ইমাম রেযা (আ.) এর নৈতিক, আধ্যাতিক এবং জ্ঞানগর্ভ বাণী -৩

ইমাম রেযা (আ.) এর নৈতিক, আধ্যাতিক এবং জ্ঞানগর্ভ বাণী -৩

ইমাম রেযা (আ.) এর নৈতিক, আধ্যাতিক এবং জ্ঞানগর্ভ বাণী -৩

ইমাম রেযা, নামাজ, রোযা, গুনাহ, আহলে বাইত, আব্দুল আযিম, খোদা
ইমাম রেযা (আ.) বলেছেনঃ
২১- ইবাদত, বেশী নামাজ পড়া বা বেশী রোযা রাখাকে বুঝায় না বরং খোদার নির্দেশের প্রতি চিন্তা ভাবনা দ্বারা আমল করাই হচ্ছে ইবাদত।
২২- প্রত্যেকটি মানুষের পরম বন্ধু হচ্ছে তার আকল এবং তার চরম শত্রু হচ্ছে তার অজ্ঞতা।
২৩- ইমাম রেযা (আ.) কে সর্বত্তোম বান্দা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ
-যখনই তারা ভাল কাজ করে তখন আনন্দিত হয়।
-যখন গুনাহ করে ক্ষমা প্রার্থনা করে।
-যখন কিছু অর্জন করে তার জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে।
-যখন বীপদে পড়ে তখন ধৈর্য ধারণ করে।
-যখন রাগান্বিত হয় তখন প্রতিপক্ষকে ক্ষমা করে দেয়। (তোহফুল উকুল, পৃষ্ঠা ৪৪৫)
২৪-যে ব্যাক্তি তার পরিবারের জিবীকা নির্বাহের জন্য চেষ্টা করে এবং খোদা তাকে একজন মুজাহিদের ন্যায় তাকে সওয়াব দান করবেন। (তোহফুল উকুল, পৃষ্ঠঅ ৮০৮)
২৫- মানুষের উপর এমন সময় আসে যাতে তার মঙ্গল রয়েছে তার দশটি অংশ রয়েছে: তার মধ্যে নয় অংশ হচ্ছে মানুষের কাছ থেকে নিজেকে দূরে রাখা এবং অপর একটি হচ্ছে নীরবতা অবলম্বন করা।
২৬- কৃপণ ব্যাক্তি কখনও স্বস্তি লাভ করে না এবং হিংসুক কখনও আনন্দিত এবং সুখানুভব করতে পারে না।
২৭- বড় ভাই হচ্ছে পিতার ন্যায়।
২৮- যার লজ্জা নাই তার গীবতে কোন সমস্যা নাই।
২৯- কখনও সৎ কর্ম সম্পাদনের সাথে সাথে আহলে বাইত (আ.) কে ভুলে যাবে না।
আবার কখনও আহলে বাইত (আ.) কে ভালবেসে সৎ কর্ম থেকে বিরত থেক না।
কেননা এই দুইটার মধ্যে কোনটাই এককভাবে গ্রহণ করা হবে না।
৩০- হে আব্দুল আযিম! আমার অনুসারীদেরকে সালাম জানাবে এবং তাদেরকে বলো যে, তারা যেন শয়তানকে প্রশ্রয় না দেয়, তারা যেন সত্য কথা বলে, আমানতদারীতা রক্ষা করে, নীরবতা অবলম্বন করে, বিবাদ এবং অনর্থক তর্কে লিপ্ত না হয়, তাদেরকে আরো বলো যে, তারা যেন একে অপরের সাথে সাক্ষাত এবং যাতায়াত করে কেননা উক্ত কাজগুলো তাদেরকে আমার কাছে আরো ঘনিষ্ট করে দিবে। আমার অনুসারীরা যেন তাদের মূল্যবান সময়কে একে অপরের সাথে শত্রুতা করে অতিবাহিত না করে।
আমি আমার নিজের কাছে ওয়াদা করেছি যে, যদি আমার অনুসারীদের মধ্যে কেউ এমন কোন কাজে লিপ্ত হয় অর্থাৎ যদি কেউ আমার অনুসারীদের মধ্যে কাউকে রাগান্বিত করে তাহলে আমি খোদার কাছে দোয়া করবো যে সে যেন এই দুনিয়াতে বিভিন্ন বীপদের সম্মুখিন হবে এবং আখেরাতেও সে খোদার ক্রোধের সামিল হবে। (খেসাল, পৃষ্ঠা ২৪৭)