ইমাম মূসা কাযিম (আ.) এর হাদীস- ৫

ইমাম মূসা কাযিম (আ.) বলেছেনঃ কৃপণ ব্যাক্তি হচ্ছে সে যে, খোদা যা ওয়াজিব করেছেন তা সম্পাদনে কার্পণ্যতা করে। (তোহফুল উকুল, পৃষ্ঠা ৪৩১, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৭৩, পৃষ্ঠা ৩০৫, মাআনিল আখবার, পৃষ্ঠা ২৪৬, হাদীস নং ৭) কৃপণতা মানুষের নৈতিকতার বীপরিত একটি কাজ। কিন্ত

ইমাম মূসা কাযিম (আ.) এর হাদীস- ৫
الْبَخِيلُ‏ مَنْ‏ بَخِلَ‏ بِمَا افْتَرَضَ‏ اللَّهُ‏ عَلَيْهِ‏
ইমাম মূসা কাযিম (আ.) বলেছেনঃ কৃপণ ব্যাক্তি হচ্ছে সে যে, খোদা যা ওয়াজিব করেছেন তা সম্পাদনে কার্পণ্যতা করে। (তোহফুল উকুল, পৃষ্ঠা ৪৩১, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৭৩, পৃষ্ঠা ৩০৫, মাআনিল আখবার, পৃষ্ঠা ২৪৬, হাদীস নং ৭)
কৃপণতা মানুষের নৈতিকতার বীপরিত একটি কাজ। কিন্তু তারপরেও কিছু মানুষ এর ধোকাতে পড়ে এবং নিজেদের দুনিয়া ও আখেরাতকে খারাপ করে।
কৃপণ কে?
উক্ত প্রশ্নটি করলেই সাথে সাথে মানুষের মনে যে কথাটি আসে তা হচ্ছে অর্থ যে ব্যায় করে না তাকেই কৃপণ বলে। কিন্তু পবিত্র ইমামদের হাদীসের প্রতি দৃষ্টিপাত করলে দেখতে পাই যেখানে অন্যান্য গুণাবলির লোকদেরকেও কৃপণ বলা হয়েছে যেমনঃ
১- যদি কেউ রাসুল (সা.) এর নাম শুনে অথচ তার প্রতি দুরুদ প্রেরণ না করেঃ
রাসুল (সা.) বলেছেনঃ কৃপণ ব্যাক্তি হচ্ছে সে যার কাছে আমার নাম উচ্চারিত হয় অথচ সে আমার প্রতি দুরুদ প্রেরণ করে না। (ওসায়েলুশ শিয়া, খন্ড ৭, পৃষ্ঠা ২০৬)
২- যে নিজের ওয়াজিব কাজগুলো কে সম্পাদন করে নাঃ
ইমাম কাযিম (আ.) বলেছেনঃ কৃপণ ব্যাক্তি হচ্ছে সে যে, খোদা যা ওয়াজিব করেছেন তা সম্পাদনে কার্পণ্যতা করে।
৩-ইমাম হাসান (আ.) বলেছেনঃ কৃপণ ব্যাক্তি হচ্ছে সে যে, অবৈধ পথে অর্জন করে এবং বৈধ পথে খরচ করে না। (ওসায়েলুশ শিয়া, খন্ড ৯, পৃষ্ঠা ৩৮)
৪- যে সালাম দিতে বখিলতা করে সে হচ্ছে কৃপণ।(ওসায়েলুশ শিয়া, খন্ড ১২, পৃষ্ঠা ৫৭)
৫- যে ব্যাক্তি জাকাত আদায় করে নাঃ
রাসুল (সা.) বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি নিজের মালের জাকাত তার জাতীর মাঝে প্রকাশ্যভাবে বন্টন করে সে কৃপণ না বরং কৃপণ হচ্ছে সে ব্যক্তি যে তার মালের জাকাত তার জাতীর মাঝে বিতরণ করে না বরং তার সম্পদকে অহেতুক খরচ করে। (উসুলে কাফী, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৪৬)
হাদীসে কৃপণদের তিরষ্কার করা হয়েছেঃ
রাসুল (সা.) বলেছেনঃ মুসলমানদের মধ্যে কখনও দুটি গুণ একত্রিত হতে পারে না এক হচ্ছে কৃপণতা এবং অপরটি হচ্ছে চরিত্রহীনতা। (ওসায়েলুশ শিয়া, খন্ড ৯, পৃষ্ঠা ৩৯)
রাসুল (সা.) বলেছেনঃ কৃপণ ব্যক্তি বেহেস্ত থেকে দূরে এবং জাহান্নামের আগুনের নিকটে থাকবে। জ্ঞানী কৃপণ ব্যাক্তির চেয়ে অজ্ঞ দানশীল ব্যাক্তি খোদার কাছে বেশী প্রিয়। (সুনানে তিরমিযি, খন্ড ৮, পৃষ্ঠা ১৪০, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৭৩, পৃষ্ঠা ৩০৮)
একদা রাসুল (সা.) দেখেন যে একজন ব্যাক্তি কাবার পর্দাকে ধরে বলছে হে খোদা আপনি আমার গুনাহকে ক্ষমা করে দিন। রাসুল (সা.) তাকে জিজ্ঞাসা করেন যে তোমার গুনাহ কি? তখন সে বলে আমার গুনাহ অনেক বড় যা বলে শেষ করা যাবে না।
রাসুল (সা.) জিজ্ঞাসা করেনঃ কি তোমার গুনাহ পৃথিবীর চেয়েও বড়?
লোকটি বলেঃ আমার গুনাহ পৃথিবীর চেয়েও বড়।
রাসুল (সা.) জিজ্ঞাসা করেনঃ কি তোমার গুনাহ পাহাড়ের চেয়েও বড়?
লোকটি বলেঃ আমার গুনাহ পাহাড়ের চেয়েও বড়।
রাসুল (সা.) জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমার গুনাহ বড় নাকি সমুদ্র?
লোকটি বলে আমার গুনাহ সমুদ্রের চেয়েও বড়।
রাসুল (সা.) জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমার গুনাহ কি আকাশের চেয়েও বড়?
লোকটি বলেঃ আমার গুনাহ আকাশের চেয়েও বড়।
রাসুল (সা.) জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমার গুনাহ বড় নাকি খেঅদার আরশ?
লোকটি বলেঃ আমার গুনাহ।
রাসুল (সা.) জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমার গুনাহ বড় নাকি খোদা?
লোকটি বলেঃ খোদা হচ্ছেন চীরন্জিবী, মহৎ।
রাসুল (সা.) তাকে বলেন তোমার গুনাহ কি বল?
লোকটি বলেঃ হে রাসুল (সা.)! আমি একজন ধনি ব্যক্তিকিন্তু যখনই আমার কাছে কোন ফকির ভিক্ষা চাইতে আসলে মনে হয় যেন আমার কাছে আগুনের লেলিহান শিখা আসছে।
রাসুল (সা.) তাকে বলেনঃ আমার কাছ থেকে দূর হও এবং আমাদেরকে তোমার ঐ আগুনের অন্তর্ভূক্ত করো না। শপথ ঐ খোদার যিনি আমাকে হেদায়াতের জন্য পাঠিয়েছেন যদি তুমি মক্কায় রুকুন ও মাকামের মাঝে দাড়িয়ে দুই হাজার বছর নামাজ পড়, এত ক্রন্দন কর যে তোমার চোখের পানিতে নহরের সৃষ্টি হয় তবুও খোদা তোমাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। (মোহজেবাতুল বেইযা, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ৭৪, এহইয়াউল উলুম, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ২২১ )
৬- কৃপণ ব্যাক্তির সাথে বন্ধুত্ব করো নাঃ
ইমাম বাকের (আ.) বলেছেনঃ চার প্রকার মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করো নাঃ
- বোকাঃ সে তোমার উপকার করতে যেয়ে ক্ষতি করে দিবে।
- কৃপণঃ তোমার কাছ থেকে নিবে কিন্তু বিনিময়ে তোমাকে কিছুই দিবে না।
- ভীতুঃ তোমাকে এবং তার বাবা মা কে ভয় পাই।
- মিথ্যাবাদিঃ যদি সে সত্যি কথাও বলে কিনউত কেউ তার কথা কে বিশ্বাস করবে না। (ওসায়েলুশ শিয়া, খন্ড ১২, পৃষ্ঠা ৩৪)
কৃপণতার মূল হচ্ছেঃ
১- খোদার মারেফতের প্রতি ঈমানের দূর্বলতা।
২- পার্থিব সম্পদের প্রতি অগাধ ভালবাসা।
৩- পরলৌকিক জীবনের প্রতি ঈমানের দূর্বলতা।
৪- অধিক আশা। (গুরারুল হেকাম, পৃষ্ঠা ২৯২)
কৃপণতা দূরীকরণের পন্থাঃ
১- পরলৌকিক জীবনের প্রতি দৃঢ় ঈমান রাখা।
২- অধিক আশা না করা এবং মৃত্যুকে স্মরণ করা।
কৃপণ ব্যাক্তি সবার কাছে লাঞ্চিত হয় এবং নিজের আখেরাতকে খারাপ করে। কৃপণ ব্যাক্তিকে খোদা এবং তার রাসুল, ইমাম এবং সাধারণ মানুষও পছন্দ করে না। কেননা কৃপণতা হচ্ছে এক প্রকার মনের রোগ যা সারিয়ে তোলা প্রত্যেকটি সুস্থ মানুষের উচিত। আর এতেই মানুষের জন্য মঙ্গল নিহিত রয়েছে।