তেঁতুলের হরেক দাওয়াই

তেঁতুলের হরেক দাওয়াই

তেঁতুলের হরেক দাওয়াই
নাম শুনলেই জিভে জল আসার মতো একটি ফল তেঁতুল। পাকা বা কাঁচা যারা টক পছন্দ করেন তাদের কাছে এর আবেদন রয়েছে সব অবস্থায়ই। এ তেঁতুল হরেক রকম ঔষধি গুনে সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ আঁশ, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। প্রতিদিন ১০-২০ গ্রাম পাকা তেঁতুল খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি মিলবে, সেই সঙ্গে অন্ত্রের স্বাস্থ্য থাকবে নানা রকম ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত। তেঁতুল অম্লীয় প্রকৃতির হওয়ার দরুন পিত্তরসসহ অন্যান্য অ্যানজাইমের নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে বদহজম থেকে দিতে পারে মুক্তি। তেঁতুলে আছে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, কপার, আয়রন, সেলেনিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ। এতে উপস্থিত পটাশিয়াম হূদযন্ত্রের গতি এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে এবং উপস্থিত আয়রন রক্তশূন্যতা রোধ করে।
রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় তেঁতুল। পাকা তেঁতুলের সঙ্গে পেঁয়াজ এবং আদার রস মিশিয়ে খেলে তা ডায়রিয়া, পেটফাঁপা, পেটব্যথা থেকে মুক্তি দিতে পারে। তেঁতুল কৃমিনাশক ও রক্ত পরিষ্কারক হিসেবে ভালো কাজ করে। রোদ লেগে হঠাত্ গরম লাগার মতো সমস্যারও সমাধান হতে পারে তেঁতুল। তেঁতুল গোলানো পানিতে গারগল করলে এটি ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসজনিত প্রদাহের বিরুদ্ধে কাজ করবে। এতে আছে প্রচুর পরিমাণে টারটারিক এসিড তথা ভিটামিন সি, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। দেহের সুরক্ষায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভূমিকা অপরিসীম। কারণ দেহে প্রতিনিয়ত নানা রকম ক্রিয়া-বিক্রিয়ার ফলে উত্পন্ন হয় ক্ষতিকরমুক্ত আয়ন বা ফ্রি রেডিকেল। এগুলো দেহের কোষকে আক্রান্ত করে। ফলে কমে যায় দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা। এছাড়া ক্যান্সার, হূদরোগ, মস্তিষ্কের রোগের মতো রোগ সৃষ্টি করতে পারে। এমনকি ত্বকে বলিরেখার উপস্থিতি তথা বয়সের ছাপ পড়ে যাওয়ার একটি অন্যতম কারণ এই ফ্রি রেডিকেল। ভিটামিন ‘সি’ তথা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এ ফ্রি রেডিকেলের বিরুদ্ধে কাজ করে দেহকে এসব ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত রাখে।
জন্ডিস, যকৃতের সমস্যা, ডায়াবেটিস এমনকি প্যারালাইসিস আক্রান্ত রোগীদের জন্য তেঁতুল উপকারী। কনুই বা হাঁটুর গিটে ব্যথা হলে দ্রুত আরাম পেতে সেখানে লাগিয়ে দিতে পারেন তেঁতুলের শাঁসের প্রলেপ। নানাগুনে সমৃদ্ধ তেঁতুল খেতে বাধা নেই। তবে খেতে হবে পরিমিত পরিমাণে। গর্ভাবস্থায় বা যেসব মায়েরা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন তারা অতিরিক্ত তেঁতুল খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
সূত্রঃ ইন্টারনেট