হজরত ইমাম হুসাইন (আ.)

হজরত ইমাম হুসাইন (আ.)

হজরত ইমাম হুসাইন (আ.)

হুসাইন, কবর, মাজার, আল্লাহ, ইমাম, শাহাদত, শহীদ, ইতিহাস, রাসুল, আরবী, হারুন, মূসা, জিব্রাইল, আলী  আল্লামা মাজলিসি, ফাতিমা, কুলইনী
জনাব কুলইনী কাফিতে উল্লেখ করছেন যে, ইমাম হুসাইন (আ.) ৩য় হিজরীতে এবং এক বর্নামতে তিনি ৪থ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬১ হিজরীতে  শাহাদত বরণ করেন। তার বাবার নাম হজরত আলী ইবনে আবি তালিব (আ.) এবং মাতার নাম হজরত ফাতিমা যাহরা (সা.আ.)।
ইমাম জাফর সাদিক (আ.) থেকে একটি রেওয়ায়েত বণিত  হয়েছে যে, একবার রাসুল (সা.) এর কাছে হজরত জিব্রাইল (আ.) খোদার পক্ষ থেকে আসেন এবং বলেন যে ইয়া রাসুল আল্লাহ (সা.) আপনার কন্যা ফাতিমা (সা.আ.) এর ঘরে এক সন্তান জন্মগ্রহণ করবে যাকে আপনার উম্মতেরা শহীদ করবে। তখন রাসুল (সা.) বলেন হে জিব্রাইল সেই সন্তানকে যে ফাতিমার ঘরে জন্মগ্রহণ করবে এবং আমার উম্মতেরা তাকে শহীদ করবে তাহলে আমার এই সন্তানটি নিয়ে কি করা উচিত? তখন আবার জিব্রাইল (আ.) আসমানের দিকে ফিরে যান এবং পুণরায় ফিরে আসেন এবং আবার উক্ত কথাটি রাসুল (সা.) এর কাছে বলেন এবং রাসুল (সা.) ও তাকে একই জবাব দেন। পরে আবার যখন জিব্রাইল (আ.) ফিরে আসেন এবং রাসুল (সা.) কে বলেনঃ ইয়া রাসুল (সা.) আল্লাহআপনাকে সালাম জানিয়েছেন এবং বলেছেন যে, উক্ত সন্তানের বংশধারা হতে ইমামত, বেলায়াত  এবং আপনার (সা.) ওয়াসী নিবাচন করা হবে। তখন রাসুল (সা.) আনন্দিত হন এবং উক্ত সুসংবাদটি গ্রহণ করেন। যখন রাসুল (সা.) তার কন্যা ফাতিমাকে উক্ত খবরটি দেন তখন ফাতিমা (সা.আ.) বলেন যে, হে বাবা আমি এই সন্তানটি নিয়ে কি করব? তখন আবার রাসুল (সা.) বলেন হে ফাতিমা আল্লাহতোমার এই সন্তানের বংশধারাতেই ইমামত এবং বেলায়াত দান করবেন তখন ফাতিমা (সা.আ.) বলেন যে তাহলে সেই সন্তানকে আমি চাই। উক্ত ঘটনার ৬ মাস পরে হজরত ইমাম হুসাইন (অ.) জন্মগ্রহন করেন এবং আরো বণিত হয়েছে যে, তিনি জন্মগ্রহণের পরে কারো দ্বুগ্ধ পান করেননি তখন তাকে রাসুল (সা.) এর কাছে আনা হলে রাসুল (সা.) বলেনঃ হুসাইন আমার থেকে আমি হুসাইন থেকে। হয়তো এই বাক্যের প্রথম অংশটি এই রেওয়ায়েতের কারণে বণিত হয়েছে যে তার দুগ্ধ পানকালিন সময়ে ইমাম হুসাইনের নামকরণের সময়ে বণিত হয়েছিল। আল্লামা মাজলিসি বিহারুল আনওয়ার খন্ড ৪৩, পৃষ্ঠা নং ২৩৯।
যখন ইমাম হুসাইন (আ.) কে রাসুল (সা.) এর কোলে দেয়া হয় তখন তিনি তার ডান কানে আযান এবং বাম কানে আকামত দেন। তারপর হজরত আলী (আ.) কে জিজ্ঞাসা করেন যে এই সন্তানের নাম কি রেখেছ? আলী (আ.) এক্ষেত্রে আমি আপনাকে অগ্রধিকার দিব তখন রাসুল (সা.) বলেন যে আমি এ ক্ষেত্রে খোদাকে অগ্রাধিকার দিব। সেই মূহুতে জিব্রাইল (আ.) নাযিল হয় এবং বলেনঃ হে রাসুল আল্লাহ আপনাকে সালাম বলেছেন। এবং তিনি বলেছেন যে  তোমার কাছে আলী হচ্ছেন তেমন যেমনটি হারুন ছিলেন মূসার নিকট কিন্তু তোমার পরে আর কোন নবী আসবে না। আপনিও আপনার সন্তানের নাম হারুনের সন্তানের নাম অনুযায়ি রাখুন। রাসুল (সা.) বলেনঃ হারুনের সন্তানের নাম কি ছিল? তিনি বলেন সুবাইর বা সুব্বাইর। তখন রাসুল (সা.) বলেনঃ আরবী ভাষাতে তা কি হবে? জিব্রাইল (আ.)বলেনঃ তার নাম রাখ হুসাইন। তখন তার নাম রাখা হলো হুসাইন।
রাসুল (সা.) বলেছেনঃ و أنا من حسين‏
এর অথটাও স্পষ্ট কেননা ইসলাম সম্মানিত হয় এবং রক্ষা পাই ইমাম হুসাইন (আ.) এর কিয়াম, তার শাহাদত এবং তার সঙ্গিদের শাহাদতের কারণে। প্রকৃতপক্ষে ইসলামকে চিনতে হলে হুসাইনী মকতব থেকে চিনতে হবে কেননা তিনি ছিলেন হেদায়াতের প্রদীপ স্বরূপ। হাদীসে বণিত হয়েছে যেঃ
إنّ الحسين‏ مصباح‏ الهدى‏ و سفينة النجاة
অবশ্যই হুসাইন হচ্ছেন হেদায়াতের আলোকবতিকা স্বরূপ এবং নাজাতের তরী।(মুসিরুল আহযান, পৃষ্ঠা নং ৪)
বতমানে আমরা মুসলিম উম্মা যারা বিভিন্ন দল ও মতে বিভক্ত রয়েছি তার মূলে একটিই কারণ নিহিত রয়েছে আর তা হচ্ছে আমরা হুসাইনী মকতব থেকে দূরে সরে গেছি।
যে ইমাম হুসাইন (আ.) কে নিমম অত্যাচারের মাধ্যমে শহীদ করা হয়েছিল। কিন্তু তার শাহাদতের যে প্রভাব তা আমরা ইতিহাসের পাতা উল্টালেই দেখতে পাই এবং সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়টি আর তা হচ্ছে ইসলাম ও কোরআন রক্ষা পাই এবং দুনিয়ার বুকে সম্মানিত হয়।
রেওয়ায়েতে বণিত হয়েছে যে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইমাম হুসাইন (আ.) কে তার শাহাদতের বিনিময়ে তাকে তিনটি জিনীষ দান করেন।
১- তার মাজারের গম্বুজের নিচে দোয়া করলে তার দোয়া কবুল হবে।
২- তার বংশধারাতে ইমামত থাকবে।
৩- তার কবরের মাটির দ্বারা মানুষ সুস্থতা লাব করবে।
তাই আমাদের কতব্য হচ্ছে যে,আমরা যেন ইমাম হুসাইন (আ.) সম্পকে অধ্যায়ন করি কেননা তার জীবনিতে আমাদের  জন্য রয়েছে শিক্ষনীয় অনেক বিষয় এবং আদশের পাঠশালা।