ইতিহাসের গোপন কথা -২

ইতিহাসের গোপন কথা -২

ইতিহাসের গোপন কথা -২
রাসুল (সা.) যিনি ছিলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব, কেননা তার কথা সর্ব যুগের নবীরা বলে গেছেন এবং আল্লাহ তায়ালাও তাঁর কথা কোরআনে উল্লেখ করেছেন। শুধু নবীরা না বরং ওলি আউসীয়ারা এবং শত্রুরাও তাঁর জন্য অপেক্ষা করেছে। কেননা তাঁর নূরকে যদি কেউ শেষ করতে পারতো তাহলে শয়তানী শক্তি দুনিয়ার বুকে জয়ি হতো। তাই তারা যুগে যুগে রাসুল(সা.) এর নূর কে নিভানোর জন্য তাঁর পূর্বপুরুষদেরকে হত্য করার চেষ্টা করেছে।
রাসুল (সা.) এর নূর তাঁর পূর্বপুরুষ যাদের মধ্যে ছিল তারা সবাই ছিলেন কোন না কোন বৈশিষ্টের অধিকারী। আমরা ইতিহাসে অধ্যায়ন করলে এ সম্পর্কে অনেক কিছু  দেখতে পারব যা আমাদের অনেকের অজানা রয়েছে। কিন্তু আমাদের চেয়ে আমাদের শত্রুরা ছিল সব সময় সজাগ।
কেননা ইতিহাস  বলে যে, সেই যুগে যাদুকর, পাদ্রি, ইয়াহুদি খৃষ্টান সবাই রাসুল (সা.) এর আগমণ সম্পর্কে অবগত ছিল। অপেক্ষাকারীদের মধ্যে কিছু ছিল রাসুল (সা.) এর সুভাকাংঙ্খি এবং কিছু লোক অপেক্ষা করছিল তার প্রাণ নাশ করার জন্য সর্বদা সজাগ ছিল যেভাবে পূর্ববর্তি নবীদেরকে হত্যা করার জন্য বিভিন্ন যুগের শাষকেরা অপেক্ষা করছিল এবং যার কারণে আমরা দেখতে পাই যে, তাদের অত্যাচার শুধুমাত্র নবীদেরকেই ঘিরে ছিল না বরং সাধারণ মানুষেরাও তাদের অত্যাচারের শিকার হতো যেমন হজরত মূসা (আ.) এর যুগে ফেরাউন, হজরত ইব্রাহিম (আ.) এর যুগে নমরুদ।
শুধু মানুষেরা না বরং শয়তান ও তার অনুসারী জ্বিনেরা যারা আসমানে যাতায়াত করার ক্ষমতা রাখতো যারা বিভিন্ন যুগে আসমানের খবর নিয়ে এসে দুনিয়ার মানুষদেরকে অবগত করতো এবং তারাও উক্ত খবরকে কেন্দ্র করে দুনিয়ার বুকে বিভিন্ন নবীদেরকে নির্যাতন করতো বা হত্যা করতো । অনুরূপবাবে আমরা ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখতে পাই যে রাসুলের যুগেও এর কোন ব্যাতিক্রম ছিল না অর্থাৎ রাসুল (সা.) এর আগমনের খবর তারা মানবজাতীকে এনে দিত এবং যার কারণে আমার দেখতে পাই যে, রাসুল (সা.) এর জন্মের সময় তাদের আসমানে যাতায়াত আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে বন্ধ করে দেয়া হয় যেন রাসুল (সা.) এর অপেক্ষাকারী শত্রুরা তার জন্ম সম্পর্কে অবগত না হতে পারে।
কেননা জ্বিন ও মানুষ জাতীকে হেদায়াতের জন্য যে মহা মানবের আগমণ ঘটবে তিনি আগমণের পরে শয়তানী চক্র ও বিকৃত দ্বীন সমূহকে তিনি বাতিল বলে ঘোষণা করবেন এবং তথাস্থানে খোদায়ি দ্বীন কায়েম করবেন, দ্বীনকে পরিপূর্নতা দান করবেন, তিনি হবেন সর্ব শেষ নবী এবং উক্ত নবী আদনানের  বংশধারা থেকে আসবে। আর তাই তারা আদানানের বংশধারাকে নির্মুল করার জন্য তারা আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যায়।  
আমরা এইখানে রাসুল (সা.) এর পূর্বপুরুষদের কিছু বৈশিষ্ট সম্পর্কে আলোচনা করবো যার মাধ্যমে একটি বিষয় স্পষ্ট হবে যে, কেন যুগে যুগে তাদের কে হত্যা করার চেষ্টা করা হয় বা হত্যা করা হয়।
আদনানঃ তিনি ছিলেন রাসুল (সা.) এর ২১তম পূর্বপুরুষ। ইতিহাস বলে যে তার বিরূদ্ধেও শত্রুরা ষড়যন্ত্র করে যেন তাকে হত্যা করতে সফল হয়। কেননা তার চেহারা থেকে রাসুল (সা.) এর নূর পরিলক্ষিত হতো । একবার আদনানের উপরে হামলা করা হয় কিন্তু আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাকে রক্ষা করেন।
ইলয়াসঃ তিনি ছিলেন রাসুল (সা.) এর ১৭তম পূর্বপুরুষ। তার উপাধি ছিল সাইয়েদুল আসীরে। তার যুগের বড় বড় সিদ্ধান্ত সমূহ তিনিই নিতেন বা নিজের চূড়ান্ত মতামত জানাতেন এবং সবাই হজরত লুকমানের লোকজনদের ন্যায় তাকে মেনে চলতো। যতদিন পর্যন্ত তার মধ্যে রাসুল (সা.) এর নূর ছিল তিনি তার সুলব থেকে সুবহান আল্লাহ এর যিকরের শব্দ শুনতে পারতেন।
হজরত রাসুল (সা.) এর নূরের এত মহিমা ছিল যে, হজরত ইব্রাহিম (আ.) কে যখন নমরুদের নির্দেশে অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করার হয় তখন তিনি মোটেও ভয় পাননি কেননা তিনি জানতেন যে যতদিন তার সুলবে রাসুল (সা.) এর নূর রয়েছে দুনিয়ার আগুন তাঁর কোন ক্ষতিই করতে পারবে না। কিন্তু আমরা হজরত মূসা (আ.) এর প্রতি দৃষ্টি করলে দেখতে পাই যে, তিনি বিভিন্ন স্থানে ভয় পেয়েছেন কেননা তিনি জানতেন যে তাঁর সুলবে রাসুল (সা.) এর নূর নেই এবং তিনি রাসুল (সা.) এর পূর্বপুরুষও ছিলেন না।
আল্লামা মাজলিসির মতে রাসুল (সা.) এর পূর্বপুরুষেরা যাদের মধ্যে রাসুল (সা.) এর নূর ছিল, তারা সবাই ছিলেন আউসিয়ায়ে এলাহী। (সিলসিলাতুল আবাউন নাবী, মুনতাহিউল আমাল, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৫)।
মোয়েদঃ তিনি ছিলেন আদনানের সন্তান এবং রাসুল (সা.) এর নূরের বাহক। তিনি তাঁর পিতার কাছ  থেকে খোদায়ী আমানত সমূহ ওয়ারিস সূত্রে পান। যখন জনাব মোয়েদ ১২ বছরের ছিলেন তখন তাঁর বাবার সাথে বখতুন নাস নামক লোকের যুদ্ধবাধে এবং তাঁর বাবা পরাজিত হয়। তখন খোদা এরমিয়া নামক একজন নবীকে নির্দেশ দেন  তিনি যেন মোয়েদকে শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা করে শামে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাঁর লালন পালন করেন। এরমিয়া তাঁকে বোররাকে বসিয়ে শামে নিয়ে যান এবং  বণি ইসরাঈলদের মাঝে তাঁকে লালন পালন করেন।
আমরা উক্ত ঘটনা থেকে বুঝতে পারি যে, আল্লাহ তায়ালা হজরত রাসুল (সা.) এর নূরকে কিভাবে বিভিন্ন যুগে রক্ষা করেছেন।
নেযারঃ তিনি ছিলেন রাসুল (সা.) এর ১৯তম বংশধর। যখন তিনি জন্মগ্রহণ করেন করেন তখন রাসুল (সা.) এর নূর তাঁর চেহারায় পরিলক্ষিত হতো। মোয়েদ তাঁর উক্ত সন্তানের জন্মের কারণে এক হাজার উট কুরবানি করেন এবং দরিদ্রদেরকে খাদ্য দান করেন।
কেননা রাসুল (সা.) এর পূর্বপুরুষেরা রাসুল (সা.) এর নূরকে নিজেদের জন্য খোদায়ী  আমানত বলে মনে করতো এবং তাদের জন্য তা গৌরবের বিষয় ছিল। তাঁরা সর্বদা চেষ্টা করতো যেন রাসুল (সা.) এর পবিত্র নূর যা তাদের সুলবে রয়েছে তা যেন তাদের সন্তানদের মধ্যে স্থানন্তরিত হয়ে যায়। (ইসবাতুল ওয়াসী, পৃষ্ঠা ১৮৪, আল ইসতেক্বাক্ব, পৃষ্ঠা ৩০, সিলসিলাতুল আবাউন নাবী, পৃষ্ঠা ১৬৭)।
কাআবঃ তিনি ছিলেন রাসুল (সা.) এর ৮ম পূর্বপুরুষ। তিনি তাঁর বাবার পরে দ্বীনে ইব্রাহিমের তাবলিগ করেন। একবার তিনি হজ্বের মৌসুমে বক্তব্য রাখেন এবং লোকজন তাঁর আশেপাশে জমা হয়ে যায়। তাঁর বক্তব্যর  বিষয়বস্তু ছিল
১- ইসলামের আবির্ভাব।
২- মোহাম্মাদ  নামক শেষ নবী তাঁর থেকে হবে।
৩- তিনি (রাসুল (সা.)) সবাইকে দ্বীনে ইসলামের প্রতি দাওয়াত দিবে।
৪- কুরাইশেরা তাঁর বিরোধিতা করবে।
তিনি বলেন যে, হায় যদি আমি সেই সময়ে থাকতাম তাহলে তাঁর দাওয়াতে আমি সর্বপ্রথম সাড়া দিতাম ও দ্বীনে ইসলামকে কবুল করতাম। (লেসানুল আরাব, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৮, তারিখে ইয়াকুবি, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২৩৬)
মুররেঃ তিনি ছিলেন রাসুল (সা.) এর ৭ম পূর্বপুরুষ। যখন তাঁর সুলবে রাসুল (সা.) এর নূর আসে তখন তাঁর চেহারা তারার ন্যায় উজ্জল হয়ে উঠে। কিন্তু কেলাবের জন্মের সাথে সাথে রাসুল (সা.) এর নূর তাঁর কাছ থেকে কেলাবের কাছে স্থানন্তিরিত হয়ে যায়।
হাশিমঃ তিনি ছিলেন রাসুল (সা.) এর ৩ম পূর্বপুরুষ। হাশিম ছিলেন খুব দানশীল ব্যাক্তি যার কারণে দরিদ্র ব্যাক্তিদের কাছে তিনি ছিলেন খুবই প্রসিদ্ধ একজন ব্যাক্তি। একবার মক্কায় দূর্ভিক্ষ আসে তখন তিনি তার পরিবার সহ ফিলিস্তিনে আসেন এবং সেখান থেকে যথেষ্ট পরিমাণে গম সংগ্রহ করেন এবং মক্কায় ফিরে আসেন এবং উক্ত গম থেকে আটা তৈরী এবং তা থেকে রুটি তৈরী করেন এবং নিজের কিছু উটকে তিনি জবাই দেন এবং তার তরকারী রান্না করে দরিদ্র ও দুঃস্থদের মাথে বন্টন করেন। (সিলসিলাতুল আবাউন নাবী, পৃষ্ঠা ২২৫, ইসবাতুল ওয়াসী, পৃষ্ঠা ৮৫)
রাসুল (সা.) এর নূর তাঁর মধ্যে থাকার কারণে তিনি এত সুন্দর ছিলেন যে, আরবের ধনী লোকেরা তাঁর কাছে দামী উপহার পাঠাতো এবং তাঁর সাথে নিজেদের মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব দিত যেন রাসুল (সা.) এর সেই পবিত্র নূর তাদের বংশধারার মধ্যে স্থান্তরিত হয়ে যায়।
একবার কোন এক নারী তাঁকে প্রস্তাব দেয়ে যে, তোমার পিতা তোমার জন্মের সময় ১০০টি উট কুরবানি করে আমিও তোমাকে ১০০টি উঠ দান করবো তুমি আমার সাথে এক রাত্রি যাপন কর তার উদ্দেশ্য ছিল যেন রাসুল (সা.) এর সেই পবিত্র নূর তার বংশধারার মধ্যে স্থান্তরিত হয়ে যায় এবং সে উক্ত ফযিলতের অধিকারী হতে পারে।
হাশিম এক রাতে কাবার কাছে এ দোয়া করে যে, হে খোদা অপনি আমাকে এমন এক সন্তান দান করেন যেন আমার কাছ থেকে তার মধ্যে রাসুল (সা.) এর নূর স্থানন্তরিত হয়ে যায়। তাপর একবার তিনি স্বপ্ন দেখেন যে, তাঁকে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে যে, তিনি যেন মদীনায় যান এবং সেখানে সালামা বা সালমা নামক এক নারীর সাথে বিবাহ করেন। পরে তিনি মদীনায় যান এবং সেখানে উক্ত নামধারী নারীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সেই নারী থেকে খোদা তাকে এব সন্তান দান করেন যার নাম রাখা হয় আব্দুল মোত্তালেব এবং এইভাবে হাশিমের নূর আব্দুল মোত্তালেবের মধ্যে স্থানন্তরিত হয়ে যায়।
আব্দুল মোত্তালেবঃ তিনি ছিলেন রাসুল (সা.) এর ২য় পূর্বপুরুষ। ইসলামে তাঁর যথেষ্ট অবদান রযেছে। তাঁর কিছু কাজকে ইসলাম স্বীকৃতি দান ও প্রশংসা করেছেন।
আব্দুল মোত্তালেবর পাঁচটি সুন্নাত ও ইসলামের স্বীকৃতিঃ
১- কাউকে হত্যা করলে ১০০টি উট জরিমানা।
২- খনিজদ্রব্য লাভে খুমস প্রদান।
৩- সন্তানদের জন্য তার মাকে হারাম করা হয়েছে।
৪- হাজীদেরকে পানি পান করানো।
৫- কাবা শরীফের ৭বার তাওয়াফ করা।
আব্দুল মোত্তালেব ও আবরাহার হস্তি বাহিনীর ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে খুবই প্রসিদ্ধ একটি ঘটনা। যার মাধ্যমে আমরা আব্দুল মোত্তালিবের সম্মান ও পদমর্যাদা আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়। (ইসবাতুল ওয়াসী, পৃষ্ঠা ৮৭-৮৮)
যখন আবরাহার হস্তি বাহিনী কাবা ধ্বংস করার জন্য আসে তখন আব্দুল মোতালিব পাহাড়ের চূড়ায় চড়ে তখন মুখমন্ডল এত নূরান্বিত হয়ে যায় যে, তার নূরে কাবা শরীফ নূরান্বিত হয়ে উঠে। তখন আবউল মোত্তালিব পাহাড় তেকে নিচে আসেন এবং তাঁর লোকজনকে বলেন যে, তোমরা আবরাহার হস্তি বাহিনীর সাথে লড়ায়ের জন্য যাও জয়ি হবে। কিন্তু কেউ যেতে রাজি না হলে তিনি নিজেই আসেন। তখন আবরাহার হাতিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় হাতিটি তাকে সম্মান প্রর্দশন করে। আব্দুল মোত্তালিব আবরাহাকে বলেন যে আমার উটগুলো আমাকে ফিরিয়ে দাও তখন আবরাহা অবাক হয়ে বলে যে, আমি তো মনে করেছিলাম যে, তুমি আমার কাছে কাবাকে রক্ষা করার জন্য আবেদন জানাবে। আবরাহার জবাবে আব্দুল মোত্তালিব বলেনঃ উটগুলোর মালিক আমি তার রক্ষার দ্বায়িত্বও আমার কাবার মালিক খোদা সুতরাং তার রক্ষার দ্বায়িত্বও খোদার। তাপর খোদার পক্ষ থেকে আযাব নাযিল হয় ও আবরাহার হস্তি বাহিনী ধ্বংস হয়ে যায়।
আব্দুল্লাহঃ রাসুল (সা.) এর পিতা। যখন তিনি জন্মগ্রহণ করেন তখন নাসারা, ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের বড় বড় পন্ডিতেরা বুঝতে পারে যে, রাসুলের আগমনের সময় ঘনিয়ে এসেছে। আব্দুল্লাহর জন্মের সাথে সাথে হজরত ইয়াহিয়ার পশমী রক্ত মাখা শুস্ক জামাটি আবার রক্তাক্ত হয়ে উঠে। তখন শত্রুরা বুঝতে পারে যে, রাসুলের (সা.) আগমনের সময় নিকটবর্তি হয়ে গেছে। (ইসবাতুল ওয়াসী, পৃষ্ঠা ৯০, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ১৫, পৃষ্ঠা ১৪-১৫, ৯১,  সিলসিলাতুল আবাউন নাবী)
রাসুল (সা.) এর নূর তার মধ্যে থাকার কারণে হজরত আব্দুল্লাহ এত সুন্দর ছিলেন যে, তাকে ক্বামার বা চাঁদ বলা হতো, কেননা তাঁর কপাল ছিল নূরান্বিত। তিনি শুকনা গাছের নিচে বসলে গাছটি পূণরায় সবুজ সতেজ হয়ে উঠতো আবার যখন তিনি তার নিচ থেকে চলে আসতেন তখন আবার গাছটি পূর্বে অবস্থায় ফিরে যেত। তিনি মালায়েকাদের সালামের শব্দ শুনতে পারতেন। মালায়েকারা তাকে এই বলে সালাম জানাতো যে, হে রাসুলের (সা.) নূরের বাহক আপনাকে সালাম। আব্দুল্লাহ ২৫ বছর বয়সে মারা যান এবং মারা যাওয়ার পূর্বে রাসুল (সা.) এর নূর হজরত আমিনার গর্ভে স্থানন্তরিত হয়ে যায়। তিনি আমিনাকে রাসুল (সা.) এর সম্পর্কে আমিনাকে কিছু ওসিয়ত করেন। (ইসবাতুল ওয়াসী, পৃষ্ঠা ৯৫)
আব্দুল্লাহ তাঁর বাবাকে বলেন হে বাবা যখন আমি পাহাড়ের উপরে যায় তখন আমার মধ্যে থেকে এক নূর আকাশের দিকে চলে যায় আবার তা আমার মধ্যে ফিরে আসে। কথন তাঁর বাবা তাকে বলেন যে তোমার মেধ্যে শেষ নবীর নূর রয়েছে। যেহেতু শত্রুরা রাসুল (সা.) এর পূর্বপুরুষদেরকে চিনতো তাই আব্দল মোত্তালিব আবুতালিবকে বলেন যে তোমরা উক্ত সন্তানটিকে ইয়াহুদিদের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করবে। (ইসবাতুল ওয়াসী, পৃষ্ঠা ৯১)
একজন বুঝতে পারে যে রাসুল (সা.) এর নূর আব্দুল্লাহর মধ্যে রয়েছে তাই সে আব্দুল্লাহকে বিবাহ করতে চাই । কিন্তু আব্দুল্লাহ আমিনাকে বিবাহ করেন। এবং এইভাবে খোদা রাসুল (সা.) এর নূরকে বিভিন্ন যুগে রক্ষা করেন এবং দুনিয়ার বুকে নিয়ে আসেন।