কেন শিয়া মাযহাবকে ‘জাফরী মাযহাব’ বলা হয়?

আমরা বানি উমাইয়া সরকারকে এমনকি হযরত ইমাম বাকির (আ.) ও হযরত ইমাম জাফর সাদিক (আ.) এর যুগেও শক্তিশালী একটি সরকার রূপে চিনি। বনি উমাইয়া সরকারের শাসনামলের শেষ সময় পর্যন্ত সহিংসতা, অত্যাচার ও স্বৈরচারীতা ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হয়। অর্থাৎ তারা তাদের হুকুমতের শ

কেন শিয়া মাযহাবকে ‘জাফরী মাযহাব’ বলা হয়?

ইমাম সাদিক, হানাফি, আবু হানিফা, মালেকি, মালেক বিন আনাস, আলী, ফাতিমা, হাসান, হুসাইন, সাজ্জাদ, ইমাম, খেলাফত, ইমামত, মদীনা, জান্নাতুল বাক্বি, মোহাম্মাদ বাকের, বাকেরুল উলুম, Shia, Sunni, Islam, Quran, Karbala, najaf, kufa, mashad, samera, madina, makka, jannatul baqi, kazmain, ali, Fatima, hasan, hussain, mohammad, imam mahdi, ইমাম সাদিক, বাকের, শিয়া, সুন্নী, ইস,Imam, imam sadik, imam sadiq, jannnatul baqi,  ইমাম সাদিক, জাফর সাদিক, ইমাম, মদিনা, মনসুর, মনসুরে দাওয়ানেকি, বণি আব্বাস, বণি উমাইয়া, শাহাদত, sahadat, imam, jafar sadiq, madina, bani abbsia, bani umaia

আমরা বানি উমাইয়া সরকারকে এমনকি হযরত ইমাম বাকির (আ.) ও হযরত ইমাম জাফর সাদিক (আ.) এর যুগেও শক্তিশালী একটি সরকার রূপে চিনি। বনি উমাইয়া সরকারের শাসনামলের শেষ সময় পর্যন্ত সহিংসতা, অত্যাচার ও স্বৈরচারীতা ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হয়। অর্থাৎ তারা তাদের হুকুমতের শেষের দিকেও তেমনভাবে দূর্বল হয়ে পড়েনি। আর তাছাড়া ‘আব্দুল মালেক’ নামধারী শাসকগণ ও ‘ওয়ালিদ নামধারী শাসকদের ক্ষেত্রে এ কথা আদৌ মানায় না যে, তারা দূর্বল শাসক ছিল। তারা চরম সহিংসতা, অত্যাচার, স্বৈরচারিতার মাধ্যমে হুকুমত করতো। অতএব, অন্যভাবে এ প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে দৃষ্টি দিলে উল্লিখিত উত্তরের চেয়ে সঠিক উত্তর আমাদের হস্তগত হয়। এ বিষয়টি ‘হযরত মহানবী (স.) এর সুন্নত (হাদীস) লিপিবদ্ধ করণের’ বিষয়ের প্রতিই প্রত্যাবর্তন করে। আপনারা অবগত যে, প্রথম খলিফার (আবু বকর) যুগ হতে আল্লাহর রাসূল (স.) এর হাদীস লিপিবদ্ধ ও বর্ণনার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। আর এ নিষেধাজ্ঞা ‘উমর বিন আব্দুল আযিযে’র যুগ অবধি অর্থাৎ তার পূর্বেকার অন্যান্য খলিফার যুগেও প্রযোজ্য ছিল। এ ক্ষেত্রে কাউকে তাঁর (স.) হতে বর্ণিত হাদীস লেখা প্রচারের অনুমতি দেয়া হত না। ইবনে কাসির দামেস্কি তার ‘আল বেদায়াহ ওয়ান নেহায়াহ’ গ্রন্থে আয়েশা হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: ‘আমার পিতা আবু বকর, হযরত মহানবী (স.) হতে বর্ণিত ৫০০টি হাদীস আমাকে দিয়ে তা তুলে রাখতে বললেন। (অতঃপর) একরাতে আমার পিতাকে দেখলাম তিনি খুবই উদ্বিগ্ন ও নির্ঘুম অবস্থায় রাত কাটাচ্ছেন। সকাল হলে তিনি আমাকে ডেকে বললেন: হে কন্যা! তোমাকে যে হাদীসগুলো দিয়েছিলাম সেগুলো আমাকে দাও। আমি যখন উক্ত হাদীসগুলো তাকে দিলাম, তিনি আগুন চাইলেন এবং সেগুলোকে জ্বালিয়ে দিলেন’। (!)

অপর এক রাবী (বর্ণনকারী) বলেছেন: উমর ইবনে খাত্তাব আমাদেরকে ইরাকে প্রেরণের সময় বললেন: সেখানে গিয়ে আল্লাহর নবী (স.) এর হাদীস লিপিবদ্ধ ও বর্ণনা করো না! তিনি এ সময় আমাদেরকে সতর্ক করে (হুমকি) দিয়ে আমাদেরকে বোঝান যে, বানি সায়াদার খেলাফতের নীতিকে অব্যাহত রাখতে হবে।

মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (স.) এর হাদীস লিপিবদ্ধ, বর্ণনা ও প্রচার না করার নীতিটি খলিফাদের মাযহাবের অতি প্রসিদ্ধ একটি নীতি।

উক্ত নীতি অবলম্বনের ফলে যা মুসলমানদের ভাগ্যে জুটেছিল তা হচ্ছে, ইবনে হাজার আসকালানী’র মতে ১২০ বছর এবং গাজালী’র মতে ১৪০ বছর আল্লাহর রাসূল (স.) এর হাদীস লিপিবদ্ধ করণের উপর নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকে।

উমর বিন আব্দুল আযিয উক্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পর সমগ্র ইসলামি রাষ্ট্রে ঘোষণা করে দেয়া হয় যে, মহানবী (স.) হতে বর্ণিত হাদীস লিপিবদ্ধ করা যায়েজ ও মুবাহ। উক্ত ঘোষণার পর আহলে সুন্নতের অনুসারীদের কপালে চিন্তার রেখা ফুটে ওঠে। কেননা তারা যখনই চাইতো মহানবী (স.) এর হাদীস বর্ণনা করতে ও লিপিবদ্ধ করতে, তখন তাদের মাঝে এমন কেউ ছিল না যে, তাঁর (স.) হতে বর্ণিত হাদীস সমূহ মুসলমানদের জন্য বর্ণনা করবে। মহানবী (স.) এর সাহাবীদের কেউ কেউ শহীদ হয়েছিলেন এবং অনেকে স্বাভাবিক মৃত্যু বরণ করেছিলেন। সুতরাং হাদীস বর্ণনা ও লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে তাদের সম্মুখে দু’টির বেশি রাস্তা খোলা ছিল না।

(উক্ত রাস্তা দু’টি হচ্ছে:)
(ক) হাদীস জাল করা (অন্য ভাষায় হাদীস তৈরী করা)।
(খ) মহানবী (স.) এর আহলে বাইত (আ.) হতে হাদীস গ্রহণ করা।

প্রথম পদ্ধতিতে, রাবীগণ এবং যারা নিজেদেরকে মোহাদ্দেস হিসেবে মনে করত (যেমন: আবু হোরায়রা) তারা হাদীস তৈরীর কার্যক্রম শুরু করে দেয়। ‘আল ইমাম সাদিক (আ.)’ গ্রন্থে ‘আসাদ হায়দার’ সুন্নি মাযহাবের গ্রন্থ হতে বর্ণনা করেছেন যে, একদা বনি আব্বাসের একজন খলিফা সভাসদদের নিয়ে দরবারের বসেছিল। এমন সময় হাদীস জালকারী এক মোহাদ্দেস দরবারে প্রবেশ করলো। খলিফা তাকে জিজ্ঞেস করলো: তুমি কি মহানবী (স.) হতে একটি হাদীস আমাদের জন্য বর্ণনা করতে পারো?

মিথ্যাবাদী ঐ মোহাদ্দেস বললো: মহানবী (স.) বলেছেন: আমি চারটি জিনিসকে ভালবাসি। (যদিও প্রসিদ্ধ এ হাদীসটিতে তিনি (স.) বলেছেন: আমি তিনটি জিনিসকে পছন্দ করি; কিন্তু মিথ্যাবাদী ঐ হাদীস জালকারী লোকটি আব্বাসী খলিফার দরবারের বললো, তিনি (স.) বলেছেন আমি চারটি জিনিসকে পছন্দ করি) ঐ চতুর্থ জিনিসটি হল: কবুতর নিয়ে খেলা করা!! অর্থাৎ মহানবী (স.) একথা বলেছেন যে, যারা কবুতর প্রতিপালন করে ও কবুতরবাজী করে আমি তাদেরকে পছন্দ করি (নাউজুবিল্লাহ)।

খলিফা মিথ্যাবাদী উক্ত হাদীস জালকারীকে সেদিন পুরস্কারও দিয়েছিল। মিথ্যাবাদী লোকটি দরবার ত্যাগ করার পর, খলিফা উপস্থিত সভাসদদের উদ্দেশ্যে বললো: আল্লাহর কসম এ (কথিত) মোহাদ্দেস মিথ্যা বলেছে এবং মহানবী (স.) এর সাথে একটি মিথ্যা বিষয়কে সম্পৃক্ত করেছে (অর্থাৎ মহানবী (স.) এর উপর মিথ্যা আরোপ করেছে)। কেননা মহানবী (স.) এর হাদীসে তিনটি বিষয় বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু যেহেতু এ (কথিত) মোহাদ্দেস জানে যে আমি কবুতর ভালবাসী তাই আমাকে সন্তুষ্ট করতে মহানবী (স.) এর উপর এ মিথ্যা অপবাদ সে আরোপ করেছে’!

জ্বী! দ্বিতীয় যে পথটি খোলা ছিল তা হচ্ছে মহানবী (স.) এর হাদীস সমূহকে আহলে বাইত (আ.) হতে গ্রহণ করা। কিন্তু তখন হযরত আলী ইবনে আবি তালিব (আ.) ও হযরত ফাতেমা যাহরা (সা. আ.) দুনিয়া হতে বিদায় নিয়েছিলেন এবং ইমাম হাসান, ইমাম হুসাইন ও ইমাম সাজ্জাদ (আলাইহিমুস সালাম)ও শহীদ হয়েছিলেন। কিন্তু ইমাম মুহাম্মাদ বাকির (আ.) ইমামতকালের (কিছুকাল) এবং হযরত ইমাম জাফর সাদিক (আ.) এর ইমামতের সময় হাদীস লিপিবদ্ধ ও বর্ণনা করার বৈধতা দেয়া হয় ও এ কর্মকে মোবাহ ঘোষণা করা হয়।

এ দুই মহান ইমাম উক্ত সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন। তারা দু’জনে প্রায় ৪০ বছর যাবত এ সুযোগ হতে উপকৃত হয়ে ছাত্র প্রশিক্ষণ ও সত্য প্রচারের ক্ষেত্রে নিজেদেরকে নিয়োজিত করেন।

হযরত ইমাম বাকের (আ.) ও হযরত ইমাম জাফর সাদিক (আ.) –বিশেষ করে হযরত ইমাম জাফর সাদিক (আ.)- বারংবার এ কথা বলেছেন যে, ‘আমাদের হতে বর্ণিত হাদীস সমূহ মহানবী (স.) এর হাদীস ও সুন্নত এবং আমরা নিজেদের পক্ষ থেকে কিছুই বলি না’।

সুন্নি মাযহাবের বড় বড় ব্যক্তিগণ হযরত ইমাম জাফর সাদিক (আ.) এর দরস (ক্লাস)-এ অংশগ্রহণ করতেন। এছাড়া বিভিন্ন ধর্ম ও মাযহাবের সাহিত্যিক, মুহাদ্দিস, মুফাসসিরগণও তাঁর (আ.) দরসে অংশগ্রহণ করতেন। এ ধরণের কাজ হযরত আমিরুল মু’মিনীন আলী ইবনে আবি তালিব (আ.) বা হযরত ইমাম হাসান মুজতবা (আ.) এর যুগে সম্ভব ছিল না। কিন্তু ইমাম সাদিক (আ.) এর যুগে যখন কেউ মসজিদে প্রবেশ করত তখন সে দেখতে পেত যে, লোকেরা দলে দলে মসজিদের বিভিন্ন স্থানে বসে আছে এবং বলছে: হাদ্দাসানী জাফার ইবনে মুহাম্মাদ (অর্থাৎজাফর ইবনে মুহাম্মাদ বলেছেন)

অতএব, আমার দৃষ্টিতে উক্ত প্রশ্নের সর্বোত্তম জবাব হচ্ছে: যেহেতু ইমাম মুহাম্মাদ বাকির (আ.) ও ইমাম মুহাম্মাদ সাদিক (আ.) এর যুগে মহানবী (স.) এর সুন্নত এবং হাদীস লিপিবদ্ধ করার উপর হতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয় এবং তৎকালীন যুগে সাহাবীরাও উপস্থিত ছিলেন না যে, তাদের নিকট হতে সুন্নিরা হাদীস সংগ্রহ করতে পারে, সুতরাং তারাও এ দুই ইমামের শরণাপন্ন হয়। আর তারাও এ সুযোগকে সর্বোত্তমভাবে কাজে লাগায়।

রেজাল শাস্ত্রে সুন্নি মাযহাবের সবচেয়ে পণ্ডিত ব্যক্তিত্ব হলেন যাহাবী। তিনি মিযানুল এ’তেদাল গ্রন্থে ‘আবান ইবনে তাগলাব’ সম্পর্কে এভাবে মন্তব্য করেছেন যে, ‘স্পষ্ট যে, আবান ইমাম বাকের ও ইমাম সাদিক (আ.) এর ছাত্র’। যাহাবী আবানের পরিচিতি তুলে ধরতে গিয়ে উল্লেখ করেন যে, সে হচ্ছে ‘সিকাহ’ (বিশ্বস্ত), ‘সাদেক’ (সত্যবাদী) এবং ‘তাকওয়াধারী’। কিন্তু একই গ্রন্থে পরবর্তীতে তার সম্পর্কে আরো একটি বিষয় সংযুক্ত করে লিখেছেন যে, আবান তাকওয়াধারী, ঈমানদার ও বিশ্বস্ত হওয়া সত্ত্বেও সে একজন বিদআতী! অর্থাৎ তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, আবান হচ্ছে শিয়া মাযহাবের অনুসারী। (তাই এখানে প্রশ্ন জাগে) যদি আবান বিদআতী হয়ে থাকে তবে কেন যাহাবী তার বিশ্বস্তার বিষয়টিকে সমর্থন করলেন এবং কেন তাকে তাকওয়াধারী ও খোদাভিরু হিসেবে পরিচয় করালেন?

তিনি উত্তরে বলেন: যদি আমরা; সুন্নি মাযহাবের অনুসারীরা আবানের মত ব্যক্তিত্বের হাদীসকে আমাদের গ্রন্থসমূহ হতে বের করে দেই তবে মহানবী (স.) এর রেখে যাওয়া সুন্নতের অধিকাংশই বের হয়ে যাবে। আমরা কি ইমাম বাকের ও ইমাম সাদিক (আ.) এর মত ব্যক্তিত্বের ছাত্রদের হাদীসকে দূরে সরিয়ে দিতে পারি?
অথবা খতিব বাগদাদী তারিখে বাগদাদ গ্রন্থে লিখেছেন: যদি আমরা আহলে বাইত (আ.) ও তাদের ছাত্রদের হাদীস সমূহকে দূরে সরিয়ে দেই তবে আমাদের গ্রন্থগুলোতে বিশৃংখলার সৃষ্টি হবে। কেননা প্রত্যেকটি গ্রন্থই বিভিন্ন অধ্যায় নিয়ে গঠিত হয়। আর আহলে বাইত (আ.) ও ইমাম সাদিক (আ.) এর ছাত্রদের হতে বর্ণিত হাদীস সমূহের জন্য আমাদের গ্রন্থসমূহে আলাদা আলাদা অধ্যায় রয়েছে। তাই যদি আহলে (আ.) ও শিয়াদের হতে বর্ণিত হাদীস সমূহ আমাদের গ্রন্থ হতে বের করে দিতে চাই তবে আমাদের গ্রন্থ সমূহের সন্নিবেশ নষ্ট হয়ে যাবে।

অতএব, স্পষ্ট হল যে, সুন্নি মাযহাবের হাদীস গ্রন্থ সমূহতেও ইমাম বাকের (আ.) ও ইমাম সাদিক (আ.) হতে বর্ণিত সর্বপরী আহলে বাইত (আ.) ও ইমামগণ (আ.) এর ছাত্রদের হাদীস দ্বারা পরিপূর্ণ। আর এ কারণেই আহলে বাইত (আ.) এর মাযহাবকে ‘জাফরী’ মাযহাব নামে নামকরণ করা হয়েছে। কেননা হযরত ইমাম সাদিক (আ.) (হাদীস লিপিবদ্ধ করণের উপর হতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর) উক্ত সুযোগের সর্বোত্তম ব্যবহার করেছিলেন এবং এ (মাযহাব প্রচারের ক্ষেত্রে) সর্বোত্তম ভূমিকা রেখেছিলেন।

আবনা : মহানবী (স.) এর সুন্নত ব্যতিরেকে, হযরত ইমাম সাদিক (আ.) আহলে বাইত (আ.) এর মাযহাবের ভিত্তিকে মজবুত করার লক্ষ্যে অপর কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন?

-প্রথম প্রশ্নের যে উত্তর দিয়েছি তাতে এ প্রশ্নের উত্তরও খুঁজে পাবেন। বনি সায়াদাহ এবং বনি উম্মাইয়াহ ইসলামি হুকুমতের উপর কব্জা করে, পরিপূর্ণরূপে সুন্নতের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। অতএব, জনগণকে পরিচালনার জন্য তাদের হাতে আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। কোরআনে করিম; (মহানবী (স.) এর রেখে যাওয়া) দু’টি মূল্যবান জিনিসের (সূত্রের) অন্যতম। এ ঐশী গ্রন্থ আহলে বাইত (আ.) এর পাশে থেকে মানুষকে বিভ্রান্তি হতে মুক্তি দিতে পারে। কিন্তু আহলে বাইত (আ.) ছাড়া পবিত্র কোরআন এ মহান দায়িত্ব পালনে সক্ষম নয়। একইভাবে আহলে বাইত (আ.)ও কোরআন ছাড়া মানুষকে বিভ্রান্তি হতে মুক্তি দিতে সক্ষম নয়।

সকল ইসলামি মাযহাবই হাদীসে সাকালাইনকে মোতায়াতির একটি হাদীস হিসেবে জানে। এ হাদীসের সাক্ষ্য অনুযায়ী কোরআন ও আহলে বাইত (আ.) পরস্পরের পাশাপাশি থেকে মানবজাতিকে পরিত্রাণ দিতে সক্ষম। কিন্তু খেলাফতের যুগ শুরু হওয়ার পর হতে আমরা দেখেছি এবং ইতিহাসেও এ বিষয়টি লিপিবদ্ধ হয়েছে যে, আহলে বাইত (আ.) এর সকল কার্যবিধির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ফলশ্রুতিতে পবিত্র কোরআন ও আহলে বাইত (আ.) এর কর্তৃক বর্ণিত তাফসীরে’র মাঝে দুরত্বের সৃষ্টি হয়।

উদাহরণ স্বরূপ কোরআন নিজেই ‘নামাযে’র –যা ইসলামের ধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা হিসেবে বিবেচিত- বিবরণ দিতে সক্ষম নয়। অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত কোন নিষ্পাপ ব্যক্তি বা মহানবী (স.) এর বিশ্বস্ত কোন ব্যক্তি এর পাশে থাকবে না ততক্ষণ শুধুমাত্র কোরআন হতে উপকৃত হওয়া সম্ভব নয় এবং তা মানবজাতিকে বিভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতা হতে পরিত্রাণ দিতে পারবে না। আর মহানবী (স.) এর সুন্নত হাসিলের সবচেয়ে বিশ্বস্ত পথ হচ্ছে সেটাকে আহলে বাইত (আ.) এর মাধ্যমে গ্রহণ করা।

লোকের প্রায় ১০০ বছর যাবত মহানবী (স.) এর আহলে বাইত (আ.) হতে দূরে ছিল। কিন্তু খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আযিয এ বিষয়টি অনুধাবন করেছিলেন যে, মুসলমানরা শরিয়ত মোতাবেক মানুষদেরকে পরিচালনা করতে সক্ষম নয়। কেননা শরিয়াতের বিবরণ দানকারী (সুন্নতের) উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। সুতরাং (উক্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর) হযরত ইমাম সাদিক (আ.) এ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করার মাধ্যমে আহলে বাইত (আ.) এর মাযহাবের ভীতকে মজবুত করলেন। অর্থাৎ তিনি সকল মুসলমান এবং মুসলিম বিশ্বকে বুঝিয়ে দিলেন যে, ‘হে মুসলমানগণ! আহলে বাইত (আ.) ব্যতীত কোরআনকে পরিত্রাণ দ্বাতা হিসেবে ধারণ করা সম্ভব নয়। কোরআন আমাদের (আহলে বাইত (আ.) এর) সাথেই পরিত্রাণদ্বাতার ভূমিকা পালন করে; আর আমরাও পবিত্র কোরআনের সাহায্য নিয়ে পরিত্রাণদ্বাতার ভূমিকা পালন করি’।

এখানেই আহলে বাইত (আ.) এর ভূমিকা পরিপূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হয় এবং তাদের মাযহাবের ভীত দৃঢ় ও মজবুত হয়। এ পদক্ষেপের মাধ্যমে সকলকে বুঝিয়ে দেয়া হয় যে, আহলে বাইত (আ.) কে উপেক্ষা করে কোন মাযহাবই মানবজাতিকে পরিত্রাণ দিতে পারে না। 

সূত্রঃ ইন্টারনেট