হযরত ইমাম হুসাইন (আ.) এর আযাদারি ও তাঁর উপর ক্রন্দন করা

হযরত ইমাম হুসাইন (আ.) এর আযাদারি ও তাঁর উপর ক্রন্দন করা

হযরত ইমাম হুসাইন (আ.) এর আযাদারি ও তাঁর উপর ক্রন্দন করা

আয়াতুল্লাহ জাওয়াদি আমোলি বিশ্বাস করেন যে, যদি কোন ব্যক্তি আকেল হয় সে আদেল বা ন্যায় পরায়ণও বটে আর যদি কেউ আদেল থাকে তাহলে সে ব্যক্তি আকেল বা জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান। তিনি সাইয়েদুশ শুহাদা ইমাম হুসাইন (আ.) এর উপর ক্রন্দন করার কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: যে বৃক্ষটি কেটে ফেলতে চেয়েছে এবং উপড়ে ফেলে দেয়া হয়েছে আমরা তার জন্য অশ্রু বিসর্জন দেই আর ক্রন্দন করে থাকি।
আয়াতুল্লাহ আব্দুল্লাহ জাওয়াদি আমোলি ইমাম হুসাইন (আ.) এর আযাদারি অনুষ্ঠান করা ও তাঁর উপর ক্রন্দন করা সম্পর্কে এক ভুল ধারণার অপনোদন করতে গিয়ে কিছু দলিল প্রমাণ পেশ করেছেন যা নিম্নে বর্ণনা করা হচ্ছে:
সাইয়েদুশ শুহাদা ইমাম হুসাইন (আ.) এর ঘটনাতে মানুষ আসলে ন্যায় ও জ্ঞানবুদ্ধির মজলুম হওয়ার জন্য অশ্রু বিসর্জন দেয়। ন্যায় যদি কোন রূপ ধরতে চায় তাহলে সে সুন্দর এক রূপ ধারণ করতে পারে, আকল বা জ্ঞানবুদ্ধি যদি কোন রূপে প্রকাশ হতে চায় তাহলে ফেরেস্তাদের রূপে যাহির হয়ে আসে। বেহেস্তে যা কিছু চিত্রায়িত করা হয়েছে তা হচ্ছে এই ন্যায় ও জ্ঞানবুদ্ধিরই প্রতীক এই ন্যায় ও জ্ঞানবুদ্ধির স্বরূপ।
এখানে জ্ঞানবুদ্ধির বৃক্ষ ন্যায়ের ফলমূল দেয় এবং ন্যায়ের বৃক্ষ জ্ঞানবুদ্ধির ফল দেয়। ইমাম রেযা (আ.) হতে প্রশ্ন করা হল যে রেওয়ায়েতটি নিষেধকৃত বৃক্ষ সম্পর্কে বর্ণনা করে যে, হযরত আদমকে (আ.) সে বৃক্ষ হতে নিষেধ করা হয়েছে যেন সেই গাছ হতে কোন ফল না খান, আসলে সে বৃক্ষটি কি ছিল? অনেকে বলেছেন গম ছিল, আবার কেউ কেউ বলেন আঙ্গুর ছিল অনেকে মনে করেন খোরমা বা খেজুরের গাছ ছিল? তিনি বলেন: এর সব কটাই ঠিক। জিজ্ঞেস করা হল কিভাবে?
তিনি বলেন: বেহেস্তের বৃক্ষসমূহ এ দুনিয়ার সব গাছের মত নয় যে, বেহেস্তের কোন গাছ যদি আঙ্গুরের গাছ হয় তাহলে তাতে খোরমা হবে না বা আপেল ও নাশপতি হবে না বরং বেহেস্তের বৃক্ষসমূহ হচ্ছে বেহেস্তবাসীর ক্ষমতা ও এখতিয়ারে বেহেস্তবাসী যা ইচ্ছা পোষণ করবে গাছটি তাই দান করবে। (বিহারুল আনওয়ার, ২৬তম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ২৭৩)
এখানে জ্ঞানবুদ্ধির বৃক্ষ ন্যায়ের ফলমূল দেয় এবং ন্যায়ের বৃক্ষ জ্ঞানবুদ্ধির ফল দেয়। যদি কোন ব্যক্তি আকেল হয় সে আদেল বা ন্যায় পরায়ণও বটে আর যদি কেউ আদেল থাকে তাহলে সে ব্যক্তি আকেল বা জ্ঞানী ও বুদ্ধিমানও। যেহেতু এ রকম একটি বৃক্ষকে কেটে ফেলতে চাচ্ছিল এবং কেটে ফেললো আমরা এই জন্য কান্না কাটা করে থাকি ও অশ্রু বিসর্জন দেই।
তাহলে ক্রন্দন করলেই কি সব অসুবিধা দুর হয়ে যাবে?
এ দুনিয়ার হাসানাহ বা সৎ কর্মসমূহ ন্যায়ের মাধ্যমে অর্জন হয়, দুনিয়ার হাসানাহ বা সৎ কর্মসমূহ জ্ঞানবুদ্ধি দিয়ে হাসিল হয়। আর এ কাজগুলো হচ্ছে সাইয়েদুশ শুহাদা ইমাম হুসাইন (আ.) এর মজলিশ মাতমের বরকত। অশ্রু হচ্ছে একটি ভাল জিনিস কিন্তু অশ্রুতে লাভ হচ্ছে শতকরা দশ ভাগ আর বাকি নব্বই ভাগের মধ্যে রয়েছে চিন্তা, যুক্তি প্রদর্শন, জ্ঞানগত বক্তব্যসমূহ, কোরানের আয়াত ও রেওয়ায়েত এবং আশুরা আন্দোলন ও ইসলামী ইতিহাসের মূল্যায়ন ও তার পর্যালোচনা করা এবং এরকম শত শত জ্ঞানগত বিষয়সমূহ।
যদি তোমরা কারবালার শহীদদের প্রধানের বরকতে কোন একটি সমাজকে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র দেখতে পাচ্ছো তা হচ্ছে জ্ঞানগত চিন্তার ফসল। বলা হয়েছে যে, একজন জ্ঞানী ব্যক্তির ঘুম হচ্ছে একজন সাধারণ ব্যক্তির ইবাদতের চেয়ে উত্তম, কেননা ওটাকে (ইবাদত) ধোকার মাধ্যমে শেষ করা যেতে পারে কিন্তু এটাকে (জ্ঞান) কোন অবস্থাতেই নাড়াচাড়া করা সম্ভব নয়: (لا تحرّکه العواصف)। আর এ জন্যই বলা হয়েছে যে, যতদূর সম্ভব প্রতিদিন জ্ঞান, প্রত্যেক যুগে জ্ঞান ও প্রত্যেক স্থানে জ্ঞান অর্জন করো। নবী করিম (সা.) বলেছেন: এমন কোন মজলিশে বা জলসায় যেখানে মানুষ এক ঘণ্টা বসার পর কোন শিক্ষা অর্জন না করে সে জলসা পবিত্র (বরকতময়) নয়। আমাদের প্রত্যেকটি কাজ অবশ্য (قربة إلى الله) আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য হাসিলের উদ্দেশ্যে হওয়া উচিৎ। আর আত্মিক দিক দিয়ে আল্লাহ'র নৈকট্য অর্জন করার উত্তম পথ হচ্ছে সেই ন্যায় ও জ্ঞানবুদ্ধি।
তিনি বলেন: যদি কোন ব্যক্তি কোন স্থানে বসে কোন শিক্ষা অর্জন না করে ঠিক ততটুকুই খোদা হতে দুরে চলে যায়। খোদার অর্থ হচ্ছে শুধুমাত্র ন্যায়, খোদার অর্থ শুধু জ্ঞানবুদ্ধি, খোদার অর্থ হচ্ছে শুধুমাত্র জ্ঞান এবং খোদার অর্থ হচ্ছে শুধু হিকমত। মানুষ যখন ন্যায় ও জ্ঞানবুদ্ধি হতে দুরে চলে যায় আসলে তখন জ্ঞান ও হিকমত থেকে দুরে চলে যায় এবং সেই পরিপূর্ণতা হতে দুরে চলে যায় আর যার ফলে তার পতন ঘটে।
সূত্রঃ ইন্টারনেট