সুন্নি মাযহাবের দুই ইমামের উক্তিতে ইমাম সাদিক (আ.)

সুন্নি মাযহাবের দুই ইমামের উক্তিতে ইমাম সাদিক (আ.)

সুন্নি মাযহাবের দুই ইমামের উক্তিতে ইমাম সাদিক (আ.)

ইমাম সাদিক, হানাফি, আবু হানিফা, মালেকি, মালেক বিন আনাস, আলী, ফাতিমা, হাসান, হুসাইন, সাজ্জাদ, ইমাম, খেলাফত, ইমামত, মদীনা, জান্নাতুল বাক্বি, মোহাম্মাদ বাকের, বাকেরুল উলুম, Shia, Sunni, Islam, Quran, Karbala, najaf, kufa, mashad, samera, madina, makka, jannatul baqi, kazmain, ali, Fatima, hasan, hussain, mohammad, imam mahdi, ইমাম সাদিক, বাকের, শিয়া, সুন্নী, ইস,Imam, imam sadik, imam sadiq, jannnatul baqi,

ইমাম সাদিক (আ.) এর বরকতময় জীবনের বিভিন্ন দিকের অন্যতম দিক হচ্ছে তার জ্ঞান। অনেক বড় বড় আলেম তার জ্ঞানের প্রশংসায় বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন ও তাঁর সুউচ্চ জ্ঞানের সম্মুখে মাথা নত করতে বাধ্য হয়েছেন এবং তার জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্বের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন।
(১) হানাফি মাযহাবের নেতা ‘আবু হানিফা’ বলতেন : আমি জাফার বিন মুহাম্মাদের চেয়ে অধিক জ্ঞানের অধিকারী কোন ব্যক্তিকে দেখিনি।[যাহাবী, শামসুদ্দীন মুহাম্মাদ, তাযকেরাতুল হুফফাজ, দারুল আহইয়া আত-তুরাসুল আরাবি, বৈরুত কর্তৃক প্রকাশিত, খণ্ড ১, পৃ. ১৬৬]
তিনি আরো বলছেন : যখন ‘মানসুর’ (দাওয়ানেকি) জাফার বিন মুহাম্মাদকে তলব করেছিল, তখন সে আমাকে ডেকে বললো : জাফার বিন মুহাম্মাদ অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্যক্তি। তাকে লাঞ্ছিত করার জন্য বেশ কিছু কঠিন মাসআলা (বিষয়) প্রস্তুত রাখো। আমি ৪০টি কঠিন বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন প্রস্তুত করেছিলাম। তার (মানসুর) সভায় উপস্থিত হয়ে দেখলাম জাফার বিন মুহাম্মাদ তার ডান দিকে বসে আছেন। তাঁর প্রতি আমার চোখ পড়ার পর তার মহত্ব ও গাম্ভীর্যের প্রভাবে এতটাই প্রভাবিত হয়েছিলাম যে, মানসুরকে দেখার পরও আমি এমন প্রভাবিত হইনি।
সালাম করার পর মানসুরের ইশারাতে বসে পড়লাম। মানসুর আমার উদ্দেশ্যে বললো : এ হলো আবু হানিফা। তিনি বললেন : হ্যাঁ তাকে আমি চিনি।
অতঃপর মানসুর আমার উদ্দেশ্যে বললো : হে আবু হানিফা! ‘আবু আব্দুল্লাহ’র (জাফার বিন মুহাম্মাদ) উদ্দেশ্যে তোমার বিষয়াদি পেশ করো।
এ সময় আমি ঐ সকল বিষয়াদি উত্থাপন করা শুরু করলাম। আমি যে প্রশ্নই জিজ্ঞাসা করতাম তিনি এভাবে তার উত্তর দিতেন : এ সম্পর্কে আপনার দৃষ্টিভঙ্গী এরূপ, মদিনার আলেমবৃন্দ এভাবে বলেন এবং আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী হচ্ছে এমন।
কিছু কিছু বিষয়ে তার মত আমাদের আকিদার সাথে মিল ছিল, কিছু কিছু বিষয়ে মদিনার আলেমদের সাথে মিল ছিল, আবার কিছু কিছু বিষয়ে আমাদের উভয়ের সাথে ছিল অমিল।
এভাবে আমি প্রস্তুতকৃত ঐ চল্লিশটি বিষয় তাঁর সম্মুখে উত্থাপন করলাম আর তিনি তার সবটারই জবাব দিলেন। আবু হানিফা এ পর্যন্ত বলার পর ইমাম সাদিক (আ.) এর প্রতি ইশারা করে বললেন : তিনি হলেন জনগণের মাঝে সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তি এবং ফতওয়া ও ফিকাহগত বিষয়ে মতভেদ সম্পর্কে জনগণের মাঝে সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তি। [মাজলিসী, বিহারুল আনওয়ার, আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়া, তেহরান কর্তৃক প্রকাশিত, প্রকাশকাল ১৩৯৫ হিজরী, খণ্ড ৪৭, পৃ. ২১৭; হায়দার আসাদ, আল-ইমাম আস-সাদিক ওয়াল মাযাহিবিল আরবেয়াহ, দারুল কিতাবিল আরাবি, বৈরুত কর্তৃক প্রকাশিত, প্রকাশকাল ১৩৯০ হিজরী, খণ্ড ৪, পৃ. ৩৩৫]

(২) সুন্নি মাযহাবের চারটি প্রসিদ্ধ মাযহাবের অন্যতম মালেকি মাযহাবের ইমাম ‘মালেক বিন আনাস’ বলতেন : আমি কিছুদিন জাফার বিন মুহাম্মাদের নিকট যাতায়াত করতাম। তাকে আমি সর্বদা ৩টি অবস্থার যে কোন একটি অবস্থায় পেয়েছি; তিনি নামায আদায় করতেন বা রোজা রাখতেন অথবা কুরআন তেলাওয়াত করতেন। আর তাকে কখনো ওজু ব্যতীত হাদীস বর্ণনা করতে দেখিনি[ইবনে হাজার আসকালানী, তাহযীবুত তাহযীব, দারুল ফিকর বৈরুত কর্তৃক প্রকাশিত, খণ্ড ১, পৃ. ৮৮]। জ্ঞান, ইবাদত ও পরহেজগারিতার দিক থেকে তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিকে কোন চোখ দেখেনি, কোন কানে শোনেনি এবং কোন অন্তর অনুভব করেনি।[হায়দার আসাদ, প্রাগুক্ত, খণ্ড ১, পৃ. ৫৩]।