মনের রোগ কি শিশুদেরও হয়?

মনের রোগ হয় শিশুরও এ কথা হয়ত আমরা অনেকেই জানি না যে শিশুর দেহের রোগের সাথে সাথে মনের রোগও হয় বা হতে পারে। বাংলাদেশে সম্প্রতি চালানো এক জরীপে দেখা গেছে, বড়দের মধ্যে মনের রোগের প্রাদুর্ভাবের চেয়ে শিশুদের মধ্যে মনের রোগের প্রকোপ বেশি। আর এ থেকে বোঝা যাচ

মনের রোগ কি শিশুদেরও হয়?
মনের রোগ হয় শিশুরও এ কথা হয়ত আমরা অনেকেই জানি না যে শিশুর দেহের রোগের সাথে সাথে মনের রোগও হয় বা হতে পারে। বাংলাদেশে সম্প্রতি চালানো এক জরীপে দেখা গেছে, বড়দের মধ্যে মনের রোগের প্রাদুর্ভাবের চেয়ে শিশুদের মধ্যে মনের রোগের প্রকোপ বেশি। আর এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, শিশুর মনের রোগের বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। একে কোনো ভাবেই অবহেলা করার জো নেই। শিশুদের মনের রোগ নিয়ে আলোচনা করেছেন, বাংলাদেশ মনোবিজ্ঞানী সোসাইটির সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. গোলাম রব্বানী।
শিশু সে যতই ছোট হোক না কেনো তারও একটা মন আছে। বয়সী মানুষের মতো শিশুর কচি ও বাড়ন্ত মনেও রোগ হতে পারে এ কথা চট করে অন্যরকম মনে হলেও তা সবার মেনে নিতে হবে। মনোবিজ্ঞানীরা শুন্য বছর অর্থাৎ সদ্য নবজাত শিশু থেকে শুরু করে অনুর্ধ্ব ১৮ বছরের সবাইকে শিশু হিসেবে গণ্য করেন। এ কথাটি আলোচনা একদম শুরুতেই বলে নেয়া ভাল। একজন বড় মানুষ যত সহজে তার সুবিধা - অসুবিধা বা রোগ ব্যাধির কথা বলতে পারেন, তা পারে না একটি শিশু । এ কারণে বেশির ভাগ সময়ে শিশুর মনের রোগের কথা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারেন বা তা সহজে বোঝা যায় না । তবে সম্প্রতি চালানো জরীপে দেখা গেছে, বাংলাদেশের বয়সী মানুষদের মধ্যে ১৬ শতাংশের বেশি মনোরোগে ভুগছে। অন্যদিকে শিশুদের মধ্যে এ রোগের হার ১৮ শতাংশের বেশি। এ জরীপ চালানো হয়েছিল ৫ থেকে অনুর্ধ্ব ১৮ বছর বয়সীদের ওপর।
শিশুর মানসিক রোগ কখন দেখা দিতে পারে সে প্রশ্ন অনেকেই করতে পারেন। হ্যাঁ তার জবাবে বলতে হবে, একটি শিশুর জন্মের আগেই তার মধ্যে মনোরোগ দেখা দেয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। গর্ভে থাকার সময় মায়ের যদি কোনো অসুখ হয়। বা মায়ের ক্রোমোসোমে যদি কোনো অস্বাভাবিকতা থাকে। কিংবা বংশগত বা জন্মগত কোনো সমস্যা যদি মায়ের থাকে তবে সে রোগ বা রোগের প্রভাব গর্ভের সন্তানের ওপর বর্তায়। মায়ের যদি এইডস, সিফিলিস বা অন্যান্য দৈহিক রোগ থাকে তবে তার প্রভাব শিশুর ওপর পড়বে । এ সব কারণে শিশুর মধ্যে মানসিক রোগ দেখা দিতে পারে বা এ সব প্রতিবন্ধী শিশু জন্ম নিতে পারে। তবে মানসিক প্রতিবন্ধী বা লানিং ডিজএবেলিটিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা মনের রোগের মধ্যে ধরেন না। তা যাই্ হোক, সব মিলিয়ে শিশুদের মধ্যে মানসিক রোগ হওয়ার আশংকা বড়দের চেয়ে বেশি। দেহের রোগ হলে নানা ভাবে ঝোঝা যায়। বোঝা যায় রক্ত বা মুত্র পরীক্ষার মতো নানা প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা মাধ্যমে।
কিন্তু মনের রোগ বিশেষ করে শিশুর মনের রোগ বোঝা যাবে কী করে? এমন প্রশ্ন অনেকের মনেই উকিঁ দেয়া স্বাভাবিক। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেন, শিশুর আচরণই তার মনের রোগের কথা প্রকাশ করবে। একটা উদাহরণ দিলেই বিষয়টা পরিস্কার হতে পারে। অতি চঞ্চল কোনো শিশু সে কোথাও গেলে চুপচাপ থাকে না, অহরহ এটাসেটা ধরে টানাটানি করে বা এখানে সেখানে লাফ দিয়ে ওঠার বা বসার চেষ্টা করে। এই আচরণ মোটেও একটি শিশুর জন্য স্বাভাবিক নয়।
শিশুরা স্বাভাবিক ভাবে একটু লাজুক হয়, তারা সহজেই অন্যের জিনিসে হাত দেয় না। কিন্তু শিশুর মধ্যে অতি চঞ্চলতা তার মনের রোগের কথাই বলছে। এটি আচরণগত সমস্যা। এমনটা দেখা দিলে সর্তক হতে হবে। আর একই সাথে স্বাভাবিকের বাইরে কোনো আচারণ শিশুর মধ্যে দেখা দিলে তাকে নিয়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞর সাথে কথা বলা দরকার।
বড়দের যে সব রোগ হয়, অর্থাৎ সিজোফ্রোনিয়া, উদ্বেগ আধিক্য, হতাশার মতো আরো অনেক রোগ -এ সবই শিশুদেরও হতে পারে। এ ছাড়া 'ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুর অন্তরে' তাই শিশুর দৈহিক রোগের প্রতি আমরা যতটা মনোযোগ দেই একই রকম মনোযোগ দিতে হবে শিশুর মনোরোগের প্রতি। কারণ তানা হলে আমাদের আগামি প্রজন্ম মনের রোগী হয়ে উঠবে। যা কোনো ভাবেই কাম্য হতে পারে না। মনোরোগ দেহের রোগের মতই একটি রোগ, তা শিশুর হয় বা হতে পারে। আচরণের মধ্য দিয়ে শিশুর মনের রোগ বিষয়টি টের পাওয়া যায়। তাই কোনো শিশুর আচরণ স্বাভাবিক মনে না হলে তাকে মানসিক ডাক্তার দেখাবেন। একাজে ভয়, লজ্জা বা শরমের কিছু নেই। এ কাজটি আদরের সোনামনির সুস্থতার জন্য করা করতে হচ্ছে এ কথা সবার মনে রাখতে হবে।
সূত্রঃ ইন্টারনেট