন্য ঐ শাস্তির অর্ধেক শাস্তি হইবে যাহা স্বাধীনা নারীদের হইয়া থাকে, ইহা (কৃতদাসীকে বিবাহ করা) ঐ ব্যাক্তির জন্য যে তোমাদের মধ্যে ব্যাভিচারে (লিপ্ত হওয়ার) আশংকা করে, এবং দাসীদিগকে বিবাহ করা অপেক্ষা তোমাদের সংযমী হওয়া অতি উত্তম, আর আল্লাহ অতিব ক্ষমাপরায়ণ, পরম করুণাময় (২৫), সুরা নিসা-৪৷ সুরা নিসার ২২ ও ২৩ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বিবাহ নিষিদ্ধ এমন সম্বন্ধীয় নারীদের বর্ণনা দিয়েছেন অর্থাৎ এই সমস্ত নারীগণ বাদে অন্য সব নারীকে বিবাহ হালাল৷ ২৪ নং আয়াতের প্রথমেই বলা হয়েছে যে, সধবা স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য হারাম৷ সুরা বাকারার ২৩৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে যে, তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীগণকে ইদ্দত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বিবাহের প্রস্তাব নিশ্চিতভাবে দেওয়া নিষেধ৷ সে ক্ষেত্রে সধবা স্ত্রীকে বিবাহের প্রশ্নই ওঠেনা৷ বরং এখানে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, সধবা স্ত্রীলোকদের সঙ্গে যে কোন ভাবেই মিলিত হওয়া হারাম৷ এমনকি সধবা স্ত্রীদের জন্য অবৈধ মিলনের শাসত্মি আমৃত বন্দী (১৫), সুরা নিসা-৪৷ এর প্রধান কারণ হিসাবে বলা যায় সধবা স্ত্রী অন্য পুরুষের সহিত অবৈধ মিলনের ফলে সন্তান লাভ করলে সন্তানের পিতা সনাক্ত করা দুরহ৷ অতঃপর বলা হয়েছে যে, ঐ নারী অর্থাৎ সম্বন্ধের কারণে যাহারা বিবাহে হারাম এবং সধবা স্ত্রী, এদের সঙ্গে বিবাহ ছাড়াও মিলনের অন্য কোন বৈধ পথ নাই৷ এছাড়া অন্য নারীদেরকে দুইভাবে উপভোগ বৈধ প্রথমত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে, দ্বিতীয়ত অর্থের বিনিময়ে৷ অর্থের বিনিময়ে উপভোগের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে, শুধু কাম-প্রবৃত্তি নিরসনের জন্যই নয় বরং পত্নী করিয়া লও৷ এখানে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, অর্থের বিনিময়ে দায়িত্বহীনভাবে মিলিত হইওনা বরং দায়িত্ব সহকারে মিলিত হও এ কথার অর্থ বুঝান হয়েছে যে, মিলনের ফলে সন্তান জন্মলাভ করলে সে সন্তানের পিতৃ পরিচয় বহন করা কোন মুসলিমের সন্তান যেন জারজ সন্তানের অপবাদ বহন না করে৷ অথবা লোক সমাজের ভয়ে সদ্যজাত শিশুকে ময়লা-আবর্জনার স্তুপে ফেলে দিতে না হয় অথবা শ্বাসরোধ করে হত্যা করা অথবা অন্য কোন উপায়ে হত্যা করতে না হয়, যা লোকমুখে শুনা যায়৷ আল্লাহ বলেন, " আর যদি তোমরা তাহাদের পিতৃগণের পরিচয় না জান, তবে তাহারা তোমাদের ধর্মীয় ভাই এবং তোমাদের বন্ধু (৫) আহযাব-৩৩৷
একই সঙ্গে মিলনের ফলে সন্তান জন্ম নিলে আর উক্ত নারীকে তালাক প্রদান করলে তালাকের বিধান অনুযায়ী সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত ইদ্দতকাল পূরণ কর এবং স্ত্রীলোকটির ভরণ-পোষণের দায়িত্ব গ্রহন কর অথবা তালাক প্রদান করলে তালাকের বিধান অনুযায়ী তিন ঋতু পর্যন্ত ইদ্দত পূরণ করার মাধ্যমে নিশ্চিত হও যে নারীটি সন্তানহীন৷ এরূপ তালাকের ক্ষেত্রে মহর প্রদানের বিধান বর্ণিত হয়েছে যে, "তোমাদের প্রতি কোন (মহরের) দায়িত্ব নাই যদি তোমরা এরূপ অবস্থায় তালাক দাও যে, তাহাদিগকে স্পর্শ কর নাই আর তাহাদের জন্য কোন মহরও ধার্য কর নাই, এবং তাহাদিগকে ফায়দা পৌছাও স্বচ্ছল ব্যাক্তির জিম্মায় তাহার অবস্থা অনুযায়ী এবং অভাবগ্রস্থ ব্যাক্তির জিম্মায় তাহার অবস্থানুযায়ী- এক বিশেষ রকমের ফায়দা (জামাজোড়া) পৌছান যাহা যথারীতি সদাচারিদের উপর ওয়াজেব।(সূরা বাকারা, আয়াত নং ২৩৬)
আর যদি তোমরা এ স্ত্রীলোকদিগকে তালাক দাও তাহাদিগকে স্পর্শ করিবার পূর্বে এবং তাহাদের জন্য কিছু মহরও নির্ধারণ করিয়াছিলে, তাহা হইলে তোমাদের নির্ধারিত মহরের অর্ধাংশ, হ্যাঁ যদি ঐ স্ত্রীগণ মাফ করিয়া দেয় অথবা সেই ব্যাক্তি (স্বামী স্বেচ্ছায় পূর্ণ মহর দেওয়া) অনুগ্রহ করে যাহার হাতে বিবাহের বন্ধন রহিয়াছে আর তোমাদের জন্য ক্ষমা করিয়া দেওয়া পরহেজগারীর অধিক নিকটবর্তী তোমরা পরস্পরের প্রতি উদারতা প্রদর্শনের শৈথল্য করিওনা, নিঃসন্দেহে আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় কার্যসমুহ প্রত্যক্ষ করেন। (সূরা বাকারা, আয়াত নং ২৩৭)
আল্লাহ তায়ালা আরও বর্ণনা করেন, "হে মুমিনগণ তোমরা যদি মুমিন নারীদিগকে বিবাহ কর তত্প র তাহাদিগকে স্পর্শ করিবার পূর্বেই তালাক দাও, তবে তোমাদের জন্য তাহাদের উপর কোন ইদ্দত নাই যাহা তোমরা গণনা করিবে, সুতরাং তাহাদিগকে কিছু মোতা প্রদান কর এবং সত্ভােবে তাহাদিগকে বিদায় করিয়া দাও। (সূরা আহযাব, আয়অত নং ৪৯ )

সুরা নিসার ২৫ নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে যে, যাহাদের স্বাধীন নারীকে বিবাহের সামর্থ নাই অর্থাত্‍ সাধারণত যেভাবে বিবাহ করা হয় এমন সামর্থ নাই অথচ ব্যাভিচারের আশংকা করে সে ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে, দাসীদিগকে বিবাহ কর তাহাদের মালিকের অনুমতিক্রমে৷ এখানে বিশেষভাবে সাবধান করা হয়েছে যে, ব্যাভিচার বা উপপতি হিসাবে নয়৷ উপপতি অর্থাত্‍ কৃতদাসীরা নিজ নিজ মালিকের জন্য হালাল ছিল৷ সে ক্ষেত্রে দাসী বিবাহ যেন এমন না হয় যে কেহ দাসী বিবাহ করল আবার তার মালিকও বৈধ রইল এমন যেন না হয়৷ এখানেও দ্বৈত পুরুষের মিলনের ক্ষেত্রে সন্তানের পিতার পরিচয় অনিশ্চিত হয়ে যায় বিধায় সাবধান করা হয়েছে৷ যেমন বলা হয়েছে সাধবা স্ত্রীদের ক্ষেত্রে হারাম অন্য যে কোন পুরুষ যে কোন ভাবে৷ আবার এ পরামর্শও দেওয়া হয়েছে যে, দাসী বিবাহ অপেক্ষা সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করাই উত্তম৷

উপরোক্ত আয়াতের বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, অর্থের বিনিময়ে পছন্দমত নারীকে পত্নী করে নাও, নেহায়েত কাম-প্রবৃত্তির উদ্দেশ্যে নয়৷ ধৈর্যধারণ করতে না পারলে দাসী হলেও পত্নী করে নাও উপপতি হিসাবে নয়৷ স্পর্শ করার আগেই তালাকের বিধান, মহর নির্ধারিত থাকলে এবং মহর নির্ধারিত না থাকলে এর ইদ্দত পূরণের প্রয়োজনীয়তা কখন থাকবে বা থাকবেনা ইত্যাদি বিধানসমুহ স্বাধীন সম্মানিত সমমর্যাদার নারীদের বিবাহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া স্বাভাবিক নয়৷ অতএব উপরোক্ত আয়াতে নেহায়েত প্রয়োজনে ব্যাভিচারের প্রয়োজনের বিপরীতে ধর্মীয় বিধান বর্ণিত হয়েছে৷ যে ব্যবস্থাপনাকে শরীয়তের ভাষায় 'মুতাআলনেছা' বলা হয়৷ জানা যায় যে কোরআনে বর্ণিত প্রয়োজনে স্বল্পকালীন বিবাহ প্রথা নবী করিম (সাঃ) এর আমলে পালিত হয়েছে৷ আর হওয়াই স্বাভাবিক কারণ বিধানটি আল্লাহ তায়ালা কর্তিকবিধিবদ্ধ৷ যা খলিফা হযরত আবু বক্কর’এর আমল পেরিয়ে খলিফা হযরত ওমর’এর আমল পর্যন্ত পালিত হয়৷ হযরত ওমর’এর খিলাফতকালে আমলটি রদ করা হয়৷ আমলটি যেহেতু আল্লাহ কর্তিকবিধিবদ্ধ সেহেতু এর বিপরীত কিছুতে আমাদের অমঙ্গল অনিবার্য৷ তা এই জগতের জন্যই হোক অথবা পরকালের জন্য৷ পিতা-মাতার অবৈধ মিলনে জন্মলাভের পর পিতা-মাতা কর্তিকসদ্যজাত, নিস্পাপ, নিরাপরাধ শিশুহত্যা কি বিনা বিচারে পার হয়ে যাবে ? কখনও নয়৷ আর দুনিয়ার স্বল্পকালীন সুখভোগের পরিবর্তে অনন্তকালের জাহান্নামের আগুন কিছুতেই সুখকর হতে পারে না৷

আল্লাহ বলেন "আর যদি তোমাদের এ বিষয়ে আশংকা থাকে যে, তোমরা এতিম বালিকাদের ব্যাপারে সুবিচার করিতে পারিবে না, তাহলে অন্যান্য নারী হইতে যাহারা তোমাদের মনপুত হয় বিবাহ করিয়া লও দুই দুইটি, তিন তিনটি ও চারি চারটি নারীকে, অতঃপর যদি তোমাদের এই আশংকা থাকে যে ইনসাফ করিতে পারিবে না তাহলে একই বিবিতে ক্ষান্ত থাকিবে অথবা যে দাসী তোমাদের স্বাত্বাধিকারে আছে তাহাই যথেষ্ট এই উল্লেখিত বিধানে অন্যায় না হওয়ার সম্ভবনাই সমধিক।(সূরা নিসা, আয়াত নং ৩)
আল্লাহ তায়ালা আরও বর্ণনা করেন যে, "আর মানুষ আপনার নিকট নারীদের (মিরাজ ও মহর) সম্বন্ধে বিধান জিজ্ঞাসা করে৷ আপনি বলিয়া দিন, আল্লাহ তাহাদের সম্পর্কে তোমাদিগকে (ঐ পূর্ব ব্যবস্থা দিতেছেন এবং সেই আয়াতগুলিও যাহা কিতাবের মধ্যে তোমাদিগকে পাঠ করিয়া শুনানো হইয়া থাকে যাহা ঐ এতিম নারীদের সম্বন্ধে (নাযিল হইয়াছে) যাহাদিগকে তোমরা তাহাদের নির্ধারিত স্বত্ব প্রদান করনা এবং যাহাদিগকে বিবাহ করিতে ঘৃণা কর এবং (ঐ আয়াতগুলিও) দুর্বল শিশুদের সম্বন্ধে - এই সম্বন্ধে যে এতিমদের (যাবতীয়) কার্য ন্যায়ের সহিত সম্পাদন কর, আর তোমরা যে কোন কাজ কর নিশ্চয়ই আল্লাহ উহা খুব জানেন।(সুরা নিসা, আয়াত নং ১২৭)

উক্ত আয়াতে আল্লাহ তায়ালা সাবধান করেন যে, এতিম বালিকাদের বিবাহ করিতে তোমরা ঘৃণা কর৷ অর্থাত্‍ এতিম বালিকাদের ধন-সম্পদের লোভে অন্যত্র বিবাহ না দিয়ে অন্যায়ভাবে তাহাদেরকে ভোগ কর অথবা ঘৃণাভরে বিবাহ কর অথচ স্ত্রীর পূর্ণমর্যাদা দেওনা৷ অতঃপর সুরা নিসার ৩নং আয়াতে আল্লাহ সাবধান করে বলেছেন যে, তোমরা যদি এতিম বালিকাদের প্রতি সুবিচার করিতে না পার তাহলে অন্যান্য নারী যাদেরকে তোমরা পছন্দ কর বিবাহ কর৷ আবার বলা হয়েছে যে তোমরা যদি এক নারীতে তৃপ্ত না হও তাহলে একের অধিক এমনকি চারজন পর্যন্ত বিবাহ কর৷ যাতে তোমাদেরকে নারী সংক্রান্ত কামনা-বাসনায় আল্লাহ প্রদত্ত সীমা লংঘন না কর, বা সীমা লংঘন করতে না হয়৷ আবার একাজও করোনা যে, ভোগের লালসায় একের অধিক নারীকে বিবাহ করলে অথচ সমতা রক্ষা করতে পারলে না৷ সেক্ষেত্রে এক নারীতেই সন্তুষ্ট থাক৷ আল্লাহ তায়ালা এই সমস্ত বিধানের কোনরকম পরিবর্তন না করার তাগিদ দিয়ে বর্ণনা করেন যে, "বরং এই জালিমরা প্রমাণ ব্যাতিত নিজেদের প্রবৃত্তি অনুসরণ করিয়া চলিয়াছে, সুতরাং আল্লাহ যাহাকে পথভ্রষ্ট করেন তাহাকে কে সু-পথে আনিবে ? আর তাহাদের কোন সহায়কও হইবে না (২৯) অতএব তোমরা একনিষ্টভাবে স্ব-স্ব লক্ষ্য এই ধর্মের প্রতি রাখ, আল্লাহ প্রদত্ত (সত্য উপলদ্ধির) সেই যোগ্যতা অনুসরণ করিয়া চলো, যাহার উপর আল্লাহ তায়ালা মানবকে সৃষ্টি করিয়াছেন, আল্লাহর সৃষ্ট সেই বস্তুকে পরিবর্তন করা উচিত্‍ নহে, যাহার উপর তিনি সমস্ত মানুষকে সৃষ্টি করিয়াছেন, ইহাই হইতেছে সরল ধর্ম কিন্তু অধিকাংশ লোকই জানেনা (৩০), সুরা রোম-৩০৷ এখানে সরল ধর্ম বলতে আল্লাহ তায়ালা কর্তিকমানুষের জন্য নির্ধারিত বিধি-বিধানকেই বুঝান হয়েছে, যাহার পরিবর্তন করা উচিত নহে৷ অর্থাত্‍ আল্লাহর বিধি-বিধান পরিবর্তন ইহকাল ও পরকালের জন্য অর্থাত্‍ উভয়কালের জন্য অমঙ্গল৷

ব্যাভিচারের পরিবর্তে কোরআনের বিধানের বর্ণনা অনুযায়ী বুঝা যায় যে, যে সমসত্ম পুরুষ একাধিক নারীর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে তাহাদের জন্য বলা হয়েছে যে, তোমরা বিবাহ কর একের অধিক এমনকি প্রয়োজনে চারজন নারীকে৷ আর তোমরা অর্থের বিনিময়েও নারীদিগকে ভোগ করিতে পার তবে শুধু কাম প্রবৃত্তি নিরসনের জন্যই নয়, বরং দাসীকে হইলেও পত্নী করিয়া লও তাহাদের মালিকের অনুমতিক্রমে৷ আবার তালাকের বিধান বর্ণনা করা হয়েছে যে, স্পর্শ করার আগেই তালাক দিলে মোহর প্রদান বাধ্যতামূলত নহে যদি মহর নির্ধারিত না থাকে আর মোহর নির্ধারিত থাকলে অর্ধেক এবং ইদ্দত পুরণের প্রয়োজন নাই৷ এতে বুঝা যায় যে, বিবাহের বিষয়টি সাধারণ বিবাহের মত দীর্ঘ সময়ের জন্য নহে৷ এখানে বিবাহিত জীবন সাধারণ স্বাধীনা মহিলাদের বিবাহের মত অনির্দিষ্ট কালের জন্য নহে৷ অর্থাত্‍ বিবাহিত জীবনের সময় নির্ধারিত নির্দিষ্ট মহরের বিনিময়ে৷ তবে কোরআনের ভাষ্য অনুযায়ী মহর নির্ধারিত নাও হতে পারে৷ এরূপ বিবাহের স্বাক্ষীগণ নির্দিষ্ট সময়ের সম্বন্ধেও জ্ঞাত থাকবেন৷ আমাদের বর্তমান সময়ে বিবাহ কাজী কর্তিকরেজিষ্ট্রী করা থাকে৷ এমতাবস্থায় রেজিষ্ট্রী দলিলে বিবাহিত জীবনের সময়কাল এবং মহরের বিষয়ের উল্লেখ থাকতে হবে৷ তালাকের বেলাতেও কাজী অফিস কর্তিকনিয়মিতভাবে সম্পাদন করতে হবে৷ তালাকের ক্ষেত্রে সাধারণ তালাকের নিয়ম প্রযোজ্য স্পর্শ করার পর৷ একজন পুরুষ সর্বোচ্চ চারজন নারীর মধ্যে যে কোন সংখ্যক নারী স্থায়ী বিবাহ বন্ধনে রাখতে পারে অবশিষ্ট জনকে নির্ধারিত সময়ের জন্য মহরের পরিমাণ ও সময়ের ব্যাপারে উভয়ের সম্মতিক্রমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ রাখতে পারে৷ অর্থাত্‍ একজন স্বাধীনা স্থায়ী, তিনজন দাসী অস্থায়ী৷ দুইজন স্বাধীনা স্থায়ী, দুইজন দাসী অস্থায়ী৷ তিনজন স্বাধীনা স্থায়ী, একজন দাসী অস্থায়ী৷ চারজন স্বাধীনা স্থায়ী অথবা চারজনই দাসী অস্থায়ী৷

সমাজে ব্যাভিচারের ব্যাপকতার কারণ এবং এর প্রতিকারের জন্য কোরআনের আলোকে ব্যাভিচারের পরিবর্তে বিধিবদ্ধ ব্যবস্থা সম্বন্ধে আলোচনা আমরা এখানেই শেষ করব৷
সূত্রঃ ইন্টারনেট