ইমাম রেযা (আ.) এর নৈতিক, আধ্যাতিক এবং জ্ঞানগর্ভ বাণী -২

ইমাম রেযা (আ.) এর নৈতিক, আধ্যাতিক এবং জ্ঞানগর্ভ বাণী -২

ইমাম রেযা (আ.) এর নৈতিক, আধ্যাতিক এবং জ্ঞানগর্ভ বাণী -২

ইমাম রেযা, আল্লাহ, উসুলে কাফি, ইমাম, বেলায়াত
১১- যখন মানুষ এক অভূতপূর্ব গুনাহ করবে তখন আল্লাহ তাকে এক অজানা বীপদে নিপতিত করবে। (উসুলে কাফি, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৭৭)
১২- সামর্থবানদের উপরে ওয়াজিব হচ্ছে তারা যেন তার পরিবারের জন্য জীবিকাকে বৃদ্ধি করে।(তোহফুল উকুল, পৃষ্ঠা ৪৪২)
১৩- আল্লাহ তায়ালা হায় হুতাশকারী, সম্পদ বা মাল নষ্টকারী, অতিরিক্ত আশাকারীকে তার দুশমণ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
১৪- একজন বালখবাসী বলেঃ একবার আমি ইমাম রেযা (আ.) এর সাথে খোরাসানের এক সফরে তার সাথে ছিলাম। তিনি একদা তার সাহায্যেকারীদের কে দস্তরখানে খাওয়ার জন্য ডাকেন, তাঁর সাহায্যেকারীরা সেখানে উপস্থিত হয় এবং দস্তরখানে খাবারের জন্য বসে পড়ে। আমি ইমামকে বললাম কি ভাল হতো না, যদি তারা অন্য এক দস্তরখানে খাবারের জন্য বসতো? তিনি বলেন চুপ কর! আমাদের সবার খোদা এক, আমাদের আদি পিতা ও মাতা এক আমাদের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে শুধু আমাদের কর্মের। (কাফি, খন্ড ৮, পৃষ্ঠা ২৩০, আল হায়াত, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২৪৯)
১৫- ইমাম রেযা (আ.) বলেছেনঃ আমাদের সন্তান ও বংশধরদের সাথে সাক্ষাত করা হচ্ছে ইবাদত। আমি ইমামকে আরো জিজ্ঞাসা করলাম যে, কি ইমামদের সাথে সাক্ষাত করাও হচ্ছে ইবাদত? তিনি বলেনঃ রাসুল (সা.) এর সকল সন্তানদের সাথে সাক্ষাত করা হচ্ছে ইবাদত। তবে যদি তারা খোদার রাস্তা থেকে বিচ্যুত না হয়ে যায় এবং নিজেকে গুনাহে লিপ্ত না করে।
১৬- যারাই গুনাহকারীকে ভালবাসবে তাহলে সেও গুনাহ করলো এবং যদি কেউ তার অনুসরণ করে এবং যদি কেউ কোন অত্যাচারীকে সাহায্যে করবে তাহলে সেও হবে অত্যাচারী আর যদি কেউ অত্যাচারীকে অপমাণিত করে তাহলে সে হচ্ছে ন্যায়বান ব্যাক্তি। মহান আল্লাহর কোন শরীক বা আত্মীয় নেই আর যদি কেউ খোদার নিকটবর্তি হতে চাই তাহলে সে যেন আমাদের বেলায়াতকে মেনে নেয়।
১৭- দানি ব্যাক্তি মানুষকে খাদ্য দান করে এবং তার প্রতিদানও সে পাই, কিন্তু কৃপণ ব্যাক্তি কারো খাদ্যও খায় না এবং এর প্রতিদানও সে পায় না। (বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৭১, পৃষ্ঠা ৩৫২, হাদীস নং ৮)
১৮- তোমাদের বয়োজৈষ্ঠদের সম্মান কর এবং আত্মীয়তা রক্ষা কর উক্ত বন্ধনকে শক্তিশালী করার জন্য চেষ্টা করো যেন তারা তোমাদের কাছ থেকে মনক্ষুণ্ণ না হয়।
১৯- ইমাম রেযা (আ.) কে জিজ্ঞাসা করা হয় কি পৃথিবী কখনও ইমাম ব্যাতিত খালি ছিল? ইমাম তার প্রতিউত্তরে বলেনঃ কখনও না। (উয়ুনে অখাবরে রেযা, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২৪৬)
২০- ইমাম রেয়া (আ.) বলেছেনঃ মানুষ কিছু কারণে নিজের সাথে উপহাস করেঃ
- যদি কেউ খোদার কাছে ক্ষমা না চাই এবং এবং নিজের কৃত গুনাহের কারণে অনুতপ্ত না হয় তাহলে সে নিজের সাথে উপহাস করলো।
- যে খোদার কাছে নিজের তৌফিক বৃদ্ধির জন্য দোয়া কামনা করে কিন্তু সে নিজে কোন চেষ্টা করেনা তাহলে সে নিজের সাথে উপহাস করলো।
- যে খোদার কাছে বেহেস্তের কামনা করে কিন্তু দুঃখ এবং কষ্টে ধৈর্য ধারণ না করে তাহলে সে নিজের সাথে বিদ্রুপ করেছে।
- যে দোযখের আগুন থেকে পরিত্রাণের জন্য খোদার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং পার্থিব লোভ লালসাকে ত্যাগ না করে তাহলেও সে নিজের সাথে উপহাস করলো।
- যদি কারো অন্তরে মৃত্যুর চিন্তা আসে কিন্তু তার জন্য সে নিজেকে প্রস্তুত না করে।
- যে ব্যাক্তি খোদাকে স্মরণ করে কিন্তু তার সাথে সাক্ষাতের অভিলাষ তার অন্তরে না থাকে। (বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৭৪, পৃষ্ঠা ৩৫৬)