ইমাম মূসা কাযিম (আ.) এর হাদীস – ৪

قَلِيلُ‏ الْعَمَلِ‏ مِنَ‏ الْعَالِمِ‏ مَقْبُولٌ مُضَاعَفٌ، وَ كَثِيرُ الْعَمَلِ مِنْ أَهْلِ الْهَوى‏ وَ الْجَهْلِ مَرْدُود ইমাম কাযিম (আ.) বলেছেনঃ একজন আলেমের কম আমলকে একজন স্বেচ্ছাচারী এবং জ্ঞানহীন ব্যাক্তির অধিক আমলের তুলনায় বেশী প্রাধান্যতা দান করা হব

ইমাম মূসা কাযিম (আ.) এর হাদীস – ৪
قَلِيلُ‏ الْعَمَلِ‏ مِنَ‏ الْعَالِمِ‏ مَقْبُولٌ مُضَاعَفٌ، وَ كَثِيرُ الْعَمَلِ مِنْ أَهْلِ الْهَوى‏ وَ الْجَهْلِ مَرْدُود
ইমাম কাযিম (আ.) বলেছেনঃ একজন আলেমের কম আমলকে একজন স্বেচ্ছাচারী এবং জ্ঞানহীন ব্যাক্তির অধিক আমলের তুলনায় বেশী প্রাধান্যতা দান করা হবে বা কবুল করা হবে। (আল কাফি, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১৭, তোহফুল উকুল, পৃষ্ঠা ৪০৮)
কোরআনের দৃষ্টিতে আলেমের ফযিলতঃ
১- قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُوْلُوا الْأَلْبَابِ
বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না; তারা কি সমান হতে পারে? চিন্তা-ভাবনা কেবল তারাই করে, যারা বুদ্ধিমান। (সূরা যুমার, আয়াত নং ৯)
২- يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ
তোমাদের মধ্যে যারা ঈমানদার এবং যারা জ্ঞানপ্রাপ্ত, আল্লাহ তাদের মর্যাদা উচ্চ করে দিবেন। (সূরা মুজাদেলা, আয়াত নং ১১)
১- জ্ঞান হচ্ছে তাকওয়ার উৎস এবং খোদাকে ভয়ের কারণঃ
إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاء
আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে জ্ঞানীরাই কেবল তাঁকে ভয় করে। (সূরা ফাতির, আয়াত নং ২৮)
২- আত্মসংযমের মূল উৎস হচ্ছে জ্ঞানঃ
وَقَالَ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ وَيْلَكُمْ ثَوَابُ اللَّهِ خَيْرٌ لِّمَنْ آمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا وَلَا يُلَقَّاهَا إِلَّا الصَّابِرُونَ
আর যারা জ্ঞান প্রাপ্ত হয়েছিল,তার বলল,ধিক তোমাদেরকে,যারা ঈমানদার এবং সৎকর্মী,তাদের জন্যে আল্লাহর দেয়া সওয়াবই উৎকৃষ্ট। এটা তারাই পায়,যারা সবরকারী। (সূরা কেসাস, আয়াত নং ৮০)
৩- ঈমানের উৎস হচ্ছে জ্ঞানঃ
وَيَرَى الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ الَّذِي أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ هُوَ الْحَقَّ وَيَهْدِي إِلَى صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ
যারা জ্ঞানপ্রাপ্ত,তারা আপনার পালনকর্তার নিকট থেকে অবর্তীর্ণ কোরআনকে সত্য জ্ঞান করে এবং এটা মানুষকে পরাক্রমশালী,প্রশংসার্হ আল্লাহর পথ প্রদর্শন করে। (সূরা সাবা, আয়াত নং ৬)
৪- জ্ঞান হচ্ছে শক্তির উৎসঃ
عَلَّمَهُ شَدِيدُ الْقُوَى
তাঁকে শিক্ষা দান করে এক শক্তিশালী ফেরেশতা। (সূরা নাজম, আয়াত নং ৫)
قَالَ الَّذِي عِندَهُ عِلْمٌ مِّنَ الْكِتَابِ أَنَا آتِيكَ بِهِ قَبْلَ
কিতাবের জ্ঞান যার ছিল, সে বলল, আপনার দিকে আপনার চোখের পলক ফেলার পূর্বেই আমি তা আপনাকে এনে দেব। (সূরা নমল, আয়াত নং ৪০)
৫- জ্ঞান হচ্ছে আত্মশুদ্ধির উৎসঃ
رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولاً مِّنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ
হে পরওয়ারদেগার! তাদের মধ্যে থেকেই তাদের নিকট একজন পয়গম্বর প্রেরণ করুণ যিনি তাদের কাছে তোমার আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করবেন, তাদেরকে কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দিবেন। এবং তাদের পবিত্র করবেন। (সূরা বাকারা, আয়াত নং ১২৯)
৬- জ্ঞান হচ্ছে ধৈর্যের উৎসঃ
وَكَيْفَ تَصْبِرُ عَلَى مَا لَمْ تُحِطْ بِهِ خُبْرًا
যে বিষয় বোঝা আপনার আয়ত্তাধীন নয়,তা দেখে আপনি ধৈর্য্যধারণ করবেন কেমন করে? (সূরা কাহফ, আয়াত নং ৬৮)
উক্ত আয়াত থেকে বুঝা যায় যে মানুষের জ্ঞান যতই বৃদ্ধি পাই ততই তার মধ্যে ধৈর্য বৃদ্ধি পায়। এখন একটা প্রশ্ন হতে পারে যে তাহলে আলেম কে যিনি এ সমস্ত গুণাবলির অধিকারী। কোরআনের আয়াত অনুযায়ি আলেম হচ্ছেন
একঃ যিনি জ্ঞান নিয়ে গবেষণা করেনঃ
১- যিনি জ্ঞান অন্বেষণের জন্য পৃথিবী ঘুরে বেড়ায়ঃ
قُلْ سِيرُواْ فِي الأَرْضِ ثُمَّ انظُرُواْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ 11
বলে দিনঃ তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ কর, অতপর দেখ, মিথ্যারোপ কারীদের পরিণাম কি হয়েছে? (সূরা আনআম, আয়াত নং ১১)
قُلْ سِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُجْرِمِينَ 69
বলুন, পৃথিবী পরিভ্রমণ কর এবং দেখ অপরাধীদের পরিণতি কি হয়েছে। (সূরা নমল, আয়াত নং ৬৯)
قُلْ سِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانظُرُوا كَيْفَ بَدَأَ الْخَلْقَ
বলুন, তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং দেখ, কিভাবে তিনি সৃষ্টিকর্ম শুরু করেছেন। (সূরা আনকাবুত, আয়াত নং ২০)
قُلْ سِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ
বলুন, তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ কর এবং দেখ তোমাদের পুর্ববর্তীদের পরিণাম কি হয়েছে। (সূরা রুম, আয়াত নং ৪২)
أَهْلِ الْقُرَى أَفَلَمْ يَسِيرُواْ فِي الأَرْضِ فَيَنظُرُواْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ
তারা কি দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করে না, যাতে দেখে নিত কিরূপ পরিণতি হয়েছে তাদের যারা পূর্বে ছিল ? (সূরা ইউসুফ, আয়াত নং ১০৯)
أَفَلَمْ يَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَتَكُونَ لَهُمْ قُلُوبٌ يَعْقِلُونَ بِهَا أَوْ آذَانٌ يَسْمَعُونَ بِهَا
তারা কি এই উদ্দেশ্যে দেশ ভ্রমণ করেনি, যাতে তারা সমঝদার হৃদয় ও শ্রবণ শক্তি সম্পন্ন কর্ণের অধিকারী হতে পারে? (সূরা হাজ্ব, আয়াত নং ৪৬)
২- পৃথিবীবাসীকে জাগ্রত করাঃ
هُوَ أَنشَأَكُم مِّنَ الأَرْضِ وَاسْتَعْمَرَكُمْ فِيهَا
তিনিই যমীন হতে তোমাদেরকে পয়দা করেছেন, তন্মধ্যে তোমাদেরকে বসতি দান করেছেন। (সূরা হুদ, আয়াত নং ৬১)
৩- পৃথিবীকে সনাক্ত ও আয়ত্ব করতে পরিচারণঃ
هُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ ذَلُولًا فَامْشُوا فِي مَنَاكِبِهَا وَكُلُوا مِن رِّزْقِهِ وَإِلَيْهِ النُّشُورُ
তিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে সুগম করেছেন,অতএব,তোমরা তার কাঁধে বিচরণ কর এবং তাঁর দেয়া রিযিক আহার কর। তাঁরই কাছে পুনরুজ্জীবন হবে। (সূরা মুলক, আয়াত নং ১৫)
৪- খয়রাত এবং বরকতের সন্ধানে পৃথিবীতে বিচরণঃ
وَجَعَلَ فِيهَا رَوَاسِيَ مِن فَوْقِهَا وَبَارَكَ فِيهَا وَقَدَّرَ فِيهَا أَقْوَاتَهَا فِي أَرْبَعَةِ أَيَّامٍ سَوَاء لِّلسَّائِلِينَ
তিনি পৃথিবীতে উপরিভাগে অটল পর্বতমালা স্থাপন করেছেন,তাতে কল্যাণ নিহিত রেখেছেন এবং চার দিনের মধ্যে তাতে তার খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন-পূর্ণ হল জিজ্ঞাসুদের জন্যে। (সূরা সেজদা, আয়াত নং ১০)

وَالْجِبَالَ أَوْتَادًا
এবং পর্বতমালাকে পেরেক? (সূরা নাবা, আযাত নং ৭)
وَالْجِبَالَ أَرْسَاهَا
পর্বতকে তিনি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। (সূরা নাযিআত, আয়অত নং ৩২)
وَإِذَا الْجِبَالُ سُيِّرَتْ
যখন পর্বতমালা অপসারিত হবে। (সূরা তাকভির, আযাত নং ৩)
فَإِذَا النُّجُومُ طُمِسَتْ
অতঃপর যখন নক্ষত্রসমুহ নির্বাপিত হবে। (সূরা মুরসেলাত, আয়াত নং ৮)

وَإِذَا السَّمَاء فُرِجَتْ
যখন আকাশ ছিদ্রযুক্ত হবে। (সূরা মুরসেলাত, আয়াত নং ৯)

وَإِذَا الْجِبَالُ نُسِفَتْ
যখন পর্বতমালাকে উড়িয়ে দেয়া হবে এবং। (সূরা মুরসেলাত, আয়াত নং ১০)
৫- পরিপূর্ণতার পথ খুজে পাওয়াঃ

وَأَلْقَى فِي الأَرْضِ رَوَاسِيَ أَن تَمِيدَ بِكُمْ وَأَنْهَارًا وَسُبُلاً لَّعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ
এবং তিনি পৃথিবীর উপর বোঝা রেখেছেন যে, কখনো যেন তা তোমাদেরকে নিয়ে হেলে-দুলে না পড়ে এবং নদী ও পথ তৈরী করেছেন, যাতে তোমরা পথ প্রদর্শিত হও। (সূরা নাহল, আয়াত নং ১৫)
الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ مَهْدًا وَسَلَكَ لَكُمْ فِيهَا سُبُلًا
তিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে শয্যা করেছেন এবং তাতে চলার পথ করেছেন। (সূরা ত্বাহা, আয়াত নং ৫৩)
وَجَعَلْنَا فِي الْأَرْضِ رَوَاسِيَ أَن تَمِيدَ بِهِمْ وَجَعَلْنَا فِيهَا فِجَاجًا سُبُلًا لَعَلَّهُمْ يَهْتَدُونَ আমি পৃথিবীতে ভারী বোঝা রেখে দিয়েছি যাতে তাদেরকে নিয়ে পৃথিবী ঝুঁকে না পড়ে এবং তাতে প্রশস্ত পথ রেখেছি, যাতে তারা পথ প্রাপ্ত হয়। (সূরা আম্বিয়া, আয়াত নং ৩১)

الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ مَهْدًا وَجَعَلَ لَكُمْ فِيهَا سُبُلًا لَّعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ যিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে করেছেন বিছানা এবং তাতে তোমাদের জন্যে করেছেন পথ, যাতে তোমরা গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পার। (সূরা যুখরুফ, আয়াত নং ১০)

وَاللَّهُ جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ بِسَاطًا আল্লাহ তা’আলা তোমাদের জন্যে ভূমিকে করেছেন বিছানা। (সূরা নূহ, আয়াত নং ১৯)

لِتَسْلُكُوا مِنْهَا سُبُلًا فِجَاجًا
যাতে তোমরা চলাফেরা কর প্রশস্ত পথে। (সূরা নূহ, আয়াত নং ২০)

আমরা উপরে উল্লেখিত আয়াত সমূহ থেকে যে বিষয়টি জানতে পারি তা হচ্ছে যে যদি কেউ প্রকৃত আলেম হতে চাই তাহলে তার করণিয় কি এবং যদি কেউ উক্ত কাজ সমূহ করতে পারে তাহলে অবশ্যই ফেরেস্তারা তার জন্য ক্রন্দন করবে এবং সে হবে জান্নাতবাসী।