ইমাম মূসা কাযিম (আ.) এর হাদীস- ৮

ইমাম মূসা কাযিম (আ.) বলেছেনঃ তিন প্রকারের মানুষ কেয়ামতের দিনে খোদার আরশের ছায়ায় অবস্থান করবে যখন খোদার আরশের ছায়া ব্যাতিত অন্য কোন ছায়া সেখানে থাকবে নাঃ যে তার মুমিন ভাইয়ের বিবাহের জন্য সাহায্যে করবে অথবা তার জন্য কোন সাহায্যেকারীর ব্যাবস্থা করবে অথ

ইমাম মূসা কাযিম (আ.) এর হাদীস- ৮
ثَلَاثَةٌ يَسْتَظِلُّونَ‏ بِظِلِّ عَرْشِ اللَّهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ رَجُلٌ زَوَّجَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ أَوْ أَخْدَمَهُ أَوْ كَتَمَ لَهُ سِرّاً
ইমাম মূসা কাযিম (আ.) বলেছেনঃ তিন প্রকারের মানুষ কেয়ামতের দিনে খোদার আরশের ছায়ায় অবস্থান করবে যখন খোদার আরশের ছায়া ব্যাতিত অন্য কোন ছায়া সেখানে থাকবে নাঃ যে তার মুমিন ভাইয়ের বিবাহের জন্য সাহায্যে করবে অথবা তার জন্য কোন সাহায্যেকারীর ব্যাবস্থা করবে অথবা তার গোপনীয় বিষয়াবলি প্রকাশ করবে না। (আল খেসাল, অধ্যায় ৩, হাদীস ১৬২)
উক্ত হাদীসে একজন মুমিন ভাইয়ের বিবাহ সম্পাদনে সাহায্যে করার জন্য বলা হয়েছে। আমরা যদি হাদীসের এই কথাটির প্রতি ভালভাবে দৃষ্টিপাত করি তাহলে দেখতে পাই যে, বিবাহের অনেক ভাল দিক রয়েছে যেমনঃ
- পরিপূর্ণতাঃ মানুষ এককভাবে কখনই পরিপর্ণূতা অর্জন করতে পারে না। কেননা প্রত্যেকটি মানুষের মধ্যে কোন না কোন ত্রুটি রয়েছে। আর বিবাহ মানুষের সেই অপূর্ণাঙ্গতাকে পূর্ণতা দান করে।
- আত্মিক প্রশান্তিঃ আর এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সংগিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। (সূরা রুম, আয়াত নং ২১)
- ভবিষ্যত প্রজন্মঃ যা একটি জাতীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা যদি একটি জাতী শিক্ষিত এবং ভাল হয় তাহলে সে জাতী উন্নতী চরম শিখরে অবস্থান করে। একজন সুসন্তান তার বাবা মায়ের জন্য দুনিয়া এবং আখেরাতে সুফল বয়ে নিয়ে আসে।
উক্ত হাদীসে মানুষকে সাহায্যে করার জন্য তাকিগ করা হয়েছে। চাই তা বিবাহের ক্ষেত্রে হোক অথবা অন্য কোন বিষয়ে। যেমনভাবে কোরআনে বর্ণিত হয়েছেঃ
তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ন, তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।(সূরা নূর, আয়াত নং ৩২)

অপররে গোপনীয়তা রক্ষা করাঃ ইমাম আলী (আ.) থেকে হাদীস বর্ণিত হয়েছে তিনি বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের গোপনীয়তাকে বন্দী করে রাখ কেননা যদি তা প্রকাশ করে দাও তাহলে তুমি তার বন্দী হয়ে যাবে। (গোরারুল হেকাম, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৩৭)
গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে খোদা, নবী এবং সৎ বান্দাদের আদর্শের স্বরূপ। তাই আমাদেরও ‍উচিত কেয়ামতের দিনে খোদার আরশের ছায়ার নিচে আশ্রয় পাওয়ার জন্য উল্লেখিত তিনটি কাজকে নিজের জীবনে বাস্তবায়িত করা।