কেন আলী ও আহলে বাইতের (আ.) নাম কুরআনে নেই?

পবিত্র কুরআনে আলী (আ.) ও বিশ্বনবী (সা.)'র পরিবারের এবং তাঁর বংশে জন্ম-নেয়া নিষ্পাপ সদস্যবৃন্দ তথা আহলে বাইতের নাম আসেনি? উত্তর: এক ব্যক্তি ইমাম জাফর আস সাদিক (আ.)-'র কাছে প্রশ্ন করেন যে সুরা নিসার ৫৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ, রাসূল এবং উলিল আমরের আনুগত্যের

কেন আলী ও আহলে বাইতের (আ.) নাম কুরআনে নেই?
প্রশ্ন: পবিত্র কুরআনে আলী (আ.) ও বিশ্বনবী (সা.)'র পরিবারের এবং তাঁর বংশে জন্ম-নেয়া নিষ্পাপ সদস্যবৃন্দ তথা আহলে বাইতের নাম আসেনি?
উত্তর: এক ব্যক্তি ইমাম জাফর আস সাদিক (আ.)-'র কাছে প্রশ্ন করেন যে সুরা নিসার ৫৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ, রাসূল এবং উলিল আমরের আনুগত্যের যে কথা বলা হয়েছে, এর অর্থ কী?
উত্তরে ইমাম বলেছেন, এখানে উলিল আমর বলতে আল্লাহ আমাদের তথা আহলে বাইতকে বুঝিয়েছেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত আমাদের আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন।
তাঁর কাছে আরো প্রশ্ন করা হয়েছিল, কেন পবিত্র কুরআনে আলী (আ.) ও আহলে বাইতের নাম আসেনি?
উত্তরে ইমাম জাফর আস সাদিক (আ.) বলেছেন," আল্লাহ কুরআনে নামাজের কথা বলেছেন, কিন্তু তিনি তো এটা বলে দেননি যে কয় রাকাত নামাজ পড়তে হবে, তিন রাকাত না চার রাকাত। কিন্তু রাসূল (সা.) নামাজ সংক্রান্ত আয়াতের তাফসিরে রাকাতের সংখ্যা বলেছেন। তদ্রূপ রাসূল (সা.)ই হজ্ব ও জাকাতের বিধানগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। যেমন, হজ্বে সাতবার কাবা প্রদক্ষিণ বা তাওয়াফ করা। ঠিক একইভাবে রাসূল (সা.)'র দেয়া ব্যাখ্যা বা তাফসির অনুযায়ী সুরা নিসার ৫৯ নম্বর আয়াতে উলিল আমর বলতে আলী এবং হাসান ও হুসাইনকে বোঝানো হয়েছে, যদিও তাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়নি। এরপর বিশ্বনবী (সা.) বলেছেন, আমি যাদের মাওলা বা নেতা আলীও তাদের মাওলা বা নেতা। তিনি মুসলমানদের আরো বলেছেন, "আমি তোমাদেরকে কুরআন ও আহলে বাইতের ব্যাপারে নসিহত করছি, কারণ, আমি আল্লাহর কাছে চেয়েছি যেন এই দুই যেন একে-অপর থেকে বিচ্ছিন্ন না থাকে যে পর্যন্ত তারা হাউজে কাউসারে আমার সঙ্গে মিলিত হয়। আর আল্লাহ আমার এই দোয়া কবুল করেছেন।"
বিশ্বনবী (সা.) আরো বলেছেন," তোমরা আহলে বাইতকে কিছু শেখাতে যেও না। কারণ, তাঁরা তোমাদের চেয়ে জ্ঞানী, তাঁরা তোমাদেরকে হেদায়াতের পথ বা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করবেন না ও বিভ্রান্ত করবেন না।"
বিশ্বনবী (সা.) যদি আহলে বাইতের পরিচয় ও মর্যাদা সম্পর্কে নীরব থাকতেন ও স্পষ্ট করে না বলতেন যে কারা তাঁর আহলে বাইত, তাহলে অন্যরা নিজেদের আহলে বাইত বলে দাবি করত। কিন্তু বিশ্বনবী (সা.) তা স্পষ্টভাবে বলে গেছেন এবং মহান আল্লাহও পবিত্র কুরআনে আহলে বাইতের (তাঁদের সবার প্রতি অশেষ সালাম ও দরুদ বর্ষিত হোক) প্রতি স্বীকৃতি দিয়ে বলেছেন,
হে নবীর আহলে বাইত বা ( তাঁর পরিবারের বিশেষ সদস্যরা !) নিশ্চয়ই আল্লাহ তো চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদের সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে। (সুরা আহজাব-৩৩ নম্বর আয়াত)
[পঁচিশে শাওয়াল হযরত ইমাম জা’ফর আস সাদিক (আ.)'র শাহাদত-বার্ষিকী। তিনি ছিলেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)'র আহলে বাইতের সদস্য হযরত ইমাম বাকির (আ.)'র পুত্র এবং হযরত আলী ইবনে হুসাইন আল জয়নুল আবেদীন (আ.)'র নাতি। তাঁর জন্ম হয়েছিল মদীনায় ৮৩ হিজরির ১৭ ই রবিউল আউয়াল। আব্বাসিয় খলিফা মনসুরের ষড়যন্ত্রে এই মহান ইমামকে বিষ-প্রয়োগের মাধ্যমে শহীদ করা হয়েছিল ১৪৮ হিজরিতে। তাঁর সন্তান ইমাম মুসা কাজেম (আ.) ও নাতি ইমাম মুসা রেজা (আ.)ও আহলে বাইতের সদস্য।
সূত্রঃ রেডিও তেহরান