ইমাম মাহদী (আ.)-এর দীর্ঘায়ূ

ইমাম মাহদী (আ.)-এর দীর্ঘায়ূ

ইমাম মাহদী (আ.)-এর দীর্ঘায়ূ

ইমাম মাহদী, মাসুম, রাসূল, বিহারুল আনওয়ার, ইমাম আলী, ফাতিমাতুয্ যাহরা, ইমাম হাসান আসকারী, ইমাম, মুসা, ঈসা, আল্লাহ, ইমাম হুসাইন, ইমাম সাজ্জাদ, ইমাম বাকের, ইমাম জাফর সাদিক, ইমাম কাযিম, ইমাম মুসা রেযা, ইমাম তাকি আল জাওয়াদ, ইমাম হাদী, হাসান আসকারী
ইমাম মাহদী (আ.)-এর জীবনীসংক্রান্ত অপর একটি আলোচনা হচেছ তাঁর দীর্ঘায়ূ নিয়ে৷ কারো কারো নিকট এ প্রশ্নউত্থাপিত হয়েছে কিভাবে সম্ভব যে, একজন মানুষ এত দীর্ঘ আয়ূর অধিকারী হতে পারে? (বর্তমানে আমরা ১৪২৮ হিজরীতে বসবাস করছি আর ইমাম মাহদী (আ.)-এর জন্ম হয়েছে ২৫৫হিজরীতে৷ সুতরাং এখন তাঁর বয়স ১১৬৩ বছর)৷
এই প্রশ্নের উৎপত্তি এবংতা উপস্থাপনের কারণ হল যে, বর্তমান বিশ্বে মানুষের গড় আয়ূ ৭০ থেকে ১০০ বছর (যদিওবর্তমানেও কিছু কিছু মানুষ দেখতে পাওয়া যায় যারা ১০০ বছরেরও বেশী বেঁচে থাকেন)৷অনেকে এ ধরণের গড় আয়ূ দেখার পর কোন মতেই বিশ্বাস করতে পারেন না যে. একজন মানুষশতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বেঁচে থাকতে পারেন৷ কেননা, বুদ্ধিবৃত্তি ও বর্তমানজ্ঞান-বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে দীর্ঘায়ূ খুবই সাধারণ ব্যাপার৷ বিজ্ঞানীরা মানুষেরশরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রতঙ্গ পরীক্ষা করার পর এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, মানুষের পক্ষে দীর্ঘকাল ধরে জীবিত থাকা অসম্ভব নয়৷ এমনকি মানুষ বৃদ্ধ ও ক্ষীনকায়ওহবে না৷
এ ব্যাপারে বার্নার্ড শাওবলেছেন:
জীববিদ্যার সকলবৈজ্ঞানীকদের মতে মানুষের আয়ূ এমন একটি জিনিস যার কোন সীমা নির্নয় করা সম্ভব নয়৷এমনকি দীর্ঘকাল জীবন-যাপনেরও কোন সীমানা নেই (ইমাম জামানা (আ.)-এর দীর্ঘায়ূর রহস্য,আলী আকবার মাহদী পুর পৃ.-১৩)৷
এ ব্যাপারে প্রফেসরআতিনগার বলেছেন:
আমার দৃষ্টিতে প্রযুক্তিউন্নয়নে আমরা যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচিছ তাতে একবিংশ শতাব্দীর মানুষ সহস্র বছরবেঁচে থাকতে সক্ষম হবে (মাজাল্লেহ দানেশমানদ৷ ষষ্ট বছর ষষ্ট সংখ্যা পৃ.-১৪৭)৷
বৈজ্ঞানীকদের বৃদ্ধ নাহওয়া এবং দীর্ঘকাল বেঁচে থাকার জন্য যে প্রচেষ্টা তা প্রমাণ করে যে বিষয়টি সম্ভবপরএবং এক্ষেত্রে বিভিন্ন পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়েছে৷ বর্তমানে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানেঅনেকেই উপযুক্ত আবহাওয়া, উপযুক্ত খাদ্য, নিয়মিত শরীর চর্চা ও সুচিন্তা এবং আরওবিভিন্ন কারণে ১৫০ বছর কখনো আবার আরও বেশী দীর্ঘকাল বেঁচে থাকেন৷ মজার ব্যপার হলপৃথিবীর ইতিহাসে পূর্বেও মানুষ দীর্ঘকাল বেচে থেকেছে এবং ঐশী গ্রন্থ এবং ইতিহাসগ্রন্থেও অনেক মানুষের নাম, ঠিকানা ও জীবন বিত্তান্ত বর্ণিত হয়েছে, যাদের আয়ূবর্তমান কালের মানুষের চেয়ে আনেক বেশী ছিল৷
এসম্পর্কে বহু গ্রন্থ এবংগবেষণাও রয়েছে নিম্নে তার কিছু উদাহরণ তুলে ধরা হল:
১. পবিত্র কোরআনে এমন আয়াতরয়েছে যাতে শুধুমাত্র দীর্ঘায়ূ নয় বরং অনন্ত জীবনের সংবাদ দেওয়া হচেছ৷ আয়াতটি হযরতইউনুস সম্পর্কে, তাতে বলা হয়েছে:
যদি সে (ইউনুস) মাছের উদরেতসবীহ না পড়ত (আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা না করত) তা হলে তাকে কিয়ামত পর্যন্তমাছের উদরে থাকতে হত (সূরা সাফ্ফাত আয়াত ১৪৪)৷
সুতরাং আয়াতে অতী দীর্ঘআয়ূ (হযরত ইউনুসের সময় থেকে কিয়ামত পর্যন্ত) প্রাণীবিদরা যাকে অনন্ত আয়ূ বলে থাকেনকোরআনের দৃষ্টিতে মাছ ও মানুষের জন্য তা সম্ভবপর বিবেচিত হয়েছে (সৌভাগ্যের ব্যাপারহল মাদাগাসকারের সৈকতে ৪০০ মিলিয়ন বছরের মাছ পাওয়া যাওয়াতে মাছের জন্য এত দীর্ঘ আয়ূসম্ভপর করেছে৷ কাইহান সংখ্যা ৬৪১৩, তাং ২২-৮-১৩৪৩ ফার্সী শতাব্দী)৷
২. পবিত্র কোরআন পাকে হযরতনূহ (আ.) সম্পর্কে বলা হচেছ:
আমি তো নূহকে তারসম্প্রদায়ের নিকট প্রেরণ করেছিলাম৷ সে তাদের মাঝে অবস্থান করেছিল পঞ্চাশ কম হাজারবছর৷ অতঃপর প্লাবন তাদেরকে গ্রাস করে; কারণ তারা ছিল সীমালপঘনকারী (সূরা আনকাবুতআয়াত ১৪)৷
পবিত্র কোরআনের আয়াতে হযরতনূহের নবুয়্যতের বয়সকে ৯৫০ বছর বোঝানো হয়েছে (তার গড় আয়ু সম্পর্কে বলা হয়নি)৷হাদীসের আলোকে তিনি ২৪৫০ বছর বেঁচে ছিলেন (কামালুদ্ দ্বীন খণ্ড- ২, বাব ৪৬,হাদীস৩, পৃষ্ঠা ৩০৯)৷
বিশেষ ব্যাপার হল ইমামসাজ্জাদ (আ.) হতে বর্ণিত হয়েছে যে, ইমাম মাহদী (আ.)-এর মধ্যে হযরত নূহের একটিবৈশিষ্ট্য (সুন্নত) আছে আর তা হল দীর্ঘায়ূ (কামালুদ্ দ্বীন খণ্ড- ১, বাব ২১, হাদীস৪, পৃষ্ঠা ৫৯১)৷
৩. হযরত ঈসা (আ.) সম্পর্কেপবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে:
তাদের এই উক্তির জন্য যে, "আমরা আল্লাহর রাসূল মারইয়াম তনয় ঈসা মসীহকে হত্যা করেছি" (আল্লাহর রহমত থেকেবঞ্চিত হল)৷ অথচ তারা তাঁকে হত্যা করেনি, ক্রুশবিদ্ধও করেনি; কিন্তু তাদের এরূপবিভ্রম হয়েছিল৷ যারা তার সম্বন্ধে মতভেদ করেছিল, তারা নিশ্চয় এই সম্বন্ধে সংশয়যুক্তছিল৷ এসম্পর্কে অনুমানের অনুসরণ ব্যতীত তাদের কোন জ্ঞানই ছিল না৷ এটা নিশ্চিত যে, তারা তাঁকে হত্যা করে নি৷ বরং আল্লাহ তাকে তাঁর নিকট তুলে নিয়েছেন এবং আল্লাহপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় (সূরা নিসা আয়াত ১৫৭, ১৫৮)৷
পবিত্র কোরআন ও হাদীসেরদৃষ্টিকোণ থেকে প্রত্যেক মুসলমানই বিশ্বাস করেন যে, হযরত ঈসা (আ.) জীবিত রয়েছেন এবংহযরত ইমাম মাহদী (আ.)-এর আবির্ভাবের পরমূহুর্তে তিনি আবির্ভূত হবেন এবং তাঁকেসহযোগিতা করবেন৷
সূত্রঃ ইন্টারনেট